✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
💡১. “কৃষিকাজে ও উদ্যানবিদ্যায় অঙ্গজ জনন বেশি সুবিধাজনক”— ব্যাখ্যা করো। মানব বিকাশের বার্ধক্য দশার বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
✔️ উত্তর:
অঙ্গজ জননের সুবিধা:
এই পদ্ধতিতে উৎপন্ন অপত্য উদ্ভিদ হুবহু জনিতৃ উদ্ভিদের মতো গুণসম্পন্ন হয়, ফলে উন্নত বৈশিষ্ট্যের বিশুদ্ধতা বজায় থাকে।
বীজহীন উদ্ভিদ (যেমন—কলা, আঙুর) বিস্তারের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অপরিহার্য।
অত্যন্ত দ্রুত হারে এবং কম সময়ে প্রচুর সংখ্যায় চারাগাছ তৈরি করা সম্ভব হয়।
বার্ধক্য দশার বৈশিষ্ট্য:
এই সময়ে অস্থির ক্যালশিয়াম কমে যাওয়ায় অস্থি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে এবং অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়।
দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি হ্রাস পায় এবং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে।
💡২. অসম্পূর্ণ প্রকটতা কীভাবে মেন্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত সূত্রের বিচ্যুতি প্রমাণ দেয়, সেটি একটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
মেন্ডেলের প্রকটতা সূত্র অনুযায়ী, সংকর জনুতে কেবল প্রকট বৈশিষ্ট্যই প্রকাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে প্রকট বা প্রচ্ছন্ন কোনো অ্যালিলই পূর্ণ প্রকাশ পায় না।
উদাহরণ: সন্ধ্যামালতী উদ্ভিদে লাল (RR) ও সাদা (rr) ফুলের সংকরায়ণ করলে $F_1$ জনুতে লাল বা সাদা কোনোটিই না হয়ে অন্তর্বর্তী বৈশিষ্ট্য হিসেবে 'গোলাপি' (Rr) ফুল দেখা যায়। $F_2$ জনুতে এর ফিনোটাইপিক ও জিনোটাইপিক অনুপাত উভয়ই হয় ১:২:১। এটি মেন্ডেলের প্রথাগত অনুপাত (৩:১)-কে অনুসরণ করে না, তাই এটি মেন্ডেলের সূত্রের একটি বিচ্যুতি।
💡৩. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে হোমোগ্যামেটিক ফিমেল পদ্ধতি এবং হেটেরোগ্যামেটিক মেল পদ্ধতি বলা হয় কেন? মানুষের ক্ষেত্রে অটোজোমবাহিত এবং সেক্স লিঙ্কড প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগগুলির মধ্যে প্রদত্ত বিষয়ের উপর ভিত্তি করে পার্থক্য লেখো — বহিঃপ্রকাশ, বংশগতি।
✔️ উত্তর:
হোমোগ্যামেটিক ও হেটেরোগ্যামেটিক: স্ত্রীদেহে উৎপন্ন গ্যামেট বা ডিম্বাণুগুলি একই প্রকারের (সবগুলিতেই X ক্রোমোজোম থাকে), তাই একে হোমোগ্যামেটিক ফিমেল বলে। অন্যদিকে পুরুষদেহে দুই প্রকার গ্যামেট বা শুক্রাণু (X এবং Y) তৈরি হয়, তাই একে হেটেরোগ্যামেটিক মেল বলে।
পার্থক্য:
| বিষয়ের ভিত্তি | অটোজোমবাহিত রোগ (যেমন-থ্যালাসেমিয়া) | সেক্স লিঙ্কড রোগ (যেমন-হিমোফিলিয়া) |
|---|---|---|
| বহিঃপ্রকাশ | নারী ও পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রকাশিত হয়। | পুরুষদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। |
| বংশগতি | অটোজোমের মাধ্যমে পিতা-মাতা থেকে অপত্যে যায়। | X-ক্রোমোজোমের মাধ্যমে ক্রিস-ক্রস উত্তরাধিকার দেখায়। |
💡৪. মাটিতে প্রচুর পরিমাণে জল উপস্থিত থাকলেও সুন্দরীগাছ মাটি থেকে জলশোষণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। এক্ষেত্রে সমস্যাগুলি এবং সমস্যা সমাধানের জন্য গৃহীত পদক্ষেপগুলি উল্লেখ করো। মিলার এবং উরের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জৈব যৌগগুলি উল্লেখ করো এবং এই পরীক্ষার তাৎপর্য উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর:
জলশোষণের সমস্যা ও পদক্ষেপ: সুন্দরীগাছ সমুদ্র উপকূলবর্তী লোনা মাটিতে জন্মায়, যেখানে লবণের ঘনত্ব বেশি থাকায় উদ্ভিদ মাটি থেকে সহজে জল শোষণ করতে পারে না (একে শারীরবৃত্তীয় শুষ্ক মৃত্তিকা বলে)। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সুন্দরীগাছ তাদের দেহের অতিরিক্ত লবণ লবণ গ্রন্থির মাধ্যমে বা বাকল মোচনের মাধ্যমে দেহ থেকে বের করে দেয়।
মিলার-উরের পরীক্ষার জৈব যৌগ ও তাৎপর্য:
এই পরীক্ষায় উৎপন্ন জৈব যৌগগুলি ছিল মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড (যেমন—গ্লাইসিন, অ্যালানিন)।
তাৎপর্য: এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করে যে আদিম পৃথিবীর পরিবেশে অজৈব উপাদান থেকে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান সৃষ্টি হওয়া সম্ভব ছিল।
💡৫.জীব জগতে অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের কারণ ব্যাখ্যা করো। বিবর্তন সংক্রান্ত ল্যামার্কবাদের বিভিন্ন প্রতিপাদ্য বিষয়ের দুটি উদাহরণসহ উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর:
অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম: জ্যামিতিক হারে জীব সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও প্রাকৃতিক সম্পদ ও খাদ্য সীমিত। ফলে বাসস্থান ও খাদ্যের জন্য জীবদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা বা সংগ্রাম শুরু হয়। এটি তিন প্রকার— অন্তঃপ্রজাতি, আন্তঃপ্রজাতি এবং পরিবেশের সাথে সংগ্রাম।
ল্যামার্কবাদের প্রতিপাদ্য (উদাহরণসহ):
অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবহার: ল্যামার্কের মতে, আদিম ছোট গলাযুক্ত জিরাফ উঁচুতে থাকা গাছের পাতা খাওয়ার জন্য গলা প্রসারিত করতে করতে লম্বা গলার অধিকারী হয়েছে।
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের বংশানুসরণ: তাঁর মতে, জিরাফের এই লম্বা গলার বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বর্তমানের লম্বা গলাযুক্ত জিরাফ সৃষ্টি করেছে।
💡 ৬.মটর গাছের বীজের বর্ণ ও বীজের আকার এই দুটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে মেন্ডেল দ্বিসংকর জনন পরীক্ষা করেছিলেন। এই পরীক্ষায় $F_2$ জনুতে যে কটি হলুদ ও গোলাকার বীজযুক্ত মটর গাছ উৎপন্ন হয়, তাদের জিনোটাইপগুলি লেখো। মটর ফুলের কাণ্ডে অবস্থান এবং ফুলের রং এই দুটি চরিত্রের প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
✔️ উত্তর:
হলুদ ও গোলাকার বীজের জিনোটাইপসমূহ:
হলুদ ও গোলাকার বীজের জন্য সম্ভাব্য জিনোটাইপগুলি হল — YYRR, YYRr, YyRR এবং YyRr।
মটর গাছের বৈশিষ্ট্য:
| চরিত্র | প্রকট বৈশিষ্ট্য | প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| কাণ্ডে ফুলের অবস্থান | কাক্ষিক | শীর্ষস্থ |
| ফুলের রঙ | বেগুনি | সাদা |
💡 ৭.একজন স্বাভাবিক অথচ বাহক মহিলার সঙ্গে একজন থ্যালাসেমিক পুরুষের বিবাহ হলে, তাদের সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কত শতাংশ একটি ক্রসের সাহায্যে দেখাও। পুরুষদের ‘হেটেরোগ্যামেটিক’ বলা হয় কেন?
✔️ উত্তর:
ক্রস:
বাহক মাতা (Tt) এবং আক্রান্ত পিতা (tt) এর মিলনে অপত্যরা হবে:
Tt (বাহক সন্তান) - ৫০%
tt (আক্রান্ত সন্তান) - ৫০%
সুতরাং, সন্তানদের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ।
হেটেরোগ্যামেটিক পুরুষ: পুরুষদের সেক্স ক্রোমোজোম দুটি ভিন্ন প্রকৃতির (X এবং Y) হওয়ায় তারা দুই প্রকার গ্যামেট বা শুক্রাণু (X-যুক্ত ও Y-যুক্ত) তৈরি করে। এই কারণেই পুরুষদের 'হেটেরোগ্যামেটিক মেল' বলা হয়।
💡 ৮.জীবাশ্ম কী? বিভিন্ন জীবাশ্মের উচ্চতা, দাঁতের ও পায়ের আঙুলের পরিবর্তন দ্বারা ঘোড়ার বিবর্তনের ইতিহাসকে কীভাবে ব্যাখ্যা করা যায়?
✔️ উত্তর:
জীবাশ্ম: প্রাচীনকালে ভূগর্ভে বা শিলাস্তরে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত মৃত জীবের সম্পূর্ণ দেহ বা দেহাংশ বা তাদের ছাপকে জীবাশ্ম বলে।
ঘোড়ার বিবর্তন:
উচ্চতা: বিবর্তনের ধারায় ঘোড়ার সামগ্রিক উচ্চতা ও আয়তন ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।
দাঁত: শক্ত ঘাস চিবানোর সুবিধার জন্য পেষক ও পুরঃপেষক দাঁতের উপরিভাগ প্রশস্ত ও খাঁজযুক্ত হয়েছে।
আঙুলের পরিবর্তন: দৌড়ানোর সুবিধার জন্য পায়ের আঙুলের সংখ্যা কমেছে এবং মধ্যের আঙুলটি শক্তিশালী খুরে পরিণত হয়েছে।
💡 ৯.মাছের পটকা এবং পায়রার বায়ুথলি কীভাবে অভিযোজনে সাহায্য করে? শুষ্ক অঞ্চলে জলের ক্ষয় রোধে ক্যাকটাসের দুটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
✔️ উত্তর:
মাছের পটকা ও পায়রার বায়ুথলি:
মাছের পটকা: পটকার অগ্র প্রকোষ্ঠে গ্যাস উৎপন্ন করে মাছ জলের ওপর ভাসে এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে গ্যাস শোষণ করে মাছ জলের গভীরে ডুবে যায়।
পায়রার বায়ুথলি: বায়ুথলিগুলি উড্ডয়নকালে পায়রাকে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে (দ্বিশ্বসন) এবং শরীরের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে উড়তে সাহায্য করে।
ক্যাকটাসের অভিযোজন:
১. বাষ্পমোচন বা জলের অপচয় রোধের জন্য পাতাগুলি কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে।
২. এদের কাণ্ড সবুজ ও রসালো (পর্ণকাণ্ড) এবং এতে জল সঞ্চয়ের জন্য মিউসিলেজ থাকে।
💡 ১০.রেখাচিত্রের সাহায্যে ফার্নের জনুক্রম বর্ণনা করো। প্রদত্ত দুটি বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে বায়ুপরাগী ও পতঙ্গপরাগী ফুলের পার্থক্য লেখো — ফুলের প্রকৃতি ও পরাগরেণুর বৈশিষ্ট্য।
✔️ উত্তর:
ফার্নের জনুক্রম (রেখাচিত্র):
রেণুধর
দেহ (2n) → রেণু মাতৃকোষ (2n) → মায়োসিস → রেণু (n) → লিঙ্গধর দেহ বা
প্রোথ্যালাস (n) → পুংধানী ও স্ত্রীধানী → শুক্রাণু ও ডিম্বাণু (n) → নিষেক
→ জাইগোট (2n) → রেণুধর দেহ (2n)।
বায়ুপরাগী ও পতঙ্গপরাগী ফুলের পার্থক্য:
| পার্থক্যের বিষয় | বায়ুপরাগী ফুল | পতঙ্গপরাগী ফুল |
|---|---|---|
| ফুলের প্রকৃতি | ফুলগুলি ছোট, বর্ণহীন ও গন্ধহীন হয়। | ফুলগুলি বড়, উজ্জ্বল বর্ণযুক্ত ও সুগন্ধি হয়। |
| পরাগরেণুর বৈশিষ্ট্য | পরাগরেণু সংখ্যায় অনেক, হালকা ও মসৃণ হয়। | পরাগরেণু সংখ্যায় কম, বড়, আঠালো ও কণ্টকিত হয়। |
💡১১.প্ল্যানেরিয়ার পুনরুৎপাদন পদ্ধতিটি লেখো। মূল, কাণ্ড ও পাতার মাধ্যমে উদ্ভিদের প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তারের উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
প্ল্যানেরিয়ার পুনরুৎপাদন:
এটি এক প্রকার অযৌন জনন পদ্ধতি। প্ল্যানেরিয়ার দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে
প্রতিটি খণ্ড কোষ বিভাজনের মাধ্যমে পুনরায় একটি পূর্ণাঙ্গ অপত্য জীব গঠন
করে।
প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার:
মূলের মাধ্যমে: রাঙা আলুর রসালো মূল থেকে নতুন চারা জন্মায়।
কাণ্ডের মাধ্যমে: আলুর স্ফীতকন্দ বা আদার গ্রন্থিকাণ্ড থেকে অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।
পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচি পাতার কিনারা থেকে পত্রজ মুকুল উৎপন্ন হয়ে বংশবিস্তার করে।
💡১২. উদাহরণসহ মূলের মাধ্যমে, কাণ্ডের মাধ্যমে ও পাতার মাধ্যমে প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার আলোচনা করো। বৃদ্ধির দশা হিসেবে বিভেদন দশার তাৎপর্য কী?
✔️ উত্তর:
প্রাকৃতিক অঙ্গজ বংশবিস্তার:
মূলের মাধ্যমে: রাঙা আলুর রসালো মূল থেকে অস্থানিক মুকুল সৃষ্টি হয়, যা থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।
কাণ্ডের মাধ্যমে: আলুর স্ফীতকন্দ (Tuber) বা আদার গ্রন্থিকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।
পাতার মাধ্যমে: পাথরকুচি পাতার কিনারায় উৎপন্ন পত্রজ মুকুল মাটিতে পড়ে নতুন চারাগাছ তৈরি করে।
বিভেদন দশার তাৎপর্য: বৃদ্ধির এই দশায় কোষগুলি বিশেষ গঠনগত ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য অর্জন করে বিভিন্ন প্রকার কলা ও অঙ্গ গঠন করে। এটি ভ্রূণ থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবের রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
💡 ১৩.একটি ফার্নের জনুক্রম পর্যায়চিত্রের মাধ্যমে দেখাও। শুধুমাত্র দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে জোড়কলম করা যায় কেন?
✔️ উত্তর:
ফার্নের জনুক্রম (পর্যায়চিত্র):
রেণুধর দেহ (2n) → রেণু মাতৃকোষ (2n) → মায়োসিস → রেণু (n) → লিঙ্গধর দেহ (প্রোথ্যালাস) (n) → শুক্রাণু ও ডিম্বাণু (n) → নিষেক → জাইগোট (2n) → রেণুধর দেহ (2n)।
দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে জোড়কলম: জোড়কলম বা গ্রাফটিং করার জন্য দুটি কাণ্ডের নালিকা বান্ডিল বা সংবহন কলার মিলন হওয়া প্রয়োজন। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে ক্যাম্বিয়াম (Cambium) নামক গৌণ ভাজক কলা থাকে, যা কোষ বিভাজনের মাধ্যমে দুটি অংশকে জোড়া লাগাতে সাহায্য করে। একবীজপত্রী উদ্ভিদে এটি থাকে না।
💡 ১৪.মেন্ডেলের প্রকটতার সূত্রটি একটি ক্রসের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
প্রকটতা সূত্র: যখন কোনো চরিত্রের এক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বিশুদ্ধ জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানো হয়, তখন প্রথম অপত্য জনুতে ($F_1$) কেবল একটি বৈশিষ্ট্যই প্রকাশিত হয়। এই প্রকাশিত বৈশিষ্ট্যটিকে প্রকট বৈশিষ্ট্য এবং অপ্রকাশিত বৈশিষ্ট্যটিকে প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য বলে।
উদাহরণ (ক্রস): বিশুদ্ধ লম্বা (TT) এবং বিশুদ্ধ বেঁটে (tt) মটর গাছের সংকরায়ণ করলে $F_1$ জনুতে উৎপন্ন সকল গাছই সংকর লম্বা (Tt) হয়। অর্থাৎ লম্বা গুণটি প্রকট হওয়ায় বেঁটে গুণটি চাপা পড়ে যায়।
💡 ১৫.একজন হিমোফিলিয়া বাহক স্ত্রীলোকের সঙ্গে একজন হিমোফিলিয়া আক্রান্ত পুরুষের বিবাহ হলে, তার পুত্র এবং কন্যাদের হিমোফিলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কত তা চেকারবোর্ডের সাহায্যে দেখাও। জিন ও অ্যালিলের মধ্যে পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর:
ক্রস: বাহক স্ত্রী ($X^HX^h$) এবং আক্রান্ত পুরুষ ($X^hY$)-এর সন্তানদের সম্ভাবনা:
কন্যাদের ক্ষেত্রে: ৫০% আক্রান্ত ($X^hX^h$) এবং ৫০% বাহক ($X^HX^h$)।
পুত্রদের ক্ষেত্রে: ৫০% আক্রান্ত ($X^hY$) এবং ৫০% স্বাভাবিক ($X^HY$)।
জিন ও অ্যালিলের পার্থক্য:
জিন হলো বংশগতির একক যা ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে। অন্যদিকে, একই জিনের বিভিন্ন বিকল্প রূপকে অ্যালিল বলে (যেমন—উচ্চতার জিনের দুটি অ্যালিল হলো T এবং t)।
💡১৬. ‘বিবর্তনের ফলে ক্রমান্বয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়’— এই ধারণাটি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের গঠন থেকে ব্যাখ্যা করো। মাইক্রোস্ফিয়ার মডেলটি কোন বিজ্ঞানী প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন?
✔️ উত্তর:
হৃৎপিণ্ডের গঠন ও বিবর্তন:
মৎস্য: এদের হৃৎপিণ্ড দুই প্রকোষ্ঠযুক্ত (একটি অলিন্দ ও একটি নিলয়) এবং কেবল দূষিত রক্ত পরিবহন করে।
উভচর: তিন প্রকোষ্ঠযুক্ত হৃৎপিণ্ড (দুই অলিন্দ ও এক নিলয়), যেখানে দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত মিশ্রিত হয়।
সরীসৃপ: হৃৎপিণ্ড অসম্পূর্ণভাবে চার প্রকোষ্ঠযুক্ত (নিলয়টি অসম্পূর্ণভাবে বিভক্ত)।
পক্ষী ও স্তন্যপায়ী: সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠযুক্ত হৃৎপিণ্ড, যেখানে দূষিত ও বিশুদ্ধ রক্ত কখনোই মিশ্রিত হয় না।
এই ক্রমটি প্রমাণ করে যে বিবর্তনের ধারায় হৃৎপিণ্ড সরল থেকে জটিলের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
বিজ্ঞানী: মাইক্রোস্ফিয়ার মডেলটি বিজ্ঞানী সিডনি ফক্স (Sidney Fox) প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন।
💡 ১৭.যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলতে কী বোঝো? উটের লোহিত রক্তকণিকা কীভাবে মরুভূমির ঊষর পরিবেশে তৈরি হওয়া সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে? মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাপেনডিক্সকে লুপ্তপ্রায় অঙ্গ বলা হয় কেন?
✔️ উত্তর:
যোগ্যতমের উদ্বর্তন: জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়ার জন্য জীবেরা অনুকূল প্রকরণ অর্জন করে। ডারউইনের মতে, যে সকল জীব সবচেয়ে উপযোগী প্রকরণযুক্ত, প্রকৃতি তাদেরই নির্বাচন করে এবং তারা টিকে থাকে। একেই যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলে।
উটের RBC: উটের লোহিত রক্তকণিকা ডিম্বাকার হওয়ায় তা পানিশূন্যতার সময় অত্যন্ত ঘন রক্তের মধ্য দিয়েও সহজে চলাচল করতে পারে। এছাড়া প্রচুর জল পান করলে এদের RBC স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২৪০% পর্যন্ত বড় বা প্রসারিত হতে পারে, যা ফাটল রোধ করে।
অ্যাপেনডিক্স: এটি মানুষের পৌষ্টিকতন্ত্রের একটি অংশ কিন্তু এর কোনো নির্দিষ্ট কাজ নেই। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের দেহে সক্রিয় ছিল, কিন্তু বর্তমানে ব্যবহারের অভাবে এটি কেবল একটি নিষ্ক্রিয় বা লুপ্তপ্রায় অঙ্গে পরিণত হয়েছে।
💡 ১৮.শাখা কলমের সাহায্যে কীভাবে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা হয় তা ব্যাখ্যা করো। মাইক্রোপ্রোপাগেশন পদ্ধতির রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখাও।
✔️ উত্তর:
শাখা কলম (Stem Cutting): জনিতৃ উদ্ভিদের কাণ্ড বা শাখার কিছুটা অংশ (যেখানে পর্ব ও মুকুল থাকে) তের্যকভাবে কেটে নিয়ে তার গোড়ার অংশটি ভিজে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। কিছুদিন পর কাটা অংশ থেকে অস্থানিক মূল বের হয় এবং মুকুলটি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন অপত্য উদ্ভিদ গঠন করে। গোলাপ, জবা ও লেবু গাছে এই পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করা হয়।
মাইক্রোপ্রোপাগেশন রেখাচিত্র:
উপযুক্ত উদ্ভিদ অঙ্গ (এক্সপ্ল্যান্ট) নির্বাচন → কালচার মিডিয়ামে কর্ষণ → ক্যালাস (অবিভক্ত কোষপুঞ্জ) গঠন → এমব্রায়োয়েড সৃষ্টি → প্ল্যান্টলেট (চারাগাছ) তৈরি।
💡 ১৯.একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেকের পদ্ধতির পরিচ্ছন্ন চিত্র অঙ্কন করো এবং প্রদত্ত অংশগুলি চিহ্নিত করো — পরাগনালি, ভ্রূণস্থলী, নির্ণীত নিউক্লিয়াস, সহকারী কোশ।
✔️ উত্তর:
(এখানে চিত্র অঙ্কন করা সম্ভব নয়, তবে চিহ্নিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দেওয়া হলো):
নিষেকের সময় পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয় এবং পরাগনালি গঠিত হয়ে ডিম্বাশয়ের দিকে অগ্রসর হয়। ডিম্বকের ভেতরে থাকা ভ্রূণস্থলীর মধ্যে আটটি নিউক্লিয়াস থাকে। এর মাঝখানে দুটি নিউক্লিয়াস মিলে নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) গঠন করে এবং ডিম্বাণুর দুপাশে দুটি সহকারী কোশ অবস্থান করে।
💡২০. বিশুদ্ধ কালো অমসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগের (BBRR) সঙ্গে বিশুদ্ধ সাদা মসৃণ লোমযুক্ত (bbrr) গিনিপিগের সংকরায়ণের ফলে $F_2$ জনুতে কালো মসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগ উৎপন্ন হয়। এদের সম্ভাব্য জিনোটাইপিক ও ফিনোটাইপিক অনুপাত সারণির সাহায্যে দেখাও।
✔️ উত্তর:
সংকরায়ণ: বিশুদ্ধ কালো অমসৃণ (BBRR) ও বিশুদ্ধ সাদা মসৃণ (bbrr)-এর মিলনে $F_1$ জনুতে সংকর কালো অমসৃণ (BbRr) গিনিপিগ তৈরি হয়।
$F_2$ জনুর ফলাফল:
ফিনোটাইপিক অনুপাত: ৯:৩:৩:১ (৯টি কালো অমসৃণ, ৩টি কালো মসৃণ, ৩টি সাদা অমসৃণ ও ১টি সাদা মসৃণ)।
কালো মসৃণ গিনিপিগের জিনোটাইপ: BBrr (১টি) এবং Bbrr (২টি)।
💡 ২১.'বর্ণান্ধতা রোগটি পুরুষদের ক্ষেত্রে অধিক লক্ষ্য করা যায়' — বক্তব্যটির কারণ ব্যাখ্যা করো। উক্ত রোগের ক্ষেত্রে বাহক মাতা ও স্বাভাবিক পিতার বিবাহের পরবর্তী উত্তরাধিকারের চেকার বোর্ডের মাধ্যমে দেখাও।
✔️ উত্তর:
কারণ: বর্ণান্ধতা একটি X-ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ। পুরুষদের দেহে একটিমাত্র X-ক্রোমোজোম থাকায় তাতে ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকলে রোগটি সরাসরি প্রকাশ পায়। কিন্তু মহিলাদের দুটি X-ক্রোমোজোমের একটিতে ত্রুটি থাকলেও অন্য স্বাভাবিক X-ক্রোমোজোমটি রোগ প্রকাশে বাধা দেয়, ফলে তারা কেবল বাহক হয়।
ক্রস: বাহক মাতা ($X^CX$) ও স্বাভাবিক পিতার ($X^HY$) মিলনে:
কন্যাদের ক্ষেত্রে: ৫০% স্বাভাবিক এবং ৫০% বাহক।
পুত্রদের ক্ষেত্রে: ৫০% স্বাভাবিক এবং ৫০% বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
💡 ২২.মৌচাকে শ্রমিক মৌমাছিরা খাদ্য উৎসের দূরত্ব ও অভিমুখ কী কী বিশেষ পদ্ধতি দ্বারা অন্য মৌমাছিদের বোঝায়? পরজীবী দ্বারা আক্রান্ত হলে শিম্পাঞ্জিরা কীভাবে নিজেদের রক্ষা করে?
✔️ উত্তর:
মৌমাছির নৃত্য: মৌমাছিরা নৃত্যের মাধ্যমে খাদ্যের সন্ধান দেয়।
১. বৃত্তাকার নৃত্য (Round Dance): খাদ্যের উৎস ১০০ মিটারের মধ্যে হলে এই নৃত্য করে।
২. ওয়াগেল নৃত্য (Waggle Dance): খাদ্যের উৎস ১০০ মিটারের বেশি দূরে হলে ইংরেজি '8' অক্ষরের মতো এই নৃত্য করে তারা খাদ্যের দূরত্ব ও সূর্যের সাপেক্ষে উৎসের দিক নির্দেশ করে।
শিম্পাঞ্জির আচরণ: শিম্পাঞ্জিরা পরজীবী বা কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হলে বুনো ভেষজ উদ্ভিদ (যেমন—অ্যাসপিলিয়া) খুঁজে বের করে তা ভক্ষণ করে, যা তাদের দেহ থেকে পরজীবী দূর করতে সাহায্য করে।
💡২৩.প্রদত্ত বিষয়গুলির সাপেক্ষে ল্যামার্কবাদ এবং ডারউইনবাদের মধ্যে পার্থক্য লেখো — পরিবেশের প্রভাব, নিষ্ক্রিয় অঙ্গ, জীব নির্বাচন। মানবদেহের পৌষ্টিকতন্ত্র এবং কঙ্কালতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত দুটি করে নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর:
| পার্থক্যের বিষয় | ল্যামার্কবাদ | ডারউইনবাদ |
|---|---|---|
| পরিবেশের প্রভাব | পরিবেশ সরাসরি জীবের গঠন পরিবর্তন করে। | পরিবেশ কেবল যোগ্যতম জীবকে নির্বাচন করে। |
| নিষ্ক্রিয় অঙ্গ | অঙ্গের অব্যবহারের ফলে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ সৃষ্টি হয়। | নিষ্ক্রিয় অঙ্গের বিবর্তন নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। |
| জীব নির্বাচন | জীব নিজের প্রচেষ্টায় নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। | প্রকৃতি অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীবকে নির্বাচন করে। |
নিষ্ক্রিয় অঙ্গের উদাহরণ:
পৌষ্টিকতন্ত্রের সাথে যুক্ত: কৃমিরূপী অ্যাপেনডিক্স।
কঙ্কালতন্ত্রের সাথে যুক্ত: মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত কক্সিস।
💡 ২৪. সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের ক্ষেত্রে নিষেকের পূর্ববর্তী এবং নিষেক পরবর্তী ঘটনাগুলি শব্দচিত্রের মাধ্যমে দেখাও। ইতর পরাগযোগের একটি সুবিধা ও একটি অসুবিধা লেখো।
✔️ উত্তর:
যৌন জননের শব্দচিত্র:
পরাগরেণু
গঠন → পরাগযোগ (গর্ভমুণ্ডে স্থাপন) → পরাগনালিকা গঠন → পুংগ্যামেট ও
ডিম্বাণুর মিলন (নিষেক) → জাইগোট → ভ্রূণ → বীজ → নতুন উদ্ভিদ।
ইতর পরাগযোগ:
সুবিধা: এর ফলে নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয় এবং প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
অসুবিধা: এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদকে বাহকের (যেমন—পতঙ্গ, বাতাস) ওপর নির্ভর করতে হয়, ফলে পরাগযোগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
💡২৫.বৃদ্ধি ও বিকাশের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করো। নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর ভিত্তি করে যৌন জনন ও অযৌন জননের পার্থক্য লেখো — (ক) প্রকরণ, (খ) গ্যামেট, (গ) কোষ বিভাজন।
✔️ উত্তর:
বৃদ্ধি ও বিকাশের সম্পর্ক: বৃদ্ধি হলো জীবদেহের শুষ্ক ওজন বা আয়তনের স্থায়ী পরিবর্তন, আর বিকাশ হলো জাইগোট থেকে পূর্ণাঙ্গ জীবে রূপান্তরের সামগ্রিক প্রক্রিয়া। বৃদ্ধি ছাড়া বিকাশ সম্ভব নয়, কারণ কোষ বিভাজন ও বৃদ্ধির মাধ্যমেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত ও বিকশিত হয়।
যৌন ও অযৌন জননের পার্থক্য:
| পার্থক্যের বিষয় | অযৌন জনন | যৌন জনন |
|---|---|---|
| (ক) প্রকরণ | নতুন প্রকরণ বা পরিব্যক্তি সৃষ্টি হয় না। | opত্য জীবে নতুন প্রকরণ বা বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটে। |
| (খ) গ্যামেট | গ্যামেট উৎপাদনের প্রয়োজন হয় না। | পুং ও স্ত্রী গ্যামেট উৎপাদন ও মিলন আবশ্যক। |
| (গ) কোষ বিভাজন | কেবল মাইটোসিস পদ্ধতিতে ঘটে। | গ্যামেট তৈরিতে মায়োসিস ও জাইগোট থেকে ভ্রূণ তৈরিতে মাইটোসিস ঘটে। |
💡 ২৬. একটি বিশুদ্ধ হলুদ গোল বীজযুক্ত মটর গাছের (YYRR) সঙ্গে একটি বিশুদ্ধ সবুজ কুঞ্চিত বীজযুক্ত মটর গাছের (yyrr) সংকরায়ণের ফলাফল চেকারবোর্ডের সাহায্যে দেখাও। এই ফলাফল থেকে প্রাপ্ত মেন্ডেলের সূত্রটি লেখো।
✔️ উত্তর:
সংকরায়ণ: বিশুদ্ধ হলুদ গোল (YYRR) ও বিশুদ্ধ সবুজ কুঞ্চিত (yyrr) উদ্ভিদের ক্রসে $F_1$ জনুতে সব হলুদ গোল (YyRr) উদ্ভিদ পাওয়া যায়। এদের স্ব-পরাগযোগ ঘটালে $F_2$ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত হয় ৯:৩:৩:১।
মেন্ডেলের সূত্র: এই পরীক্ষা থেকে মেন্ডেল তাঁর দ্বিতীয় সূত্র বা 'স্বাধীন বিন্যাস সূত্র' (Law of Independent Assortment) প্রদান করেন। সূত্রানুসারে, দুই বা ততোধিক বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য গ্যামেট গঠনকালে কেবল পৃথকই হয় না, বরং তারা স্বাধীনভাবে যেকোনো বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বিন্যস্ত হতে পারে।
💡২৭.থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গগুলি লেখো। একজন বর্ণান্ধ বাহক মহিলা, একজন বর্ণান্ধ পুরুষকে বিবাহ করল। তাদের একটি কন্যাসন্তান হল। এই কন্যাসন্তানটির বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, তা বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
থ্যালাসেমিয়ার উপসর্গ:
১. রক্তে হিমোগ্লোবিনের অভাবে তীব্র রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়।
২. অতিরিক্ত লৌহ সঞ্চয়ের ফলে প্লীহা ও যকৃতের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে (Splenomegaly)।
বর্ণান্ধতার সম্ভাবনা:
বাহক মাতা ($X^CX$) ও বর্ণান্ধ পিতার ($X^CY$) মিলনে কন্যাসন্তানদের মধ্যে ৫০% বর্ণান্ধ ($X^CX^C$) এবং ৫০% বাহক ($X^CX$) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অর্থাৎ কন্যাসন্তানটির বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ৫০ শতাংশ।
💡 ২৮. সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গের বিবর্তনগত তাৎপর্য উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো। ‘হট ডাইলুট স্যুপ’ কী?
✔️ উত্তর:
বিবর্তনগত তাৎপর্য:
সমসংস্থ অঙ্গ: পাখির ডানা ও মানুষের হাত উৎপত্তিগতভাবে এক হলেও কাজের জন্য আলাদা। এটি অপসারী বিবর্তন নির্দেশ করে এবং প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে।
সমবৃত্তীয় অঙ্গ: পতঙ্গের ডানা ও পাখির ডানা গঠনগতভাবে আলাদা কিন্তু কাজ এক। এটি অভিসারী বিবর্তন নির্দেশ করে এবং প্রমাণ করে যে ভিন্ন প্রজাতির জীব একই প্রয়োজনে একইভাবে অভিযোজিত হতে পারে।
হট ডাইলুট স্যুপ: বিজ্ঞানী হ্যালডেনের মতে, আদিম সমুদ্রের উত্তপ্ত জলে অ্যামাইনো অ্যাসিড, শর্করা ও অন্যান্য জৈব যৌগ মিশে যে পুষ্টিসমৃদ্ধ ঘন মিশ্রণ তৈরি হয়েছিল, তাকেই 'হট ডাইলুট স্যুপ' বলা হয়।
💡২৯.মরুভূমির পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য উটের দেহের পরিবর্তনগুলি আলোচনা করো।
✔️ উত্তর:
উটের মরু অভিযোজনের জন্য প্রধান পরিবর্তনগুলি হলো:
১. কুঁজ: উটের কুঁজে চর্বি সঞ্চিত থাকে, যা জারিত হয়ে শক্তির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ করে।
২. নিঃশ্বাস ও মূত্র: জল বাঁচাতে উট অত্যন্ত ঘন মূত্র ত্যাগ করে এবং নিঃশ্বাসের মাধ্যমে জলীয় বাষ্প ত্যাগ করার আগে তা নাসিকা পথে শোষণ করে নেয়।
৩. RBC-এর গঠন: উটের লোহিত রক্তকণিকা ডিম্বাকার, যা জলের অভাব ঘটলেও ঘন রক্তের মধ্য দিয়ে সহজে প্রবাহিত হতে পারে।
৪. ত্বক ও ঘাম: উটের ত্বক পুরু এবং এরা খুব কম ঘাম ত্যাগ করে, ফলে দেহ থেকে জলের অপচয় কম হয়।
💡 ৩০. জনুক্রম কী? ফার্নের জনুক্রমটি একটি শব্দচিত্রের মাধ্যমে দেখাও।
✔️ উত্তর:
জনুক্রম: কোনো জীবের জীবনচক্রে রেণুধর জনু (2n) এবং লিঙ্গধর জনুর (n) পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে।
ফার্নের জনুক্রম (শব্দচিত্র):
রেণুধর দেহ (2n) → রেণু মাতৃকোষ (2n) → মায়োসিস → রেণু (n) → লিঙ্গধর দেহ বা প্রোথ্যালাস (n) → পুংধানী ও স্ত্রীধানী → শুক্রাণু ও ডিম্বাণু (n) → নিষেক → জাইগোট (2n) → রেণুধর দেহ (2n)।
💡৩১.সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেকের একটি চিত্র অঙ্কন করে প্রদত্ত অংশগুলি চিহ্নিত করো — (ক) ডিম্বাণু, (খ) পরাগনালি, (গ) নির্ণীত নিউক্লিয়াস, (ঘ) প্রতিপাদ কোশসমষ্টি।
✔️ উত্তর:
(এখানে চিত্র অঙ্কন সম্ভব নয়, তবে চিহ্নিতকরণের সুবিধার্থে বর্ণনা দেওয়া হলো):
নিষেকের সময় পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হলে তা থেকে পরাগনালি তৈরি হয় যা ডিম্বাশয়ের দিকে অগ্রসর হয়। ভ্রূণস্থলীর ভেতরের আটটি নিউক্লিয়াসের মধ্যে বিপরীত মেরুতে থাকা তিনটি নিউক্লিয়াসকে প্রতিপাদ কোশসমষ্টি বলে। মাঝখানে দুটি নিউক্লিয়াস মিলে নির্ণীত নিউক্লিয়াস (2n) গঠন করে এবং ডিম্বাণু যন্ত্রের মাঝের বড় কোষটি হলো ডিম্বাণু।
💡 ৩২. লিঙ্গ নির্ধারণ কাকে বলে? মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতিটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
✔️ উত্তর:
লিঙ্গ নির্ধারণ: যে প্রক্রিয়ায় কোনো ভ্রূণ বা নবজাতক জীবের লিঙ্গ (পুরুষ বা স্ত্রী) নির্ধারিত হয়, তাকে লিঙ্গ নির্ধারণ বলে।
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি:
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ মূলত পিতার ওপর নির্ভর করে। নারীরা হোমোগ্যামেটিক (XX) হওয়ায় তারা কেবল এক প্রকার (X-যুক্ত) ডিম্বাণু তৈরি করে। পুরুষেরা হেটেরোগ্যামেটিক (XY) হওয়ায় তারা X এবং Y—এই দুই প্রকার শুক্রাণু তৈরি করে। যদি পিতার X-যুক্ত শুক্রাণু মাতার ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে, তবে কন্যাসন্তান (XX) জন্মায়। আর যদি পিতার Y-যুক্ত শুক্রাণু মাতার ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়, তবে পুত্রসন্তান (XY) জন্মায়।
💡৩৩.হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত কোনো একটি ছেলের পিতা হিমোফিলিক এবং ছেলেটির বোন স্বাভাবিক হলে, ওই পরিবারের চারজনের জিনোটাইপ চেকারবোর্ডের সাহায্যে নির্ণয় করো। হাইড্রোস ফাস (হাইড্রোপস) ফিটালিস কী?
✔️ উত্তর:
জিনোটাইপ নির্ণয়:
যেহেতু ছেলেটির বোন স্বাভাবিক, তাই মাতা অবশ্যই স্বাভাবিক বা বাহক হবেন। যদি ছেলেটি আক্রান্ত ($X^hY$) হয় এবং পিতা আক্রান্ত ($X^hY$) হন, তবে মাতা অবশ্যই বাহক ($X^HX^h$) হতে হবে যাতে স্বাভাবিক বোন ($X^HX^h$ বা $X^HX^H$) জন্মানো সম্ভব হয়।
পিতা: $X^hY$ (আক্রান্ত)
মাতা: $X^HX^h$ (বাহক)
ছেলে: $X^hY$ (আক্রান্ত)
বোন: $X^HX^h$ (বাহক) বা $X^HX^H$ (স্বাভাবিক)।
হাইড্রোপস ফিটালিস: এটি $\alpha$-থ্যালাসেমিয়া মেজরের একটি চরম অবস্থা যেখানে অত্যধিক রক্তাল্পতার কারণে ভ্রূণ গর্ভাবস্থায় বা জন্মের কিছু পরেই মারা যায়।
💡 ৩৪. সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ কাকে বলে? অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম কেন হয়, ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
সমসংস্থ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ:
সমসংস্থ অঙ্গ: যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও অভ্যন্তরীণ গঠন এক কিন্তু কাজ আলাদা, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে (যেমন- মানুষের হাত ও পাখির ডানা)।
সমবৃত্তীয় অঙ্গ: যেসব অঙ্গের উৎপত্তি ও গঠন আলাদা কিন্তু কাজ একই হওয়ার কারণে বাইরে থেকে দেখতে সদৃশ হয়, তাদের সমবৃত্তীয় অঙ্গ বলে (যেমন- পতঙ্গ ও পাখির ডানা)।
অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামের কারণ: ডারউইনের মতে, জীব জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধি করলেও প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত। ফলে নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য জীবদের মধ্যে পরস্পরের সাথে এবং পরিবেশের সাথে তীব্র প্রতিযোগিতা বা লড়াই শুরু হয়, একেই অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম বলে।
💡৩৫.রাসায়নিক বিবর্তনের সমর্থনে উরে ও মিলারের পরীক্ষাটি বর্ণনা করো।
✔️ উত্তর:
বিজ্ঞানী মিলার ও উরে ল্যাবরেটরিতে আদিম পৃথিবীর পরিবেশ কৃত্রিমভাবে তৈরি করেন। তারা একটি কাচের ফ্লাস্কে মিথেন ($CH_4$), অ্যামোনিয়া ($NH_3$) এবং হাইড্রোজেন ($H_2$) গ্যাসকে ২:২:১ অনুপাতে নেন এবং তাতে টাংস্টেন ইলেকট্রোডের মাধ্যমে উচ্চ ভোল্টের বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ সরবরাহ করেন। এক সপ্তাহ পর প্রাপ্ত ঘনীভূত জলীয় মিশ্রণ পরীক্ষা করে তারা গ্লাইসিন, অ্যালানিন ও গ্লুটামিক অ্যাসিডের মতো বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিডের উপস্থিতি দেখতে পান। এই পরীক্ষাটি প্রমাণ করে যে রাসায়নিক বিবর্তনের মাধ্যমে অজৈব পদার্থ থেকে জীবনের মূল উপাদান জৈব যৌগসমূহ সৃষ্টি হওয়া সম্ভব।
💡 ৩৬. কনজুগেশন ও সিনগ্যামি-এর মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো। পাইন গাছের জীবনচক্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর:
কনজুগেশন ও সিনগ্যামি:
| পার্থক্যের বিষয় | কনজুগেশন (সংশ্লেষ) | সিনগ্যামি (নিষেক) |
|---|---|---|
| পদ্ধতি | দুটি অস্থায়ীভাবে মিলিত জনন কোশের নিউক্লিয়াসের মিলন। | স্থায়ীভাবে দুটি ভিন্ন ধর্মী গ্যামেটের মিলন। |
| গ্যামেট | এখানে আলাদা কোনো গ্যামেট তৈরি হয় না। | পুং ও স্ত্রী গ্যামেট নির্দিষ্টভাবে তৈরি হয়। |
| উদাহরণ | স্পাইরোগাইরা। | sপুষ্পক উদ্ভিদ, মানুষ। |
পাইনের জীবনচক্র: এটি একটি ব্যক্তজীবী উদ্ভিদ। এর জীবনচক্রে রেণুধর দশা প্রধান। এর পর্যায়গুলি হলো— রেণু উৎপাদন, পরাগযোগ এবং বীজের মাধ্যমে নতুন রেণুধর দেহ গঠন।
💡৩৭.স্বপরাগযোগের তুলনায় ইতর পরাগযোগ উন্নত কেন? জবা ফুলের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
ইতর পরাগযোগ উন্নত হওয়ার কারণ:
১. এই পদ্ধতিতে নতুন ও উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।
২. অপত্য উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি থাকে।
৩. বীজের অঙ্কুরোদগম হার বেশি এবং অপত্যরা অধিক সজীব হয়।
জবা ফুলের বৈশিষ্ট্য: এটি একটি সম্পূর্ণ ও উভলিঙ্গ ফুল। এর বৃতি, দলমণ্ডল, পুংকেশর ও গর্ভকেশর— চারটি স্তবকই বর্তমান। এটি সাধারণত পতঙ্গপরাগী।
💡 ৩৮. মেন্ডেলের পৃথকীভবন সূত্রটি বিবৃত করো। বিশুদ্ধ গোল হলুদ এবং কুঞ্চিত সবুজ মটর বীজের সংকরায়ণ পরীক্ষার ফলে $F_2$ জনুতে উৎপন্ন অপত্য উদ্ভিদের ফিনোটাইপিক অনুপাত একটি চেকারবোর্ডের সাহায্যে দেখাও।
✔️ উত্তর:
পৃথকীভবন সূত্র: কোনো জীবের এক জোড়া বিপরীত বৈশিষ্ট্য জনিতৃ জনু থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হওয়ার সময় বৈশিষ্ট্যগুলি মিশ্রিত হয় না, বরং গ্যামেট গঠনকালে বৈশিষ্ট্যগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায়।
চেকারবোর্ড ($F_2$ জনু): বিশুদ্ধ গোল হলুদ (YYRR) ও কুঞ্চিত সবুজ (yyrr)-এর মিলনে $F_1$-এ সব গোল হলুদ (YyRr) হয়। $F_2$ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত হলো ৯:৩:৩:১। (৯টি গোল হলুদ, ৩টি গোল সবুজ, ৩টি কুঞ্চিত হলুদ ও ১টি কুঞ্চিত সবুজ)।
💡 ৩৯. যোগ্যতমের উদ্বর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন বলতে কী বোঝো? রুই মাছের অভিযোজনে পটকার ভূমিকা লেখো।
✔️ উত্তর:
যোগ্যতমের উদ্বর্তন: জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়ার জন্য অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীবেরা প্রকৃতিতে টিকে থাকে, একেই যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলে।
প্রাকৃতিক নির্বাচন: যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতি অনুকূল প্রকরণযুক্ত জীবকে বেছে নেয় এবং তারা বংশবৃদ্ধির সুযোগ পায়, তাকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।
পটকার ভূমিকা: রুই মাছের পটকা একটি হাইড্রোস্ট্যাটিক অঙ্গ। এর অগ্র প্রকোষ্ঠে রেড গ্রন্থি গ্যাস উৎপন্ন করে মাছকে জলে ভাসতে সাহায্য করে এবং পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠের রেটিয়া মিরাবিলিয়া গ্যাস শোষণ করে মাছকে জলে ডুবে যেতে সাহায্য করে।
💡 ৪০. স্বপরাগযোগ ও ইতর পরাগযোগের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো। মানব বিকাশের বয়ঃসন্ধি দশার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
✔️ উত্তর:
পরাগযোগের পার্থক্য:
স্বপরাগযোগ: একই ফুলের মধ্যে বা একই গাছের দুটি ফুলের মধ্যে ঘটে। বাহকের প্রয়োজন হয় না।
ইতর পরাগযোগ: একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে ঘটে। বাহকের (পতঙ্গ, বায়ু) উপস্থিতি আবশ্যক।
বয়ঃসন্ধি দশার বৈশিষ্ট্য:
১. এই সময়ে গৌণ যৌন লক্ষণগুলির প্রকাশ ঘটে এবং দ্রুত উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি পায়।
২. অস্থির বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং প্রজনন অঙ্গগুলি সক্রিয় হতে শুরু করে।
৩. মানসিক পরিবর্তন ঘটে এবং আবেগপ্রবণতা ও বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।
💡 ৪১. একসংকর জনন কাকে বলে? মেন্ডেলের একসংকর জনন পরীক্ষাটি একটি চেকারবোর্ডের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
একসংকর জনন: এক জোড়া বিপরীতধর্মী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানোকে একসংকর জনন বলে।
মেন্ডেলের পরীক্ষা: বিশুদ্ধ লম্বা (TT) ও বিশুদ্ধ বেঁটে (tt) মটর গাছের সংকরায়ণে $F_1$ জনুতে সব সংকর লম্বা (Tt) উদ্ভিদ পাওয়া যায়। $F_1$ জনুর স্বপরাগযোগ ঘটালে $F_2$ জনুতে ৩:১ অনুপাতে লম্বা ও বেঁটে গাছ পাওয়া যায়।
💡 ৪২. ঘোড়ার আদি পূর্বপুরুষ থেকে আধুনিক ঘোড়ার বিবর্তনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য লেখো। ডারউইন ‘যোগ্যতমের উদ্বর্তন’ ও ‘প্রাকৃতিক নির্বাচন’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
ঘোড়ার বিবর্তনের বৈশিষ্ট্য:
১. দেহের সামগ্রিক উচ্চতা ও আকার বৃদ্ধি।
২. পায়ের আঙুলের সংখ্যা হ্রাস এবং মধ্যের আঙুলটি শক্তিশালী খুরে রূপান্তর।
৩. অগ্রপদ ও পশ্চাৎপদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি।
৪. ঘাস চিবানোর জন্য পেষক দাঁতের উপরিভাগের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি।
ডারউইনীয় তত্ত্ব: ডারউইনের মতে, পৃথিবীতে প্রতিটি জীব অস্তিত্বের জন্য সংগ্রামে লিপ্ত। এই সংগ্রামে যাদের মধ্যে অনুকূল প্রকরণ থাকে, তারা প্রকৃতিতে টিকে থাকার সুযোগ পায় (যোগ্যতমের উদ্বর্তন) এবং প্রকৃতি তাদেরই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নির্বাচিত করে (প্রাকৃতিক নির্বাচন)।
💡 ৪৩. সপুষ্পক উদ্ভিদের নিষেধ প্রক্রিয়ার ধাপগুলি রেখাচিত্রের মাধ্যমে দেখাও। কোনো উদ্ভিদের ক্রোমোজোম সংখ্যা 14 হলে, ওই উদ্ভিদের রেণু মাতৃকোষ ও শস্য নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে?
✔️ উত্তর:
নিষেধ প্রক্রিয়ার ধাপ (রেখাচিত্র):
পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরণ → পরাগরেণুর অঙ্কুরোদগম ও পরাগনালিকা গঠন → পরাগনালিকার ডিম্বাশয়ের দিকে অগ্রসর হওয়া → পরাগনালিকার মধ্যে দুটি পুং-গ্যামেট গঠন → ভ্রূণস্থলীর নিউক্লিয়াসগুলির সঙ্গে পুং-গ্যামেটের মিলন (দ্বিনিষেক)।
ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্ণয়:
উদ্ভিদটির দেহকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা ($2n$) = 14।
রেণু মাতৃকোষ: এটি একটি ডিপ্লয়েড ($2n$) কোষ, তাই এর ক্রোমোজোম সংখ্যা হবে 14।
শস্য নিউক্লিয়াস: এটি একটি ট্রিপ্লয়েড ($3n$) গঠন। যেহেতু $n = 7$, তাই শস্য নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোম সংখ্যা হবে 21।
💡৪৪.স্বপরাগযোগ অপেক্ষা ইতর পরাগযোগ উন্নত কেন? জলপরাগী ফুলের তিনটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
ইতর পরাগযোগের শ্রেষ্ঠত্ব: ইতর পরাগযোগের ফলে অপত্য উদ্ভিদে নতুন প্রকরণ বা বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, যা উদ্ভিদকে প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে। এছাড়া এর ফলে উৎপন্ন বীজ অধিক সজীব ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন হয়।
জলপরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য:
১. ফুলগুলি সাধারণত ক্ষুদ্র, হালকা ও আকর্ষণহীন হয়।
২. পরাগরেণুগুলি ওজনে হালকা হয় এবং জলে ভেজে না (মোমের প্রলেপ থাকে)।
৩. স্ত্রী ফুলগুলির বৃন্ত লম্বা হয় যাতে তারা জলের উপরিভাগে ভাসতে পারে।
💡 ৪৫. গোল (RR) ও কুঞ্চিত (rr) বীজযুক্ত মটর গাছের মধ্যে সংকরায়ণের ফলে উৎপন্ন অপত্যগুলির ফিনোটাইপিক ও জিনোটাইপিক অনুপাত চেকারবোর্ডের মাধ্যমে দেখাও। ‘অসম্পূর্ণ প্রকটতা’ বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
সংকরায়ণ ($F_2$ জনু):
বিশুদ্ধ গোল (RR) ও কুঞ্চিত (rr) গাছের মিলনে $F_1$ জনুতে সব গোল (Rr) গাছ হয়। $F_2$ জনুর অনুপাত হলো:
ফিনোটাইপিক অনুপাত: ৩:১ (৩টি গোল ও ১টি কুঞ্চিত)।
জিনোটাইপিক অনুপাত: ১:২:১ (১টি বিশুদ্ধ গোল RR, ২টি সংকর গোল Rr এবং ১টি বিশুদ্ধ কুঞ্চিত rr)।
অসম্পূর্ণ প্রকটতা: যখন কোনো সংকর জীবে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন উভয় অ্যালিলের কোনোটিই সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ না পেয়ে একটি অন্তর্বর্তী বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি করে, তখন তাকে অসম্পূর্ণ প্রকটতা বলে (যেমন—সন্ধ্যামালতী ফুলের লাল ও সাদার বদলে গোলাপি রঙ)।
💡৪৫.থ্যালাসেমিয়া রোগ কোন দুটি ক্রোমোজোমের ত্রুটির কারণে হয়? ‘সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে বাবার গুরুত্ব অপরিসীম’—বিবৃতিটির সত্যতা একটি ক্রসের সাহায্যে স্থাপন করো।
✔️ উত্তর:
থ্যালাসেমিয়ার ক্রোমোজোম: থ্যালাসেমিয়া রোগটি প্রধানত ১৬ নং ($\alpha$-থ্যালাসেমিয়া) এবং ১১ নং ($\beta$-থ্যালাসেমিয়া) অটোজোমের ত্রুটির কারণে ঘটে।
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ:
মাতা কেবল X-যুক্ত ডিম্বাণু তৈরি করেন। কিন্তু পিতা দুই প্রকার শুক্রাণু (X ও Y) তৈরি করেন। যদি পিতার X-যুক্ত শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে তবে কন্যা (XX) এবং যদি Y-যুক্ত শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে তবে পুত্র (XY) সন্তান জন্মায়। অর্থাৎ সন্তানের লিঙ্গ সম্পূর্ণভাবে পিতার প্রদত্ত ক্রোমোজোমের ওপর নির্ভর করে।
💡 ৪৬. বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর তুলনামূলক অঙ্গসংস্থান কীভাবে অভিব্যক্তির মতবাদের সাপেক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করে, তা চিত্রসহ বর্ণনা করো।
✔️ উত্তর:
বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর অগ্রপদের (যেমন—মানুষের হাত, তিমির ফ্লিপার, পাখির ডানা) অভ্যন্তরীণ অস্থি বিন্যাস পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে, তাদের গঠন একই প্রকারের। তারা সবাই হিউমেরাস, রেডিয়াস-আলনা, কারপাল ও মেটাকারপাল দিয়ে গঠিত। যদিও কাজের প্রয়োজনে বাইরে থেকে দেখতে এরা আলাদা। এই সমসংস্থ অঙ্গগুলি প্রমাণ করে যে, এই সমস্ত প্রাণী বিবর্তনের ধারায় কোনো এক সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। এটি অপসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে।
💡৪৭.প্রদত্ত অঙ্গগুলির অভিযোজনগত গুরুত্ব লেখো — (ক) মাছের পটকা, (খ) পায়রার বায়ুথলি, (গ) ফণীমনসার কণ্টক। শিম্পাঞ্জির দুটি আচরণগত অভিযোজন লেখো।
✔️ উত্তর:
অভিযোজনগত গুরুত্ব:
(ক) মাছের পটকা: এটি মাছের প্লবতা রক্ষা করে মাছকে জলের বিভিন্ন স্তরে ভেসে থাকতে বা ডুবে যেতে সাহায্য করে।
(খ) পায়রার বায়ুথলি: উড্ডয়নকালে পায়রাকে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে (দ্বিশ্বসন) এবং শরীরের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে উড়তে সাহায্য করে।
(গ) ফণীমনসার কণ্টক: মরু অঞ্চলে বাষ্পমোচন রোধ করে দেহের জল বাঁচাতে পাতাগুলি কাঁটায় রূপান্তরিত হয়েছে।
শিম্পাঞ্জির আচরণগত অভিযোজন:
১. এরা কাঠি ব্যবহার করে উইঢিবি থেকে উইপোকা সংগ্রহ করে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
২. শক্ত বাদামের খোলস ভাঙার জন্য তারা পাথরের টুকরোকে হাতুড়ি বা নেহাই হিসেবে ব্যবহার করে।
💡 ৪৮. ভ্রূণ সৃষ্টি ও নতুন উদ্ভিদ গঠনসহ সপুষ্পক উদ্ভিদের দ্বিনিষেক পদ্ধতি চিত্রসহ বর্ণনা করো।
✔️ উত্তর:
দ্বিনিষেক পদ্ধতি: সপুষ্পক উদ্ভিদের পরাগনালিকা থেকে দুটি পুং-গ্যামেট ভ্রূণস্থলীর ভেতরে মুক্ত হয়। এর মধ্যে একটি পুং-গ্যামেট ডিম্বাণুকে (n) নিষিক্ত করে জাইগোট (2n) গঠন করে, যা থেকে পরে ভ্রূণ তৈরি হয়। অন্য পুং-গ্যামেটটি নির্ণীত নিউক্লিয়াসের (2n) সঙ্গে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড শস্য নিউক্লিয়াস (3n) গঠন করে। একই ভ্রূণস্থলীতে দুবার নিষেক ঘটার এই প্রক্রিয়াকেই দ্বিনিষেক বলে। নিষেকের পর ডিম্বকটি বীজে রূপান্তরিত হয় এবং অনুকূল পরিবেশে সেই বীজ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।
💡৪৯.জনুক্রম বলতে কী বোঝো? হাইড্রার কোরকোদগম পদ্ধতিটি চিত্রসহ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
জনুক্রম: কোনো জীবের জীবনচক্রে হ্যাপ্লয়েড বা লিঙ্গধর জনু এবং ডিপ্লয়েড বা রেণুধর জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম বলে।
হাইড্রার কোরকোদগম: এটি একটি অযৌন জনন পদ্ধতি। হাইড্রার দেহের বাইরে একটি উপবৃদ্ধি বা কোরক (Bud) সৃষ্টি হয়। এই কোরকটি ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং তাতে মুখছিদ্র ও কর্ষিকা তৈরি হয়। পূর্ণাঙ্গ রূপ পাওয়ার পর অপত্য হাইড্রাটি জনিতৃ দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকে।
💡 ৫০. মানব লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতিটি ছকের মাধ্যমে বুঝিয়ে লেখো। ইমাসকুলেশন কী? এর গুরুত্ব লেখো।
✔️ উত্তর:
লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি: পুরুষরা হেটেরোগ্যামেটিক (XY) হওয়ায় দুই প্রকার শুক্রাণু (X ও Y) তৈরি করে এবং মহিলারা হোমোগ্যামেটিক (XX) হওয়ায় কেবল এক প্রকার (X) ডিম্বাণু তৈরি করে। পিতার X-যুক্ত শুক্রাণু মাতার ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হলে কন্যা (XX) এবং Y-যুক্ত শুক্রাণু মিলিত হলে পুত্র (XY) সন্তান জন্মায়।
ইমাসকুলেশন: কৃত্রিম পরাগযোগের উদ্দেশ্যে কোনো উভলিঙ্গ ফুল থেকে অপরিণত অবস্থায় পুংকেশরগুলি কেটে বাদ দেওয়ার পদ্ধতিকে ইমাসকুলেশন বলে।
গুরুত্ব: এর ফলে অবাঞ্ছিত স্বপরাগযোগ রোধ করা যায় এবং কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংকরায়ণ ঘটানো সম্ভব হয়।
💡৫০.কোন্ রোগকে ‘হিমোলাইটিক রক্তাল্পতা’ বলে? এই রোগ কেন হয়? অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষরাই কেন হিমোফিলিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়?
✔️ উত্তর:
হিমোলাইটিক রক্তাল্পতা: থ্যালাসেমিয়া রোগকে হিমোলাইটিক রক্তাল্পতা বলা হয়।
কারণ: হিমোগ্লোবিন তৈরির জিনের ত্রুটির কারণে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) গঠনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং দ্রুত ভেঙে যায়, যার ফলে রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
পুরুষদের হিমোফিলিয়া: হিমোফিলিয়া একটি X-ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন রোগ। পুরুষদের একটিমাত্র X-ক্রোমোজোম থাকায় তাতে ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকলে রোগটি প্রকাশ পায়। মহিলাদের দুটি X-ক্রোমোজোম থাকায় একটিতে ত্রুটি থাকলেও অন্য স্বাভাবিক জিনের প্রভাবে রোগটি চাপা থাকে (বাহক হয়), তাই পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি।
💡 ৫১. সমসংস্থ অঙ্গ ও সমবৃত্তীয় অঙ্গ কীভাবে অভিব্যক্তির স্বপক্ষে প্রমাণ বহন করে, তা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো। বায়োজেনেটিক সূত্র বলতে কী বোঝো?
✔️ উত্তর:
অভিব্যক্তির প্রমাণ:
সমসংস্থ অঙ্গ: মানুষের হাত ও পাখির ডানার অভ্যন্তরীণ গঠন এক হলেও কাজ আলাদা। এটি প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে (অপসারী বিবর্তন)।
সমবৃত্তীয় অঙ্গ: পতঙ্গ ও পাখির ডানার গঠন আলাদা কিন্তু কাজ এক। এটি প্রমাণ করে যে ভিন্ন প্রজাতির জীব একই প্রয়োজনে একইভাবে অভিযোজিত হতে পারে (অভিসারী বিবর্তন)।
বায়োজেনেটিক সূত্র: বিজ্ঞানী আর্নেস্ট হেকেলের এই সূত্রানুসারে, কোনো জীবের ভ্রূণের পরিস্ফুটন বা বিকাশের পর্যায়গুলি (Ontogeny) তার পূর্বপুরুষদের বিবর্তনের পর্যায়গুলিকে (Phylogeny) পুনরাবৃত্তি করে।
💡৫২.বাতাসে ওড়ার জন্য পায়রার বায়ুথলি যে যে ভূমিকা পালন করে, তা লেখো। সুন্দরীগাছের লবণাক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য দুটি অভিযোজনগত বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর:
পায়রার বায়ুথলির ভূমিকা:
১. উড্ডয়নকালে পায়রাকে অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে নিরবিচ্ছিন্ন দ্বিশ্বসন ঘটায়।
২. এটি দেহের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে শরীরকে হালকা করে ও উড়তে সাহায্য করে।
৩. বায়ুথলি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং দেহকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।
সুন্দরীগাছের অভিযোজন:
১. অতিরিক্ত লবণ দেহ থেকে বর্জন করার জন্য পাতায় বিশেষ লবণ গ্রন্থি থাকে।
২. মাটিতে অক্সিজেনের অভাব মেটানোর জন্য এদের শ্বাসমূল (Pneumatophore) মাটি ভেদ করে ওপরে উঠে আসে।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

