✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
💡 ১. থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির অস্থির বিকৃতি এবং প্লীহা ও যকৃতের অতিবৃদ্ধি ঘটার কারণ ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
অস্থির বিকৃতি: থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের অভাবে তীব্র রক্তাল্পতা দেখা দেয়। এর ফলে অস্থিমজ্জা অতিরিক্ত রক্ত তৈরির চেষ্টা করে, যার চাপে হাড়গুলি পাতলা ও বিকৃত হয়ে যায়।
প্লীহা ও যকৃতের অতিবৃদ্ধি: রক্তে থাকা ত্রুটিপূর্ণ লোহিত রক্তকণিকাকে (RBC) ভেঙে ফেলার জন্য প্লীহা ও যকৃতকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এছাড়া বারংবার রক্ত সঞ্চালনের ফলে লৌহ জমেও এগুলি আকারে বড় হয়ে যায়।
💡 ২. একই ফিনোটাইপ প্রদর্শনকারী দুটি ভিন্ন জিনোটাইপ কখনো ভিন্ন ফিনোটাইপ প্রদর্শন করতে পারে? এর সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর:
হ্যাঁ, পারে। মেন্ডেলের প্রকটতা সূত্র অনুযায়ী, একটি বিশুদ্ধ লম্বা (TT) এবং একটি সংকর লম্বা (Tt) মটর গাছের ফিনোটাইপ একই (লম্বা) হয়।
সম্ভাব্য কারণ: যদি সংকর লম্বা (Tt) উদ্ভিদের মধ্যে স্বপরাগযোগ ঘটানো হয়, তবে তার পরবর্তী অপত্য জনুতে ($F_2$) লম্বা ও বেঁটে উভয় প্রকার ফিনোটাইপই দেখা যায়।
💡 ৩. মেন্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত মটর বীজের রঙ ও ফল সংক্রান্ত বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য সারণির সাহায্যে দেখাও।
✔️ উত্তর:
মেন্ডেলের নির্বাচিত বৈশিষ্ট্যসমূহ:
| বৈশিষ্ট্য | প্রকট বৈশিষ্ট্য | প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| বীজের রঙ | হলুদ | সবুজ |
| ফলের আকার | পরিপুষ্ট (স্ফীত) | কুঞ্চিত (খাঁজযুক্ত) |
💡 ৪. ফার্নের রেণুধর দেহ রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। এদের ক্ষেত্রে যৌন জনন কি দেখা যায়, তবে প্রক্রিয়াটি উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর:
হ্যাঁ, ফার্নের জীবনচক্রে যৌন জনন দেখা যায়।
প্রক্রিয়া: ফার্নের রেণু অঙ্কুরিত হয়ে লিঙ্গধর দেহ বা প্রোথ্যালাস গঠন করে। এই প্রোথ্যালাসে উৎপন্ন পুংজননকোষ (শুক্রাণু) ও স্ত্রীজননকোষের (ডিম্বাণু) মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন বা নিষেক সম্পন্ন হয়।
💡 ৫. ‘কোনো কারণে প্ল্যানেরিয়ার দেহ একাধিক খণ্ডে বিভক্ত হলে সম্ভাব্য প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হতে পারে’ — বিষয়টি জনন প্রক্রিয়ার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
এই পদ্ধতিটিকে পুনরুৎপাদন (Regeneration) বলা হয়। এটি এক প্রকার অযৌন জনন পদ্ধতি। প্ল্যানেরিয়ার দেহের কোনো অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেই খণ্ডটির কোষগুলি দ্রুত বিভাজিত হয়ে পুনরায় নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ জীব গঠন করে।
💡 ৬. পৃথিবীতে এমন কিছু জীব বর্তমানে রয়েছে, যাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে পৃথিবীতে জৈব বিবর্তন হয়েছে। চারটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টির যাথার্থতা প্রমাণ করো এবং বিবর্তনের অভিমুখ উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর:
উদাহরণ (জীবন্ত জীবাশ্ম): লিমুলাস (রাজকাঁকড়া), প্লাটিপাস (হংসচঞ্চু), স্ফেনোডন এবং পেরিপেটাস। এগুলি প্রাচীন জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে জৈব বিবর্তনের প্রমাণ দেয়।
বিবর্তনের অভিমুখ: বিবর্তন সর্বদা সরল জৈব গঠন থেকে জটিল জৈব গঠনের দিকে অগ্রসর হয়।
💡 ৭. ল্যামার্কবাদের আলোকে পদবিহীন সরীসৃপ সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
ল্যামার্কের 'অঙ্গুর ব্যবহার ও অব্যবহার' সূত্র অনুযায়ী, আদিম সাপের ছোট ছোট পা ছিল। কিন্তু ঝোপঝাড়ের মধ্যে বা গর্তে প্রবেশের সুবিধার জন্য পা ব্যবহার না করে তারা বুক দিয়ে হাঁটার চেষ্টা করত। বংশপরম্পরায় পায়ের অব্যবহারের ফলে পাগুলি লুপ্ত হয়ে বর্তমানের পদবিহীন সাপের সৃষ্টি হয়েছে।
💡 ৮. শিম্পাঞ্জির সমস্যা সমাধান দক্ষতার দুটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
১. শিম্পাঞ্জিরা গাছের কাঠি ব্যবহার করে উইঢিবি থেকে উইপোকা সংগ্রহ করে খাবার হিসেবে গ্রহণ করে।
২. বাদামের শক্ত খোলস ভাঙার জন্য তারা পাথরের টুকরোকে হাতুড়ি বা নেহাই হিসেবে ব্যবহার করে।
💡 ৯. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননে ঘটা প্রদত্ত দুটি ঘটনা ব্যাখ্যা করো — (ক) পুংগ্যামেট গঠন, (খ) ভ্রূণ গঠন।
✔️ উত্তর:
(ক) পুংগ্যামেট গঠন: পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। পরাগরেণু অঙ্কুরিত হয়ে পরাগনালিকা গঠন করে এবং তার মধ্যে দুটি পুংগ্যামেট তৈরি হয়।
(খ) ভ্রূণ গঠন: নিষেকের পর উৎপন্ন জাইগোট বারবার বিভাজিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে যা বীজের মধ্যে সঞ্চিত থাকে।
💡 ১০. মানব বিকাশের বয়ঃসন্ধিতে হয় এমন একটি শারীরিক ও একটি মানসিক পরিবর্তন লেখো।
✔️ উত্তর:
শারীরিক পরিবর্তন: এই সময়ে দ্রুত উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং গৌণ যৌন লক্ষণের প্রকাশ ঘটে (যেমন—কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন)।
মানসিক পরিবর্তন: এই সময়ে আবেগপ্রবণতা বৃদ্ধি পায় এবং বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব হয়।
💡 ১১. উদাহরণসহ বক্তব্যটি প্রতিষ্ঠা করো — (ক) কোনো কোনো ফিনোটাইপের একাধিক জিনোটাইপ থাকে। (খ) কোনো কোনো ফিনোটাইপের একটিমাত্র জিনোটাইপ থাকে।
✔️ উত্তর:
(ক) একাধিক জিনোটাইপ: মটর গাছের 'লম্বা' ফিনোটাইপের জন্য বিশুদ্ধ লম্বা (TT) এবং সংকর লম্বা (Tt) — এই দুটি জিনোটাইপ হতে পারে।
(খ) একটিমাত্র জিনোটাইপ: মটর গাছের 'বেঁটে' ফিনোটাইপের জন্য সর্বদা একটিই জিনোটাইপ (tt) থাকে।
💡 ১২. ‘মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের হিমোফিলিযা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে’ — উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
হিমোফিলিযা একটি X-ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ। পুরুষদের একটিমাত্র X-ক্রোমোজোম থাকায় তাতে ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকলে রোগটি প্রকাশ পায়। কিন্তু মহিলাদের দুটি X-ক্রোমোজোমের একটিতে ত্রুটি থাকলেও অন্যটি স্বাভাবিক থাকলে তারা কেবল বাহক হয়, আক্রান্ত হয় না। তাই পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
💡 ১৩. একটি লাল ফুল বিশিষ্ট সন্ধ্যামালতী গাছের সঙ্গে সাদা ফুল বিশিষ্ট সন্ধ্যামালতী গাছের সংকরায়ণে F₂ জনুতে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের অনুপাত একই হওয়ার কারণ কী?
✔️ উত্তর:
এর কারণ হল অসম্পূর্ণ প্রকটতা। এক্ষেত্রে লাল (RR) বা সাদা (rr) কোনোটিই প্রকট হয় না, ফলে সংকর জনুতে গোলাপি (Rr) ফুল তৈরি হয়। এর ফলে F₂ জনুতে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ উভয় অনুপাতই হয় ১:২:১।
💡 ১৪. জ্যামিতিক হারে বংশবিস্তার দ্বারা জ্যামিতিক হারে সংখ্যাবৃদ্ধি জীবের একটি সহজাত প্রবৃত্তি। দুটি উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটির সত্যতা প্রমাণ করো।
✔️ উত্তর:
ডারউইনের মতে, জীব জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করতে চায়।
উদাহরণ ১: একটি স্যালমন মাছ এক প্রজনন ঋতুতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লক্ষ ডিম পাড়ে।
উদাহরণ ২: ঝিনুক এক বছরে প্রায় ৬ কোটি ডিম পাড়ে।
💡 ১৫. কোয়াসারভেট থেকে প্রোটোসেলের উৎপত্তি কীভাবে ঘটেছিল, তা প্রাণের জৈব বিবর্তন তত্ত্বর দ্বারা ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
ওপারিন ও হ্যালডেনের মতে, গরম তরল স্যুপে থাকা কোয়াসারভেট যখন নিউক্লিক অ্যাসিডের (বিশেষত RNA) সঙ্গে যুক্ত হয় এবং লিপিড পর্দা দ্বারা আবৃত হয়, তখন তাকে প্রোটোসেল বলে। এই প্রোটোসেল থেকেই পরবর্তীকালে আদিম কোষ বা প্রথম প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল।
💡 ১৬. প্রদত্ত দুটি ক্ষেত্রে মৌমাছিদের কী ধরনের আচরণগত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়? — (ক) খাদ্যের উৎস 100 মিটার বা তার কম হলে, (খ) খাদ্যের উৎস 100 মিটারের বেশি হলে।
✔️ উত্তর:
(ক) ১০০ মিটার বা তার কম হলে: মৌমাছিরা বৃত্তাকার নৃত্য (Round dance) প্রদর্শন করে অন্য মৌমাছিদের খবর দেয়।
(খ) ১০০ মিটারের বেশি হলে: মৌমাছিরা ইংরেজি '8'-এর মতো ওয়াগেল নৃত্য (Waggle dance) করে খাদ্যের উৎস ও দিক সম্পর্কে জানায়।
💡 ১৭. বায়ুপরাগী ফুলের প্রদত্ত অংশগুলির একটি করে বৈশিষ্ট্য লেখো — (ক) পুংকেশর, (খ) গর্ভপত্র।
✔️ উত্তর:
(ক) পুংকেশর: পুংকেশরগুলি সাধারণত দীর্ঘ সূত্রাকার হয় এবং পরাগধানী পরাগনালির বাইরে দোদুল্যমান অবস্থায় থাকে যাতে বাতাস সহজে পরাগরেণু উড়িয়ে নিতে পারে।
(খ) গর্ভপত্র: গর্ভমুণ্ডটি আকারে বড়, রোমশ এবং আঠালো হয় যাতে বাতাসে ভাসমান পরাগরেণুকে সহজে আটকে নিতে পারে।
💡 ১৮. মানব বিকাশের বয়ঃসন্ধি দশায় যে যে পরিবর্তন ঘটে, তার একটি তালিকা তৈরি করো।
✔️ উত্তর:
শারীরিক পরিবর্তন: এই দশায় উচ্চতা ও ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং গৌণ যৌন লক্ষণের প্রকাশ ঘটে।
মানসিক পরিবর্তন: মেজাজের ঘন ঘন পরিবর্তন ঘটে, আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং সামাজিক মেলামেশার ধরন বদলায়।
💡 ১৯. সাদা ও বেগুনি মটর ফুল নিয়ে একসংকর ক্রশ করতে গিয়ে মেন্ডেল $F_2$ জনুতে ১২০টি ফুলযুক্ত মটর গাছ পেলেন। (ক) এর মধ্যে কতগুলি বেগুনি ফুলযুক্ত গাছ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল? (খ) এর মধ্যে কতগুলি হেটেরোজাইগাস বেগুনি ফুলযুক্ত গাছ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল?
✔️ উত্তর:
(ক) বেগুনি ফুল: মেন্ডেলের একসংকর জননের $F_2$ জনুর অনুপাত ৩:১ হওয়ায়, ১২০টি গাছের মধ্যে ৩/৪ অংশ অর্থাৎ ৯০টি বেগুনি ফুল হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
(খ) হেটেরোজাইগাস বেগুনি: সংকর বা হেটেরোজাইগাস বেগুনি হয় মোট অপত্যের ১/২ অংশ অর্থাৎ ১২০ × ১/২ = ৬০টি।
💡 ২০. একজন জেনেটিক কাউন্সিলর হিসেবে তুমি কোনো বর্ণান্ধ পুরুষ ও ওই রোগের বাহক মহিলাকে পরবর্তী প্রজন্মের দৃষ্টিশক্তি সম্পর্কে কী পরামর্শ দান করবে?
✔️ উত্তর:
আমি তাদের জানাব যে, তাদের কন্যাসন্তানদের ৫০% বর্ণান্ধ এবং ৫০% বাহক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, পুত্রসন্তানদের ক্ষেত্রে ৫০% স্বাভাবিক এবং ৫০% বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই পরবর্তী প্রজন্মের সঠিক চিকিৎসা ও সতর্কতার পরামর্শ দেব।
💡 ২১. 'থ্যালাসেমিয়া রোগে ঘন ঘন রক্ত বদলানোর প্রয়োজন হয়।' — এর ফলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা আলোচনা করো।
✔️ উত্তর:
ঘন ঘন রক্ত বদলানোর ফলে দেহে অতিরিক্ত লৌহ (Iron Overload) সঞ্চিত হয়। এর ফলে হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ এবং অগ্ন্যাশয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকেজো হয়ে যেতে পারে।
💡 ২২. জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি সংক্রান্ত মিলার ও উরের পরীক্ষায় ব্যবহৃত বিক্রিয়কগুলি ও উৎপন্ন একটি জৈব যৌগের নাম লেখো।
✔️ উত্তর:
বিক্রিয়ক: মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), হাইড্রোজেন (H2) এবং জলীয় বাষ্প (H2O)।
উৎপন্ন জৈব যৌগ: এই পরীক্ষায় অ্যামাইনো অ্যাসিড, যেমন—গ্লাইসিন বা অ্যালানিন উৎপন্ন হয়েছিল।
💡 ২৩. নিকটিটেটিং মেমব্রেন কী? এটি মানুষের দেহে কী হিসেবে পরিচিত?
✔️ উত্তর:
নিকটিটেটিং মেমব্রেন: এটি অনেক মেরুদণ্ডী প্রাণীর চোখের কোণে অবস্থিত একটি স্বচ্ছ পর্দা যা চোখকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে।
মানুষের দেহে: মানুষের দেহে এটি একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ হিসেবে পরিচিত, যাকে 'প্লিকা সেমিলুনারিস' বলা হয়।
💡 ২৪. অধিকাংশ মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রূণ দশায় লেজ সদৃশ গঠনের উপস্থিতির নিরিখে তুমি কীভাবে অভিব্যক্তিকে ব্যাখ্যা করবে?
✔️ উত্তর:
মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ভ্রূণ দশার এই সাদৃশ্য প্রমাণ করে যে, তারা বিবর্তনের ধারায় কোনো এক সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। ভ্রূণতত্ত্বগত এই প্রমাণটি অভিব্যক্তি বা বিবর্তনের সপক্ষে একটি জোরালো যুক্তি।
💡 ২৫. কোরকোদগম এবং পুনরুৎপাদন পদ্ধতিতে বংশবিস্তারকারী একটি করে জীবের নাম লেখো।
✔️ উত্তর:
কোরকোদগম: এই পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে ইস্ট (Yeast) বা হাইড্রা।
পুনরুৎপাদন: এই পদ্ধতিতে বংশবিস্তারকারী জীব হল প্ল্যানেরিয়া (Planaria)।
💡 ২৬. অণুবিস্তার পদ্ধতির একটি সুবিধা লেখো। গ্রাফটিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় এমন দুটি উদ্ভিদের নাম লেখো।
✔️ উত্তর:
অণুবিস্তারের সুবিধা: এই পদ্ধতিতে খুব অল্প সময়ে এবং ক্ষুদ্র জায়গা ব্যবহার করে অসংখ্য রোগমুক্ত এবং একই গুণসম্পন্ন চারাগাছ তৈরি করা সম্ভব।
গ্রাফটিং: আম এবং গোলাপ গাছে গ্রাফটিং বা জোড়কলম পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়।
💡 ২৭. প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য সর্বদা বিশুদ্ধ প্রকৃতির হয় কেন?
✔️ উত্তর:
প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যটি কেবলমাত্র হোমোজাইগাস বা বিশুদ্ধ অবস্থায় (যেমন—tt) প্রকাশিত হতে পারে। যদি কোনো প্রকট অ্যালিল (T) উপস্থিত থাকে, তবে সেটি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যকে চাপা দিয়ে দেয়, তাই প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীব সর্বদা বিশুদ্ধ হয়।
💡 ২৮. থ্যালাসেমিয়া রোগের লক্ষণ লেখো।
✔️ উত্তর:
১. এই রোগে তীব্র রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।
২. রোগীর অস্থির গঠন বিকৃত হয় এবং প্লীহা ও যকৃতের অস্বাভাবিক অতিবৃদ্ধি ঘটে।
💡 ২৯. মেন্ডেলের সাফল্যের দুটি কারণ লেখো।
✔️ উত্তর:
১. মেন্ডেল তার পরীক্ষার জন্য মটর গাছের সাত জোড়া নির্দিষ্ট ও বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন।
২. তিনি তার পরীক্ষার ফলাফলগুলি অতি সতর্কতার সঙ্গে গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগতভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন।
💡 ৩০. সমসংস্থ অঙ্গ এবং সমবৃত্তীয় অঙ্গের প্রদত্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে পার্থক্য লেখো — (ক) প্রকৃতি, (খ) বিবর্তন।
✔️ উত্তর:
| পার্থক্যের বিষয় | সমসংস্থ অঙ্গ | সমবৃত্তীয় অঙ্গ |
|---|---|---|
| (ক) প্রকৃতি | উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে এক কিন্তু কাজ আলাদা। | উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে ভিন্ন কিন্তু কাজ এক। |
| (খ) বিবর্তন | এটি অপসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে। | এটি অভিসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে। |
💡 ৩১. সুন্দরী গাছ কীভাবে দেহের অতিরিক্ত লবণ মোচন করে?
✔️ উত্তর:
সুন্দরী গাছ তাদের পাতায় অবস্থিত বিশেষ লবণ গ্রন্থির (Salt gland) মাধ্যমে লবণ নিঃসরণ করে। এছাড়া তারা বাকল মোচন বা ছাল ত্যাগের মাধ্যমেও জমা হওয়া অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে দূর করে।
💡 ৩২. অভিব্যক্তি মতবাদ সম্পর্কিত বিজ্ঞানী ল্যামার্ক এবং ডারউইনের লেখা বই দুটির নাম উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর:
ল্যামার্কের বই: 'ফিলোজফি জুয়োলজিক' (Philosophie Zoologique)।
ডারউইনের বই: 'অন দ্য অরিজিন অফ স্পিসিস বাই মিনস অফ ন্যাচারাল সিলেকশন'।
💡 ৩৩. পলাশ ফুল এবং পাতাস্যাওলা গাছের ফুলের পরাগযোগের সুবিধার্থে কী কী বিশেষ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়?
✔️ উত্তর:
পলাশ (পক্ষীপরাগী): ফুলগুলি উজ্জ্বল বর্ণের এবং বড় হয় যাতে পাখিরা আকৃষ্ট হয়। ফুলে প্রচুর মকরন্দ থাকে।
পাতাস্যাওলা (জলপরাগী): এদের ফুলগুলি ক্ষুদ্র ও হালকা হয় যাতে জলে ভাসতে পারে। স্ত্রী ফুলগুলির বৃন্ত লম্বা ও কুণ্ডলীকৃত হয় যা জলের উপরিভাগে পরাগযোগ ঘটাতে সাহায্য করে।
💡 ৩৪. উদাহরণের সাহায্যে প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার পদ্ধতির একটি তালিকা প্রস্তুত করো।
✔️ উত্তর:
১. মূলের মাধ্যমে: রাঙা আলু।
২. কাণ্ডের মাধ্যমে: আলু (স্ফীতকন্দ), আদা (গ্রন্থিকাণ্ড)।
৩. পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচি।
💡 ৩৫. মটর ফুল বৃহৎ আকৃতির হওয়ায় মেন্ডেল সংকরায়ন পরীক্ষায় কী সুবিধা পেয়েছিলেন?
✔️ উত্তর:
মটর ফুল বড় হওয়ায় খুব সহজেই এদের পুংকেশর কেটে বাদ দিয়ে (ইমাসকুলেশন) কৃত্রিম পরাগযোগ ঘটানো সম্ভব হয়েছিল। এর ফলে অন্য কোনো অবাঞ্ছিত পরাগরেণু এসে নিষেক ঘটাতে পারত না।
💡 ৩৬. ‘সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে পিতার ভূমিকাই মুখ্য’ — একটি ক্রসের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।
✔️ উত্তর:
পিতার গ্যামেট দুই প্রকার হয়— X এবং Y। অন্যদিকে মাতার গ্যামেট কেবল এক প্রকার হয়— X। যদি পিতার X গ্যামেট মাতার X-এর সাথে মিলিত হয় তবে কন্যা (XX) এবং যদি পিতার Y গ্যামেট মাতার X-এর সাথে মিলিত হয় তবে পুত্র (XY) সন্তান জন্মায়। অর্থাৎ পিতার Y ক্রোমোজোমই নির্ধারণ করে সন্তান পুত্র হবে কিনা।
💡 ৩৭. টেস্ট ক্রস কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
কোনো জীবের জিনোটাইপ জানার জন্য যখন ওই জীবটির সঙ্গে তার হোমোজাইগাস প্রচ্ছন্ন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জনিতৃ জীবের সংকরায়ণ ঘটানো হয়, তখন তাকে টেস্ট ক্রস বলে।
💡 ৩৮. ল্যামার্কবাদ অনুযায়ী ‘অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ’ বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
ল্যামার্কের মতে, পরিবেশের প্রভাবে জীবদ্দশায় কোনো জীব যে সমস্ত বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তা পরবর্তী প্রজন্মের অপত্যদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়। একেই অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ বলা হয়।
💡 ৩৯. বিভিন্ন জীবে নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উপস্থিতি কীভাবে জৈব অভিব্যক্তির সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে?
✔️ উত্তর:
নিষ্ক্রিয় অঙ্গ প্রমাণ করে যে, এই অঙ্গগুলি পূর্বপুরুষের দেহে সক্রিয় ছিল। বিবর্তনের ধারায় ব্যবহারের অভাবে এবং পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে এগুলি বর্তমান জীবে গুরুত্বহীন বা নিষ্ক্রিয় অঙ্গে পরিণত হয়েছে, যা সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
💡 ৪০. জীবাশ্মের দুটি বিবর্তনগত গুরুত্ব লেখো।
✔️ উত্তর:
১. জীবাশ্মের বয়স থেকে পৃথিবীর বিবর্তনের সময়কাল জানা যায়।
২. এটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এবং বর্তমানের জীবদের মধ্যে সংযোগকারী যোগসূত্র (Missing link) হিসেবে কাজ করে।
💡 ৪১. প্রাকৃতিক নির্বাচন বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
ডারউইনের মতে, যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীবেরা জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়ে বেঁচে থাকে এবং অধিক হারে বংশবিস্তার করে, কিন্তু প্রতিকূল প্রকরণযুক্ত জীবেরা অবলুপ্ত হয়ে যায়, তাকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।
💡 ৪২. থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক কোনো দম্পতির থ্যালাসেমিক পুত্র বা কন্যা জন্মাবার সম্ভাবনা কত তা চেকারবোর্ডের মাধ্যমে দেখাও।
✔️ উত্তর:
উভয় পিতা-মাতা বাহক হলে সম্ভাবনা নিম্নরূপ:
২৫% সন্তান সুস্থ (স্বাভাবিক), ৫০% সন্তান বাহক এবং ২৫% সন্তান থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত (পুত্র বা কন্যা উভয়েই হতে পারে)।
💡 ৪৩. অণুবিস্তার কী? এই পদ্ধতির একটি সুবিধা লেখো।
✔️ উত্তর:
অণুবিস্তার: উদ্ভিদ অঙ্গ বা কলাকে কৃত্রিম পুষ্টির মাধ্যমে কর্ষণ করে খুব দ্রুত অসংখ্য চারাগাছ তৈরি করার আধুনিক পদ্ধতিকে অণুবিস্তার বা মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।
সুবিধা: এই পদ্ধতিতে বছরের যেকোনো সময়ে খুব কম জায়গায় অসংখ্য রোগমুক্ত চারা তৈরি করা যায়।
💡 ৪৪. প্রদত্ত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে অযৌন জনন ও যৌন জননের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো — (ক) জনিতৃ জীবের সংখ্যা, (খ) কোষ বিভাজন।
✔️ উত্তর:
| পার্থক্যের বিষয় | অযৌন জনন | যৌন জনন |
|---|---|---|
| (ক) জনিতৃ জীবের সংখ্যা | একটি মাত্র জনিতৃ জীব প্রয়োজন। | সাধারণত দুটি ভিন্ন লিঙ্গের জনিতৃ জীব প্রয়োজন। |
| (খ) কোষ বিভাজন | প্রধানত মাইটোসিস পদ্ধতিতে ঘটে। | গ্যামেট উৎপাদনের সময় মায়োসিস ও জাইগোট থেকে ভ্রূণ গঠনের সময় মাইটোসিস ঘটে। |
💡 ৪৫. অভিব্যক্তিতে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ-এর গুরুত্ব লেখো।
✔️ উত্তর:
নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বিবর্তনের ধারায় বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং তাদের সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তির প্রমাণ দেয়। এটি দেখায় যে গঠনগত পরিবর্তন কীভাবে অভিযোজনের ওপর নির্ভর করে।
💡 ৪৬. ‘অসম্পূর্ণ প্রকটতা মেন্ডেলের বংশগতি সূত্রের একটি ব্যতিক্রম’ — উক্তিটির যাথার্থতা বিচার করো।
✔️ উত্তর:
মেন্ডেলের প্রকটতা সূত্র অনুযায়ী সংকর জনুতে কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে (যেমন—সন্ধ্যামালতী) প্রকট ও প্রচ্ছন্ন কোনোটিই সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না পেয়ে একটি অন্তর্বর্তী বৈশিষ্ট্যের (গোলাপি) সৃষ্টি হয়। তাই এটি মেন্ডেলের সূত্রের ব্যতিক্রম।
💡 ৪৭. মেন্ডেল তাঁর বংশগতি সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য মটর গাছ নির্বাচন করার দুটি কারণ লেখো।
✔️ উত্তর:
১. মটর গাছ একবর্ষজীবী এবং অল্প সময়ের মধ্যে এদের বহু অপত্য জনু পাওয়া সম্ভব।
২. মটর ফুলের মধ্যে স্পষ্ট ও বিপরীতধর্মী অনেক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
💡 ৪৮. ইওহিপ্পাস থেকে ইকুয়াস ঘোড়ার বিবর্তনের ক্ষেত্রে যে যে অভিযোজনগত পরিবর্তন ঘটেছে, তা লেখো।
✔️ উত্তর:
১. দেহের সামগ্রিক উচ্চতা ও আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. পায়ের আঙুলের সংখ্যা কমেছে এবং মধ্যের আঙুলটি শক্তিশালী খুরে পরিণত হয়েছে যাতে দৌড়ানোর সুবিধা হয়।
💡 ৪৯. গ্রাফট কী? একবীজপত্রী উদ্ভিদে করা সম্ভব কি? যুক্তিসহ লেখো।
✔️ উত্তর:
গ্রাফট: জোড়কলম বা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উন্নত গুণসম্পন্ন যে উদ্ভিদের শাখাটিকে অন্য একটি কাণ্ডের ওপর জোড়া লাগানো হয়, তাকে গ্রাফট বা সায়ন (Scion) বলে।
একবীজপত্রী উদ্ভিদে: একবীজপত্রী উদ্ভিদে গ্রাফটিং করা সম্ভব নয়। কারণ এদের নালিকা বান্ডিলে ক্যাম্বিয়াম (Cambium) নামক গৌণ ভাজক কলা থাকে না, যা জোড়া লাগার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
💡 ৫০. মাইক্রোপ্রোপাগেশন পদ্ধতিতে পৃথকীকৃত কোষ বা কলার ছোট টুকরো থেকে কীভাবে এমব্রায়োয়েড তৈরি হয়, তা ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
মাইক্রোপ্রোপাগেশন পদ্ধতিতে বিচ্ছিন্ন করা কোষ বা কলার টুকরোকে (এক্সপ্ল্যান্ট) উপযুক্ত কালচার মিডিয়ামে রেখে পুষ্টি দিলে তা ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে একটি অবিভক্ত কোষপুঞ্জ বা ক্যালাস গঠন করে। এই ক্যালাস থেকে পরবর্তী ধাপে ভ্রূণ সদৃশ গঠন বা এমব্রায়োয়েড সৃষ্টি হয়।
💡 ৫১. মানব পপুলেশনে কানের মুক্ত লতিযুক্ত মানুষের সংখ্যা কানের যুক্ত লতিযুক্ত মানুষের চেয়ে বেশি না কম হবে? যুক্তিসহ লেখো।
✔️ উত্তর:
মানব পপুলেশনে কানের মুক্ত লতিযুক্ত মানুষের সংখ্যা বেশি হবে। এর কারণ হল, মানুষের কানের মুক্ত লতি একটি প্রকট (Dominant) বৈশিষ্ট্য, যা পপুলেশনে বেশি প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে যুক্ত লতি একটি প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য।
💡 ৫২. সকল টেস্টক্রস ব্যাক ক্রস কিন্তু সকল ব্যাকক্রস টেস্ট ক্রস নয় কেন?
✔️ উত্তর:
ব্যাক ক্রস বলতে অপত্যের সাথে যেকোনো জনিতৃর (প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) সংকরায়ণকে বোঝায়। কিন্তু টেস্ট ক্রস কেবল প্রচ্ছন্ন জনিতৃর সাথে সংকরায়ণকে বোঝায়। তাই টেস্ট ক্রস ব্যাক ক্রসের একটি অংশ হলেও, সকল ব্যাক ক্রস (যেমন প্রকট জনিতৃর সাথে সংকরায়ণ) টেস্ট ক্রস নয়।
💡 ৫৩. জেনেটিক কাউন্সেলিং এর দুটি গুরুত্ব লেখো।
✔️ উত্তর:
১. এর মাধ্যমে কোনো দম্পতি বা ব্যক্তির বংশগত রোগের (যেমন—থ্যালাসেমিয়া) বাহক হওয়ার সম্ভাবনা নির্ণয় করা যায়।
২. অনাগত সন্তানের মধ্যে রোগটি সঞ্চারিত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
💡 ৫৪. অপসারী বিবর্তন কী? উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
বিবর্তনের ধারায় সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন প্রাণী যখন ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে অভিযোজিত হওয়ার কারণে ভিন্ন ভিন্ন চারিত্রিক গঠন অর্জন করে, তখন তাকে অপসারী বিবর্তন বলে।
উদাহরণ: তিমির ফ্লিপার, মানুষের হাত ও পাখির ডানা (সমসংস্থ অঙ্গ)।
💡 ৫৫. কোনো সাদা শিকার হওয়া বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো বনাঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে কী কী সংগ্রাম দেখা যেতে পারে?
✔️ উত্তর:
এক্ষেত্রে মূলত দুই ধরনের সংগ্রাম দেখা যেতে পারে:
১. অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম: একই প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে (যেমন—দুটি বাঘের মধ্যে) খাদ্যের অধিকার নিয়ে লড়াই।
২. আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম: বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের মধ্যে (যেমন—বাঘ ও হায়েনার মধ্যে) একই শিকারের জন্য লড়াই।
💡 ৫৬. পায়রার অভিযোজনে দ্বিশ্বসনের ভূমিকা লেখো।
✔️ উত্তর:
পায়রার ফুসফুসের সাথে ৯টি বায়ুথলি যুক্ত থাকে। উড্ডয়নকালে এই বায়ুথলিগুলি ফুসফুসে অক্সিজেন সমৃদ্ধ বায়ু সরবরাহ বজায় রাখে, যার ফলে একবার প্রশ্বাসে দুবার গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে। একেই দ্বিশ্বসন বলে, যা দীর্ঘক্ষণ উড়তে সাহায্য করে।
💡 ৫৭. নিষেক কাকে বলে? গুপ্তবীজী উদ্ভিদে নিষেক কোথায় ঘটে?
✔️ উত্তর:
নিষেক: পুংজননকোষ (শুক্রাণু) ও স্ত্রীজননকোষের (ডিম্বাণু) মিলনের ফলে জাইগোট গঠনের প্রক্রিয়াকে নিষেক বলে।
গুপ্তবীজী উদ্ভিদে: গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ডিম্বকের ভেতরে অবস্থিত ভ্রূণস্থলীর (Embryo sac) মধ্যে নিষেক ঘটে।
💡 ৫৮. প্রদত্ত শব্দদুটি ব্যাখ্যা করো — (ক) জিনোম, (খ) লোকাস।
✔️ উত্তর:
(ক) জিনোম: কোনো জীবের হ্যাপ্লয়েড সেট ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের সমষ্টিকে জিনোম বলে।
(খ) লোকাস: ক্রোমোজোমের ওপর যে নির্দিষ্ট স্থানে কোনো একটি জিন অবস্থান করে, তাকে ওই জিনের লোকাস বলে।
💡 ৫৯. একজন বর্ণান্ধ বাহক মহিলা ও একজন বর্ণান্ধ পুরুষের কন্যাসন্তানটির বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
বাহক মাতা ($X^CX$) ও বর্ণান্ধ পিতার ($X^CY$) সংকরায়ণে কন্যাসন্তানদের মধ্যে ৫০% বর্ণান্ধ ($X^CX^C$) এবং ৫০% বাহক ($X^CX$) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ কন্যাসন্তানটির আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ।
💡 ৬০. অণুবিস্তারণ পদ্ধতিটি রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখাও।
✔️ উত্তর:
এক্সপ্ল্যান্ট (উদ্ভিদ কলা) → ক্যালাস (কোষপুঞ্জ) → এমব্রায়োয়েড (ভ্রূণ সদৃশ) → প্ল্যান্টলেট (চারাগাছ)।
💡 ৬১. ল্যামার্কের মতবাদের ‘অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ’ বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
ল্যামার্কের মতে, পরিবেশের প্রভাবে জীবদ্দশায় কোনো জীব যে সমস্ত নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে, তা পরবর্তী প্রজন্মের অপত্যদের দেহে সঞ্চারিত হয়। একেই অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ বলে।
💡 ৬২. জীবন্ত জীবাশ্ম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
যে সমস্ত জীব সুদূর অতীতে সৃষ্টি হয়ে কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই আজও পৃথিবীতে টিকে আছে কিন্তু তাদের সমগোত্রীয় অন্যান্য জীবেরা অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
উদাহরণ: লিমুলাস (রাজকাঁকড়া) বা পেরিপেটাস।
💡 ৬৩. ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
বংশগতিতে যখন কোনো বৈশিষ্ট্য পিতা থেকে কন্যার মাধ্যমে দৌহিত্রে (নাতি) সঞ্চারিত হয় অথবা মাতা থেকে পুত্রের মাধ্যমে নাতনির মধ্যে সঞ্চারিত হয়, তখন তাকে ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার বলে।
💡 ৬৪. অতিরিক্ত লবণ সহনের জন্য সুন্দরী গাছের দুটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
১. এদের পাতায় অবস্থিত লবণ গ্রন্থির মাধ্যমে অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে নির্গত করে দেয়।
২. সুন্দরী গাছ বাকল মোচন বা ছাল ত্যাগের মাধ্যমেও কাণ্ডে সঞ্চিত অতিরিক্ত লবণ বর্জন করে।
💡 ৬৫. জনন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে অযৌন ও যৌন জননের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো — (ক) জনিতৃ জীবের সংখ্যা, (খ) অপত্য জনুর প্রকৃতি।
✔️ উত্তর:
| পার্থক্যের বিষয় | অযৌন জনন | যৌন জনন |
|---|---|---|
| (ক) জনিতৃ জীবের সংখ্যা | একটি মাত্র জনিতৃ জীব প্রয়োজন। | সাধারণত দুটি ভিন্ন লিঙ্গের জনিতৃ জীব প্রয়োজন। |
| (খ) অপত্য জনুর প্রকৃতি | অপত্য জীব জনিতৃ জীবের হুবহু অনুরূপ হয়। | অপত্য জীবে নতুন প্রকরণ বা বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটে। |
💡 ৬৬. মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন পরীক্ষায় উৎপন্ন হলুদ ও গোলাকার বীজযুক্ত মটর গাছগুলির সম্ভাব্য জিনোটাইপগুলি লেখো।
✔️ উত্তর:
হলুদ ও গোলাকার বীজের সম্ভাব্য চারটি জিনোটাইপ হল — YYRR, YYRr, YyRR এবং YyRr।
💡 ৬৭. নিম্নলিখিত ঘটনাগুলি মানববিকাশের কোন্ কোন্ দশার অন্তর্ভুক্ত? — (ক) ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, (খ) স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মানসিক অবসাদ।
✔️ উত্তর:
(ক) ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি: এটি বয়ঃসন্ধি দশার বৈশিষ্ট্য।
(খ) স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মানসিক অবসাদ: এটি বার্ধক্য দশার বৈশিষ্ট্য।
💡 ৬৮. ‘প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য সর্বদা হোমোজাইগাস অবস্থায় প্রকাশ পায়’ — উক্তিটির যাথার্থ্য ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
মেন্ডেলের প্রকটতা সূত্র অনুযায়ী, একটি প্রচ্ছন্ন অ্যালিল প্রকট অ্যালিলের উপস্থিতিতে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না (যেমন—Tt লম্বা হয়)। কেবল যখন দুটি অ্যালিলই প্রচ্ছন্ন হয় (হোমোজাইগাস অবস্থা, যেমন—tt), তখনই প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যটি (বেঁটে) প্রকাশিত হয়।
💡 ৬৯. ল্যামার্কের ‘অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার’ সূত্রটি বিবৃত করো।
✔️ উত্তর:
সূত্রানুসারে, পরিবেশের প্রয়োজনে কোনো জীব যদি তার কোনো অঙ্গ ক্রমাগত ব্যবহার করে, তবে সেই অঙ্গটি সুগঠিত ও শক্তিশালী হয়। অপরদিকে, দীর্ঘকাল ধরে কোনো অঙ্গ অব্যবহৃত থাকলে সেটি দুর্বল ও অকেজো হয়ে অবশেষে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
💡 ৭০. হিমোফিলিয়ার বাহক মাতা ও স্বাভাবিক পিতার কন্যাসন্তানদের হিমোফিলিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কত শতাংশ, তা একটি ক্রসের সাহায্যে দেখাও।
✔️ উত্তর:
বাহক মাতা ($X^H X^h$) ও স্বাভাবিক পিতার ($X^H Y$) মধ্যে সংকরায়ণ ঘটলে কন্যাসন্তানরা হয় স্বাভাবিক ($X^H X^H$) অথবা বাহক ($X^H X^h$)। সুতরাং, কন্যাসন্তানদের হিমোফিলিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ০ শতাংশ।
💡 ৭১. পাখির ডানা ও বাদুড়ের ডানার মধ্যে বিবর্তনগত সম্পর্ক বুঝিয়ে দাও।
✔️ উত্তর:
পাখির ডানা ও বাদুড়ের ডানা হল সমবৃত্তীয় অঙ্গ। এদের উৎপত্তি ও গঠন আলাদা হলেও ওড়ার কাজ করার জন্য এরা বাইরে থেকে সদৃশ। এটি অভিসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে, যা প্রমাণ করে যে ভিন্ন ভিন্ন জীব একই প্রয়োজনে একই দিকে বিবর্তিত হতে পারে।
💡 ৭২. উটের মূত্র উৎপাদন সংক্রান্ত অভিযোজনগত দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
১. দেহে জল বাঁচানোর জন্য উট খুব সামান্য পরিমাণে অত্যন্ত ঘন মূত্র ত্যাগ করে।
২. এদের মূত্রে ইউরিয়ার পরিবর্তে অধিক পরিমাণে ইউরিক অ্যাসিড থাকে, যা জলের অপচয় রোধ করে।
💡 ৭৩. প্রদত্ত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে পার্থক্য লেখো — (ক) বাহকের প্রয়োজনীয়তা, (খ) নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব।
✔️ উত্তর:
| পার্থক্যের বিষয় | স্বপরাগযোগ | ইতর পরাগযোগ |
|---|---|---|
| (ক) বাহকের প্রয়োজনীয়তা | বাহকের প্রয়োজন হয় না বললেই চলে। | বাহকের উপস্থিতি অত্যন্ত আবশ্যক। |
| (খ) নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব | নতুন বৈশিষ্ট্য সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে না। | নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটার সম্ভাবনা থাকে। |
💡 ৭৪. স্পাইরোগাইরার দেহে কীভাবে অযৌন জনন ঘটে?
✔️ উত্তর:
স্পাইরোগাইরা খণ্ডীভবন (Fragmentation) পদ্ধতিতে অযৌন জনন সম্পন্ন করে। এদের সূত্রাকার দেহ কোনো আঘাত বা স্রোতের কারণে খণ্ড খণ্ড হয়ে গেলে, প্রতিটি খণ্ড মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পুনরায় নতুন স্পাইরোগাইরা গঠন করে।
💡 ৭৫. ‘পৃথক জিনোটাইপ একই ফিনোটাইপ প্রদর্শন করতে পারে’ — উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
মটর গাছের ক্ষেত্রে লম্বা বৈশিষ্ট্যের জন্য দুটি জিনোটাইপ হতে পারে — TT (বিশুদ্ধ লম্বা) এবং Tt (সংকর লম্বা)। এখানে জিনোটাইপ দুটি আলাদা হলেও বাহ্যিক ফিনোটাইপ একই, অর্থাৎ উভয়ই লম্বা।
💡 ৭৬. হোল্যান্ড্রিক জিন কী?
✔️ উত্তর:
পুরুষদের Y ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলিকে হোল্যান্ড্রিক জিন বলে। এই জিনগুলি কেবল পুরুষদের মধ্যেই বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে এবং পিতা থেকে সরাসরি পুত্রসন্তানে সঞ্চারিত হয় (যেমন—কানের লতিতে লোম)।
💡 ৭৭. সংকরায়ণ পরীক্ষার জন্য মেন্ডেলের সাফল্যের দুটি কারণ লেখো।
✔️ উত্তর:
১. মেন্ডেল তাঁর পরীক্ষার জন্য মটর গাছের সাত জোড়া সুস্পষ্ট ও বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য নির্বাচন করেছিলেন।
২. তিনি প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল নিখুঁতভাবে গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগতভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন।
💡 ৭৮. ব্যাখ্যা করো — ‘হট ডাইলুট স্যুপ’।
✔️ উত্তর:
বিজ্ঞানী হ্যালডেনের মতে, আদিম সমুদ্রের গরম জলে অ্যামাইনো অ্যাসিড, শর্করা, পিউরিন, পিরিমিডিন ইত্যাদি জৈব যৌগ মিশে যে পুষ্টিসমৃদ্ধ উত্তপ্ত মিশ্রণ তৈরি হয়েছিল, তাকেই 'হট ডাইলুট স্যুপ' (Hot dilute soup) বলা হয়।
💡 ৭৯. রেটিয়া মিরাবিলিয়া কী? এর কাজ লেখো।
✔️ উত্তর:
রেটিয়া মিরাবিলিয়া: এটি রুই মাছের পটকার পেছনের প্রকোষ্ঠে অবস্থিত একটি রক্তজালক।
কাজ: এটি রেডগ্রন্থি থেকে নির্গত হওয়া গ্যাস পুনরায় শোষণ করে নিয়ে পটকাকে সংকুচিত করতে এবং মাছকে জলে ডুবে যেতে সাহায্য করে।
💡 ৮০. জীবন্ত জীবাশ্ম কাকে বলে? উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
যে সব জীব সুদূর অতীতে উৎপন্ন হয়ে আজও কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ছাড়াই পৃথিবীতে টিকে আছে কিন্তু তাদের সমগোত্রীয় জীবেরা বহু আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
উদাহরণ: লিমুলাস (রাজকাঁকড়া) বা পেরিপেটাস।
💡 ৮১. জনন কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
যে জৈবনিক পদ্ধতিতে জীব নিজের মতো দেখতে অপত্য জীব সৃষ্টি করে এবং সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজের বংশধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখে, তাকে জনন বলে।
💡 ৮২. যৌন জনন ও অযৌন জননের একটি প্রধান পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর:
যৌন জননে গ্যামেট উৎপাদনের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে এবং এতে মিয়োসিস বিভাজন আবশ্যিক। অন্যদিকে, অযৌন জননে গ্যামেট উৎপাদন ছাড়াই রেণু বা দেহকোশ বিভাজনের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে।
💡 ৮৩. স্টক ও সিয়ন বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
জোড়কলমের সময় মূলসহ যে গাছটিতে অন্য গাছের ডাল জোড়া লাগানো হয় তাকে স্টক বলে এবং অন্য গাছের যে ডালটি লাগানো হয় তাকে সিয়ন বলে।
💡 ৮৪. স্বপরাগযোগের একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা লেখো।
✔️ উত্তর:
সুবিধা: পরাগরেণুর অপচয় কম হয় এবং বাহকের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
অসুবিধা: নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত উদ্ভিদ জন্মায় না এবং অপত্য উদ্ভিদ দুর্বল প্রকৃতির হয়।
💡 ৮৫. ইতর পরাগযোগের একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা লেখো।
✔️ উত্তর:
সুবিধা: নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত অপত্য সৃষ্টি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
অসুবিধা: বাহকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে অনেক সময় পরাগযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
💡 ৮৬. পক্ষীপরাগী ও পতঙ্গপরাগী ফুলের একটি করে উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
পক্ষীপরাগী ফুল: শিমুল বা পলাশ।
পতঙ্গপরাগী ফুল: আম বা সূর্যমুখী।
💡 ৮৭. মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা অণুবিস্তারণ কী?
✔️ উত্তর:
উদ্ভিদের কোশ, কলা বা অঙ্গ পালন (Culture) করার মাধ্যমে কৃত্রিম পুষ্টিমাধ্যমে খুব দ্রুত অসংখ্য চারাগাছ তৈরির আধুনিক পদ্ধতিকে মাইক্রোপ্রোপাগেশন বলে।
💡 ৮৮. মানব বিকাশের 'বয়ঃসন্ধি' দশার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
১. জনন অঙ্গের পূর্ণতা ঘটে এবং গৌণ যৌন লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়।
২. দ্রুত উচ্চতা বৃদ্ধি পায় এবং মানসিক ও আবেগজনিত পরিবর্তন দেখা দেয়।
💡 ৮৯. দ্বিনিষেক কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগনালীর দুটি পুং-গ্যামেটের একটি ডিম্বাণুকে এবং অপরটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসকে নিষিক্ত করার ঘটনাকে দ্বিনিষেক বলে।
💡 ৯০. বংশগতি বা হেরিডিটি বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
যে প্রক্রিয়ায় পিতা-মাতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশপরম্পরায় সন্তান-সন্ততির দেহে সঞ্চারিত হয়, তাকে বংশগতি বলে।
💡 ৯১. ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
✔️ উত্তর:
কোনো জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বাহ্যিক প্রকাশকে ফিনোটাইপ বলে। আর জীবের বৈশিষ্ট্যের জিনগত গঠনকে জিনোটাইপ বলে।
💡 ৯২. সংকরায়ণ বা হাইব্রিডাইজেশন কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
একই প্রজাতির দুটি বিপরীত ধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মধ্যে মিলন ঘটিয়ে অপত্য সৃষ্টির পদ্ধতিকে সংকরায়ণ বলে।
💡 ৯৩. মেন্ডেল কেন পরীক্ষার জন্য মটর গাছ নির্বাচন করেছিলেন? (দুটি কারণ)
✔️ উত্তর:
১. মটর গাছ একবর্ষজীবী এবং অল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়।
২. মটর গাছে অনেক জোড়া বিপরীতধর্মী স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
💡 ৯৪. অসম্পূর্ণ প্রকটতা কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত দুটি জীবের মিলনে যখন কোনো বৈশিষ্ট্যই প্রকট না হয়ে মাঝামাঝি কোনো নতুন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে। উদাহরণ: সন্ধ্যা মালতী ফুল।
💡 ৯৫. বংশগতিতে 'টেস্ট ক্রস' বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
কোনো জীবের জিনোটাইপ নির্ণয় করার জন্য যখন কোনো প্রকট ফিনোটাইপযুক্ত জীবের সঙ্গে প্রচ্ছন্ন হোমোজাইগাস জনিতৃর সংকরায়ণ ঘটানো হয়, তাকে টেস্ট ক্রস বলে।
💡 ৯৬. লিঙ্গ নির্ধারণে মাতার কোনো ভূমিকা নেই কেন?
✔️ উত্তর:
মাতা কেবল এক প্রকার গ্যামেট (X) তৈরি করেন। সন্তান পুত্র (XY) হবে না কন্যা (XX) হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে পিতার থেকে আগত শুক্রাণু X না Y বহন করছে তার ওপর।
💡 ৯৭. হিমোফিলিয়া রোগের লক্ষণ কী?
✔️ উত্তর:
এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির কোনো স্থান কেটে গেলে রক্ত তঞ্চন ঘটে না বা রক্ত জমাট বাঁধে না, ফলে ক্ষতস্থান থেকে অনবরত রক্তপাত হতে থাকে।
💡 ৯৮. থ্যালাসেমিয়া রোগে বারবার রক্ত বদলালে কী সমস্যা হয়?
✔️ উত্তর:
বারবার রক্ত পরিবর্তনের ফলে দেহে লোহার (Iron) পরিমাণ বেড়ে যায়, যা হৃদপিণ্ড, যকৃৎ ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মারাত্মক ক্ষতি করে (একে আয়রন ওভারলোড বলে)।
💡 ৯৯. বর্ণান্ধতা বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
মানুষের চোখের রেটিনায় কোন (Cone) কোশ না থাকা বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে যখন লাল ও সবুজ রঙের পার্থক্য বুঝতে পারে না, তাকে বর্ণান্ধতা বলে।
💡 ১০০. ল্যামার্কের 'অঙ্গ অব্যবহার' সূত্রটি কী?
✔️ উত্তর:
ল্যামার্কের মতে, কোনো জীব তার কোনো অঙ্গ ক্রমাগত ব্যবহার করলে সেটি সবল ও সুগঠিত হয়, আর ব্যবহার না করলে সেটি ধীরে ধীরে দুর্বল ও অবলুপ্ত হয়ে যায়।
💡 ১০১. 'অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম' বলতে ডারউইন কী বুঝিয়েছেন?
✔️ উত্তর:
জ্যামিতিক হারে জীব সংখ্যা বাড়লে খাদ্য ও বাসস্থানের সীমাবদ্ধতার কারণে জীবদের নিজেদের মধ্যে যে জীবনমরণ লড়াই করতে হয়, তাকেই ডারউইন অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলেছেন।
💡 ১০২. প্রাকৃতিক নির্বাচন কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
যে প্রক্রিয়ায় প্রকৃতি অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীবদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করে এবং প্রতিকূল প্রকরণযুক্ত জীবদের বিলুপ্ত করে দেয়, তাকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।
💡 ১০৩. সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের মধ্যে পার্থক্য কী?
✔️ উত্তর:
সমসংস্থ অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা। সমবৃত্তীয় অঙ্গের কাজ এক কিন্তু উৎপত্তি ও গঠন আলাদা।
💡 ১০৪. নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কাকে বলে? একটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
পূর্বপুরুষের দেহে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে কাজ না থাকায় যে সব অঙ্গ ছোট ও অকেজো হয়ে গেছে, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। উদাহরণ: মানুষের অ্যাপেনডিক্স।
💡 ১০৫. ভেনাস হৃদপিণ্ড কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
মাছের হৃদপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল দূষিত বা কার্বন ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত প্রবাহিত হয় বলে একে ভেনাস হৃদপিণ্ড বলে।
💡 ১০৬. ক্যাকটাসের কাঁটার অভিযোজনগত গুরুত্ব কী?
✔️ উত্তর:
ক্যাকটাসের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হওয়ায় বাষ্পমোচনের হার হ্রাস পায় এবং কাঁটা গাছকে আত্মরক্ষায় সাহায্য করে।
💡 ১০৭. রুই মাছের পটকার 'রেড গ্রন্থি' ও 'রেটি মিরাবিলিয়া'-র কাজ কী?
✔️ উত্তর:
রেড গ্রন্থি গ্যাস উৎপন্ন করে পটকা ফুলিয়ে মাছকে ভাসতে সাহায্য করে এবং রেটি মিরাবিলিয়া গ্যাস শোষণ করে পটকা সঙ্কুচিত করে মাছকে ডুবতে সাহায্য করে।
💡 ১০৮. পায়রার বায়ুর থলির (Air Sac) একটি কাজ লেখো।
✔️ উত্তর:
পায়রার ৯টি বায়ু থলি দেহে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং উড্ডয়নের সময় দেহকে হালকা রাখতে সাহায্য করে।
💡 ১০৯. উটের মূত্রে ইউরিয়ার বদলে ইউরিক অ্যাসিড থাকে কেন?
✔️ উত্তর:
জল সংরক্ষণের জন্য উট খুব কম পরিমাণ মূত্র ত্যাগ করে এবং ইউরিক অ্যাসিড কঠিন আকারে বর্জন করার মাধ্যমে দেহ থেকে জলের অপচয় রোধ করে।
💡 ১১০. সিম্পাঞ্জিদের সমস্যা সমাধানের একটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
সিম্পাঞ্জিরা গাছের ডালকে লাঠির মতো ব্যবহার করে উই ঢিবির গর্তে ঢুকিয়ে দিয়ে উইপোকা শিকার করে খায়।
💡 ১১১. নিষেকের পর ডিম্বক ও ডিম্বাশয় কিসে রূপান্তরিত হয়?
✔️ উত্তর:
নিষেকের পর ডিম্বকটি বীজে এবং সম্পূর্ণ ডিম্বাশয়টি ফলে রূপান্তরিত হয়।
💡 ১১২. কোরকোদ্গম বা বাডিং (Budding) কী? একটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
যে অযৌন জনন পদ্ধতিতে মাতৃদেহের উপবৃদ্ধি বা কোরক সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন অপত্য সৃষ্টি হয়, তাকে কোরকোদ্গম বলে। উদাহরণ: হাইড্রা বা ইস্ট।
💡 ১১৩. অপুংজনি বা পার্থেনোজেনেসিস কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
নিষেকের সাহায্য ছাড়াই যখন অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে সরাসরি অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে অপুংজনি বলে। উদাহরণ: মৌমাছি বা বোলতা।
💡 ১১৪. ক্ল্যামাইডোমোনাস ও স্পাইরোগাইরা-র জনন পদ্ধতি কী কী?
✔️ উত্তর:
ক্ল্যামাইডোমোনাস সাধারণত চলরেণু বা জুস্পোর (Zoospores) এর মাধ্যমে এবং স্পাইরোগাইরা খণ্ডীভবন (Fragmentation) পদ্ধতিতে জনন সম্পন্ন করে।
💡 ১১৫. জনুঃক্রম কাকে বলে?
✔️ উত্তর:
জীবের জীবনচক্রে রেণুধর জনু (অযৌন দশা) এবং লিঙ্গধর জনুর (যৌন দশা) পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুঃক্রম বলে। যেমন: ফার্ন।
💡 ১১৬. সংকর জীব বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
দুটি বিশুদ্ধ বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মধ্যে মিলনের ফলে যে নতুন বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীব সৃষ্টি হয়, তাকে সংকর জীব বলে (যেমন: সংকর লম্বা মটর গাছ Tt)।
💡 ১১৭. প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পার্থক্য কী?
✔️ উত্তর:
একই প্রজাতির বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের মিলনে প্রথম অপত্য জনুতে (F1) যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় তাকে প্রকট এবং যা অপ্রকাশিত থাকে তাকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে।
💡 ১১৮. মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত দ্বিতীয় সূত্র বা 'স্বাধীন বিন্যাস সূত্র' টি লেখো।
✔️ উত্তর:
দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবের সংকরায়ণ ঘটালে গ্যামেট গঠনকালে বৈশিষ্ট্যগুলি শুধু পৃথক হয় না, বরং সম্ভাব্য সকল সমন্বয়ে স্বাধীনভাবে বিন্যস্ত হয়।
💡 ১১৯. বংশগতিতে পরিব্যক্তি বা মিউটেশন-এর ভূমিকা কী?
✔️ উত্তর:
জিনের আকস্মিক ও স্থায়ী পরিবর্তনের ফলে জীবের নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে, যা বিবর্তনের মূল রসদ হিসেবে কাজ করে এবং নতুন প্রজাতি সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
💡 ১২০. থ্যালাসেমিয়া রোগের দুটি প্রধান লক্ষণ লেখো।
✔️ উত্তর:
১. তীব্র রক্তাল্পতা দেখা যায় এবং হিমোগ্লোবিনের গঠন ত্রুটিপূর্ণ হয়।
২. অস্থির বিকৃতি ঘটে এবং প্লীহা ও যকৃৎ বড় হয়ে যায়।
💡 ১২১. বংশগত রোগের ক্ষেত্রে 'জেনেটিক কাউন্সিলিং' কেন জরুরি?
✔️ উত্তর:
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া বা হিমোফিলিয়া মতো রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি নির্ণয় করতে এবং বিয়ের আগে দম্পতির রোগবাহক হওয়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা করতে এটি জরুরি।
💡 ১২২. ডারউইনের মতে 'প্রকরণ' বা 'ভ্যারিয়েশন' কী?
✔️ উত্তর:
ডারউইনের মতে, পৃথিবীতে দুটি জীব কখনোই হুবহু এক হয় না। তাদের মধ্যে যে ছোট ছোট চারিত্রিক পার্থক্য দেখা যায়, তাকেই প্রকরণ বলে।
💡 ১২৩. 'অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ' বলতে ল্যামার্ক কী বুঝিয়েছেন?
✔️ উত্তর:
পরিবেশের প্রভাবে জীবদ্দশায় যে সব নতুন বৈশিষ্ট্য জীব অর্জন করে, ল্যামার্কের মতে সেই বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানে সঞ্চারিত হয়।
💡 ১২৪. ডারউইনের বিবর্তনবাদের প্রধান ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা কী?
✔️ উত্তর:
ডারউইন প্রকরণের কথা বললেও প্রকরণ কীভাবে সৃষ্টি হয় বা তার কারণ কী (মিউটেশন), সে বিষয়ে কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
💡 ১২৫. আন্তঃপ্রজাতি ও অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
একই প্রজাতির জীবদের মধ্যে খাবারের লড়াইকে অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম এবং আলাদা প্রজাতির জীবদের মধ্যে লড়াইকে আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম বলে।
💡 ১২৬. উটের লোহিত রক্তকণিকার (RBC) একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
উটের লোহিত রক্তকণিকা উপবৃত্তাকার এবং এটি ২৪০% পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে, ফলে রক্ত ঘন হয়ে গেলেও রক্তবাহী নালীর মধ্যে দিয়ে সহজে চলাচল করতে পারে।
💡 ১২৭. লবণাম্বু বা হ্যালোফাইট উদ্ভিদের দুটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
১. শ্বাস নেওয়ার জন্য এদের শ্বাসমূল বা নিউম্যাটোফোর থাকে।
২. চারাগাছকে কাদায় গেঁথে রাখতে জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম দেখা যায়।
💡 ১২৮. মৌমাছির 'ওয়াগেল নৃত্য' (Waggle Dance) কখন দেখা যায়?
✔️ উত্তর:
খাদ্যের উৎস যখন মৌচাক থেকে ১০০ মিটারের বেশি দূরে থাকে, তখন অন্য শ্রমিক মৌমাছিদের সেই উৎসের দিক ও দূরত্ব জানাতে মৌমাছিরা ইংরেজি '8' অক্ষরের মতো নৃত্য করে।
💡 ১২৯. মিলার ও উরের পরীক্ষায় ব্যবহৃত গ্যাসগুলি কী কী ছিল?
✔️ উত্তর:
মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3) এবং হাইড্রোজেন (H2) গ্যাস ২:২:১ অনুপাতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
💡 ১৩০. হট ডাইলুট সুপ (Hot Dilute Soup) কী?
✔️ উত্তর:
বিজ্ঞানী হ্যালডেনের মতে, আদিম সমুদ্রের গরম জলে নানা জৈব যৌগ মিশ্রিত হয়ে যে পুষ্টিসমৃদ্ধ দ্রবণ তৈরি হয়েছিল, তাকে হট ডাইলুট সুপ বলে।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

