✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
💡 ১. 'টেবিল ল্যান্ড' কাকে ও কেন বলা হয়?
✔️ উত্তর: মালভূমিকে 'টেবিল ল্যান্ড' বলা হয়। কারণ মালভূমির উপরিভাগ টেবিলের মতো সমতল এবং চারপাশ খাড়া ঢালযুক্ত হয়।
💡 ২. জলবিভাজিকা ক্ষয় হয়ে গেলে কী ঘটনা ঘটবে?
✔️ উত্তর: দুটি পাশাপাশি অবস্থিত নদী অববাহিকার মধ্যবর্তী জলবিভাজিকা ক্ষয় হয়ে নিচু হয়ে গেলে, নদী দুটির অববাহিকা মিলিত হয়ে যেতে পারে এবং এক নদীর জল অন্য নদীতে মিশে গিয়ে নদী গ্রাস ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
💡 ৩. রেগোলিথ কী?
✔️ উত্তর: আবহবিকারের ফলে শিলা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে ভূপৃষ্ঠের উপর যে শিথিল ও আলগা আস্তরণ তৈরি করে, তাকে রেগোলিথ বলে। এই রেগোলিথ থেকেই পরবর্তীকালে মাটি সৃষ্টি হয়।
💡 ৪. ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি কাকে বলে?
✔️ উত্তর: নদী, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা কোনো মালভূমি অঞ্চল গভীরভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যখন ছোট ছোট অংশে বিভক্ত হয় এবং নদী উপত্যকা দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে, তখন তাকে ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমি বলে (যেমন—ছোটনাগপুর মালভূমি)।
💡 ৫. খাড়ি কাকে বলে?
✔️ উত্তর: সমুদ্রের জোয়ারের নোনা জল নদীর মোহনা দিয়ে নদীখাতের ভেতরে প্রবেশ করলে যে চওড়া ও ফানেল আকৃতির মোহনা তৈরি হয়, তাকে খাড়ি বলে। সুন্দরবন অঞ্চলে এরকম অনেক খাড়ি দেখা যায়।
💡 ৬. বহুমুখী নদী পরিকল্পনা কাকে বলে?
✔️ উত্তর: যখন কোনো নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষিতে জলসেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, মাছ চাষ ও পর্যটন প্রভৃতি নানা উদ্দেশ্যে কাজ করা হয়, তখন তাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে।
💡 ৭. নদী উপত্যকা কাকে বলে?
✔️ উত্তর: নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যে সংকীর্ণ ও দীর্ঘ খাতের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হয়, তাকে নদী উপত্যকা বলে।
💡 ৮. পাললিক শিলার দুটি ব্যবহার লেখো।
✔️ উত্তর: ১. চুনাপাথর সিমেন্ট ও লোহা-ইস্পাত শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ২. বেলেপাথর বাড়িঘর বা কেল্লা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
💡 ৯. নীল নদের উপর আসোয়ান বাঁধ নির্মাণের দুটি মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
✔️ উত্তর: ১. নীল নদের বিধ্বংসী বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা। ২. সারাবছর কৃষিজমিতে জলসেচের সুবিধা দেওয়া।
💡 ১০. আফ্রিকা মহাদেশের জলবায়ুর বৈচিত্র্যের দুটি কারণ উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর: ১. অক্ষাংশগত অবস্থান (নিরক্ষরেখা মাঝখান দিয়ে যাওয়ায় বৈচিত্র্য বেশি)। ২. সমুদ্র থেকে দূরত্ব ও উচ্চতার পার্থক্য।
💡 ১১. অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর: যে নদী কোনো দেশের অভ্যন্তরে উৎপন্ন হয়ে সেই দেশেরই কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে মেশে এবং সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে। যেমন—ভারতের লুনি নদী।
💡 ১২. লাভা গঠিত মালভূমি কাকে বলে?
✔️ উত্তর: ভূগর্ভস্থ ম্যাগমা বা লাভা ফাটল দিয়ে ভূপৃষ্ঠে বেরিয়ে এসে দীর্ঘকাল ধরে জমা হয়ে যে মালভূমি গঠিত হয়, তাকে লাভা গঠিত মালভূমি বলে। যেমন—ভারতের দাক্ষিণাত্য মালভূমি।
💡 ১৩. আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্গত কয়েকটি বিখ্যাত শহরের নাম লেখো।
✔️ উত্তর: আফ্রিকার কয়েকটি বিখ্যাত শহর হলো— কায়রো, জোহানেসবার্গ, কেপটাউন এবং খার্তুম।
💡 ১৪. মালভূমি ও সমভূমির দুটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: ১. মালভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারের বেশি উঁচু হয়, আর সমভূমি ৩০০ মিটারের কম উঁচু হয়। ২. মালভূমির উপরিভাগ ঢেউ খেলানো বা বন্ধুর হয়, কিন্তু সমভূমি প্রায় সমতল হয়।
💡 ১৫. নীল নদের মধ্য অববাহিকা কোথা থেকে কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত?
✔️ উত্তর: নীল নদের মধ্য অববাহিকা সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে মিশরের আসোয়ান পর্যন্ত বিস্তৃত।
💡 ১৬. জলপ্রপাত কীভাবে সৃষ্টি হয়?
✔️ উত্তর: নদীর গতিপথে কঠিন ও কোমল শিলা আড়াআড়িভাবে অবস্থান করলে নদী কোমল শিলাকে দ্রুত ক্ষয় করে। ফলে নদীর জল ওপর থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে।
💡 ১৭. আর্গ কাকে বলে?
✔️ উত্তর: সাহারা মরুভূমির যে অংশ বালিতে ঢাকা এবং যেখানে মাইলের পর মাইল বালিয়াড়ি দেখা যায়, সেই বালুকাময় মরুভূমিকে আর্গ বলা হয়।
💡 ১৮. ক্যারাভান কাকে বলে?
✔️ উত্তর: মরুভূমি অঞ্চলে সাধারণত দলবদ্ধভাবে উটের পিঠে চড়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত বা ব্যবসা-বাণিজ্য করা হয়। এই উটের দলকে বা উট চালিত পথিক দলকে ক্যারাভান বলে।
💡 ১৯. দোআঁশ মাটি কাকে বলে?
✔️ উত্তর: যে মাটিতে বালি ও কাদার ভাগ প্রায় সমান সমান থাকে, তাকে দোআঁশ মাটি বলে। এই মাটি কৃষিকাজের জন্য খুবই আদর্শ।
💡 ২০. মাটি সৃষ্টিতে জলবায়ুর ভূমিকা কী?
✔️ উত্তর: জলবায়ু (বিশেষত বৃষ্টিপাত ও উষ্ণতা) শিলাকে আবহবিকারের মাধ্যমে ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ করে এবং জৈব পদার্থের বিয়োজন ঘটিয়ে মাটি তৈরির প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে।
💡 ২১. ইজিপসিয়ান কটন কী?
✔️ উত্তর: নীল নদের অববাহিকায় মিশরে উৎপাদিত উন্নত মানের ও দীর্ঘ আঁশযুক্ত তুলোকে ইজিপসিয়ান কটন বলা হয়। এটি সারা বিশ্বে সমাদৃত।
💡 ২২. মিয়েন্ডার কাকে বলে?
✔️ উত্তর: সমভূমি বা নিম্ন প্রবাহে নদীর গতিপথ অত্যন্ত এঁকেবেঁকে গেলে সেই বাঁকগুলিকে তুরস্কের 'মিয়েন্ড্রস' নদীর নামানুসারে মিয়েন্ডার বলা হয়।
💡 ২৩. কোন্ কোন্ নদীর মিলিত নাম নীল নদ?
✔️ উত্তর: হোয়াইট নীল এবং ব্লু নীল—এই দুটি নদী সুদানের খার্তুম শহরে মিলিত হয়ে নীল নদ নামে প্রবাহিত হয়েছে।
💡 ২৪. ইয়াংসি অববাহিকায় কী কী শিল্প আছে?
✔️ উত্তর: ইয়াংসি অববাহিকায় লোহা-ইস্পাত শিল্প, বস্ত্রবয়ন শিল্প, রাসায়নিক শিল্প এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্প বিশেষভাবে গড়ে উঠেছে।
💡 ২৫. স্তূপ পর্বত কীভাবে সৃষ্টি হয়?
✔️ উত্তর: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকে ফাটল বা চ্যুতি সৃষ্টি হলে দুটি ফাটলের মধ্যবর্তী অংশ ওপরে উঠে গিয়ে অথবা পার্শ্ববর্তী অংশ নিচে বসে গিয়ে যে খাড়া ঢালযুক্ত পর্বত তৈরি করে, তাকে স্তূপ পর্বত বলে।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
💡 ১. শিলা থেকে কীভাবে মাটি সৃষ্টি হয়?
✔️ উত্তর: আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদান (যেমন—উষ্ণতা, বৃষ্টিপাত) এবং জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তর ক্রমাগত চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে প্রথমে রেগোলিথ তৈরি করে। পরবর্তীতে এই রেগোলিথের সাথে জল, বাতাস এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচা দেহাংশ (হিউমাস) মিশে দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে মাটি সৃষ্টি হয়।
💡 ২. আগ্নেয় ও পাললিক শিলার মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর:
১. আগ্নেয় শিলা লাভা বা ম্যাগমা জমাট বেঁধে গঠিত হয়, কিন্তু পাললিক শিলা পলি স্তরে স্তরে জমে গঠিত হয়।
২. আগ্নেয় শিলা খুব শক্ত ও স্ফটিকাকার হয়, পাললিক শিলা নরম ও ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়।
৩. আগ্নেয় শিলায় কোনো জীবাশ্ম দেখা যায় না, কিন্তু পাললিক শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায়।
💡 ৩. মিশরকে 'নীল নদের দান' বলা হয় কেন?
✔️ উত্তর: মিশর একটি মরুভূমি প্রধান দেশ। নীল নদ না থাকলে মিশর আজ সাহারা মরুভূমির অংশ হতো। নীল নদের জলই মিশরের কৃষিকাজ, পানীয় জলের অভাব পূরণ এবং যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। এছাড়া প্রতি বছর নীল নদের বন্যায় জমিতে উর্বর পলি সঞ্চিত হয়, যা চাষবাসের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। তাই ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে 'নীল নদের দান' বলেছেন।
💡 ৪. বহুমুখী নদী পরিকল্পনার উদ্দেশ্যগুলি কী কী?
✔️ উত্তর: বহুমুখী নদী পরিকল্পনার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো—
১. নদীর বিধ্বংসী বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা।
২. সারাবছর কৃষিকাজে জলসেচের সুবিধা দেওয়া।
৩. জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা।
৪. মাছ চাষ ও নৌ-পরিবহনের উন্নতি ঘটানো।
💡 ৫. সব নদী মোহনায় বদ্বীপ সৃষ্টি করতে পারে না কেন?
✔️ উত্তর: সব নদী মোহনায় বদ্বীপ তৈরি করতে পারে না কারণ—
১. নদীর মোহনায় সমুদ্রের স্রোত ও জোয়ারের বেগ খুব বেশি হলে পলি থিতিয়ে পড়ার সুযোগ পায় না।
২. নদীর বহন করা পলিরাশির পরিমাণ কম হলে বদ্বীপ তৈরি হয় না।
৩. নদীর গতিবেগ মোহনার কাছে খুব বেশি থাকলে বদ্বীপ গঠিত হতে পারে না।
💡 ৬. হামাদা ও রেগ কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
হামাদা: সাহারা মরুভূমির যে অংশ বালির বদলে কেবল শক্ত পাথরে ঢাকা, তাকে হামাদা বলে।
রেগ: মরুভূমির যে অংশে বালির সাথে ছোট ছোট পাথরের টুকরো বা নুড়ি মিশে থাকে, তাকে রেগ বলে।
💡 ৭. স্তূপ পর্বত ও গ্রস্ত উপত্যকা কীভাবে সৃষ্টি হয়?
✔️ উত্তর: ভূ-আলোড়নের ফলে ভূত্বকে সমান্তরালভাবে দুটি ফাটল বা চ্যুতির সৃষ্টি হলে তার মধ্যবর্তী অংশ ওপরে উঠে গিয়ে স্তূপ পর্বত সৃষ্টি করে। আবার কখনও দুটি চ্যুতির মধ্যবর্তী অংশ নিচে বসে গিয়ে যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ উপত্যকা তৈরি হয়, তাকে গ্রস্ত উপত্যকা বলে।
💡 ৮. কঙ্গো অববাহিকার অরণ্যের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
১. এখানকার অরণ্য অত্যন্ত ঘন এবং সারাবছর সবুজ থাকে বলে একে চিরহরিৎ অরণ্য বলে।
২. এখানকার গাছগুলো (যেমন—মেহগনি, আবলুস) খুব লম্বা ও শক্ত কাঠের হয়।
৩. গাছের ডালপালা ও পাতা ওপরের দিকে মিলে গিয়ে এক ধরনের চাঁদোয়া বা চাঁদনী তৈরি করে, যার ফলে অরণ্যের মেঝেতে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না।
💡 ৯. মাটির দানার আকারের ওপর ভিত্তি করে মাটির শ্রেণীবিভাগ করো।
✔️ উত্তর: দানার আকারের ওপর ভিত্তি করে মাটিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়—
১. বেলে মাটি: এর দানার আকার বড় এবং জলধারণ ক্ষমতা খুব কম।
২. এঁটেল মাটি: এর দানা খুব সূক্ষ্ম এবং জলধারণ ক্ষমতা অনেক বেশি।
৩. দোআঁশ মাটি: এতে বালি ও কাদার ভাগ প্রায় সমান থাকে এবং এটি চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো।
💡 ১০. নিত্যবহ ও অনিত্যবহ নদী কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
নিত্যবহ নদী: যে সমস্ত নদী উঁচু পাহাড়ের বরফ গলা জলে পুষ্ট এবং সারাবছর জল থাকে, তাদের নিত্যবহ নদী বলে (যেমন—গঙ্গা)।
অনিত্যবহ নদী: যে নদীগুলো মূলত বৃষ্টির জলে পুষ্ট এবং কেবল বর্ষাকালে জল থাকে, বাকি সময় প্রায় শুকিয়ে যায়, তাদের অনিত্যবহ নদী বলে (যেমন—অজয়, ময়ূরাক্ষী)।
💡 ১১. যাযাবর কাদের বলে? এদের খাদ্য কী?
✔️ উত্তর: মরুভূমি অঞ্চলে যে সমস্ত মানুষ কোনো নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ীভাবে বসবাস না করে খাদ্যের সন্ধানে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, তাদের যাযাবর (যেমন—বেদুইন) বলে। এদের প্রধান খাদ্য হলো পশুর দুধ, মাংস এবং খেজুর।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

