✍️প্রশ্নের মান-২:
📝 1. পর্যায়ন প্রক্রিয়া (Gradational Process) বলতে কী বোঝো?উত্তর: বহির্জাত প্রক্রিয়ায় ক্ষয় ও সঞ্চয় কাজের মাধ্যমে ভূত্বকের উপরিভাগের উচ্চতার পরিবর্তন ঘটে এবং বিভিন্ন উচ্চতাযুক্ত ভূমিরূপের ক্রমশ সমতা এনে একটি সাধারণ তল গঠিত হয়। একেই পর্যায়ন বা ক্রমায়ন প্রক্রিয়া বলে। ১৮৭৬ সালে ভূবিজ্ঞানী গ্রোভ কার্ল গিলবার্ট সর্বপ্রথম ‘পর্যায়’ বা ‘গ্রেড’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
📝 2. ষষ্ঠঘাতের সূত্র (Sixth Power Law) বর্ণনা করো।
উত্তর: নদীর গতিবেগ (V) যদি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায়, তবে তার বহন ক্ষমতা (C) ৬৪ গুণ (২⁶ গুণ) বৃদ্ধি পায়। ১৮৪২ সালে বিজ্ঞানী ডব্লু. হপকিনস নদীর গতিবেগের সঙ্গে বহন ক্ষমতার এই আনুপাতিক সম্পর্কটি উদ্ভাবন করেন।
📝 3. প্রপাতকূপ বা Plunge Pool কাকে বলে?
উত্তর: জলপ্রপাতের পাদদেশে প্রবল জলস্রোত এবং প্রস্তরখণ্ডের প্রচণ্ড আঘাতে ও জলে ঘূর্ণি সৃষ্টির ফলে যে বিশালাকার হাঁড়ির মতো গর্ত তৈরি হয়, তাকে প্লাঞ্জপুল বা প্রপাতকূপ বলে। উদাহরণ হিসেবে চেরাপুঞ্জির কাছে নোহকালিকাই জলপ্রপাতে এটি দেখা যায়।
📝 4. মন্থকূপ বা Pothole কাকে বলে?
উত্তর: নদীর অবঘর্ষ ক্ষয় প্রক্রিয়ায় নদীর তলদেশে যে ছোটো ছোটো গোলাকার ও মসৃণ গর্ত সৃষ্টি হয়, তাকে মন্থকূপ বলে। নদী বাহিত নুড়ি ও শিলাখণ্ড পাক খেতে খেতে নদী তলদেশের নরম শিলায় আঘাত করলে এই ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়।
📝 5. নদীর ধারণ অববাহিকা (Catchment Basin) কাকে বলে?
উত্তর: উচ্চভূমি বা পার্বত্যভূমিতে উৎস অঞ্চলে অসংখ্য উপনদীসহ প্রধান নদীর অববাহিকাকে ধারণ অববাহিকা বলে। সহজভাবে বললে, নদীর উৎস অঞ্চলে নদী অববাহিকার জল সংগ্রহের ক্ষেত্রটিই হলো ধারণ অববাহিকা।
📝 6. হিমরেখা (Snow line) কী?
উত্তর: উঁচু পার্বত্য বা মেরু অঞ্চলে যে সীমারেখার ওপরে সারা বছর তুষার জমে থাকে এবং যার নীচে তুষার গলে যায়, তাকে হিমরেখা বলে। এর উচ্চতা নিরক্ষরেখা থেকে মেরুর দিকে ক্রমশ হ্রাস পায়।
📝 7. হিমশৈল (Ice berg) কী?
উত্তর: মেরু অঞ্চলে সমুদ্রের জলে ভাসমান ও গতিশীল বিশালাকার বরফের স্তূপকে হিমশৈল বলে। এগুলি মিষ্টি জল দিয়ে তৈরি এবং এর প্রায় ৮/৯ অংশ বা ৮৯% জলে ডুবে থাকে।
📝 8. অ্যালবেডো কাকে বলে?
উত্তর: সূর্য থেকে আগত মোট সৌরশক্তির যে ৩৪ শতাংশ অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত না করেই সরাসরি মহাশূন্যে ফিরে যায়, তাকে অ্যালবেডো বলে। এই শক্তি বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ বৃদ্ধিতে কোনো ভূমিকা গ্রহণ করে না।
📝 9. বৈপরীত্য উত্তাপ কাকে বলে?
উত্তর: সাধারণত উচ্চতা বাড়লে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা হ্রাস পায়, কিন্তু বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাপমাত্রা হ্রাস না পেয়ে বরং বেড়ে যায়—এই অবস্থাকেই বৈপরীত্য উত্তাপ বলে। এটি সাধারণত পার্বত্য উপত্যকায় শান্ত মেঘমুক্ত রাতে দেখা যায়।
📝 10. বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: সুপরিকল্পিত যে প্রক্রিয়াগুলির মাধ্যমে পরিবেশে আসা বিভিন্ন ক্ষতিকর বর্জ্যের কুপ্রভাব থেকে পরিবেশকে মুক্ত করে এর গুণমান বজায় রাখা হয়, তাকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বলে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বর্জ্যের পরিমাণ হ্রাস, পুনর্ব্যবহার এবং পুনর্নবীকরণ অন্তর্ভুক্ত।
📝 11. লোয়েস সমভূমি (Loess Plain) কাকে বলে?
উত্তর: মরুভূমির হলুদ ও ধূসর রঙের কোয়ার্টজ, ফেলসপার ও অন্যান্য খনিজ সমৃদ্ধ সূক্ষ্ম ধূলিকণা বায়ু দ্বারা পরিবাহিত হয়ে দূরবর্তী কোনো স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি সৃষ্টি করে, তাকে লোয়েস সমভূমি বলে। এটি সাধারণত স্তরহীন হয়।
📝 12. গ্রাবরেখা (Moraine) কী?
উত্তর: হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে বিচ্ছিন্ন শিলাখণ্ড বা পদার্থগুলি হিমবাহের দুপাশে, মাঝখানে বা সামনে স্তূপাকারে সঞ্চিত হয়ে যে প্রাচীরের মতো ভূমিরূপ সৃষ্টি করে, তাকে গ্রাবরেখা বলে। যেমন— তিস্তা নদীর উচ্চ অববাহিকায় এটি দেখা যায়।
📝 13. ড্রামলিন (Drumlin) কাকে বলে?
উত্তর: হিমবাহ বাহিত নুড়ি, বালি ও কাদা পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে উলটানো নৌকা বা ডিম আকৃতির যে টিলা সৃষ্টি করে, তাকে ড্রামলিন বলে। অনেকগুলো ড্রামলিন একসাথে থাকলে তাকে Basket of Egg Topography বলা হয়।
📝 14. ডেকান ট্রাপ (Deccan Trap) কাকে বলে?
উত্তর: ‘ডেকান’ শব্দের অর্থ দক্ষিণ প্রান্ত এবং ‘ট্রাপ’ শব্দের অর্থ সিঁড়ির ধাপ। ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমির উত্তর-পশ্চিম ভাগের ব্যাসল্ট লাভা গঠিত ধাপযুক্ত মালভূমি অঞ্চলকে ডেকান ট্রাপ বলে।
📝 15. সমোষ্ণরেখা (Isotherms) কাকে বলে?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের যেসব স্থানের বার্ষিক উষ্ণতা একই রকম থাকে, সেই স্থানগুলিকে মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয়, তাকে সমোষ্ণরেখা বলে। এই রেখাগুলি সাধারণত অক্ষরেখার সমান্তরালে বিস্তৃত থাকে।
📝 16. গর্জনশীল চল্লিশা কী?
উত্তর: দক্ষিণ গোলার্ধে স্থলভাগ কম থাকায় পশ্চিমা বায়ু ৪০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর প্রবল বেগে সশব্দে প্রবাহিত হয়, তাই একে গর্জনশীল চল্লিশা বলে।
📝 17. আন্তঃক্রান্তীয় মিলনক্ষেত্র বা ITCZ কী?
উত্তর: উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় বরাবর যেখানে মিলিত হয়, তাকে আন্তঃক্রান্তীয় মিলন অঞ্চল বা ITCZ বলে। এই অঞ্চলে বায়ু ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় একে নিরক্ষীয় শান্তবলয়ও বলা হয়।
📝 18. ষাঁড়াষাঁড়ি বান বা বান ডাকা কাকে বলে?
উত্তর: ভরা কোটালের সময় সমুদ্রের জল প্রবল বেগে নদীর মোহনার মধ্য দিয়ে বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়ে যে জলোচ্ছ্বাস ঘটায়, তাকে বান ডাকা বলে। বর্ষাকালে এটি অত্যন্ত প্রবল হলে তাকে ষাঁড়াষাঁড়ি বান বলা হয়।
📝 19. জাপান ও নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে সারাবছর কুয়াশা থাকে কেন?
উত্তর: এই অঞ্চলে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের মিলন ঘটে। উষ্ণ বায়ুর জলীয় বাষ্প শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হওয়ার ফলে এখানে ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
📝 20. শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) কাকে বলে?
উত্তর: উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে বিভিন্ন সমুদ্রস্রোতের চক্রাকার আবর্তনের ফলে মধ্যভাগে যে স্রোতহীন ও আগাছাপূর্ণ উপবৃত্তাকার জলাবর্তের সৃষ্টি হয়, তাকে শৈবাল সাগর বলে। এর কোনো নির্দিষ্ট উপকূলরেখা নেই।
📝 21. মগ্নচড়া কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর: হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে গলে গেলে তাতে থাকা নুড়ি, বালি ও পলি সমুদ্রতলে সঞ্চিত হয়ে যে অগভীর চড়া সৃষ্টি করে, তাকে মগ্নচড়া বলে। গ্র্যান্ডব্যাংক এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
📝 22. স্ক্রাবার (Scrubber) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: কলকারখানা থেকে নির্গত দূষিত গ্যাসীয় পদার্থকে জল বা দ্রবণের মাধ্যমে পরিষ্কার করে বায়ুকে বিশুদ্ধ করার পদ্ধতিকে স্ক্রাবার বলে। এটি শুষ্ক ও আর্দ্র—দুই প্রকারের হয়।
📝 23. ইউট্রোফিকেশান (Eutrophication) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: জলাশয়ে অতিরিক্ত পুষ্টিকর পদার্থ মিশে জলজ উদ্ভিদ ও শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটিয়ে অক্সিজেনের ঘাটতি সৃষ্টি করার প্রক্রিয়াকে ইউট্রোফিকেশান বলে। এর ফলে মাছ মারা যায়।
📝 24. ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিল (Landfill) কী?
উত্তর: কঠিন বর্জ্য পদার্থ দ্বারা কোনো নীচু ভূভাগ ভরাট করে সমান করার পদ্ধতিকে ভরাটকরণ বা ল্যান্ডফিল বলে। এর ফলে ভৌমজল দূষণের সম্ভাবনা থাকে।
📝 25. বিষহীন বা পরিবেশ মিত্র বর্জ্য কী?
উত্তর: যেসব জৈব বর্জ্য পরিবেশের ক্ষতি না করে পচে গিয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে, তাদের পরিবেশ মিত্র বর্জ্য বলে।
📝 26. ই-বর্জ্য বা বৈদ্যুতিন বর্জ্য বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পরিত্যক্ত কম্পিউটার, মোবাইল, টিভি, ফ্রিজ প্রভৃতি বৈদ্যুতিন সামগ্রী যা পরিবেশে ক্ষতিকর ধাতু ছড়ায়, তাকে ই-বর্জ্য বলে।
📝 27. তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলতে কী বোঝো?
উত্তর: পারমাণবিক কেন্দ্র বা গবেষণাগার থেকে নির্গত ক্ষতিকারক তেজস্ক্রিয় পদার্থকে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য বলে। এটি গুরুতর রোগ সৃষ্টি করতে পারে।
📝 28. কম্পোস্টিং (Composting) কাকে বলে?
উত্তর: কঠিন জৈব বর্জ্য আণুবীক্ষণিক জীবের মাধ্যমে পচিয়ে জৈব সারে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে কম্পোস্টিং বলে। এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায়।
📝 29. দুন (Dun) বলতে কী বোঝো?
উত্তর: হিমালয়ের শিবালিক ও হিমাচল পর্বতের মধ্যবর্তী প্রশস্ত সমতল অনুদৈর্ঘ্য উপত্যকাকে দুন বলা হয়। উদাহরণ— দেরাদুন।
📝 30. ‘মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ছেদ’ (Break of Monsoon) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার পর বায়ুর গতিবেগ হ্রাস পেলে বা বায়ুচাপের পরিবর্তন ঘটলে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতের সাময়িক বিরতি ঘটে। একেই মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ছেদ বলা হয়।
📝 31. লু (Loo) কাকে বলে?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে মে-জুন মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে দিনের বেলা ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে যে অত্যন্ত উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে লু বলে। এর তাপমাত্রা ৪০° থেকে ৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হতে পারে এবং এর ফলে মানুষ ও গবাদি পশুর প্রাণহানি ঘটে।
📝 32. আঁধি (Andhi) কী?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে রাজস্থানের মরু অঞ্চলে যে ভয়ানক ধূলিঝড় সৃষ্টি হয়, তাকে আঁধি বলে। এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০–৬০ কিমি এবং বাতাসে প্রচুর ধূলিকণা ও বালুকণা ভেসে থাকে।
📝 33. আম্রবৃষ্টি বলতে কী বোঝো?
উত্তর: গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশে বজ্রবিদ্যুৎসহ যে বৃষ্টিপাত হয়, তাকে আম্রবৃষ্টি বলে। এই বৃষ্টির ফলে আমের ফলন ভালো হয়। কর্নাটকে এটি কফি চাষে সহায়ক হওয়ায় একে চেরি ব্লসমস বলা হয়।
📝 34. স্থিতিশীল উন্নয়ন (Sustainable Development) কাকে বলে?
উত্তর: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন পূরণে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা মেটানোর যে উন্নয়ন প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়, তাকে স্থিতিশীল উন্নয়ন বলে। ব্রুন্টল্যান্ড কমিশন এই ধারণার সংজ্ঞা প্রদান করে।
📝 35. মহানগর (Metropolis) কাকে বলে?
উত্তর: ভারতের যেসব শহরের জনসংখ্যা ১০ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষের মধ্যে, তাদের মহানগর বা মিলিয়ন সিটি বলা হয়। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী ভারতে ৫৩টি মহানগর রয়েছে।
📝 36. সোনালী চতুর্ভুজ (Golden Quadrilateral) কী?
উত্তর: ভারতের চারটি প্রধান মহানগর— দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতাকে সংযোগকারী ৫,৮৪৬ কিমি দীর্ঘ ৪–৬ লেনের জাতীয় সড়ক প্রকল্পকে সোনালী চতুর্ভুজ বলা হয়। এর ফলে দ্রুত পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সম্ভব হয়।
📝 37. হীরক চতুর্ভুজ (Diamond Quadrilateral) কী?
উত্তর: সোনালী চতুর্ভুজের অনুকরণে ভারতের চারটি প্রধান মহানগরকে অতি দ্রুতগামী রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত করার পরিকল্পনাকে হীরক চতুর্ভুজ বলা হয়। এটি সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে।
📝 38. অনুসারী শিল্প (Downstream Industry) কাকে বলে?
উত্তর: কোনো বৃহৎ মূল শিল্প থেকে উৎপাদিত পণ্য বা উপজাত দ্রব্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে যে ছোট শিল্প গড়ে ওঠে, তাকে অনুসারী শিল্প বলে। যেমন— পেট্রোরসায়ন শিল্পভিত্তিক প্লাস্টিক শিল্প।
📝 39. কার্পাস শিল্পকে ‘শিকড়-আলগা শিল্প’ (Foot-loose Industry) বলা হয় কেন?
উত্তর: কার্পাস একটি বিশুদ্ধ কাঁচামাল, যার কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের ওজনের অনুপাত সমান। তাই কাঁচামাল উৎপাদন কেন্দ্র বা বাজার— যেকোনো সুবিধাজনক স্থানে এই শিল্প গড়ে উঠতে পারে। এজন্য একে শিকড়-আলগা শিল্প বলা হয়।
📝 40. সেন্সর (Sensor) কাকে বলে?
উত্তর: কৃত্রিম উপগ্রহে স্থাপিত যে বিশেষ যন্ত্র ভূপৃষ্ঠের বস্তুর ওপর প্রতিফলিত আলোক তরঙ্গ সংগ্রহ করে তথ্য পাঠায়, তাকে সেন্সর বলে। এটি সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয়— দুই প্রকারের হয়।
📝 41. মালনাদ ও ময়দান কাকে বলে?
উত্তর: ‘মালনাদ’ শব্দের অর্থ ‘পাহাড়ি দেশ’। কর্ণাটক মালভূমির পশ্চিমাংশের পাহাড়ি অঞ্চলকে মালনাদ বলে। অন্যদিকে ‘ময়দান’ শব্দের অর্থ ‘অনুচ্চ ভূভাগ’। কর্ণাটক মালভূমির পূর্বাংশে অবস্থিত সমপ্রায় ভূমিকে ময়দান বলে।
📝 42. বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: নদীতে বাঁধ দিয়ে নদীর জলপ্রবাহকে মানব কল্যাণের জন্য বিভিন্ন উদ্দেশ্যে (যেমন—সেচ, জলবিদ্যুৎ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ) ব্যবহারের পরিকল্পনাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে। উদাহরণ— দামোদর নদী পরিকল্পনা, হীরাকুঁদ পরিকল্পনা।
📝 43. আশ্বিনের ঝড় কাকে বলে?
উত্তর: শরৎকালে (অক্টোবর–নভেম্বর) মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাগমনের সময় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়লে তাকে আশ্বিনের ঝড় বলা হয়। এতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি হয়।
📝 44. পশ্চিমি ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) বলতে কী বোঝ?
উত্তর: শীতকালে ভূমধ্যসাগর থেকে আগত দুর্বল নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে যে মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টি বা তুষারপাত হয়, তাকে পশ্চিমি ঝঞ্ঝা বলে। এটি রবি শস্যের জন্য উপকারী।
📝 45. মৌসুমি বিস্ফোরণ (Burst of Monsoon) কাকে বলে?
উত্তর: জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে জলীয় বাষ্পপূর্ণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কেরালার মালাবার উপকূলে পৌঁছে পশ্চিমঘাটে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বজ্রবিদ্যুৎসহ হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটালে তাকে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে।
📝 46. ‘রেগুর’ মাটির রং কালো কেন?
উত্তর: দাক্ষিণাত্যের ব্যাসল্ট শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এই মাটির সৃষ্টি হয়েছে। এতে টাইটেনিয়াম অক্সাইড বেশি থাকায় মাটির রং কালো হয়।
📝 47. কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা Black Cotton Soil কী?
উত্তর: মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশের ব্যাসল্ট শিলা অঞ্চলের কালো রঙের মাটিকে কৃষ্ণ মৃত্তিকা বলে। তুলো চাষ উপযোগী হওয়ায় একে Black Cotton Soil বলা হয়।
📝 48. F.C.C বা ছদ্ম রং কী?
উত্তর: উপগ্রহ চিত্রে ভূপৃষ্ঠের উপাদানগুলিকে প্রকৃত রঙের পরিবর্তে অন্য রঙে প্রদর্শন করলে তাকে F.C.C (False Colour Composite) বলে। যেমন— উদ্ভিদকে লাল রঙে দেখানো।
📝 49. ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র (Topographical Map) কাকে বলে?
উত্তর: যে মানচিত্রে ভূপৃষ্ঠের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক উপাদান নির্দিষ্ট স্কেল ও প্রতীক চিহ্নের মাধ্যমে দেখানো হয়, তাকে ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র বলে। এটি Survey of India প্রস্তুত করে।
📝 50. ভূ-বৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ভগ্নাংশসূচক স্কেল (R.F.) কেন ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: মানচিত্রের দূরত্ব ও প্রকৃত দূরত্বের অনুপাত ভগ্নাংশে প্রকাশ করলে তাকে R.F. বলে। এটি এককবিহীন হওয়ায় যেকোনো দেশে সহজে ব্যবহার ও রূপান্তর করা যায়।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹The End🌹>>>>>>>>>>>

