✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২/৩):
💡১. কেলাসন বলতে কী বোঝায়?
✔️উত্তর: কোনো সম্পৃক্ত দ্রবণ থেকে দ্রাবকে কঠিন ও দানাদার দানার আকারে পৃথক করার পদ্ধতিকে কেলাসন বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, চিনির রস থেকে চিনির দানাকে আলাদা করা।
💡২. ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তনের পার্থক্য লেখো।
✔️উত্তর:
ভৌত পরিবর্তন: পদার্থের বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে কিন্তু মূল গঠনের পরিবর্তন হয় না। এটি সাধারণত উভমুখী ঘটনা। যেমন—বরফ গলে জল হওয়া।
রাসায়নিক পরিবর্তন: পদার্থের মূল গঠনের পরিবর্তন ঘটে এবং সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ তৈরি হয়। এটি সাধারণত একমুখী ঘটনা। যেমন—খাবার হজম হওয়া।
💡৩. নিম্নলিখিত যৌগগুলির সংকেত লেখো।
✔️উত্তর:
(a) ফসফরাস পেন্টাক্লোরাইড — PCl₅
(b) হাইড্রোজেন সালফাইড — H₂S
(c) ফসফিন — PH₃
(d) মিথেন — CH₄
💡৪. পাউরুটির গা ফুটো ফুটো হয় কেন?
✔️উত্তর: পাউরুটি তৈরির সময় ময়দার তালের সঙ্গে ইস্ট মেশানো হয়। ইস্ট শর্করার সন্ধান ঘটিয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্যাস উৎপন্ন করে। যখন পাউরুটি সেঁকা হয়, তখন ওই গ্যাসটি বাইরে বেরিয়ে আসার সময় পাউরুটির গা ফুটো ফুটো করে দেয়।
💡৫. আমাদের শারীরিক গঠনে ভিটামিন A-এর উপকারিতা লেখো।
✔️উত্তর: ভিটামিন A আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে এবং চোখ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি শরীরের চামড়া বা ত্বক ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
💡৬. শীতকালে শিশির জমে কেন?
✔️উত্তর: শীতকালে রাতে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হ্রাস পায়। বাতাস যখন ঘনীভূত হয়, তখন বাতাসের জলীয় বাষ্প ছোট ছোট জলকণায় পরিণত হয়ে ঘাস বা পাতার ওপর জমা হয়, একেই শিশির বলে। এটি একটি ভৌত পরিবর্তন।
💡৭. পরিশ্রাবণ কাকে বলে?
✔️উত্তর: তরল মিশ্রিত কোনো অদ্রাব্য কঠিন পদার্থের সূক্ষ্ম কণাগুলিকে ফিল্টার কাগজের সাহায্যে ছেঁকে ওই তরল থেকে পৃথক করার পদ্ধতিকে পরিশ্রাবণ বলে।
💡৮. বহুক্ষণ কেটে রাখা কলা, আপেল বা ডাবের মুখে কী দেখা যায় ও কেন?
✔️উত্তর: বহুক্ষণ কেটে রাখা কলা বা আপেলের ওপর কালচে বা বাদামি রঙের স্তর দেখা যায়। এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ বাতাসের অক্সিজেনের সাথে ফলের কিছু উপাদানের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
💡৯. হানিডিউ কী? ফিতাকৃমি কোথায় বাসা বাঁধে?
✔️উত্তর: জাব পোকা গাছের শর্করাসমৃদ্ধ রস শোষণ করে যে আঠালো বর্জ্য ত্যাগ করে, তাকে হানিডিউ বলা হয়। ফিতাকৃমি মানুষের অন্ত্রে বা শরীরের অভ্যন্তরে বাসা বাঁধে।
💡১০. পরজীবী প্রাণী কাকে বলে? তোমার শরীরে বাস করে এমন একটি পরজীবী প্রাণীর নাম লেখো।
✔️উত্তর: যে সমস্ত প্রাণী অন্য কোনো সজীব প্রাণীর (পোষক) দেহের ভেতরে বা বাইরে বাস করে পুষ্টি সংগ্রহ করে এবং পোষকের ক্ষতি করে, তাদের পরজীবী বলে। মানুষের শরীরে বাস করতে পারে এমন একটি পরজীবী হলো উকুন বা ফিতাকৃমি।
💡১১. অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের একটি করে ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের অমিল লেখো।
✔️উত্তর:
ভৌত ধর্মের অমিল: হাইড্রোজেন হলো সবথেকে হালকা গ্যাস, অন্যদিকে অক্সিজেন হাইড্রোজেনের চেয়ে ভারী।
রাসায়নিক ধর্মের অমিল: অক্সিজেন নিজে জ্বলে না কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে; কিন্তু হাইড্রোজেন নিজে নীল শিখায় জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না।
💡১২. প্রদত্ত যৌগগুলির নাম লেখো: PCl₅, CCl₄, SO₃, PH₃।
✔️উত্তর:
PCl₅ — ফসফরাস পেন্টাক্লোরাইড
CCl₄ — কার্বন টেট্রাক্লোরাইড
SO₃ — সালফার ট্রাইঅক্সাইড
PH₃ — ফসফিন
💡১৩. গ্রাফাইট তাপ ও তড়িতের সুপরিবাহী হওয়া সত্ত্বেও এটি ধাতু নয় কেন?
✔️উত্তর: গ্রাফাইট হলো কার্বন নামক একটি অধাতুর রূপভেদ। এটি তাপ ও তড়িতের সুপরিবাহী হলেও এর মধ্যে ধাতুর মতো উজ্জ্বলতা, ঘাতসহনশীলতা বা নমনীয়তা নেই, তাই এটি ধাতু নয়।
💡১৪. শকুন কীভাবে আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে?
✔️উত্তর: শকুন হলো একটি ঝাড়ুদার পাখি। এরা মরা ও পচা প্রাণীদের মাংস খেয়ে পরিবেশকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখে এবং বিভিন্ন রোগ ছড়ানো প্রতিরোধ করে চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখে।
💡১৫. পরাগমিলন কাকে বলে? ফল ও বীজের বিস্তারে সাহায্য করে এমন কোন্ প্রাণী?
✔️উত্তর: ফুলের পরাগরেণু যখন একই ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়, তখন তাকে পরাগমিলন বলে। ফল ও বীজের বিস্তারে পাখি, বাদুড় এবং শিয়ালের মতো প্রাণীরা সাহায্য করে।
💡১৬. মৌলের পারমাণবিকতা কাকে বলে?
✔️উত্তর: কোনো মৌলিক পদার্থের একটি অণুর মধ্যে যতগুলি পরমাণু বর্তমান থাকে, সেই সংখ্যাকে ওই মৌলের পারমাণবিকতা বলা হয়। যেমন—অক্সিজেন অণুর (O₂) পারমাণবিকতা হলো ২।
💡১৭. শীতকালে কেন শিশির জমে — ব্যাখ্যা করো।
✔️উত্তর: শীতকালে রাতের বেলা মাটি ও সংলগ্ন গাছপালা তাপ বিকিরণ করে ঠান্ডা হয়ে যায়। ফলে মাটির কাছাকাছি থাকা বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলকণায় পরিণত হয় এবং ঘাস বা পাতার ওপর জমা হয়, একেই শিশির বলে।
💡১৮. যৌগিক পদার্থের সংজ্ঞা দাও।
✔️উত্তর: দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজন অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে যে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থ তৈরি করে, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। যেমন—জল (H₂O)।
💡১৯. ভিটামিন-A এবং ভিটামিন-D-এর অভাবে কী কী রোগ হতে পারে?
✔️উত্তর:
ভিটামিন-A-এর অভাবে: রাতকানা রোগ হতে পারে।
ভিটামিন-D-এর অভাবে: রিকেট (হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া) রোগ হতে পারে।
💡২০. ওষুধ তৈরিতে ব্যাকটেরিয়ার দুটি ভূমিকা লেখো।
✔️উত্তর:
বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রতিষেধক ওষুধ তৈরি করা (যেমন—স্ট্রেপ্টোমাইসিন)।
মানুষের প্রয়োজনীয় হরমোন বা ভিটামিন কৃত্রিমভাবে তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহৃত হয়।
💡২১. জলের অণু কী কী মৌল নিয়ে গঠিত? এই অণুতে কোন্ মৌলের কয়টি পরমাণু আছে?
✔️উত্তর: জলের অণু হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন—এই দুটি মৌল নিয়ে গঠিত। একটি জলের অণুতে (H₂O) দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু এবং একটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে।
💡২২. প্রদত্ত মৌলগুলির চিহ্ন লেখো : (a) কোবাল্ট, (b) হিলিয়াম, (c) লিথিয়াম, (d) পারদ।
✔️উত্তর:
(a) কোবাল্ট — Co
(b) হিলিয়াম — He
(c) লিথিয়াম — Li
(d) পারদ — Hg
💡২৩. অভিপ্রেত ঘটনা কাকে বলে? উদাহরণসহ লেখো।
✔️উত্তর: প্রকৃতিতে বা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে যে সমস্ত পরিবর্তন বা ঘটনাগুলি আমাদের উপকার করে বা আমরা ঘটতে দিতে চাই, তাদের অভিপ্রেত ঘটনা বলে। উদাহরণস্বরূপ—বীজের অঙ্কুরোদ্গম বা গাছে ফুল ফোটা।
💡২৪. স্বর্ণলতা কীভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে?
✔️উত্তর: স্বর্ণলতা একটি পরজীবী উদ্ভিদ। এদের দেহে ক্লোরোফিল না থাকায় এরা নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। এরা চোষক মূলের সাহায্যে অন্য কোনো সজীব উদ্ভিদ (পোষক) থেকে তৈরি খাদ্য ও রস শোষণ করে পুষ্টি সংগ্রহ করে।
💡২৫. পরিযায়ী প্রাণীর ভূমিকা বর্ণনা করো।
✔️উত্তর: পরিযায়ী প্রাণীরা সাধারণত খাদ্যের সন্ধানে বা প্রজননের জন্য এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাত্রা করে। এই ভ্রমণের সময় তারা বিভিন্ন জায়গায় বীজের বিস্তারে এবং ফুলের পরাগমিলনে সাহায্য করে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখে।
💡২৬. একটি ঘটনার উল্লেখ করো যেখানে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন একইসঙ্গে ঘটে।
✔️উত্তর: মোমবাতি জ্বলা। মোম গলে যাওয়া হলো ভৌত পরিবর্তন এবং মোমের দহন হয়ে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও জলীয় বাষ্প তৈরি হওয়া হলো রাসায়নিক পরিবর্তন।
💡২৭. ‘চাল থেকে ভাত হয়’ — এটি কী ধরনের পরিবর্তন ও কেন?
✔️উত্তর: এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন। কারণ, চাল থেকে ভাত তৈরি হলে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মের পদার্থ তৈরি হয় এবং ভাতকে আর আগের অবস্থায় অর্থাৎ চালে ফিরিয়ে আনা যায় না।
💡২৮. মৌলের পরমাণু কাকে বলে? হাইড্রোজেন ফ্লোরাইড যৌগ কী কী মৌল নিয়ে গঠিত?
✔️উত্তর: মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে ওই মৌলের সমস্ত ধর্ম বজায় থাকে, তাকে পরমাণু বলে। হাইড্রোজেন ফ্লোরাইড যৌগটি হাইড্রোজেন ও ফ্লোরিন মৌল নিয়ে গঠিত।
💡২৯. খাবারের জন্য প্রাণীদের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা নিজের ভাষায় লেখো।
✔️উত্তর: মানুষ খাবারের জন্য প্রাণীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। যেমন—আমরা গরু বা ছাগল থেকে দুধ পাই, মুরগি বা হাঁস থেকে ডিম ও মাংস পাই এবং নদী বা সমুদ্র থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ সংগ্রহ করি যা আমাদের প্রোটিনের চাহিদা মেটায়।
💡৩০. সাগরকুসুম ও সন্ন্যাসী কাঁকড়ার মিথোজীবী সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
✔️উত্তর: সাগরকুসুম সন্ন্যাসী কাঁকড়ার পিঠের খোলসের ওপর আটকে থাকে। সাগরকুসুম তার বিষাক্ত কর্ষিকার সাহায্যে কাঁকড়াকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে, কাঁকড়া যখন হাঁটাচলা করে তখন সাগরকুসুম নতুন জায়গায় সহজে খাবার খুঁজে পায়।
💡৩১. কেলাসন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✔️উত্তর: কোনো সম্পৃক্ত দ্রবণ থেকে দ্রাবকে কঠিন ও দানাদার দানার আকারে পৃথক করার পদ্ধতিকে কেলাসন বলে। উদাহরণস্বরূপ—লবণাক্ত জল থেকে লবণের দানা বা চিনির রস থেকে চিনির দানা প্রস্তুত করা।
💡৩২. রাসায়নিক পরিবর্তন বলতে কী বোঝায় একটি উদাহরণসহ লেখো।
✔️উত্তর: যে পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার মূল গঠন হারিয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থে পরিণত হয় এবং যাকে সহজে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় না, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। উদাহরণস্বরূপ—খাবার হজম হওয়া বা লোহায় মরচে ধরা।
💡৩৩. হাইড্রোজেন ও জলের একটি করে ধর্ম লেখো।
✔️উত্তর:
হাইড্রোজেন: এটি একটি দাহ্য গ্যাস (নিজে নীল শিখায় জ্বলে) কিন্তু দহনে সাহায্য করে না।
জল: এটি একটি সার্বজনীন দ্রাবক এবং সাধারণ উষ্ণতায় তরল অবস্থায় থাকে।
💡৩৪. উভমুখী ঘটনা কাকে বলে? একটি উদাহরণসহ লেখো।
✔️উত্তর: যে সমস্ত পরিবর্তন বা ঘটনা বিপরীতমুখী অর্থাৎ শর্ত পরিবর্তন করলে পদার্থকে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায়, তাকে উভমুখী ঘটনা বলে। উদাহরণস্বরূপ—বরফ গলে জল হওয়া (আবার জল ঠান্ডা করলে বরফ হয়)।
💡৩৫. খাদ্য ও খাদক বলতে কী বোঝায়? দূষণ কমায় এমন একটি প্রাণীর উদাহরণ দাও।
✔️উত্তর: যে সমস্ত জীব অন্য জীবকে খেয়ে জীবনধারণ করে তারা হলো খাদক, আর যা খায় তা হলো খাদ্য। পরিবেশের দূষণ কমায় এমন একটি প্রাণী হলো শকুন বা কাক।
💡৩৬. মস্তিষ্কে বসবাসকারী যে জীবের কারণে মানবদেহে খিঁচুনি হয় সেই জীবটির নাম কী? একটি গাছের নাম লেখো যার কাণ্ড থেকে তন্তু পাওয়া যায়।
✔️উত্তর: মস্তিষ্কে বসবাসকারী জীবটি হলো ফিতাকৃমি। কাণ্ড থেকে তন্তু পাওয়া যায় এমন একটি গাছ হলো পাট বা শণ।
💡৩৭. চিনি, বালি ও লৌহচূর্ণের মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলিকে পৃথক করবে কীভাবে?
✔️উত্তর: প্রথমে একটি চুম্বকের সাহায্যে লৌহচূর্ণগুলিকে আলাদা করে নিতে হবে। এরপর বাকি মিশ্রণে জল মিশিয়ে নাড়ালে চিনি গুলে যাবে কিন্তু বালি থিতিয়ে পড়বে। পরিশ্রাবণ পদ্ধতিতে বালি আলাদা করতে হবে। অবশেষে চিনি মিশ্রিত জলকে স্ফটিকীকরণ বা কেলাসন পদ্ধতিতে গরম করে জল শুকিয়ে নিলে চিনির দানা পাওয়া যাবে।
💡৩৮. প্রাকৃতিক ঘটনা ও মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনা বলতে কী বোঝায়? উদাহরণসহ লেখো।
✔️উত্তর:
প্রাকৃতিক ঘটনা: প্রকৃতিতে নিজের থেকেই যে ঘটনাগুলি ঘটে, তাকে প্রাকৃতিক ঘটনা বলে। উদাহরণ—জোয়ার-ভাটা বা বৃষ্টি হওয়া।
মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনা: মানুষের বিভিন্ন কাজের প্রভাবে যে ঘটনা ঘটে, তাকে মনুষ্যসৃষ্ট ঘটনা বলে। উদাহরণ—গাছ কাটা বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করা।
💡৩৯. জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ (পেরেক ও ব্যাটারির পরীক্ষা) কী দেখা যায়?
✔️উত্তর: ব্যাটারির সাহায্যে তামা ও পেরেকের মাধ্যমে জলে তড়িৎ চালনা করলে দেখা যাবে যে পেরেক দুটির গায়ে গ্যাসের বুদবুদ সৃষ্টি হচ্ছে। এটি ঘটার কারণ হলো তড়িৎ প্রবাহের ফলে জলের অণুগুলি ভেঙে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাসে পরিণত হচ্ছে।
💡৪০. পরিবেশে CO₂ ও O₂-এর ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রাণী ও উদ্ভিদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা লেখো।
✔️উত্তর: উদ্ভিদরা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরির সময় বাতাস থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন (O₂) ত্যাগ করে। প্রাণীরা শ্বাসকার্যের সময় সেই অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে। এভাবে একে অপরের ওপর নির্ভর করে তারা গ্যাস দুটির ভারসাম্য বজায় রাখে।
💡৪১. ঝাড়ুদার প্রাণী বা স্ক্যাভেঞ্জার কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✔️উত্তর: যে সমস্ত প্রাণী পরিবেশের মৃত জীবজন্তু বা পচা নোংরা আবর্জনা খেয়ে পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, তাদের ঝাড়ুদার প্রাণী বা স্ক্যাভেঞ্জার বলে। উদাহরণ—কাক বা শকুন।
💡৪২. ভৌত পরিবর্তন কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✔️উত্তর: যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে কিন্তু পদার্থের মূল গঠনের কোনো পরিবর্তন হয় না এবং পরিবর্তনটি উভমুখী হয়, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। যেমন—বরফ গলে জল হওয়া।
💡৪৩. চিনি ও জলের মিশ্রণ থেকে কীভাবে চিনিকে পৃথক করবে? এই পদ্ধতিটির নাম কী?
✔️উত্তর: চিনি ও জলের মিশ্রণ থেকে চিনিকে পৃথক করতে হলে দ্রবণটিকে উত্তপ্ত করে জল বাষ্পীভূত করতে হবে, যার ফলে চিনির দানাগুলি থিতিয়ে পড়বে। এই পদ্ধতির নাম হলো কেলাসন।
💡৪৪. হাইড্রোজেনের দুটি ধর্ম লেখো।
✔️উত্তর:
এটি সবথেকে হালকা গ্যাস।
এটি নিজে নীল শিখায় জ্বলে (দাহ্য), কিন্তু দহনে সাহায্য করে না।
💡৪৫. মৌমাছি বা প্রজাপতি ফুলে গিয়ে বসলে তাদের গায়ে, পায়ে কী লেগে যায়? এই মৌমাছি বা প্রজাপতি এক ফুল থেকে অন্য ফুলে গেলে কী হবে?
✔️উত্তর: মৌমাছি বা প্রজাপতি ফুলে গিয়ে বসলে তাদের গায়ে ও পায়ে ফুলের পরাগরেণু লেগে যায়। এরা এক ফুল থেকে অন্য ফুলে গেলে ফুলের পরাগমিলন ঘটবে।
💡৪৬. তন্তু থেকে কাপড় তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় দুটি পদ্ধতির নাম লেখো।
✔️উত্তর:
তন্তু থেকে সুতো তৈরি করা।
সুতো থেকে কাপড় বোনা।
💡৪৭. শীতকালে আমাদের ঠোঁট ফেটে যায় কেন?
✔️উত্তর: শীতকালে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ খুব কম থাকে, অর্থাৎ বাতাস খুব শুষ্ক থাকে। এই শুষ্ক বাতাস আমাদের শরীরের খোলা অংশ (যেমন—ঠোঁট) থেকে জল শুষে নেয়, ফলে ঠোঁটের চামড়া শুকিয়ে সংকুচিত হয় এবং ফেটে যায়।
💡৪৮. ধাতু ও অধাতুর মধ্যে পার্থক্য লেখো।
✔️উত্তর:
ধাতু সাধারণত তাপ ও তড়িতের সুপরিবাহী, কিন্তু অধাতু সাধারণত তাপ ও তড়িতের কুপরিবাহী।
ধাতু সাধারণত কঠিন ও উজ্জ্বল হয়, অন্যদিকে অধাতু কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় হতে পারে এবং এরা সাধারণত উজ্জ্বল নয়।
💡৪৯. উদাহরণসহ ভৌত পরিবর্তন ও রাসায়নিক পরিবর্তন-এর পার্থক্য লেখো।
✔️উত্তর:
ভৌত পরিবর্তন: এই পরিবর্তনের ফলে নতুন কোনো পদার্থের সৃষ্টি হয় না (যেমন—জল জমে বরফ হওয়া) এবং এটি উভমুখী হয়।
রাসায়নিক পরিবর্তন: এই পরিবর্তনের ফলে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট পদার্থের সৃষ্টি হয় (যেমন—লোহায় মরচে ধরা) এবং এটি সাধারণত একমুখী হয়।
💡৫০. সাগরকুসুম ও ক্লাউন মাছের মিথোজীবী সম্পর্ক বুঝিয়ে দাও।
✔️উত্তর: সাগরকুসুমের বিষাক্ত কর্ষিকা ক্লাউন মাছকে তার শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করে। বিনিময়ে, ক্লাউন মাছের উজ্জ্বল বর্ণ দেখে যখন অন্য ছোট মাছেরা আকর্ষিত হয়ে কাছে আসে, তখন সাগরকুসুম তাদের শিকার করে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
💡৫১. নীচের ছকটি পূরণ করো।
✔️উত্তর:
(i) কাঠ পালিশ করার জন্য রজন — আমরা পাইন বা শাল গাছ থেকে পাই (এটি উদ্ভিদের রেচন পদার্থ বা আঠা অংশ)।
(ii) পেনসিলের দাগ মোছার রবার — আমরা রবার গাছ থেকে পাই (এটি উদ্ভিদের ক্ষীরকষ অংশ)।
💡৫২. পাথরের মধ্যে থাকা ধাতুর বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী?
✔️উত্তর: পাথরের মধ্যে আকরিক হিসেবে থাকা ধাতুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো—এরা সাধারণত কঠিন ও ভারী হয়, এদের একটি বিশেষ উজ্জ্বলতা থাকে এবং এরা তাপ ও তড়িতের সুপরিবাহী হয়।
💡৫৩. ‘দুধ থেকে দই’ — কী ধরনের পরিবর্তন? উত্তরের সপক্ষে ব্যাখ্যা দাও।
✔️উত্তর: এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন। কারণ, দুধ থেকে দই তৈরি হলে ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়ায় দুধের উপাদানের রাসায়নিক গঠন পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন ধর্মবিশিষ্ট দই তৈরি হয় এবং দইকে পুনরায় দুধে ফিরিয়ে আনা যায় না।
💡৫৪. চকের গুঁড়ো ও লবণের মিশ্রণ থেকে উপাদানগুলিকে কীভাবে পৃথক করবে?
✔️উত্তর: প্রথমে মিশ্রণটিতে জল যোগ করে ভালো করে নাড়াতে হবে। এতে লবণ জলে গুলে যাবে কিন্তু চকের গুঁড়ো অদ্রাব্য থাকবে। এরপর পরিশ্রাবণ পদ্ধতিতে চকের গুঁড়ো আলাদা করে নিতে হবে। অবশেষে লবণ মিশ্রিত জলকে ফুটিয়ে বাষ্পীভূত করলে নিচে লবণের দানা পড়ে থাকবে (কেলাসন পদ্ধতি)।
💡৫৫. হাঙরের যকৃৎ তেলে কী কী ভিটামিন থাকে? এই যকৃৎ তেলের উপকারিতা লেখো।
✔️উত্তর: হাঙরের যকৃৎ-এর তেলে ভিটামিন-A এবং ভিটামিন-D থাকে। এই তেল আমাদের চোখ ভালো রাখতে (ভিটামিন-A) এবং হাড় মজবুত করতে (ভিটামিন-D) সাহায্য করে।
💡৫৬. লাল পিঁপড়ে ও কাঠবেড়ালি কীভাবে উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল তা উল্লেখ করো।
✔️উত্তর: লাল পিঁপড়েরা সাধারণত আম বা লিচু গাছের পাতা জুড়ে বাসা তৈরি করে থাকে। অন্যদিকে, কাঠবেড়ালি গাছের কোটরে বাসা বাঁধে এবং ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করে। এভাবে তারা বাসস্থানের জন্য উদ্ভিদের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল।
💡৫৭. একটা পাত্রে কিছু পাথুরে চুন দিয়ে তার মধ্যে সাবধানে জল ঢাললে কী দেখতে পাওয়া যায়? এটি দ্রুত না মন্থর ঘটনা?
✔️উত্তর: পাত্রে পাথুরে চুন দিয়ে জল ঢাললে দেখা যাবে যে পাত্রটি খুব গরম হয়ে উঠেছে এবং হিসহিস শব্দ করে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। এটি একটি দ্রুত ঘটনা।
💡৫৮. দ্রাবক কাকে বলে? নুনজলের মিশ্রণ থেকে নুনকে কোন্ পদ্ধতির সাহায্যে পৃথক করা যায়?
✔️উত্তর: কোনো দ্রবণে যে উপাদানটির পরিমাণ বেশি থাকে এবং যা অন্য পদার্থকে নিজের মধ্যে গুলিয়ে নিতে পারে, তাকে দ্রাবক বলে (যেমন—জল)। নুনজলের মিশ্রণ থেকে নুনকে কেলাসন বা স্ফটিকীকরণ পদ্ধতির সাহায্যে পৃথক করা যায়।
💡৫৯. জল মৌল, যৌগ না মিশ্র পদার্থ তা যুক্তিসহ লেখো।
✔️উত্তর: জল একটি যৌগিক পদার্থ। কারণ, নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে জল তৈরি করে এবং জলের ধর্ম এর উপাদান মৌল দুটির (হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন) ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
💡৬০. খাদক কাদের বলে? দুটি খাদকের নাম লেখো।
✔️উত্তর: যে সমস্ত প্রাণী খাদ্যের জন্য অন্য প্রাণীর ওপর নির্ভর করে, তাদের খাদক বলে। দুটি খাদকের উদাহরণ হলো—গোরু এবং বাঘ।
💡৬১. পরাগমিলন কাকে বলে? পরাগমিলন জরুরি কেন?
✔️উত্তর: ফুলের পরাগরেণু যখন একই ফুলের বা অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হয়, তখন তাকে পরাগমিলন বলে। উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধির জন্য অর্থাৎ নতুন ফল ও বীজ তৈরির জন্য পরাগমিলন অত্যন্ত জরুরি।
💡৬২. যে যৌগে একটি কার্বন ও চারটি হাইড্রোজেন পরমাণু উপস্থিত সেই যৌগের নাম, সংকেত ও পরমাণুগুলির যোজ্যতা উল্লেখ করো।
✔️উত্তর:
যৌগের নাম: মিথেন।
সংকেত: CH₄।
যোজ্যতা: এই যৌগে কার্বনের যোজ্যতা ৪ এবং হাইড্রোজেনের যোজ্যতা ১।
💡৬৩. রেললাইনের জোড়ার মুখে ফাঁক রাখা হয়, কিন্তু ট্রামলাইনে রাখা হয় না কেন?
✔️উত্তর: রেললাইনের ওপর দিয়ে যখন দ্রুতগতিতে ট্রেন চলে, তখন চাকা ও লাইনের ঘর্ষণে এবং সূর্যের তাপে লোহা উত্তপ্ত হয়ে দৈর্ঘ্য বাড়ে। এই প্রসারণের জায়গা দেওয়ার জন্য জোড়ার মুখে ফাঁক রাখা হয়। ট্রামলাইন সাধারণত রাস্তার কংক্রিটের সঙ্গে মাটির নিচে বসানো থাকে, ফলে এর উষ্ণতা বৃদ্ধির হার রেললাইনের তুলনায় অনেক কম এবং প্রসারণের সম্ভাবনাও সীমিত থাকে বলে ফাঁক রাখার প্রয়োজন হয় না।
💡৬৪. মানুষ কোন্ কোন্ জিনিসের জন্য গাছদের ওপর নির্ভরশীল?
✔️উত্তর: মানুষ বিভিন্নভাবে গাছের ওপর নির্ভরশীল, যেমন—
খাদ্য: ধান, গম, ফলমূল ও সবজির জন্য।
অক্সিজেন: শ্বাসকার্য চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের জন্য।
ওষুধ: কুইনাইন, রেসারপিনের মতো জীবনদায়ী ওষুধের জন্য।
আসবাবপত্র ও পোশাক: কাঠ, তুলো ও পাটের জন্য।
💡৬৫. গো-বক ও গোরুর মধ্যে মিথোজীবিতার সম্পর্ক লেখো।
✔️উত্তর: এটি একটি মিথোজীবী সম্পর্ক। গোরু যখন ঘাস খায়, তখন তার গায়ের পোকা বা আঠালিগুলোকে গো-বক খুঁটে খায়। এতে গোরুর শরীর পরজীবী মুক্ত হয় এবং গো-বক সহজেই তার খাবার পেয়ে যায়। এভাবে দুজনেই একে অপরকে সাহায্য করে বেঁচে থাকে।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

