✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
💡 ১. কোষের তড়িচ্চালক বল ($EMF$) ও বিভবপ্রভেদের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: কোষের তড়িচ্চালক বল হলো মুক্ত বর্তনীতে কোষের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্য, যা তড়িৎশক্তির উৎস নির্দেশ করে। অন্যদিকে, বিভবপ্রভেদ হলো বদ্ধ বর্তনীতে পরিবাহীর দুই বিন্দুর মধ্যে বিভবের পার্থক্য, যা তড়িৎশক্তির ব্যয় নির্দেশ করে। তড়িচ্চালক বলের মান বিভবপ্রভেদের চেয়ে বেশি হয়।
💡 ২. ওলিয়াম-এর সংকেত লেখো। এর রাসায়নিক নাম কী?
✔️ উত্তর: ওলিয়ামের সংকেত হলো $H_2S_2O_7$। এর রাসায়নিক নাম হলো পাইরোসালফিউরিক অ্যাসিড।
💡 ৩. লোহায় মরচে পড়া প্রতিরোধের দুটি উপায় উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর: (i) লোহার ওপর আলকাতরা বা রঙের প্রলেপ দেওয়া। (ii) লোহার ওপর দস্তার প্রলেপ দেওয়া বা গ্যালভানাইজেশন করা।
💡 ৪. একটি বৈদ্যুতিক বাতির গায়ে $220\text{ V} - 100\text{ W}$ লেখা থাকার অর্থ কী?
✔️ উত্তর: এর অর্থ হলো, বাতিটিকে $220\text{ V}$ বিভবপ্রভেদ সম্পন্ন লাইনে যুক্ত করলে সেটি সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বলতা দেবে এবং প্রতি সেকেন্ডে $100\text{ জুল}$ তড়িৎশক্তি খরচ করবে।
💡 ৫. পরীক্ষাগারে শর্তসহ নাইট্রোজেন গ্যাস প্রস্তুতির রাসায়নিক বিক্রিয়া লেখো।
✔️ উত্তর: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ($NH_4Cl$) এবং সোডিয়াম নাইট্রাইট ($NaNO_2$)-এর মিশ্র জলীয় দ্রবণকে $1 : 1$ অনুপাতে মিশিয়ে উত্তপ্ত করলে নাইট্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
বিক্রিয়া: $NH_4Cl + NaNO_2 \rightarrow NaCl + NH_4NO_2 \rightarrow NaCl + N_2 \uparrow + 2H_2O$।
💡 ৬. $MSO_4$ ($M = \text{ধাতু}$)-এর জলীয় দ্রবণকে তড়িৎবিশ্লেষণ করলে ক্যাথোডে কী বিক্রিয়া ঘটে? বিক্রিয়াটি জারণ না বিজারণ?
✔️ উত্তর: ক্যাথোডে ঘটে: $M^{2+} + 2e \rightarrow M$। যেহেতু এখানে ক্যাটায়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে পরমাণুতে পরিণত হচ্ছে, তাই এটি একটি বিজারণ বিক্রিয়া।
💡 ৭. $18\text{ cm}^2$ প্রস্থচ্ছেদের কোনো পরিবাহী তারের রোধাঙ্ক $9 \times 10^{-6}\text{ ohm-cm}$। তারের রোধ $10^{-3}\text{ ohm}$ হলে, দৈর্ঘ্য কত হবে?
✔️ উত্তর: আমরা জানি, $R = \rho \frac{L}{A}$।
এখানে $R = 10^{-3}\text{ ohm}$, $\rho = 9 \times 10^{-6}\text{ ohm-cm}$, $A = 18\text{ cm}^2$।
সূত্র অনুযায়ী, $L = \frac{R \cdot A}{\rho} = \frac{10^{-3} \times 18}{9 \times 10^{-6}} = 2000\text{ cm} = 20\text{ মিটার}$।
💡 ৮. দুটি গ্যাস পরস্পরের বিক্রিয়া করে একটি কঠিন পদার্থ উৎপন্ন করে। গ্যাস দুটির নাম ও উৎপন্ন পদার্থের সংকেত লেখো।
✔️ উত্তর: গ্যাস দুটি হলো অ্যামোনিয়া ($NH_3$) এবং হাইড্রোজেন ক্লোরাইড ($HCl$)। উৎপন্ন কঠিন পদার্থটি হলো অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ($NH_4Cl$)।
💡 ৯. কীভাবে ভাঙা রেলওয়ে ট্র্যাক মেরামত করা হয়?
✔️ উত্তর: থার্মিট পদ্ধতিতে গলিত লোহা ব্যবহার করে ভাঙা রেলওয়ে ট্র্যাক মেরামত করা হয়। এতে ফেরিক অক্সাইড ও অ্যালুমিনিয়াম চূর্ণের মিশ্রণকে উত্তপ্ত করলে প্রচুর তাপ ও গলিত লোহা উৎপন্ন হয় যা ফাটল পূরণ করে।
💡 ১০. $r_1$ এবং $r_2$ দুটি রোধকে একই বিভবপ্রভেদে আলাদাভাবে যুক্ত করলে $r_1$-এর প্রবাহমাত্রা $r_2$-এর $6$ গুণ হয়। $r_1$ ও $r_2$-এর অনুপাত কত?
✔️ উত্তর: ওহমের সূত্র অনুযায়ী, $V = IR$, অর্থাৎ $R = V/I$।
দেওয়া আছে, $I_1 = 6I_2$।
অতএব, $r_1/r_2 = (V/I_1) / (V/I_2) = I_2/I_1 = I_2 / (6I_2) = 1/6$। অর্থাৎ অনুপাত $1 : 6$।
💡 ১১. সালফান (Sulphan) কী? এটি কীভাবে প্রস্তুত করা হয়?
✔️ উত্তর: $100%$ বিশুদ্ধ ওলিয়ামকে (যা মূলত $100%$ মুক্ত $SO_3$ ধারণ করে) সালফান বলা হয়। এটি ওলিয়ামকে উত্তপ্ত করে উৎপন্ন গ্যাসকে পুনরায় ঘনীভূত করে প্রস্তুত করা হয়।
💡 ১২. কার্বন-বিজারণ পদ্ধতিতে $ZnS$ থেকে কীভাবে $Zn$ নিষ্কাশন করা হয়?
✔️ উত্তর: প্রথমে $ZnS$-কে বায়ুর উপস্থিতিতে পুড়িয়ে $ZnO$-তে রূপান্তরিত করা হয় ($2ZnS + 3O_2 \rightarrow 2ZnO + 2SO_2$)। এরপর $ZnO$-কে কোক চূর্ণের সঙ্গে উত্তপ্ত করলে জিংক নিষ্কাশিত হয় ($ZnO + C \rightarrow Zn + CO$)।
💡 ১৩. ফ্লেমিং-এর বামহস্ত নিয়মটি লেখো।
✔️ উত্তর: বামহস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী এবং মধ্যমাকে পরস্পরের সমকোণে প্রসারিত করলে যদি তর্জনী চৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখ এবং মধ্যমা তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখ নির্দেশ করে, তবে বৃদ্ধাঙ্গুলি পরিবাহীর গতির অভিমুখ বা প্রযুক্ত বলের অভিমুখ নির্দেশ করবে।
💡 ১৪. নাইট্রোলিম কী? এর ব্যবহার লেখো।
✔️ উত্তর: ক্যালশিয়াম সায়ানামাইড ($CaCN_2$) এবং কার্বন ($C$)-এর ধূসর মিশ্রণকে নাইট্রোলিম বলে। এটি জমিতে নাইট্রোজেন ঘটিত সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
💡 ১৫. $440\text{ }\Omega$ রোধের বাতিকে $220\text{ V}$ মেইনসে $10$ ঘণ্টার জন্য যুক্ত করা হলে ব্যয়িত শক্তি $BOT$ এককে কত?
✔️ উত্তর: ক্ষমতা $P = V^2/R = (220)^2 / 440 = 110\text{ W}$।
ব্যয়িত শক্তি $= \frac{110 \times 10}{1000} = 1.1\text{ BOT}$ একক।
💡 ১৬. লেড অ্যাসিটেট দ্রবণে $H_2S$ গ্যাস পাঠালে যা ঘটবে তা পর্যবেক্ষণ ও সমীকরণসহ লেখো।
✔️ উত্তর: লেড অ্যাসিটেট দ্রবণে $H_2S$ চালনা করলে লেড সালফাইডের কালো অধঃক্ষেপ পড়ে।
সমীকরণ: $(CH_3COO)_2Pb + H_2S \rightarrow PbS \downarrow (\text{কালো}) + 2CH_3COOH$।
💡 ১৭. অ্যালুমিনিয়াম ও কপারের একটি করে আকরিকের নাম ও সংকেত লেখো।
✔️ উত্তর: অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট ($Al_2O_3, 2H_2O$)। কপারের আকরিক: কপার পাইরাইটিস ($CuFeS_2$)।
💡 ১৮. রেল বা ট্রামগাড়ির প্যান্টোগ্রাফ ও তারের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বাদামি ধোঁয়ার সৃষ্টি হয় কেন?
✔️ উত্তর: প্যান্টোগ্রাফ ও তারের ঘর্ষণে বা স্ফুলিঙ্গের ফলে বাতাসের নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেন মনোক্সাইড ($NO$) তৈরি করে, যা পরে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে বাদামি বর্ণের নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড ($NO_2$) উৎপন্ন করে।
💡 ১৯. তরলের আপাত ও প্রকৃত প্রসারণ গুণাঙ্কের মধ্যে কোনটি তরলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য?
✔️ উত্তর: তরলের প্রকৃত প্রসারণ গুণাঙ্ক হলো তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, কারণ এটি পাত্রের প্রসারণের ওপর নির্ভর করে না।
💡 ২০. তড়িৎলেপনের একটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর: তড়িৎলেপনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ধাতুর তৈরি বস্তুকে বায়ুমণ্ডলের হাত থেকে রক্ষা করা (যেমন মরচে রোধ করা) এবং বস্তুর স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা।
💡 ২১. অসওয়াল্ড পদ্ধতিতে $HNO_3$ প্রস্তুতির নীতিটি সমীকরণসহ লেখো।
✔️ উত্তর: প্ল্যাটিনাম জালের ওপর দিয়ে অ্যামোনিয়া ও বায়ুর মিশ্রণ পাঠালে তা জারিত হয়ে $NO$ উৎপন্ন করে। পরে একে আরও জারিত করে এবং জলে দ্রবীভূত করে $HNO_3$ পাওয়া যায়।
সমীকরণ: $4NH_3 + 5O_2 \rightarrow 4NO + 6H_2O$।
💡 ২২. ধাতব মূলক শনাক্তকরণে কোন্ গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
✔️ উত্তর: ধাতব মূলক (যেমন $Cu^{2+}, Pb^{2+}$) শনাক্তকরণে হাইড্রোজেন সালফাইড ($H_2S$) গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
💡 ২৩. $220\text{ V} - 55\text{ W}$ বাতির প্রবাহমাত্রা কত?
✔️ উত্তর: প্রবাহমাত্রা $I = P/V = 55 / 220 = 0.25\text{ A}$।
💡 ২৪. $dc$ অপেক্ষা $ac$-এর সুবিধা কী?
✔️ উত্তর: $ac$ ভোল্টেজকে ট্রান্সফর্মারের সাহায্যে সহজে বাড়ানো বা কমানো যায় এবং দূরবর্তী স্থানে তড়িৎ পরিবহনে শক্তির অপচয় অনেক কম হয়।
💡 ২৫. লেঞ্জের সূত্র শক্তি সংরক্ষণের একটি বিশেষ রূপ — ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর: লেঞ্জের সূত্রানুযায়ী, আবিষ্ট প্রবাহ সর্বদা তাকে সৃষ্টির কারণকে বাধা দেয়। এই বাধার বিরুদ্ধে যান্ত্রিক কার্য করতে হয়, যা পরবর্তীকালে তড়িৎশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। অর্থাৎ যান্ত্রিক শক্তিই তড়িৎশক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যা শক্তি সংরক্ষণেরই উদাহরণ।
💡 ২৬. সব আকরিকই খনিজ কিন্তু সব খনিজ আকরিক নয় কেন?
✔️ উত্তর: আকরিক হলো সেই খনিজ যেখান থেকে সহজে ও লাভজনকভাবে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়। প্রকৃতিতে অনেক খনিজ থাকলেও সব খনিজ থেকে সুলভে ধাতু পাওয়া যায় না। তাই যাদের থেকে পাওয়া যায় শুধু তারাই আকরিক।
💡 ২৭. তামা ও রোধের অনুপাত $1:3$ এবং রোধের অনুপাত $2:1$ হলে বিভবপ্রভেদের অনুপাত কত?
✔️ উত্তর: $V = IR$ অনুযায়ী, $V_1/V_2 = (I_1 \times R_1) / (I_2 \times R_2) = (1 \times 2) / (3 \times 1) = 2/3$। অর্থাৎ অনুপাত $2 : 3$।
💡 ২৮. দীর্ঘক্ষণ খোলা হাওয়াতে থাকলে তামার বাসনে সবুজ ছোপ পড়ে কেন?
✔️ উত্তর: তামা বাতাসের অক্সিজেন, জলীয় বাষ্প এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে ক্ষারীয় কপার কার্বোনেট $[CuCO_3, Cu(OH)_2]$ উৎপন্ন করে, যার বর্ণ সবুজ।
💡 ২৯. অ্যামোনিয়ার সঙ্গে সোডিয়ামের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থের সংকেত লেখো।
✔️ উত্তর: উত্তপ্ত সোডিয়ামের ওপর দিয়ে অ্যামোনিয়া চালনা করলে সোডামাইড ($NaNH_2$) উৎপন্ন হয়।
সমীকরণ: $2Na + 2NH_3 \rightarrow 2NaNH_2 + H_2 \uparrow$।
✔️ উত্তর: চার্লসের সূত্রানুযায়ী, $t^\circ\text{C}$ তাপমাত্রায় কোনো গ্যাসের আয়তন $V_t = V_0(1 + \frac{t}{273})$। এখন, $t = -273$ বসালে পাই, $V_{-273} = V_0(1 - \frac{273}{273}) = V_0(1 - 1) = 0$। অর্থাৎ, $-273^\circ\text{C}$ তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন লোপ পায়। এই তাপমাত্রাকেই পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে।
✔️ উত্তর: $CO_2$-এর আণবিক ওজন = $12 + 16 \times 2 = 44$। আমরা জানি, STP-তে $44\text{ g } CO_2$-এর আয়তন $22.4\text{ L}$। সুতরাং, $4.4\text{ g } CO_2$-এর আয়তন = $\frac{22.4 \times 4.4}{44} = 2.24\text{ L}$।
✔️ উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে $V$ আয়তন গ্যাসের ভর $W_g$ এবং সমআয়তন হাইড্রোজেন গ্যাসের ভর $W_h$ হলে, বাষ্প ঘনত্ব $D = \frac{W_g}{W_h}$। অ্যাভোগাড্রো সূত্রানুযায়ী, $D = \frac{n \times \text{একটি গ্যাসীয় অণুর ভর}}{n \times \text{একটি হাইড্রোজেন অণুর ভর}} = \frac{\text{আণবিক ওজন }(M)}{2 \times \text{একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর ভর}} = \frac{M}{2}$। অর্থাৎ, $M = 2D$।
✔️ উত্তর: বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মতে, ভর ও শক্তি পরস্পর রূপান্তরযোগ্য। যদি $m$ পরিমাণ ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, তবে উৎপন্ন শক্তি $E = mc^2$ (যেখানে $c =$ শূন্যস্থানে আলোর বেগ)। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মোট ভর ও শক্তির সমষ্টি সর্বদা ধ্রুবক।
✔️ উত্তর: প্রতি ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য কোনো কঠিন পদার্থের দণ্ডের প্রতি একক দৈর্ঘ্যে যে রৈখিক প্রসারণ ঘটে, তাকে ওই পদার্থের রৈখিক প্রসারণ গুণাঙ্ক ($\alpha$) বলে। এর SI একক হলো $\text{K}^{-1}$ বা $\text{/K}$ এবং CGS একক হলো $^\circ\text{C}^{-1}$।
✔️ উত্তর: প্রতি ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য কোনো কঠিন পদার্থের প্রতি একক আয়তনে যে আয়তন প্রসারণ ঘটে, তাকে ওই পদার্থের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক ($\gamma$) বলে। গাণিতিক রূপ: $\gamma = \frac{V_2 - V_1}{V_1(t_2 - t_1)}$; যেখানে $t_1$ ও $t_2$ তাপমাত্রায় আয়তন যথাক্রমে $V_1$ ও $V_2$।
✔️ উত্তর: কঠিন পদার্থের রৈখিক প্রসারণ গুণাঙ্ক ($\alpha$), ক্ষেত্র প্রসারণ গুণাঙ্ক ($\beta$) এবং আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক ($\gamma$)-এর মধ্যে সম্পর্কটি হলো: $\alpha = \frac{\beta}{2} = \frac{\gamma}{3}$ বা, $6\alpha = 3\beta = 2\gamma$।
✔️ উত্তর: এর অর্থ হলো, ১ সেমি বা ১ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি লোহার দণ্ডের তাপমাত্রা $1^\circ\text{C}$ বৃদ্ধি করলে দণ্ডটির দৈর্ঘ্য যথাক্রমে $12 \times 10^{-6}\text{ cm}$ বা $12 \times 10^{-6}\text{ m}$ বৃদ্ধি পাবে।
✔️ উত্তর: সমান দৈর্ঘ্যের ও প্রস্থের দুটি ভিন্ন ধাতুর (যেমন লোহা ও পিতল) পাতকে রিভেট করে একসঙ্গে জুড়ে দিলে যে পাত তৈরি হয়, তাকে দ্বিধাতব পাত বলে। এটি স্বয়ংক্রিয় থার্মোস্ট্যাট সুইচে (যেমন স্বয়ংক্রিয় ইস্ত্রি বা রেফ্রিজারেটরে) উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
✔️ উত্তর: তরলের প্রকৃত প্রসারণই তরলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। কারণ, তরলকে পাত্রে রেখে উত্তপ্ত করলে পাত্রেরও প্রসারণ ঘটে। আপাত প্রসারণ পাত্রের প্রসারণের ওপর নির্ভর করে, কিন্তু প্রকৃত প্রসারণ পাত্রের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে না।
✔️ উত্তর: তরলের প্রকৃত প্রসারণ গুণাঙ্ক = তরলের আপাত প্রসারণ গুণাঙ্ক + পাত্রের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক। অর্থাৎ, $\gamma_r = \gamma_a + \gamma_g$ (যেখানে $\gamma_g$ হলো পাত্রের উপাদানের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্ক)।
✔️ উত্তর: গ্যাসের আয়তন প্রসারণ গুণাঙ্কের মান হলো $\frac{1}{273}/^\circ\text{C}$ বা $0.00366/^\circ\text{C}$। স্থির চাপে সমস্ত গ্যাসের ক্ষেত্রে উষ্ণতা বৃদ্ধিতে প্রসারণের হার সমান হয় বলে সব গ্যাসের ক্ষেত্রেই এই মানটি নির্দিষ্ট ও ধ্রুবক থাকে।
✔️ উত্তর: একক বেধ ও একক একক ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট কোনো পদার্থের দুই বিপরীত পৃষ্ঠের তাপমাত্রার পার্থক্য একক হলে, এক পৃষ্ঠ থেকে অন্য পৃষ্ঠে লম্বভাবে প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ তাপ প্রবাহিত হয়, তাকে ওই পদার্থের তাপ পরিবাহিতাঙ্ক ($K$) বলে।
✔️ উত্তর: তাপ পরিবাহিতাঙ্কের ($K$) SI একক হলো $\text{W m}^{-1}\text{K}^{-1}$ (ওয়াট প্রতি মিটার প্রতি কেলভিন)। এর মাত্রা হলো $[M^1L^1T^{-3}\theta^{-1}]$।
✔️ উত্তর: কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে তাপ প্রবাহের বিরুদ্ধে পরিবাহীর উপাদান যে বাধা সৃষ্টি করে, তাকে তাপীয় রোধ বলে। ওহমের সূত্রের সঙ্গে তুলনা করে এর গাণিতিক রূপ হয়: $R_H = \frac{d}{KA}$; যেখানে $d =$ বেধ, $A =$ ক্ষেত্রফল এবং $K =$ তাপ পরিবাহিতাঙ্ক।
✔️ উত্তর: হিরের কেলাসের মধ্যে পরমাণুগুলি অত্যন্ত দৃঢ় সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ থাকায় কোনো মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না, তাই তড়িৎ পরিবহন শূন্য। কিন্তু এর শক্তিশালী কেলাস জালকের ল্যাটিস কম্পনের (Phonon) মাধ্যমে তাপ খুব দ্রুত পরিবাহিত হতে পারে।
✔️ উত্তর: উষ্ণতা এবং অন্যান্য ভৌত অবস্থা (যেমন দৈর্ঘ্য, প্রস্থচ্ছেদ, উপাদান) অপরিবর্তিত থাকলে, কোনো পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ প্রবাহমাত্রা ($I$) পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব প্রভেদের ($V$) সমানুপাতিক হয়। অর্থাৎ, $V = IR$।
✔️ উত্তর: ওহমের সূত্রানুযায়ী, স্থির উষ্ণতায় পরিবাহীর দুই প্রান্তের বিভব প্রভেদ ($V$) এবং প্রবাহমাত্রার ($I$) অনুপাত সর্বদা ধ্রুবক থাকে। এই ধ্রুবকটিকে ওই পরিবাহীর রোধ ($R$) বলে। অর্থাৎ, $R = \frac{V}{I}$। [1]
✔️ উত্তর: যেসব পরিবাহী ওহমের সূত্র মেনে চলে, তাদের ওহমীয় পরিবাহী বলে (যেমন—তামা, লোহা)। যেসব পরিবাহী ওহমের সূত্র মেনে চলে না, তাদের অ-ওহমীয় পরিবাহী বলে (যেমন—ডায়োড, ট্রানজিস্টর, অর্ধপরিবাহী)।
✔️ উত্তর: স্থির উষ্ণতায় পরিবাহীর রোধ: (i) দৈর্ঘ্যের ($l$) সমানুপাতিক হয় ($R \propto l$, যখন প্রস্থচ্ছেদ ধ্রুবক) এবং (ii) প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলের ($A$) ব্যস্তানুপাতিক হয় ($R \propto \frac{1}{A}$, যখন দৈর্ঘ্য ধ্রুবক)। এছাড়া পরিবাহীর উপাদান ও তাপমাত্রার ওপর রোধ নির্ভর করে। [2]
✔️ উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একক দৈর্ঘ্য এবং একক প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট কোনো পরিবাহীর রোধকে ওই উপাদানের রোধাঙ্ক ($\rho$) বলে। এর SI একক হলো ওহম-মিটার ($\Omega\cdot\text{m}$)।
✔️ উত্তর: এর অর্থ হলো, নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ১ সেমি দৈর্ঘ্য এবং ১ বর্গসেমি প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফলবিশিষ্ট একটি তামার ব্লকের দুই বিপরীত পৃষ্ঠের মধ্যবর্তী রোধের মান $1.68 \times 10^{-6}\;\Omega$।
✔️ উত্তর: কোনো পদার্থের রোধাঙ্কের অনন্যককে (reciprocal) ওই পদার্থের পরিবাহিতাঙ্ক ($\sigma$) বলে। অর্থাৎ, $\sigma = \frac{1}{\rho}$। এর SI একক হলো $\text{ohm}^{-1}\text{m}^{-1}$ বা ম্যাসো/মিটার ($\text{mho}\cdot\text{m}^{-1}$) বা সিমেন্স/মিটার ($\text{S}\cdot\text{m}^{-1}$)।
✔️ উত্তর: যেসব পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা সাধারণ পরিবাহীর চেয়ে কম কিন্তু অন্তরকের চেয়ে বেশি, তাদের অর্ধপরিবাহী বলে (যেমন—সিলিকন)। খুব নিম্ন তাপমাত্রায় যেসব পদার্থের রোধ হঠাৎ শূন্য হয়ে যায়, তাদের অতিপরিবাহী বলে (যেমন—$4.2\text{ K}$ উষ্ণতায় পারদ)।
✔️ উত্তর: (i) তড়িৎচালক বল হলো বিভব প্রভেদের কারণ, আর বিভব প্রভেদ হলো তড়িৎচালক বলের ফল। (ii) মুক্ত বর্তনীতে কোষের দুই প্রান্তের বিভব পার্থক্যই হলো তড়িৎচালক বল, কিন্তু বদ্ধ বর্তনীতে পরিবাহীর দুটি বিন্দুর মধ্যে বিভব পার্থক্য হলো বিভব প্রভেদ। [3]
✔️ উত্তর: কোষের অভ্যন্তরীণ রোধ মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে: (i) তড়িৎদ্বার দুটির মধ্যবর্তী দূরত্বের ওপর (দূরত্ব বাড়লে রোধ বাড়ে), (ii) তড়িৎদ্বার দুটির তরলে নিমজ্জিত অংশের ক্ষেত্রফলের ওপর (ক্ষেত্রফল বাড়লে রোধ কমে), এবং (iii) তড়িৎ বিশ্লেষ্যের প্রকৃতির ওপর।
✔️ উত্তর: বদ্ধ বর্তনীতে কোষের অভ্যন্তরীণ রোধের ($r$) মধ্য দিয়ে তড়িৎ প্রবাহ ($I$) চালনা করার জন্য কোষের তড়িৎচালক বলের ($E$) যে অংশটি কোষের ভেতরেই ব্যয় হয় এবং বাইরে কোনো কাজে লাগে না, তাকে নষ্ট ভোল্ট বলে। এর মান হলো $Ir$। সূত্রানুযায়ী, $E = V + Ir$।
✔️ উত্তর: পরিবাহীর রোধ ($R$) এবং তড়িৎ প্রবাহের সময় ($t$) অপরিবর্তিত থাকলে, পরিবাহীতে উৎপন্ন তাপ ($H$) তড়িৎ প্রবাহমাত্রার ($I$) বর্গের সমানুপাতিক হয়। অর্থাৎ, $H \propto I^2$।
✔️ উত্তর: কোনো তড়িৎ যন্ত্রের প্রতি সেকেন্ডে বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যয় করার হারকে তার তড়িৎ ক্ষমতা বলে। এর ব্যবহারিক একক হলো ওয়াট ($\text{W}$) বা কিলোওয়াট ($\text{kW}$)। [$\text{Power } P = VI$]
✔️ উত্তর: ১ কিলোওয়াট তড়িৎ ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো তড়িৎ যন্ত্র ১ ঘণ্টা চললে যে পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যয় হয়, তাকে ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বা ১ BOT (Board of Trade) একক বলে। $1\text{ kWh} = 3.6 \times 10^6\text{ Joule}$।
✔️ উত্তর: এর অর্থ হলো, বাতিটিকে ২২০ ভোল্ট বিভব প্রভেদযুক্ত লাইনে যুক্ত করলে বাতিটি সবচেয়ে উজ্জ্বলভাবে জ্বলবে এবং সে অবস্থায় বাতিটি প্রতি সেকেন্ডে ১০০ জুল বৈদ্যুতিক শক্তি ব্যয় করবে।
✔️ উত্তর: ফিউজ তারের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হলো: এর রোধ খুব উচ্চ এবং গলনাঙ্ক খুব নিম্ন হয় (এটি টিন ও সিসার সংকর ধাতু)। ফিউজ তারকে লাইভ তারের সঙ্গে সর্বদা শ্রেণী সমবায়ে (Series) যুক্ত করা হয়।
✔️ উত্তর: থ্রি-পিন প্লাগের মোটা ও লম্বা পিনটি আর্থিং পিন (Earth Pin) নির্দেশ করে। এটি লম্বা করার কারণ হলো, প্লাগটি সকেটে ঢোকানোর সময় আর্থিং পিনটি যেন সবার আগে সকেটের সংস্পর্শে আসে এবং কোনো শর্ট সার্কিট থাকলে তা মাটিতে চলে গিয়ে দুর্ঘটনা এড়ায়।
✔️ উত্তর: বামহস্তের বৃদ্ধাঙ্গুলি, তর্জনী এবং মধ্যমাকে পরস্পরের সমকোণে রেখে প্রসারিত করলে যদি তর্জনী চৌম্বক ক্ষেত্রের অভিমুখ এবং মধ্যমা তড়িৎ প্রবাহের অভিমুখ নির্দেশ করে, তবে বৃদ্ধাঙ্গুলি পরিবাহীর গতির অভিমুখ বা বলের অভিমুখ নির্দেশ করবে। [4]
✔️ উত্তর: বালোর চক্রের ঘূর্ণন বেগ দুটি উপায়ে বৃদ্ধি করা যায়: (i) বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহমাত্রা ($I$) বৃদ্ধি করে, এবং (ii) শক্তিশালী অশ্বখুরাকৃতি চৌম্বক ক্ষেত্র ব্যবহার করে চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রাবল্য বৃদ্ধি করে।
✔️ উত্তর: তড়িৎচৌম্বকীয় আবেশের ক্ষেত্রে আবিষ্ট তড়িৎপ্রবাহের অভিমুখ এমন হয় যে, যে কারণে এই আবিষ্ট প্রবাহের সৃষ্টি হয়, আবিষ্ট প্রবাহ সর্বদা সেই কারণকেই বাধা দেয়। এটি শক্তির সংরক্ষণ সূত্রের একটি রূপান্তর।
✔️ উত্তর: ডায়নামো বা জেনারেটরে যান্ত্রিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (এখানে ফ্লেমিং-এর ডানহস্ত নিয়ম প্রযোজ্য)। অন্যদিকে, তড়িৎ মোটরে তড়িৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় (এখানে ফ্লেমিং-এর বামহস্ত নিয়ম প্রযোজ্য)।
✔️ উত্তর: যেসব পদার্থ গলিত বা জলীয় দ্রবণে আয়নিত হয়ে তড়িৎ পরিবহন করে এবং রাসায়নিকভাবে পরিবর্তিত হয়, তাদের তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে (যেমন—$NaCl$, লঘু $H_2SO_4$)। যেসব পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ পরিবহন করতে পারে না, তাদের তড়িৎ অবিশ্লেষ্য বলে (যেমন—চিনি, গ্লুকোজ)। [5]
✔️ উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তড়িৎ শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় সর্বদা সমপ্রবাহ বা DC (Direct Current) ব্যবহার করা হয়, পরিবর্তী প্রবাহ (AC) ব্যবহার করা যায় না।
✔️ উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলি ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয়, অর্থাৎ ক্যাথোডে বিজারণ ঘটে। অন্যদিকে, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলি ইলেকট্রন বর্জন করে জারিত হয়, অর্থাৎ অ্যানোডে জারণ ঘটে।
✔️ উত্তর: জলের আয়নীভবন: $H_2O \rightleftharpoons H^+ + OH^-$
ক্যাথোড বিক্রিয়া (বিজারণ): $2H^+ + 2e^- \rightarrow 2H \rightarrow H_2 \uparrow$ (হাইড্রোজেন গ্যাস)
অ্যানোড বিক্রিয়া (জারণ): $4OH^- - 4e^- \rightarrow 4OH \rightarrow 2H_2O + O_2 \uparrow$ (অক্সিজেন গ্যাস)
✔️ উত্তর: এই প্রক্রিয়ায় কপার অ্যানোডটি ক্রমাগত ইলেকট্রন বর্জন করে $Cu^{2+}$ আয়ন হিসেবে দ্রবণে দ্রবীভূত হতে থাকে এবং দ্রবণের $Cu^{2+}$ আয়নগুলি ক্যাথোডে গিয়ে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিশুদ্ধ কপার হিসেবে জমা হয়। ফলে অ্যানোড ক্ষয় পায় ও ক্যাথোড মোটা হয়।
✔️ উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে অপেক্ষাকৃত বেশি সক্রিয় ধাতুর (যেমন—লোহা) ওপর অপেক্ষাকৃত কম সক্রিয় ধাতুর (যেমন—ক্রোমিয়াম, সোনা, নিকেল) পাতলা আস্তরণ দেওয়ার পদ্ধতিকে তড়িৎ লেপন বলে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো ধাতুকে মরিচা বা ক্ষয় থেকে রক্ষা করা।
✔️ উত্তর:
- ক্যাথোড: লোহার চামচ (যার ওপর প্রলেপ দিতে হবে)।
- অ্যানোড: বিশুদ্ধ নিকেলের পাত।
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য: সামান্য বোরিক অ্যাসিড মিশ্রিত নিকেল সালফাইড ($NiSO_4$) ও অ্যামোনিয়াম সালফেটের জলীয় দ্রবণ।
✔️ উত্তর:
- অ্যানোড: বিশুদ্ধ সোনার ($Au$) পাত বা দণ্ড।
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য: পটাশিয়াম অরোসায়ানাইড [$KAu(CN)_2$]-এর জলীয় দ্রবণ।
✔️ উত্তর: বিশুদ্ধ অ্যালুমিনার ($Al_2O_3$) গলনাঙ্ক প্রায় $2050^\circ\text{C}$, যা খুব উচ্চ। মিশ্রণে ক্রায়োলাইট ($AlF_3, 3NaF$) ও ফ্লুওস্পার ($CaF_2$) মেশালে মিশ্রণের গলনাঙ্ক কমে প্রায় $950^\circ\text{C}$ হয়। এর ফলে কম তাপমাত্রায় সহজে তড়িৎ বিশ্লেষণ করা যায় এবং মিশ্রণের তড়িৎ পরিবাহিতাও বৃদ্ধি পায়।
✔️ উত্তর: কপার পরিশোধনের সময় অশুদ্ধ কপারের অ্যানোডটি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার সময় ওর মধ্যে থাকা সোনা ($Au$), রুপো ($Ag$), প্ল্যাটিনাম ($Pt$) প্রভৃতি মূল্যবান ধাতুগুলি অ্যানোডের নিচে মসলিন থলিতে কাদার আকারে জমা হয়। একে অ্যানোড মাড বলে। এর থেকে মূল্যবান ধাতু নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়।
✔️ উত্তর: গ্যাস: হাইড্রোজেন সালফাইড ($H_2S$)।
প্রয়োজনীয় দ্রব্য: ফেরাস সালফাইড ($FeS$) এবং লঘু সালফিউরিক অ্যাসিড ($H_2SO_4$)।
সমীকরণ: $FeS + H_2SO_4 \rightarrow FeSO_4 + H_2S \uparrow$ [6, 7]
✔️ উত্তর: প্রয়োজনীয় দ্রব্য: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ($NH_4Cl$) এবং পোড়াচুন বা কলিচুন [$Ca(OH)_2$]।
সমীকরণ: $2NH_4Cl + Ca(OH)_2 \xrightarrow{\Delta} CaCl_2 + 2H_2O + 2NH_3 \uparrow$
✔️ উত্তর: অ্যামোনিয়া একটি ক্ষারীয় গ্যাস। গাঢ় $H_2SO_4$ বা $P_2O_5$ (আম্লিক অবদাহ) এর সাথে অ্যামোনিয়া তীব্র রাসায়নিক বিক্রিয়া করে যথাক্রমে অ্যামোনিয়াম সালফেট এবং অ্যামোনিয়াম ফসফেট লবণ উৎপন্ন করে। তাই এদের শুষ্কীকরণে ব্যবহার করা যায় না।
$2NH_3 + H_2SO_4 \rightarrow (NH_4)_2SO_4$
✔️ উত্তর: অ্যামোনিয়া গ্যাস শুষ্ক করতে পোড়াচুন ($CaO$) ব্যবহার করা হয়। কারণ অ্যামোনিয়া এবং পোড়াচুন—দুটি পদার্থই প্রকৃতিগতভাবে ক্ষারীয় হওয়ায় এদের মধ্যে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে না।
✔️ উত্তর: $0.88$ আপেক্ষিক গুরুত্ববিশিষ্ট অ্যামোনিয়ার গাঢ় জলীয় দ্রবণকে লাইকার অ্যামোনিয়া বলে (এতে প্রায় ৩৫% অ্যামোনিয়া থাকে)। অন্যদিকে, উচ্চ চাপে এবং নিম্ন তাপমাত্রায় ঘনীভূত বিশুদ্ধ অ্যামোনিয়া গ্যাসকে তরল অ্যামোনিয়া বলে (এতে জল থাকে না)।
✔️ উত্তর: পটাশিয়াম মারকিউরিক আয়োডাইডের ক্ষারীয় দ্রবণকে নেসলার বিকারক বলে। অ্যামোনিয়া গ্যাসের সংস্পর্শে এই বর্ণহীন বা সামান্য হলুদ বিকারকটি গাঢ় বাদামি বর্ণে রূপান্তরিত হয়। এর সাহায্যে অ্যামোনিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
✔️ উত্তর: কালো রঙের কপার অক্সাইড ($CuO$) অ্যামোনিয়া গ্যাস দ্বারা বিজারিত হয়ে লালচে তামা ($Cu$) উৎপন্ন করে এবং অ্যামোনিয়া নিজে জারিত হয়ে নাইট্রোজেন গ্যাসে রূপান্তরিত হয়।
$3CuO + 2NH_3 \rightarrow 3Cu + N_2 \uparrow + 3H_2O$
✔️ উত্তর: হাইড্রোজেন সালফাইড ($H_2S$) গ্যাসের সংস্পর্শে লেড অ্যাসিটেট দ্রবণে ভেজানো সাদা কাগজটি লেড সালফাইডের ($PbS$) কালো অধঃক্ষেপ সৃষ্টির কারণে সম্পূর্ণ কালো হয়ে যায়।
$(CH_3COO)_2Pb + H_2S \rightarrow PbS \downarrow \text{(কালো)} + 2CH_3COOH$
✔️ উত্তর: ক্ষারীয় সোডিয়াম নাইট্রোপ্রুসাইডের জলীয় দ্রবণে $H_2S$ গ্যাস চালনা করলে বা সোডিয়াম সালফাইড যোগ করলে দ্রবণটি একটি জটিল যৌগ গঠনের কারণে চমৎকার বেগুনী বর্ণ ধারণ করে।
✔️ উত্তর: প্রয়োজনীয় দ্রব্য: অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ($NH_4Cl$) এবং সোডিয়াম নাইট্রাইট ($NaNO_2$)-এর সমআণবিক মিশ্রণ।
সমীকরণ: $NH_4Cl + NaNO_2 \rightarrow NaCl + NH_4NO_2 \xrightarrow{\Delta} N_2 \uparrow + 2H_2O$
✔️ উত্তর: শর্ত: প্রায় $200$ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে, $450^\circ\text{C}-500^\circ\text{C}$ উষ্ণতায়, আয়রন চূর্ণ অনুঘটক এবং মলিবডেনাম উদ্দীপকের উপস্থিতিতে ১ ভাগ $N_2$ ও ৩ ভাগ $H_2$-এর বিক্রিয়া ঘটানো হয়।
সমীকরণ: $N_2 + 3H_2 \rightleftharpoons 2NH_3 + \text{তাপ}$ [8]
✔️ উত্তর: ১ ভাগ বিশুদ্ধ অ্যামোনিয়া ও ৯ ভাগ বায়ুর মিশ্রণকে $850^\circ\text{C}$ উষ্ণতায় প্ল্যাটিনাম-রোডিয়াম তারজালির ওপর দিয়ে দ্রুত চালনা করলে অ্যামোনিয়া বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে নাইট্রিক অক্সাইড ($NO$) উৎপন্ন করে।
$4NH_3 + 5O_2 \xrightarrow{\text{Pt-Rh}, 850^\circ\text{C}} 4NO + 6H_2O + \text{তাপ}$
✔️ উত্তর: শর্ত: $450^\circ\text{C}$ উষ্ণতায় এবং ১-২ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে ভ্যানাডিয়াম পেন্টক্সাইড ($V_2O_5$) অনুঘটকের উপস্থিতিতে $SO_2$ গ্যাসকে অক্সিজেন দ্বারা জারিত করা হয়।
সমীকরণ: $2SO_2 + O_2 \xrightleftharpoons{V_2O_5, 450^\circ\text{C}} 2SO_3 + \text{তাপ}$
✔️ উত্তর: স্পর্শ পদ্ধতিতে উৎপন্ন সালফার ট্রাইঅক্সাইড ($SO_3$) গ্যাসকে ৯৮% গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিডে শোষণ করালে যে ধূমায়মান সালফিউরিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়, তাকে ওলিয়াম বা পাইরোসালফিউরিক অ্যাসিড বলে। এর রাসায়নিক সংকেত হলো $H_2S_2O_7$।
✔️ উত্তর: (i) প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সব ধাতব যৌগই খনিজ, কিন্তু যেসব খনিজ থেকে সহজে ও লাভজনকভাবে ধাতু নিষ্কাশন করা যায়, তাদেরই আকরিক বলে। (ii) সব আকরিকই খনিজ, কিন্তু সব খনিজ আকরিক নয় (যেমন—বক্সাইট ও কাদা মাটি দুটই অ্যালুমিনিয়ামের খনিজ, কিন্তু কেবল বক্সাইটই আকরিক)।
✔️ উত্তর: [9]
- কপার (তামা): কপার পাইরাইটিস বা চ্যালকোপাইরাইটিস; সংকেত: $CuFeS_2$।
- অ্যালুমিনিয়াম: বক্সাইট; সংকেত: $Al_2O_3 \cdot 2H_2O$।
✔️ উত্তর:
- জিঙ্ক (দস্তা): জিঙ্ক ব্লেন্ড; সংকেত: $ZnS$।
- লোহা (আয়রন): রেড হেমাটাইট; সংকেত: $Fe_2O_3$।
✔️ উত্তর: পারদের সঙ্গে অন্য যেকোনো ধাতুর (যেমন—দস্তা, রুপো, সোনা ইত্যাদি) মিশ্রণে তৈরি সংকর ধাতুকে পারদ সংকর বা অ্যামালগাম বলে। উদাহরণ: দস্তাপারদ সংকর বা জিঙ্ক অ্যামালগাম ($Zn-Hg$), যা ড্যানিয়েল কোষে ব্যবহৃত হয়।
✔️ উত্তর: ডুরালুমিনের প্রধান উপাদানগুলি হলো—অ্যালুমিনিয়াম ($95\%$), কপার ($4\%$), ম্যাঙ্গানিজ ($0.5\%$) এবং ম্যাগনেসিয়াম ($0.5\%$)। ওজনে অত্যন্ত হালকা ও শক্ত হওয়ায় এটি উড়োজাহাজ বা বিমানের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
✔️ উত্তর: টক জাতীয় খাবারে বিভিন্ন জৈব অ্যাসিড (যেমন—টারটারিক অ্যাসিড, সাইট্রিক অ্যাসিড) থাকে। তামার পাত্রে এই খাবারগুলি রাখলে তামা অ্যাসিড ও বায়ুর অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে বিষাক্ত কপার যৌগ গঠন করে। এই খাবার খেলে পেটের রোগ বা বিষক্রিয়া হতে পারে।
✔️ উত্তর: ৩ ভাগ ফেরিক অক্সাইড ($Fe_2O_3$) এবং ১ ভাগ অ্যালুমিনিয়াম ($Al$) চূর্ণের মিশ্রণকে থার্মিট মিশ্রণ বলে। উচ্চ তাপমাত্রায় এই মিশ্রণের বিক্রিয়ায় গলিত লোহা উৎপন্ন হয়, যা রেললাইনের ফাটল জুড়তে বা ভাঙা যন্ত্রাংশ জোড়া লাগাতে (থার্মিট ওয়েল্ডিং) ব্যবহৃত হয়।
✔️ উত্তর: উচ্চ উষ্ণতায় অক্সিজেনের প্রতি অ্যালুমিনিয়ামের তীব্র আসক্তিকে কাজে লাগিয়ে কম সক্রিয় ধাতুর অক্সাইডকে (যেমন $Fe_2O_3$) অ্যালুমিনিয়াম চূর্ণ দ্বারা বিজারিত করে ধাতু নিষ্কাশন করা হয়।
$Fe_2O_3 + 2Al \xrightarrow{\text{উচ্চ তাপ}} Al_2O_3 + 2Fe \text{ (গলিত)} + \text{তাপ}$
✔️ উত্তর: তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে লোহার ওপর দস্তার (জিঙ্ক) পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন (Galvanization) বলে। এর ফলে লোহা সরাসরি বায়ু ও জলের সংস্পর্শে আসতে পারে না, ফলে লোহায় মরিচা পড়ে না।
✔️ উত্তর: জিঙ্ক ব্লেন্ড ($ZnS$) একটি সালফাইড আকরিক। সালফাইড আকরিক থেকে সরাসরি কার্বন বিজারণ পদ্ধতিতে জিঙ্ক নিষ্কাশন করা কঠিন। তাই প্রথমে আকরিকটিকে বায়ুর উপস্থিতিতে উত্তপ্ত (তাপজারণ) করে জিঙ্ক অক্সাইডে ($ZnO$) রূপান্তর করা হয়, যা সহজে বিজারিত হয়।
$2ZnS + 3O_2 \xrightarrow{\Delta} 2ZnO + 2SO_2 \uparrow$
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

