✍️বিকল্পধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
💡 ১. ইন্দ্রজিতের কাছে ধাত্রীর ছদ্মবেশে এসেছিলেন —
(ক) লক্ষ্মী, (খ) দুর্গা, (গ) চণ্ডী, (ঘ) মন্দোদরী।
✔️ উত্তর: (ক) লক্ষ্মী।
💡 ২. “বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।” — ‘বুড়োমানুষ’-টি হলেন —
(ক) জগদীশবাবু, (খ) অপূর্ব, (গ) গিরীশ মহাপাত্র, (ঘ) নিমাইবাবু।
✔️ উত্তর: (ঘ) নিমাইবাবু।
💡 ৩. জগদীশবাবুর বাড়িতে সন্ন্যাসী কতদিন ছিলেন? —
(ক) পাঁচদিন, (খ) সাতদিন, (গ) নয়দিন, (ঘ) ছয়দিন।
✔️ উত্তর: (খ) সাতদিন।
💡 ৪. ‘যুগান্তর’-এর ব্যাসবাক্য হল —
(ক) যুগের অন্তর, (খ) যুগ ও অন্তর, (গ) যুগ যে অন্তর, (ঘ) অন্য যুগ।
✔️ উত্তর: (ঘ) অন্য যুগ।
💡 ৫. ‘ব্রীহি’ শব্দের অর্থ —
(ক) বীথি, (খ) গম, (গ) চাল, (ঘ) ধান।
✔️ উত্তর: (ঘ) ধান।
💡 ৬. “খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো।” — একথা বলেছে —
(ক) ভবতোষ, (খ) অনাদি, (গ) কাশীনাথ, (ঘ) জনৈক বাসযাত্রী।
✔️ উত্তর: (গ) কাশীনাথ।
💡 ৭. ‘ছদ্মবেশী অম্বুরাশি-সুতা (উত্তরিলা) ;’ — ‘অম্বুরাশি-সুতা’ বলতে বোঝানো হয়েছে —
(ক) দেবী দুর্গাকে, (খ) দেবী লক্ষ্মীকে, (গ) ধাত্রী প্রভাষাকে, (ঘ) মন্দোদরীকে।
✔️ উত্তর: (খ) দেবী লক্ষ্মীকে।
💡 ৮. “রাতের মেল ট্রেনটার প্রতি একটু দৃষ্টি রেখো, সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য।” — বক্তা —
(ক) জগদীশবাবু, (খ) নিমাইবাবু, (গ) রামদাস তলোয়ারকর, (ঘ) অপূর্ব।
✔️ উত্তর: (খ) নিমাইবাবু।
💡 ৯. জায়া ও পতি = দম্পতি। — এটি যে সমাসের উদাহরণ —
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস, (খ) তৎপুরুষ সমাস, (গ) কর্মধারয় সমাস, (ঘ) বহুব্রীহি সমাস।
✔️ উত্তর: (ক) দ্বন্দ্ব সমাস।
💡 ১০. উপপদ বলতে বোঝায় —
(ক) কৃদন্ত পদের পরবর্তী পদকে, (খ) তদ্ধিতান্ত পদকে, (গ) কৃদন্ত পদের পূর্বস্থিত পদকে, (ঘ) কৃদন্ত পদের সঙ্গে উপসর্গ যোগ হলে।
✔️ উত্তর: (গ) কৃদন্ত পদের পূর্বস্থিত পদকে।
💡 ১১. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাগ থেকে গণ্ডা-ছয়েক পয়সার সঙ্গে বেরল —
(ক) একটি টাকা, (খ) দুটি টাকা, (গ) তিনটি টাকা, (ঘ) দশটি টাকা।
✔️ উত্তর: (ক) একটি টাকা।
💡 ১২. যারা চিনতে পারে বকশিশ দেয় —
(ক) দু-চার পয়সা, (খ) আট-আনা চার-আনা, (গ) এক-আনা দু-আনা, (ঘ) দুই-এক আনা।
✔️ উত্তর: (গ) এক-আনা দু-আনা।
💡 ১৩. “হায়, দেহ তার, দেখ,” — এখানে ‘তার’ বলতে বোঝানো হয়েছে —
(ক) বীরবাহুকে, (খ) ইন্দ্রজিৎকে, (গ) চিত্রাঙ্গদাকে, (ঘ) কুম্ভকর্ণকে।
✔️ উত্তর: (ঘ) কুম্ভকর্ণকে।
💡 ১৪. সপ্তাহ — সমাসবদ্ধ পদটি যে সমাসের উদাহরণ, তা হল —
(ক) দ্বন্দ্ব সমাস, (খ) দ্বিগু সমাস, (গ) কর্মধারয় সমাস, (ঘ) তৎপুরুষ সমাস।
✔️ উত্তর: (খ) দ্বিগু সমাস।
💡 ১৫. সমস্যমান পদের পূর্বপদের অর্থ প্রাধান্য পায় —
(ক) কর্মধারয় সমাসে, (খ) তৎপুরুষ সমাসে, (গ) অব্যয়ীভাব সমাসে, (ঘ) দ্বিগু সমাসে।
✔️ উত্তর: (গ) অব্যয়ীভাব সমাসে।
💡 ১৬. “তোমরা সেখানে থেকো।” — কোথায় থাকার কথা বলা হয়েছে? —
(ক) দয়ালবাবুর বাড়িতে, (খ) জগদীশবাবুর বাড়িতে, (গ) অনাদির বাড়িতে, (ঘ) ভবতোষের বাড়িতে।
✔️ উত্তর: (খ) জগদীশবাবুর বাড়িতে।
💡 ১৭. ‘দুজন বন্ধু লোক আসার কথা ছিল,’ — কোথা থেকে? —
(ক) ভামো থেকে, (খ) বর্মা থেকে, (গ) রেঙ্গুন থেকে, (ঘ) এনানজং থেকে।
✔️ উত্তর: (ঘ) এনানজং থেকে।
💡 ১৮. ‘অভিষেক’ কবিতাটি ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এর কোন্ সর্গ থেকে নেওয়া হয়েছে? —
(ক) প্রথম সর্গ, (খ) নবম সর্গ, (গ) তৃতীয় সর্গ, (ঘ) পঞ্চম সর্গ।
✔️ উত্তর: (ক) প্রথম সর্গ।
💡 ১৯. ‘করুণ বেশে’ কে আসবে? —
(ক) সত্য, (খ) সুন্দর, (গ) চাঁদ, (ঘ) সূর্য।
✔️ উত্তর: (ঘ) সূর্য।
💡 ২০. কোন্ সমাসের পূর্বপদটি সংখ্যাবাচক বিশেষণ? —
(ক) কর্মধারয়, (খ) দ্বিগু, (গ) দ্বন্দ্ব, (ঘ) তৎপুরুষ সমাসের।
✔️ উত্তর: (খ) দ্বিগু সমাসের।
💡 ২১. “এ অদ্ভুত বারতা,” — বারতাটি ছিল —
(ক) রাবণের মৃত্যুসংবাদ, (খ) রামের মৃত্যুসংবাদ, (গ) ইন্দ্রজিতের মৃত্যুসংবাদ, (ঘ) বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ।
✔️ উত্তর: (ঘ) বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ।
💡 ২২. হরিদার মতে, সব তীর্থ —
(ক) মানুষের বুকের ভিতর, (খ) গভীর অরণ্যে, (গ) হিমালয়ের চূড়ায়, (ঘ) শূন্য আকাশে।
✔️ উত্তর: (ক) মানুষের বুকের ভিতর।
💡 ২৩. গিরীশ মহাপাত্রের পায়ে যে ফুল মোজা ছিল, তার রং —
(ক) নীল, (খ) লাল, (গ) সবুজ, (ঘ) রামধনুর মতো।
✔️ উত্তর: (গ) সবুজ।
💡 ২৪. ‘সমাস’ শব্দের অর্থ হল —
(ক) সংক্ষেপ, (খ) বিস্তার, (গ) ব্যাখ্যা, (ঘ) বিশ্লেষণ।
✔️ উত্তর: (ক) সংক্ষেপ।
💡 ২৫. ‘দশানন’ পদটি কোন্ সমাসের উদাহরণ? —
(ক) দ্বিগু, (খ) বহুব্রীহি, (গ) দ্বন্দ্ব, (ঘ) তৎপুরুষ।
✔️ উত্তর: (খ) বহুব্রীহি।
💡 ২৬. “বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখী।” — ‘বিধুমুখী’ হলেন —
(ক) পদ্মা, (খ) প্রমীলা, (গ) প্রভাষা, (ঘ) ইন্দিরা।
✔️ উত্তর: (খ) প্রমীলা।
💡 ২৭. ‘ছদ্মবেশে সেদিন হরিদার রোজগার মন্দ হয়নি’ — কীসের ছদ্মবেশের কথা বলা হয়েছে? —
(ক) বাইজির, (খ) পাগলের, (গ) পুলিশের, (ঘ) ভিখারির।
✔️ উত্তর: (ক) বাইজির।
💡 ২৮. ‘দয়ার সাগর। পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে।’ — বক্তা হলেন —
(ক) নিমাইবাবু, (খ) অপূর্ব, (গ) রামদাস, (ঘ) জগদীশবাবু।
✔️ উত্তর: (ঘ) জগদীশবাবু।
💡 ২৯. সমাসে একাধিক পদ মিলিত হয়ে যে নতুন পদটি গঠন করে, তাকে বলে —
(ক) পূর্বপদ, (খ) সমস্তপদ, (গ) সমস্যমান পদ, (ঘ) পরপদ।
✔️ উত্তর: (খ) সমস্তপদ।
💡 ৩০. ‘লোকাতিশয়’ শব্দটি যে সমাসের উদাহরণ, তা হল —
(ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়, (খ) ব্যতিহার বহুব্রীহি, (গ) রূপক কর্মধারয়, (ঘ) সাধারণ কর্মধারয়।
✔️ উত্তর: (ক) মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
💡 ৩১. বিরাগীর ঝোলার ভিতর ছিল —
(ক) গল্পের বই, (খ) জামাকাপড়, (গ) গীতা, (ঘ) কোরান।
✔️ উত্তর: (গ) গীতা।
💡 ৩২. ‘আমার অবর্তমানে সমস্ত ভারই তো তোমার,’ — উক্তিটির বক্তা হলেন —
(ক) নিমাইবাবু, (খ) অপূর্ব, (গ) রামদাস, (ঘ) অফিসের বড়োসাহেব।
✔️ উত্তর: (ঘ) অফিসের বড়োসাহেব।
💡 ৩৩. ‘তব তারে রাখে পাদাশ্রয়ে / যূথনাথ।’ — যূথনাথ পাদাশ্রয়ে রাখে —
(ক) কিঙ্করীকে, (খ) ব্রততীকে, (গ) তবু-কুলেশ্বরকে, (ঘ) কল্যাণীকে।
✔️ উত্তর: (খ) ব্রততীকে।
💡 ৩৪. সপ্ত ঋষির সমাহার = সপ্তর্ষি — সমাহার বা সমষ্টি কোন্ সমাসের বৈশিষ্ট্য? —
(ক) কর্মধারয়, (খ) তৎপুরুষ, (গ) বহুব্রীহি, (ঘ) দ্বিগু।
✔️ উত্তর: (ঘ) দ্বিগু।
💡 ৩৫. উপমেয় ও উপমানের মধ্যে অভেদ কল্পনা কোন্ সমাসের বৈশিষ্ট্য? —
(ক) রূপক কর্মধারয়, (খ) উপমান কর্মধারয়, (গ) উপমিত কর্মধারয়, (ঘ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ।
✔️ উত্তর: (ক) রূপক কর্মধারয়।
💡 ৩৬. “সে ভয়াবহ দুর্লভ জিনিস।” — ‘দুর্লভ জিনিস’-টি হল —
(ক) সন্ন্যাসীর আশীর্বাদ, (খ) সন্ন্যাসীর পদধূলি, (গ) সন্ন্যাসীর পদধূলি, (ঘ) সন্ন্যাসীর উপদেশ।
✔️ উত্তর: (গ) সন্ন্যাসীর পদধূলি।
💡 ৩৭. গিরীশ মহাপাত্রের বয়স হল অনধিক —
(ক) পঞ্চাশ-বায়ান্ন বছর, (খ) কুড়ি-পঁচিশ বছর, (গ) ত্রিশ-বত্রিশ বছর, (ঘ) ষাট-সত্তর বছর।
✔️ উত্তর: (গ) ত্রিশ-বত্রিশ বছর।
💡 ৩৮. “গহন কাননে, / _______ বাঁধিলে সাথে করি-পদ,” — শূন্যস্থান পূরণ করো —
(ক) বেড়া জালে, (খ) ব্রততী, (গ) ফাঁদ পেতে, (ঘ) সাপটি।
✔️ উত্তর: (খ) ব্রততী।
💡 ৩৯. ব্যাকরণগতভাবে ‘সমাস’ শব্দটির অর্থ —
(ক) সম্মিলন, (খ) সমাসীন, (গ) ধারণা, (ঘ) সংক্ষিপ্তকরণ।
✔️ উত্তর: (ঘ) সংক্ষিপ্তকরণ।
💡 ৪০. কর্মধারয় সমাসে প্রাধান্য থাকে —
(ক) পূর্বপদের অর্থের, (খ) পরপদের অর্থের, (গ) উভয়পদের অর্থের, (ঘ) ভিন্ন অর্থ সমস্যপদের।
✔️ উত্তর: (খ) পরপদের অর্থের।
💡 ৪১. পুলিশ সেজে হরিদা দাঁড়িয়েছিলেন —
(ক) জগদীশবাবুর বাড়িতে, (খ) চকোর বাস স্ট্যান্ডে, (গ) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে, (ঘ) চায়ের দোকানে।
✔️ উত্তর: (গ) দয়ালবাবুর লিচু বাগানে।
💡 ৪২. “এ বস্তুটি পকেটে কেন?” — ‘বস্তুটি’ কী? —
(ক) সিগারেট, (খ) গাঁজার কলকে, (গ) কাঠের পেনসিল, (ঘ) আতশকাচ।
✔️ উত্তর: (খ) গাঁজার কলকে।
💡 ৪৩. ‘অম্বুরাশি-সুতা’ হলেন —
(ক) গঙ্গা, (খ) লক্ষ্মী, (গ) দুর্গা, (ঘ) প্রমীলা।
✔️ উত্তর: (খ) লক্ষ্মী।
💡 ৪৪. দিগম্বরের জটায় হাসে —
(ক) শিশু-চাঁদের কর, (খ) সূর্য, (গ) নক্ষত্র, (ঘ) সর্বনাশা।
✔️ উত্তর: (ক) শিশু-চাঁদের কর।
💡 ৪৫. যে সমাসে সমস্যমান পদদুটির উভয়পদই বিশেষ্য এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বলে —
(ক) তৎপুরুষ সমাস, (খ) কর্মধারয় সমাস, (গ) দ্বন্দ্ব সমাস, (ঘ) অব্যয়ীভাব সমাস।
✔️ উত্তর: (খ) কর্মধারয় সমাস।
💡 ৪৬. হরিদা বাইজি সাজলে তাকে একটা সিকি দিয়েছিল —
(ক) ভবতোষ, (খ) বাসের ড্রাইভার, (গ) দোকানদার, (ঘ) বাসযাত্রী।
✔️ উত্তর: (গ) দোকানদার।
💡 ৪৭. অপূর্বর মন টিকছিল না —
(ক) বর্মায়, (খ) রেঙ্গুনে, (গ) ভামোতে, (ঘ) মিকথিলায়।
✔️ উত্তর: (খ) রেঙ্গুনে।
💡 ৪৮. ‘উন্মাদিতে / গগন, সাজিলা শূর শমীবৃক্ষমূলে।’ — এক্ষেত্রে ‘শূর’ হলেন —
(ক) রাবণ, (খ) বীরবাহুপুত্র, (গ) কার্তিকেয়, (ঘ) অর্জুন।
✔️ উত্তর: (ঘ) অর্জুন।
💡 ৪৯. ‘হাঁকে ওই’ — যিনি হাঁকছেন, তিনি —
(ক) ঝড়ের দেবতা, (খ) ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা, (গ) অগ্নির দেবতা, (ঘ) জলের দেবতা।
✔️ উত্তর: (খ) ধ্বংস ও সৃষ্টির দেবতা।
💡 ৫০. পূর্বপদের বিভক্তি লুপ্ত হয়ে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় যে সমাসে, সেটি হল —
(ক) বহুব্রীহি সমাস, (খ) অব্যয়ীভাব সমাস, (গ) তৎপুরুষ সমাস, (ঘ) নিত্যসমাস।
✔️ উত্তর: (গ) তৎপুরুষ সমাস।
💡 ৫১. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” — একথা বলেছেন —
(ক) জগদীশবাবু, (খ) হরিদা, (গ) সন্ন্যাসী, (ঘ) বিরাগী।
✔️ উত্তর: (ঘ) বিরাগী।
💡 ৫২. “আজ বাড়ি থেকে কোনো চিঠি পেয়েছেন নাকি?” — এই কথাটির বক্তা —
(ক) অপূর্ব, (খ) তেওয়ারি, (গ) তলোয়ারকর, (ঘ) বড়োসাহেব।
✔️ উত্তর: (গ) তলোয়ারকর।
💡 ৫৩. “আগে পূজ ইষ্টদেবে,” — এই ‘ইষ্টদেব’ হলেন —
(ক) ব্রহ্মা, (খ) বিষ্ণু, (গ) অগ্নি, (ঘ) মহাদেব।
✔️ উত্তর: (গ) অগ্নি।
💡 ৫৪. “জীবনহারা অ-সুন্দরে’ রে ছেদন করতে আসছেন —
(ক) নবীন, (খ) চিরসুন্দর, (গ) মহাকাল সারথি, (ঘ) প্রলয়।
✔️ উত্তর: (ক) নবীন।
💡 ৫৫. কর্মধারয় সমাসে প্রাধান্য থাকে —
(ক) পূর্বপদের অর্থের, (খ) পরপদের অর্থের, (গ) উভয়পদের অর্থের, (ঘ) ভিন্ন অর্থের।
✔️ উত্তর: (খ) পরপদের অর্থের।
💡 ৫৬. ‘একটু তারিফই করলেন’ — তারিফ করলেন —
(ক) জগদীশবাবু, (খ) দোকানদার, (গ) সন্ন্যাসী, (ঘ) মাস্টারমশাই।
✔️ উত্তর: (ঘ) মাস্টারমশাই।
💡 ৫৭. জরায়-মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ-লুকানো রয়েছে —
(ক) প্রলয়ের মধ্যে, (খ) ধ্বংসের মধ্যে, (গ) সৃষ্টির মধ্যে, (ঘ) বিনাশের মধ্যে।
✔️ উত্তর: (গ) সৃষ্টির মধ্যে।
💡 ৫৮. “শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে,” — ‘শিঞ্জিনী’ শব্দের অর্থ —
(ক) অসি, (খ) ধনুকের ছিলা, (গ) তূণ, (ঘ) দুন্দুভি।
✔️ উত্তর: (খ) ধনুকের ছিলা।
💡 ৫৯. বড়োসাহেব অপূর্বকে পাঠিয়েছিলেন —
(ক) ভামোতে, (খ) মানডালে, (গ) মিকথিলায়, (ঘ) রেঙ্গুনে।
✔️ উত্তর: (ক) ভামোতে।
💡 ৬০. ‘ব্যাসবাক্য’-এ ‘ব্যাস’ কথার অর্থ হল —
(ক) সংক্ষেপ, (খ) সরলরেখা, (গ) বিস্তার বা বিশ্লেষণ, (ঘ) একপদীকরণ।
✔️ উত্তর: (গ) বিস্তার বা বিশ্লেষণ।
💡 ৬১. ‘একটু তারিফই করলেন’ — তারিফ করলেন —
(ক) জগদীশবাবু, (খ) দোকানদার, (গ) সন্ন্যাসী, (ঘ) মাস্টারমশাই।
✔️ উত্তর: (ঘ) মাস্টারমশাই।
💡 ৬২. ‘তুমি তো ইউরোপিয়ান নও’ — কথাটি অপূর্বকে কে বলেছিলেন? —
(ক) রেঙ্গুনের সব-ইনস্পেক্টর, (খ) বড়োসাহেব, (গ) বর্মার সব-ইনস্পেক্টর, (ঘ) বর্মার জেলাশাসক।
✔️ উত্তর: (গ) বর্মার সব-ইনস্পেক্টর।
💡 ৬৩. “তারে ডরাও আপনি, রাজেন্দ্র?” — ‘রাজেন্দ্র’ বলতে বোঝানো হয়েছে —
(ক) ইন্দ্রজিৎকে, (খ) বীরবাহুকে, (গ) রাবণকে, (ঘ) কুম্ভকর্ণকে।
✔️ উত্তর: (গ) রাবণকে।
💡 ৬৪. ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর!’ — নিম্নরেখ পদটি (চিরসুন্দর) যে সমাসের উদাহরণ —
(ক) কর্মধারয়, (খ) তৎপুরুষ, (গ) বহুব্রীহি, (ঘ) দ্বন্দ্ব।
✔️ উত্তর: (খ) তৎপুরুষ।
💡 ৬৫. ‘বহুব্রীহি’ কথাটির অর্থ কী? —
(ক) কৃষক, (খ) সম্পন্ন কৃষক, (গ) ধানের গোলা, (ঘ) ধান চাষ।
✔️ উত্তর: (খ) সম্পন্ন কৃষক।
💡 ৬৬. ‘সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য।’ — বক্তা —
(ক) নিমাইবাবু, (খ) রামদাস তলোয়ারকর, (গ) জগদীশবাবু, (ঘ) অপূর্ব।
✔️ উত্তর: (ক) নিমাইবাবু।
💡 ৬৭. “শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে,” — ‘শিঞ্জিনী’ শব্দের অর্থ —
(ক) ধনুকের ছিলা, (খ) অসি, (গ) তূণ, (ঘ) দুন্দুভি।
✔️ উত্তর: (ক) ধনুকের ছিলা।
💡 ৬৮. ‘আসছে নবীন — ______’ — শূন্যস্থানে বসবে —
(ক) সৃজন, (খ) সদন, (গ) বেদন, (ঘ) ছেদন।
✔️ উত্তর: (ঘ) ছেদন।
💡 ৬৯. বিরাগীর মতে ‘ধন জন যৌবন’ হল সুন্দর সুন্দর একটি —
(ক) সম্পদ, (খ) বঞ্চনা, (গ) মায়া, (ঘ) রত্ন।
✔️ উত্তর: (খ) বঞ্চনা।
💡 ৭০. ব্যাসবাক্যে ‘ব্যাস’ শব্দের অর্থ —
(ক) বিস্তার, (খ) বিন্যাস, (গ) বিশ্লেষণ, (ঘ) বিরোধ।
✔️ উত্তর: (ক) বিস্তার।
💡 ৭১. ‘ধন জন যৌবন’ হল সুন্দর সুন্দর এক-একটি —
(ক) মায়া, (খ) মোহ, (গ) বঞ্চনা, (ঘ) আসক্তি।
✔️ উত্তর: (গ) বঞ্চনা।
💡 ৭২. ‘এমনি তাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।’ — কাদের অভ্যাস হয়ে গেছে? —
(ক) ভারতীয়দের, (খ) ইউরোপীয়দের, (গ) ইংরেজদের, (ঘ) জার্মানদের।
✔️ উত্তর: (খ) ইউরোপীয়দের।
💡 ৭৩. ধাত্রী ইন্দ্রজিৎকে প্রথমে কার মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন? —
(ক) রাবণ, (খ) অহি রাবণ, (গ) বীরবাহু, (ঘ) মহিরাবণ।
✔️ উত্তর: (গ) বীরবাহু।
💡 ৭৪. বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে কে আসছে? —
(ক) চণ্ড, (খ) আনন্দ, (গ) ভয়ংকর, (ঘ) ক্রন্দন।
✔️ উত্তর: (গ) ভয়ংকর।
💡 ৭৫. সমাস গঠনে ‘ব্যাস’ শব্দের প্রতিশব্দ —
(ক) ঋষি, (খ) বিগ্রহ, (গ) সংকল্প, (ঘ) জ্যামিতির মাপ।
✔️ উত্তর: (খ) বিগ্রহ।
💡 ৭৬. “আগে পূজ ইষ্টদেবে,” — ‘ইষ্টদেব’ হলেন —
(ক) ব্রহ্মা, (খ) বিষ্ণু, (গ) মহাদেব, (ঘ) অগ্নি।
✔️ উত্তর: (ঘ) অগ্নি।
💡 ৭৭. ‘কেবল আশ্চর্য’ — আশ্চর্য বিষয়টি কী? —
(ক) শক্ত সবল শরীর, (খ) দুই হাতের শক্তি, (গ) দুটি চোখের দৃষ্টি, (ঘ) কোনোটিই নয়।
✔️ উত্তর: (গ) দুটি চোখের দৃষ্টি।
💡 ৭৮. “সেটা পূর্বজন্মের কথা।” — ‘পূর্বজন্মের কথা’-টি হল —
(ক) বিরাগী সংসার বিমুখ, (খ) বিরাগী নির্মোহ হন, (গ) বিরাগী রাগের অধীন, (ঘ) বিরাগী কাউকে পদধূলি দেন না।
✔️ উত্তর: (গ) বিরাগী রাগের অধীন।
💡 ৭৯. ‘গিরীশ শশব্যস্তব্যস্তে একটা নমস্কার করিয়া কহিল,’ — রেখাঙ্কিত পদটি হল —
(ক) উপমান কর্মধারয়, (খ) উপমিত কর্মধারয়, (গ) রূপক কর্মধারয়, (ঘ) সাধারণ কর্মধারয়।
✔️ উত্তর: (ঘ) সাধারণ কর্মধারয়।
💡 ৮০. কৃদন্ত পদ বলে —
(ক) ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যকে, (খ) কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত পদকে, (গ) কৃ ধাতুর পদকে, (ঘ) ক্রিয়াকে।
✔️ উত্তর: (খ) কৃৎ প্রত্যয়যুক্ত পদকে।
💡 ৮১. “শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে,” — ‘শিঞ্জিনী’ শব্দের অর্থ হল —
(ক) ধনুকের ছিলা, (খ) অসি, (গ) তূণ, (ঘ) দুন্দুভি।
✔️ উত্তর: (ক) ধনুকের ছিলা।
💡 ৮২. ‘কুকুরের দাপট তাড়ায় লেজ উঁচিয়ে’ —
(ক) নীল গগনে, (খ) নীল শিলালে, (গ) ঝড়-তুফানে, (ঘ) ত্রেয়ার কাঁদনে।
✔️ উত্তর: (খ) নীল শিলালে।
💡 ৮৩. কোমরে ছেঁড়া কম্বল জড়ানো পাগলটার গলায় ছিল —
(ক) ফুলের মালা, (খ) টিনের কৌটার মালা, (গ) সোনার মালা, (ঘ) মুক্তোর মালা।
✔️ উত্তর: (খ) টিনের কৌটার মালা।
💡 ৮৪. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে পাওয়া যায়নি —
(ক) লোহার কম্পাস, (খ) লোহার একটা ফুটরুল, (গ) কয়েকটা বিড়ি, (ঘ) গাঁজার কলিকা।
✔️ উত্তর: (খ) লোহার একটা ফুটরুল।
💡 ৮৫. ‘উপপদ’ বলতে বোঝায় —
(ক) কৃদন্ত পদের পরবর্তী পদকে, (খ) তদ্ধিতান্ত পদকে, (গ) কৃদন্ত পদকে, (ঘ) কৃদন্ত পদের পূর্বস্থিত পদকে।
✔️ উত্তর: (ঘ) কৃদন্ত পদের পূর্বস্থিত পদকে।
💡 ৮৬. ‘একটু তারিফই করলেন’ — কে তারিফ করলেন? —
(ক) জগদীশবাবু, (খ) দোকানদার, (গ) সন্ন্যাসী, (ঘ) মাস্টারমশাই।
✔️ উত্তর: (ঘ) মাস্টারমশাই।
💡 ৮৭. ‘এ শহরে আরও কিছুদিন নজর রাখা দরকার’ — কোন্ শহরে? —
(ক) ভামো, (খ) মান্ডালে, (গ) রেঙ্গুন, (ঘ) মিকথিলায়।
✔️ উত্তর: (গ) রেঙ্গুন।
💡 ৮৮. “কাঁপিল লঙ্কা, কাঁপিল জলধি!” — এমন ঘটনা ঘটার কারণ —
(ক) রাক্ষসবাহিনীর পদচালনা, (খ) কুম্ভকর্ণের নিদোভঙ্গ, (গ) মেঘনাদের ধনুকের টঙ্কার, (ঘ) রাবণের রণসজ্জা।
✔️ উত্তর: (গ) মেঘনাদের ধনুকের টঙ্কার।
💡 ৮৯. “কেশর দোলায় ঝাঁপটা মেরে গগন দুলায়,” — কে? —
(ক) বাতাস, (খ) চামর, (গ) সাগর, (ঘ) ঝামর।
✔️ উত্তর: (ঘ) ঝামর।
💡 ৯০. ‘উপনগরী’ সমাসটি গড়ে উঠেছে —
(ক) সাদৃশ্য অর্থে, (খ) পশ্চাৎ অর্থে, (গ) সামীপ্য অর্থে, (ঘ) বীপ্সা অর্থে।
✔️ উত্তর: (গ) সামীপ্য অর্থে।
💡 ৯১. “অম্বুরাশি-সুতা / উত্তরিলা;” — ‘অম্বুরাশি-সুতা’ হলেন —
(ক) লক্ষ্মী, (খ) দুর্গা, (গ) প্রমীলা, (ঘ) ধাত্রী।
✔️ উত্তর: (ক) লক্ষ্মী।
💡 ৯২. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” — কবিতায় এই লাইনটি কতবার ব্যবহৃত হয়েছে? —
(ক) ১৮ বার, (খ) ২০ বার, (গ) ১৯ বার, (ঘ) ২১ বার।
✔️ উত্তর: (গ) ১৯ বার।
💡 ৯৩. “যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেছি।” — বক্তা তুলে রেখেছিলেন —
(ক) একটা ফুটবল, (খ) কয়েকটা বিড়ি, (গ) একটা দেশলাই, (ঘ) একটা গাঁজার কলিকা।
✔️ উত্তর: (ঘ) একটা গাঁজার কলিকা।
💡 ৯৪. “খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো।” — বক্তা হলেন —
(ক) ভবতোষ, (খ) দোকানদার, (গ) ড্রাইভার কাশীনাথ, (ঘ) স্কুলের মাস্টারমশাই।
✔️ উত্তর: (গ) ড্রাইভার কাশীনাথ।
💡 ৯৫. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর!” — ‘চিরসুন্দর’ যে সমাসের উদাহরণ —
(ক) ব্যাপ্তি তৎপুরুষ, (খ) সম্বন্ধ তৎপুরুষ, (গ) করণ তৎপুরুষ, (ঘ) উপপদ তৎপুরুষ।
✔️ উত্তর: (ঘ) উপপদ তৎপুরুষ।
💡 ৯৬. “কিবা যথা বৃষভানুলাঞ্ছন / কিরীটী,” — ‘কিরীটী’ হলেন —
(ক) ইন্দ্রজিৎ, (খ) অর্জুন, (গ) রামচন্দ্র, (ঘ) রাবণ।
✔️ উত্তর: (খ) অর্জুন।
💡 ৯৭. “দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাঁহার — ”
(ক) ত্রস্ত জটায়, (খ) নয়নকটায়, (গ) নয়নজলে, (ঘ) কপোলতলে।
✔️ উত্তর: (খ) নয়নকটায়।
💡 ৯৮. “পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে। মিথ্যেবাদী কোথাকার!” — উক্তিটির বক্তা হল —
(ক) অপূর্ব, (খ) রামদাস, (গ) নিমাইবাবু, (ঘ) জগদীশবাবু।
✔️ উত্তর: (ঘ) জগদীশবাবু।
💡 ৯৯. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” — ‘আপনি’ বলতে বোঝানো হয়েছে —
(ক) হিমালয় থেকে আসা সন্ন্যাসীকে, (খ) বিরাগীজিকে, (গ) হরিদাকে, (ঘ) জগদীশবাবুকে।
✔️ উত্তর: (ঘ) জগদীশবাবুকে।
💡 ১০০. ‘জীবনানন্দ’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করলে পাই —
(ক) জীবন রূপ আনন্দ, (খ) জীবনের মতো আনন্দ, (গ) জীবন ব্যাপিয়া আনন্দ, (ঘ) জীবন ও আনন্দ।
✔️ উত্তর: (গ) জীবন ব্যাপিয়া আনন্দ।
✍️অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-১):
💡 ১. “হা ধিক মোরে!” — ইন্দ্রজিৎ নিজেকে কেন ধিক্কার দেন?
✔️ উত্তর: লঙ্কাপুরী যখন শত্রু পরিবেষ্টিত এবং ভাই বীরবাহু মৃত, তখন ইন্দ্রজিৎ প্রমোদ উদ্যানে নারীদের মাঝে আমোদ-প্রমোদে মগ্ন ছিলেন বলে নিজেকে ধিক্কার দেন।
💡 ২. ট্রেনের মধ্যে অপূর্বর ঘুমের ব্যাঘাত কেন ঘটেছিল?
✔️ উত্তর: বর্মা পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর এবং কনস্টেবলেরা গভীর রাতে তিনবার অপূর্বর ঘরে প্রবেশ করে তার নাম-ধাম ও পরিচয় জানতে চাওয়ায় তার ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেছিল।
💡 ৩. বধূরা কেন প্রদীপ তুলে ধরবে?
✔️ উত্তর: প্রলয়ঙ্কর শিবের আগমনের মধ্য দিয়ে জীর্ণতা দূর হয়ে নতুনের প্রতিষ্ঠা হবে, তাই সেই আনন্দ ও মঙ্গল কামনায় কবি বধূদের প্রদীপ তুলে ধরতে বলেছেন।
💡 ৪. ‘সমাস’ ও ‘সন্ধি’-র মধ্যে দুটি পার্থক্য নির্দেশ করো।
✔️ উত্তর: (১) সন্ধি হলো ধ্বনির মিলন, কিন্তু সমাস হলো পদের মিলন। (২) সন্ধিতে বিভক্তি লুপ্ত হয় না, কিন্তু অধিকাংশ সমাসে বিভক্তি লুপ্ত হয়।
💡 ৫. বাক্যাশ্রয়ী সমাসের নাম ‘বাক্যাশ্রয়ী’ কেন?
✔️ উত্তর: যখন কোনো একটি পুরো বাক্য বা বাক্যাংশ একটি সমাসবদ্ধ পদের মতো আচরণ করে, তখন তাকে বাক্যাশ্রয়ী সমাস বলা হয়।
💡 ৬. “বলতে বলতে সিঁড়ি থেকে নেমে গেলেন বিরাগী।” — কী বলতে বলতে বিরাগী সিঁড়ি থেকে নেমেছিলেন?
✔️ উত্তর: বিরাগী জগদীশবাবুকে বলেছিলেন, "আপনার ওপর আমার কোনো রাগ নেই, আর আপনার ওই টাকা স্পর্শ করারও আমার কোনো প্রবৃত্তি নেই। আপনার অপরাধ ক্ষমা করবেন।"
💡 ৭. ‘ভয় আমি জাগানু অকালে / ভয়ে;’ — কাকে, কে অকালে জাগিয়েছিলেন?
✔️ উত্তর: কবি মধুসূদন দত্তের মতে রাবণ ভয়ের কারণে অকালে বীর কুম্ভকর্ণকে জাগিয়েছিলেন।
💡 ৮. “মনে হলে দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে যাই।” — কোন্ কথা মনে করে বক্তার এই মনোবেদনা?
✔️ উত্তর: স্টেশনের ফিরিঙ্গি যুবকদের হাতে অপমানিত হওয়ার পর দেশি রেলওয়ে কর্মচারীদের নির্লিপ্ততা ও অপমানজনক আচরণের কথা মনে করে অপূর্বর মনোবেদনা হয়।
💡 ৯. “আসছে নবীন — জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন।” — ‘নবীন’ কারা?
✔️ উত্তর: যারা প্রলয় ঘটিয়ে জীর্ণতাকে দূর করে নতুন সৃষ্টি করবে, সেই তরুণ বিপ্লবীরাই এখানে ‘নবীন’।
💡 ১০. নঞর্থক বহুব্রীহি সমাসের একটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর: নেই জ্ঞান যার = অজ্ঞান।
💡 ১১. ‘বাবুজি, এ-সব কথা বলার দুঃখ আছে।’ — কোন্ সব কথা বললে দুঃখ হতে পারে বলা হয়েছে?
✔️ উত্তর: ইংরেজ পুলিশের অন্যায় আচরণ বা স্বদেশী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের প্রতি সহমর্মী কথা বললে বিপদ হতে পারে বলে তেওয়ারি বা রামদাস ইঙ্গিত করেছেন।
💡 ১২. “জিজ্ঞাসিলা মহাবাহু বিস্ময় মানিয়া;” — ‘মহাবাহু’ কে এবং তার বিস্ময়ের কারণ কী?
✔️ উত্তর: ‘মহাবাহু’ হলেন মেঘনাদ। মৃত রামচন্দ্র পুনরায় মায়ার বলে জীবিত হয়ে বীরবাহুকে হত্যা করেছেন শুনে তিনি বিস্মিত হন।
💡 ১৩. ‘বিশ্বমায়ের আসন তারই বিপুল বাহুর পর — ’ — এর আসল অর্থ কী?
✔️ উত্তর: পৃথিবী বা দেশের স্বাধীনতার রক্ষার গুরুভার প্রবল শক্তিশালী তরুণ সমাজের ওপরই ন্যস্ত।
💡 ১৪. তৃতীয় কোনো পদের অর্থ প্রতীয়মান হয় কোন্ সমাসে, উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর: বহুব্রীহি সমাসে। যেমন— 'দশ আনন (মুখ) যার = দশানন' (এখানে দশ বা মুখ না বুঝিয়ে রাবণকে বোঝানো হয়েছে)।
💡 ১৫. ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো : কনক-লঙ্কা।
✔️ উত্তর: কনক (স্বর্ণ) দ্বারা নির্মিত লঙ্কা = কনক-লঙ্কা (মধ্যপদলোপী কর্মধারয়)।
💡 ১৬. “কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা!” — ‘অদ্ভুত কথা’-টি কী?
✔️ উত্তর: হরিদা বলেছিলেন যে, ভণ্ড সন্ন্যাসীর চরণের ধুলো নিতে যাওয়া তাঁর মতো একজন বহুরূপীর পক্ষে অশোভন।
💡 ১৭. গিরীশ মহাপাত্রের পকেট থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছিল?
✔️ উত্তর: একটি লোহার ফুটরুল, একটি কম্পাস, কয়েকটা বিড়ি, একটা দেশলাই এবং একটা গাঁজার কলকে।
💡 ১৮. “হাসিবে মেঘবাহন;” — ‘মেঘবাহন’ কে?
✔️ উত্তর: দেবরাজ ইন্দ্র।
💡 ১৯. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ বাক্যটি মোট কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
✔️ উত্তর: ১৯ বার।
💡 ২০. ‘আমরা’ সমাসবদ্ধ পদটি কোন্ সমাসের দৃষ্টান্ত?
✔️ উত্তর: একশেষ দ্বন্দ্ব সমাস (আমি, তুমি ও সে)।
💡 ২১. ‘অনুমান কতকটা তাই’ — বক্তার কী অনুমান?
✔️ উত্তর: অপূর্ব অনুমান করেছিলেন যে স্টেশনে দেখা যাওয়া গিরীশ মহাপাত্রই হয়তো ফেরারি সব্যসাচী মল্লিক।
💡 ২২. “স্তব্ধ চরাচর” — চরাচর ‘স্তব্ধ’ কেন?
✔️ উত্তর: প্রলয়ঙ্কর শিবের ভয়ংকর অট্টহাসি এবং ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবে সারা পৃথিবী আতঙ্কে নিথর বা স্তব্ধ হয়ে আছে।
💡 ২৩. “শিঞ্জিনী আকর্ষি রোষে,” — ‘শিঞ্জিনী’ শব্দের অর্থ কী?
✔️ উত্তর: ধনুকের ছিলা।
💡 ২৪. কেবল চিত্র = চিন্মাত্র — কোন্ সমাসের উদাহরণ?
✔️ উত্তর: নিত্যসমাস।
💡 ২৫. ব্যাপ্তি বা সীমা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের দুটি সমাসবদ্ধ পদ লেখো।
✔️ উত্তর: আজীবন (জীবন পর্যন্ত), আপাদমস্তক (পা থেকে মাথা পর্যন্ত)।
💡 ২৬. অপূর্ব দ্বিতীয়বার সাক্ষাতে গিরীশ মহাপাত্রকে কী বলেছিলেন?
✔️ উত্তর: অপূর্ব তাকে বলেছিলেন যে তিনি তাকে চিনে ফেলেছেন এবং তার পকেটে থাকা গাঁজার কলকেটি ফেলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
💡 ২৭. ‘এবার মহানিশার শেষে’ — কে আসবে?
✔️ উত্তর: হাসিমুখে নব অরুণ বা সূর্যের মতো নতুনের শুভ আগমন ঘটবে।
💡 ২৮. “উড়িছে কৌশিক-ধ্বজ;” — ‘কৌশিক-ধ্বজ’ কী?
✔️ উত্তর: রেশমি কাপড় দ্বারা নির্মিত পতাকা।
💡 ২৯. ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো : (ক) ধর্মযুদ্ধ, (খ) সব্যসাচী।
✔️ উত্তর: (ক) ধর্মের নিমিত্ত যুদ্ধ = ধর্মযুদ্ধ (নিমিত্ত তৎপুরুষ)। (খ) দুই হাত সমানভাবে চলে যার = সব্যসাচী (উপপদ তৎপুরুষ)।
💡 ৩০. ‘ঠিকই, আমাদের সন্দেহ মিথ্যে নয়।’ — কোন্ বিষয়ের সন্দেহের কথা এখানে বলা হয়েছে?
✔️ উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রই যে আসলে ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক, সেই সন্দেহের কথা বলা হয়েছে।
💡 ৩১. ‘দিগম্বরের জটায়’ — কে হাসে?
✔️ উত্তর: শিশু-চাঁদের কর (নবমীর চাঁদের ফালি)।
💡 ৩২. “বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখী।” — কে, কাকে ‘বিধুমুখী’ বলে সম্বোধন করেছেন?
✔️ উত্তর: ইন্দ্রজিৎ তার পত্নী প্রমীলাকে।
💡 ৩৩. ‘সব-কটা অফিসেই গোলযোগ ঘটছে।’ — সব-কটা অফিসের নাম লেখো।
✔️ উত্তর: ভামো, মিকথিলা, মানডালে এবং পিনমানা।
💡 ৩৪. ‘নিমাইবাবু চুপ করিয়া রহিলেন।’ — রেখাঙ্কিত পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো (নিমাইবাবু)।
✔️ উত্তর: যিনি নিমাই তিনিই বাবু = নিমাইবাবু (সাধারণ কর্মধারয়)।
💡 ৩৫. ‘লেখালেখি’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
✔️ উত্তর: লেখায় লেখায় যে কাজ = লেখালেখি (ব্যতিহার বহুব্রীহি)।
💡 ৩৬. “মিথ্যেবাদী কোথাকার!” — কে, কাকে ‘মিথ্যেবাদী’ বলেছেন?
✔️ উত্তর: জগদীশবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে বলেছিলেন, কারণ সে গাঁজা না খাওয়ার দাবি করলেও তার পকেটে কলকে পাওয়া গিয়েছিল।
💡 ৩৭. “ঐ কাল সমরে,” — কোন্ যুদ্ধকে ‘কাল সমর’ বলা হয়েছে?
✔️ উত্তর: রামচন্দ্র ও মেঘনাদের মধ্যে আসন্ন লঙ্কার ভয়ংকর যুদ্ধকে।
💡 ৩৮. “ওরে ওই স্তব্ধ চরাচর!” — চরাচর ‘স্তব্ধ’ কেন?
✔️ উত্তর: ভয়াল ধ্বংসের পদধ্বনি শুনে আতঙ্কে সারা পৃথিবী নিথর হয়ে গেছে।
💡 ৩৯. ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো : শ্বেতপদ্ম।
✔️ উত্তর: শ্বেত যে পদ্ম = শ্বেতপদ্ম (সাধারণ কর্মধারয়)।
💡 ৪০. বহুব্রীহি সমাস কাকে বলে?
✔️ উত্তর: যে সমাসে সমস্যমান পদের কোনোটির অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে অন্য কোনো তৃতীয় পদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলে।
💡 ৪১. “ধিক মোরে!” — বক্তার নিজের প্রতি এই বিরাগ কেন?
✔️ উত্তর: শত্রুপক্ষ যখন দেশ আক্রমণ করেছে, তখন তিনি প্রমোদ উদ্যানে নারীদের সঙ্গে আমোদ করছেন বলে ইন্দ্রজিৎ নিজের ওপর বিরক্ত।
💡 ৪২. “আসছে নবীন” — নবীন এসে কী করবে বলে কবির প্রত্যাশা?
✔️ উত্তর: নবীন এসে জীর্ণ ও অসুন্দরকে ধ্বংস করে নতুনের প্রাণস্পন্দন নিয়ে আসবে।
💡 ৪৩. কোন্ সমাসে উভয়পদের অর্থই প্রধান্য পায়?
✔️ উত্তর: দ্বন্দ্ব সমাসে।
💡 ৪৪. উপমিত ও উপমান কর্মধারয় সমাসের প্রধান পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: উপমান কর্মধারয়ে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে, কিন্তু উপমিততে সাধারণ ধর্ম থাকে না।
💡 ৪৫. “আমারও অনুমান কতকটা তাই।” — বক্তা কী অনুমান করেছিলেন?
✔️ উত্তর: রামদাস তলোয়ারকর অনুমান করেছিলেন যে অপূর্ব যাকে দেখেছে সে-ই সব্যসাচী মল্লিক।
💡 ৪৬. “খুব হয়েছে হরি, এই বার সরে পড়ো।” — বক্তা কে?
✔️ উত্তর: বাস ড্রাইভার কাশীনাথ।
💡 ৪৭. “রথীন্দ্রেভর্ষভ” — ‘রথীন্দ্রেভর্ষভ’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
✔️ উত্তর: রথীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্থাৎ বীর মেঘনাদকে।
💡 ৪৮. “দলিয়ে ওঠে ... বজ্রগানে ঝড়-তুফানে!” — কী ‘দলিয়ে ওঠে’?
✔️ উত্তর: প্রলয়ঙ্করের জয়ধ্বজ বা বিজয় পতাকা।
💡 ৪৯. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি ও দ্বিগু সমাসের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: দ্বিগু সমাসে সমাহার ও পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, কিন্তু সংখ্যাবাচক বহুব্রীহিতে অন্য পদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
💡 ৫০. উপমিত কর্মধারয় ও উপমান কর্মধারয় সমাসের মধ্যে একটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: উপমান কর্মধারয়ে বাস্তব তুলনা ও সাধারণ ধর্ম থাকে, কিন্তু উপমিত কর্মধারয়ে কাল্পনিক অভেদ তুলনা করা হয়।
💡 ৫১. “সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য।” — ‘সে’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে?
✔️ উত্তর: এখানে ‘সে’ বলতে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট বা রাজবন্দি সব্যসাচী মল্লিকের কথা বলা হয়েছে।
💡 ৫২. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর!’ — এই ধুয়া পদটি কবিতায় কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
✔️ উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় এই ধুয়া পদটি মোট ১৯ বার ব্যবহৃত হয়েছে।
💡 ৫৩. ‘মহাশোকী রাক্ষসাধিপতি,’ — তাঁর মহাশোকের কারণ কী?
✔️ উত্তর: বীর পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদে রাক্ষসরাজ রাবণ মহাশোকী হয়ে পড়েছিলেন।
💡 ৫৪. উপমান ও উপমিত কর্মধারয় সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: উপমান কর্মধারয় সমাসে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে, কিন্তু উপমিত কর্মধারয় সমাসে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে না।
💡 ৫৫. নিত্যসমাস কাকে বলে?
✔️ উত্তর: যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না অথবা ব্যাসবাক্য করতে গেলে অন্য পদের সাহায্য নিতে হয়, তাকে নিত্যসমাস বলে।
💡 ৫৬. “হা ধিক মোরে!” — কে, কখন নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছেন?
✔️ উত্তর: বীর ইন্দ্রজিৎ (মেঘনাদ) নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছেন; যখন তিনি লঙ্কার ঘোর বিপদের দিনে প্রমোদ উদ্যানে আমোদ-প্রমোদে মগ্ন ছিলেন।
💡 ৫৭. একশেষ দ্বন্দ্ব সমাসের একটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর: তুমি, আমি ও সে = আমরা।
💡 ৫৮. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” — কবি কাদের ‘জয়ধ্বনি’ করতে বলেছেন?
✔️ উত্তর: কবি পরাধীন ভারতের তরুণ বিপ্লবী সমাজকে বা নতুনের শক্তিকে জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
💡 ৫৯. “যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেছি।” — কে, কী তুলে রেখেছে?
✔️ উত্তর: ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক (গিরীশ মহাপাত্র) তার পকেটে পাওয়া গাঁজার কলকেটি তুলে রাখার কথা বলেছেন।
💡 ৬০. “গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা।” — হরিদ্রার শোনা গল্পটি কী?
✔️ উত্তর: জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত এক সন্ন্যাসীর গল্প, যিনি সারা বছর একটি হরিতকী খেয়ে থাকতেন এবং জগদীশবাবুর কৌশলে তাঁকে পদধূলি দিতে বাধ্য করেছিলেন।
💡 ৬১. ‘বহুরূপী’ শব্দে ‘পরম সুখ’ বলতে বিরাগী কী বুঝিয়েছেন?
✔️ উত্তর: বিরাগীর মতে, জাগতিক সব মোহ ও মায়া ত্যাগ করে ঈশ্বরের কাছে নিঃস্ব হওয়াতেই পরম সুখ নিহিত।
💡 ৬২. “ঘৃণাব এ অপবাদ,” — বক্তা কোন্ অপবাদ ঘোচাতে চায়?
✔️ উত্তর: ইন্দ্রজিৎ তার ভাই বীরবাহুর হত্যাকারী রামচন্দ্রকে পরাজিত করে লঙ্কা তথা নিজের অক্ষমতার অপবাদ ঘোচাতে চান।
💡 ৬৩. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” — ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মধ্যে কবি এই লাইনটি কতবার ব্যবহার করেছেন?
✔️ উত্তর: ১৯ বার।
💡 ৬৪. ‘পলান্ন’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো।
✔️ উত্তর: পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন = পলান্ন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)।
💡 ৬৫. কোন্ সমাসকে ব্যাসবাক্যহীন সমাস বলা হয়?
✔️ উত্তর: সাধারণত নিত্যসমাসকে ব্যাসবাক্যহীন সমাস বলা হয়।
💡 ৬৬. ‘তিনি ঢের বেশি আমার আপনার।’ — কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি?
✔️ উত্তর: অপূর্ব স্বদেশী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক সম্পর্কে এই উক্তি করেছেন, যিনি বিদেশীদের লাঞ্ছনার তুলনায় তার কাছে অনেক বেশি আপনজন।
💡 ৬৭. “আসবে নবীন — জীবনহারা ...!” — এই ‘নবীন’ কারা?
✔️ উত্তর: পরাধীন ভারতের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তি আনা বিপ্লবী তরুণ দলই এখানে ‘নবীন’।
💡 ৬৮. ‘তব শরে মরিয়া বাঁচিল!’ — কে, কার শরে মরেও বাঁচল?
✔️ উত্তর: মেঘনাদের (ইন্দ্রজিৎ) শরে রামচন্দ্র মরেও মায়ার বলে পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছিলেন।
💡 ৬৯. ‘সমাস’ শব্দের অর্থ কী?
✔️ উত্তর: সমাস শব্দের অর্থ হলো সংক্ষেপ বা একাধিক পদের মিলন।
💡 ৭০. নিম্নরেখ পদের ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো : ‘মিথ্যে সন্দেহ রাখবেন না বাবুমশায়।’
✔️ উত্তর: সন্দেহ: সম্ + দেহ → অব্যয়ীভাব সমাস।
💡 ৭১. “জগদীশবাবুর দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল।” — কী দেখে জগদীশবাবুর এমন অবস্থা হয়েছিল?
✔️ উত্তর: বিরাগী ছদ্মবেশে হরিদার শান্ত, নির্মোহ এবং উদার রূপ দেখে জগদীশবাবু অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।
💡 ৭২. “দিগম্বর জটায় হাসে শিশু-চাঁদের কর — ” — পঙ্ক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
✔️ উত্তর: শিবের জটায় যেমন সুন্দর চাঁদের ফালি থাকে, তেমনি ধ্বংসের রূপের মধ্যেও সৃষ্টির স্নিগ্ধতা লুকিয়ে আছে।
💡 ৭৩. “এ মায়া, পিতঃ, বুঝিতে না পারি!” — কোন্ ‘মায়া’ বক্তা বুঝতে পারছেন না?
✔️ উত্তর: মৃত রামচন্দ্র কোন্ ঐশ্বরিক বা মায়ার শক্তিতে পুনরায় জীবন ফিরে পেয়েছেন, তা ইন্দ্রজিৎ বুঝতে পারছেন না।
💡 ৭৪. পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় এমন সমাসগুলির নাম লেখো।
✔️ উত্তর: তৎপুরুষ, কর্মধারয় এবং দ্বিগু সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।
💡 ৭৫. ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো : চিরসুন্দর।
✔️ উত্তর: চিরকাল ব্যাপিয়া সুন্দর = চিরসুন্দর (ব্যাপ্তি তৎপুরুষ)।
💡 ৭৬. ‘নাদিলা কর্বুরদল’ — কর্বুরদলের এমন আচরণের কারণ কী?
✔️ উত্তর: মেঘনাদের ধনুকের প্রবল টঙ্কার এবং তার যুদ্ধজয়ের আত্মবিশ্বাস দেখে রাক্ষস সৈন্যরা হর্ষধ্বনি করেছিল।
💡 ৭৭. ‘কিন্তু তোমার বাবু একটা ভুল হয়েছে,’ — কার, কোন্ ভুল হয়েছিল?
✔️ উত্তর: জগদীশবাবুর ভুল হয়েছিল বিরাগীকে তীর্থভ্রমণের জন্য টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে, যা বিরাগী প্রত্যাখ্যান করেন।
💡 ৭৮. ‘বিশ্বমায়ের আসন তারই বিপুল বাহুর পর — ’ — তাৎপর্য কী?
✔️ উত্তর: বিশ্বমাতৃকার সম্মান রক্ষার দায়িত্ব প্রবল শক্তিশালী বিপ্লবী যুবসমাজের ওপরই ন্যস্ত।
💡 ৭৯. ‘অনাদি’ কোন্ সমাসের উদাহরণ?
✔️ উত্তর: নয় আদি = অনাদি (নঞ তৎপুরুষ সমাস)।
💡 ৮০. নিত্যসমাস কাকে বলে?
✔️ উত্তর: যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
💡 ৮১. ‘এবার মহানিশার শেষে’ — কোন্ দৃশ্য দেখা যাবে?
✔️ উত্তর: মহানিশার অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে হাসিমুখে নব অরুণ উদিত হবে, অর্থাৎ স্বাধীনতার আলো দেখা যাবে।
💡 ৮২. “বিদায় এবে দেহ, বিধুমুখী।” — ‘বিধুমুখী’ কে?
✔️ উত্তর: বীর মেঘনাদের স্ত্রী প্রমীলা।
💡 ৮৩. সমাস ও সন্ধির মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য নির্দেশ করো।
✔️ উত্তর: (১) সন্ধিতে বর্ণের মিলন হয়, সমাসে পদের মিলন হয়। (২) সন্ধিতে ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, সমাসে অর্থগত সংযোগ প্রধান।
💡 ৮৪. নিত্যসমাস কাকে বলে?
✔️ উত্তর: যে সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না, তাকে নিত্যসমাস বলে।
💡 ৮৫. “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল।” — অপূর্ব কোন্ বিষয়ে রাজি হয়েছিল?
✔️ উত্তর: অপূর্ব বর্মা পুলিশের খানাতল্লাশি ও দেহতল্লাশিতে বাধা না দিতে রাজি হয়েছিল।
💡 ৮৬. “প্রলয় বয়েও আসছে হেসে — ” — প্রলয় বহন করেও হাসির কারণ কী?
✔️ উত্তর: জীর্ণতা ধ্বংস করেই নতুনের সৃষ্টি সম্ভব, তাই প্রলয়ঙ্কর শিব হাসতে হাসতে আসছেন।
💡 ৮৭. “রক্ষঃ রক্ষকুল — / মান, এ কালসমরে, রক্ষঃ-চূড়ামণি!” — কে, কাকে এই নির্দেশ প্রদান করেছেন?
✔️ উত্তর: রাক্ষসরাজ রাবণ তার পুত্র মেঘনাদকে এই নির্দেশ দিয়েছেন।
💡 ৮৮. ‘ইতবসরে এই ব্যাপার।’ — কোন্ ব্যাপারের কথা বলা হয়েছে?
✔️ উত্তর: পুলিশ সেজে হরিদা দয়ালবাবুর লিচুবাগানে চারজন ছাত্রকে ধরে মাস্টারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনাকে বোঝানো হয়েছে।
💡 ৮৯. “আমি এখন তবে চললুম কাকাবাবু।” — নিম্নরেখ পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
✔️ উত্তর: যিনি কাকা তিনিই বাবু = কাকাবাবু (সাধারণ কর্মধারয় সমাস)।
💡 ৯০. উপমিত ও উপমান কর্মধারয় সমাসের একটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: উপমান কর্মধারয়ে সাধারণ ধর্মের উল্লেখ থাকে, কিন্তু উপমিত কর্মধারয়ে সাধারণ ধর্ম উহ্য থাকে।
💡 ৯১. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” — কবি কাদের ‘জয়ধ্বনি’ করতে বলেছেন?
✔️ উত্তর: কবি ভারতমাতার বিপ্লবী সন্তানদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
💡 ৯২. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাগ ও পকেট থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছিল?
✔️ উত্তর: ট্যাগ থেকে একটি টাকা ও গণ্ডা ছয়েক পয়সা এবং পকেট থেকে লোহার ফুটরুল, কম্পাস, বিড়ি, দেশলাই ও গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল।
💡 ৯৩. ‘হায়, বিধি বাম মম প্রতি!’ — বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী?
✔️ উত্তর: পুত্র বীরবাহুর মৃত্যু এবং রামচন্দ্রের পুনর্জীবন দেখে রাবণ মনে করেছিলেন ভাগ্য তার প্রতিকূলে।
💡 ৯৪. ‘বহুব্রীহি’ শব্দটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
✔️ উত্তর: বহু ব্রীহি (ধান) আছে যার = বহুব্রীহি (বহুব্রীহি সমাস)।
💡 ৯৫. ক্ষুদ্রতা অর্থে অব্যয়ীভাব সমাসের একটি উদাহরণ দাও।
✔️ উত্তর: উপবন (বনের সদৃশ ছোট বন)।
💡 ৯৬. ‘কিন্তু এই ধরনের কাজ হরিদার জীবনের পছন্দই নয়।’ — কোন্ ধরনের কাজের কথা বলা হয়েছে?
✔️ উত্তর: প্রতিদিন নিয়মমাফিক একঘেয়ে অফিসের কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
💡 ৯৭. ‘রাজপথ’ পদটির ব্যাসবাক্যসহ সমাসের নাম লেখো।
✔️ উত্তর: পথের রাজা = রাজপথ (সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস)।
💡 ৯৮. “আসছে নবীন” — ‘নবীন’ কে?
✔️ উত্তর: প্রলয়ঙ্কর রূপী শিব অথবা নতুন যুগের বিপ্লবী যৌবনশক্তি।
💡 ৯৯. কোন্ সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না?
✔️ উত্তর: নিত্যসমাসের ব্যাসবাক্য হয় না।
💡 ১০০. “সম্মূলে নির্মূল / করিব পামরে আজি!” — ‘পামর’ বলে কে, কাকে অভিহিত করেছে?
✔️ উত্তর: ইন্দ্রজিৎ তার শত্রু রামচন্দ্রকে ‘পামর’ বলে অভিহিত করেছেন।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
💡 ১. ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?’ — ধ্বংস দেখে ভয় না পাওয়ার কথা কেন বলা হয়েছে?
✔️ উত্তর: কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি পরাধীন ভারতবাসীকে অভয় দিয়ে বলেছেন যে, প্রলয় বা ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির বীজ নিহিত থাকে। জীর্ণ, পুরাতন এবং অসুন্দরকে ধ্বংস না করলে নতুনের আগমন সম্ভব নয়। ধ্বংস আসলে নতুনের কেতন উড়ায় এবং সুন্দরের পথ প্রশস্ত করে, তাই ধ্বংস দেখে ভয় না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
💡 ২. ‘অপূর্ব রাজি হইয়াছিল।’ — অপূর্ব কেন রাজি হয়েছিল?
✔️ উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে অপূর্ব ভামো যাওয়ার পথে ট্রেনে বর্মা পুলিশের খানা-তল্লাশিতে রাজি হয়েছিল। সে জানত যে পুলিশ তাকে সন্দেহ করতে পারে এবং বাধা দিলে অনর্থক ঝামেলা বা যাত্রায় দেরি হতে পারে। একজন রাজভক্ত প্রজা ও সরকারি কর্মচারী হিসেবে আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলাই শ্রেয় মনে করে সে এই তল্লাশিতে রাজি হয়েছিল।
💡 ৩. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়ো?” — কাকে একথা বলা হয়েছে? তাকে একথা বলার কারণ কী?
✔️ উত্তর: 👉সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগী ছদ্মবেশী হরিদা এই উক্তিটি জগদীশবাবুকে উদ্দেশ্য করে করেছিলেন।
👉জগদীশবাবু নিজেকে অত্যন্ত ধার্মিক ও বড়ো ভক্ত মনে করতেন। তিনি সন্ন্যাসীকে তাঁর বাড়িতে সাতদিন জোর করে আটকে রেখেছিলেন এবং বিরাগীকেও নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই অহংকার ও আত্মগরিমার প্রতিবাদ করতেই বিরাগী এই প্রশ্ন করেছিলেন।
💡 ৪. “আসছে নবীন — জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!” — উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।
✔️ উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম দেখিয়েছেন যে, ধ্বংসের রূপ ধরে আসলে নতুন প্রাণশক্তির আগমন ঘটছে। সমাজের জীর্ণ, অসুন্দর ও প্রাণহীন ব্যবস্থাকে দূর করেই নতুনের প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তাই নবীন শক্তি পুরোনো ও অচল ব্যবস্থাকে ছেদন করে নতুন সমাজ গড়ে তুলবে। এই ধ্বংস আসলে সৃষ্টিরই পূর্বশর্ত।
💡 ৫. “ঠিক দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হুল্লা বেজে উঠেছিল।” — কোথায় হুল্লা বেজে উঠেছিল? আতঙ্কের হুল্লা বেজে ওঠার কারণ কী?
✔️ উত্তর: 👉 সুবোধ ঘোষের “বহুরূপী” গল্পে আতঙ্কের হুল্লা বেজে উঠেছিল চকের বাসস্ট্যান্ডে।
👉সেদিন হরিদা এক উন্মাদ পাগলের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। তাঁর মাথায় জটা, গায়ে খড়ি, কোমরে ছেঁড়া কম্বল এবং গলায় টিনের কৌটার মালা ছিল। তিনি অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করছিলেন এবং বাসের যাত্রীদের ভয় দেখাচ্ছিলেন। তাঁর এই ভয়ংকর চেহারা ও আচরণ দেখেই বাসস্ট্যান্ডে আতঙ্কের হুল্লা পড়ে যায়।
💡 ৬. “দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা ভয়াল তাঁহার নয়নকটায়,” — কবিতাটির মূল কাব্যগ্রন্থের নাম কী? দ্বাদশ রবির নাম লেখো।
✔️ উত্তর: 👉‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নি-বীণা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
👉পুরাণ অনুযায়ী দ্বাদশ রবির নাম হলো— অংশু, আর্যমা, বিবস্বান, ত্বষ্টা, পূষা, পর্জন্য, বরুণ, মিত্র, বিষ্ণু, ভগ, ধাতা এবং ইন্দ্র। কবিতায় এই দ্বাদশ রবির উল্লেখ ধ্বংসের ভয়ংকর তেজ ও শক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
💡 ৭. “কহিলা কাঁদিয়া ধনি;” — ‘ধনি’ কে? তাঁর কান্নার কারণ কী?
✔️ উত্তর: 👉মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কবিতায় ‘ধনি’ বলতে ইন্দ্রজিতের পত্নী প্রমীলা সুন্দরীকে বোঝানো হয়েছে।
👉লঙ্কাপুরী তখন রামচন্দ্রের সৈন্যবাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একের পর এক বীর যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। এই সংকটকালে স্বামী ইন্দ্রজিৎ তাঁকে ছেড়ে যুদ্ধে চলে যাবেন— এই আশঙ্কা ও বিরহবেদনায় প্রমীলা কেঁদে ওঠেন। একই সঙ্গে লঙ্কার ভয়াবহ পরিস্থিতিও তাঁর কান্নার অন্যতম কারণ।
💡 ৮. ‘বাবাই একদিন এর চাকরি করে দিয়েছিলেন।’ — বক্তা কে? তাঁর বাবা কাকে, কী চাকরি করে দিয়েছিলেন?
✔️ উত্তর: 👉শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে এই উক্তির বক্তা অপূর্ব।
👉তিনি বলেন যে তাঁর বাবা নিজের বন্ধু নিমাইবাবুকে পুলিশ বিভাগে চাকরি করে দিয়েছিলেন। সেই কারণে নিমাইবাবু অপূর্বর বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন এবং অপূর্বর সঙ্গে তাঁর একটি আত্মীয়তাসুলভ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
💡 ৯. “নিশুপারের সিংহদ্বার” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? সেখানকার আগল ভাঙার কথা বলা হয়েছে কেন?
✔️ উত্তর:👉কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘নিশুপারের সিংহদ্বার’ বলতে কবি অন্ধকার, পরাধীনতা ও জড়তাময় সমাজব্যবস্থার প্রতীকী দ্বারকে বুঝিয়েছেন।
👉এই দ্বারের আগল ভাঙার কথা বলা হয়েছে, কারণ পুরোনো কুসংস্কার, অন্যায় ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে না ফেললে নতুন যুগের সূচনা সম্ভব নয়। তাই প্রলয়ের মাধ্যমে পুরোনোকে ধ্বংস করে নতুনের আগমনের পথ প্রস্তুত করার কথা বলা হয়েছে।
💡 ১০. “অপূর্ব তাহার পরিচ্ছদের প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া মুখ ফিরাইয়া হাসি গোপন করিল।” — কার কথা বলা হয়েছে? তার পোশাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা দাও।
✔️ উত্তর: 👉 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “পথের দাবী” পাঠ্যাংশে গিরীশ মহাপাত্রের কথা বলা হয়েছে।
👉তাঁর পরনে ছিল রামধনু রঙের জাপানি সিল্কের পাঞ্জাবি, কালো মখমলের হাফকোট এবং পায়ে সবুজ ফুলমোজা। লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা জুতো, মাথাভর্তি তেলচিটে লম্বা চুল এবং হাতে বেতের ছড়ি তাঁর অদ্ভুত সাজকে আরও হাস্যকর করে তুলেছিল। এই বিচিত্র পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে অপূর্ব হাসি চেপে রাখতে পারেনি।
💡 ১১. “রক্ষঃ রক্ষকুল—মান, এ কালসমরে, রক্ষঃ-চূড়ামণি!” — উক্তিটির বক্তা কে? ইন্দ্রজিতের প্রতি বক্তার এই উক্তির কারণ কী?
✔️ উত্তর: 👉 মাইকেল মধুসূদন দত্তের “অভিষেক” কবিতায় উক্তিটির বক্তা হলেন রাবণ।
👉বীরবাহুর মৃত্যুর পর লঙ্কার সম্মান ও রাক্ষসবংশের গৌরব বিপন্ন হয়ে পড়ে। রামচন্দ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভের শেষ আশা ছিল মেঘনাদ বা ইন্দ্রজিৎ। তাই রাবণ তাঁকে রাক্ষসকুলের মর্যাদা রক্ষার জন্য কালসমরে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন এবং বংশের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেন।
💡 ১২. “বাঃ, এ তো বেশ মজার ব্যাপার!” — কোন্ ঘটনাকে ‘মজার ব্যাপার’ বলা হয়েছে? ঘটনাটি মজার কেন?
✔️ উত্তর:👉 সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার পুলিশ সেজে চারজন স্কুলছাত্রকে ভয় দেখানোর ঘটনাকে ‘মজার ব্যাপার’ বলা হয়েছে।
👉হরিদা এমন নিখুঁতভাবে পুলিশের অভিনয় করেছিলেন যে ছেলেরা সত্যিই তাঁকে পুলিশ ভেবে ভয় পেয়ে গিয়েছিল। এমনকি স্কুলের মাস্টারমশাইও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। একজন বহুরূপীর অসাধারণ অভিনয় ক্ষমতা ও সকলকে বোকা বানানোর ঘটনাই এটিকে অত্যন্ত মজার করে তুলেছে।
💡 ১২. “এ মায়া, পিতঃ, বুঝিতে না পারি!” — বক্তা কে? কোন্ ‘মায়া’ সে বুঝতে পারছে না?
✔️ উত্তর: 👉মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কবিতায় উক্তিটির বক্তা হলেন বীর ইন্দ্রজিৎ।
👉তিনি মায়ার বলে মৃত রামচন্দ্রের পুনরায় জীবিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারছিলেন না। কারণ ইন্দ্রজিৎ ইতিপূর্বে রামচন্দ্রকে ঘোর নিশিযুদ্ধে পরাজিত ও হত্যা করেছিলেন। তা সত্ত্বেও এক জন মানুষের এভাবে বারবার মৃত হয়েও পুনরায় বেঁচে ওঠার অলৌকিক ঘটনাকে ইন্দ্রজিৎ অত্যন্ত আশ্চর্যজনক ও দুর্বোধ্য বলে বর্ণনা করেছেন।
💡 ১৩. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।” — কোন্ জিনিসের কথা বলা হয়েছে? তা ‘দুর্লভ’ কেন?
✔️ উত্তর: 👉এখানে সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর পদধূলির কথা বলা হয়েছে।
👉সন্ন্যাসী অতি উঁচুদরের মানুষ ছিলেন এবং তিনি সহজে কাউকে তাঁর পায়ের ধুলো নিতে দিতেন না। জগদীশবাবু বিশেষ কৌশলে তাঁর জন্য এক জোড়া সোনার বোল লাগানো খড়ম তৈরি করে দিয়েছিলেন। সন্ন্যাসী সেই খড়ম পরার সময় জগদীশবাবু কৌশলে তাঁর পদধূলি সংগ্রহ করেছিলেন যা সাধারণের কাছে ছিল অত্যন্ত দুর্লভ।
💡 ১৪. “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে।” — বক্তা কে? তিনি কাকে, কেন একথা বলেছেন?
✔️ উত্তর: 👉শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে বক্তা হলেন পুলিশ অফিসার জগদীশবাবু।
👉 তিনি ছদ্মবেশী সব্যসাচী মল্লিক বা গিরীশ মহাপাত্রকে বিদ্রুপ করে কথাটি নিমাইবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন। গিরীশ মহাপাত্রের পকেটে গাঁজার কলকে থাকা সত্ত্বেও সে নির্লজ্জভাবে দাবি করেছিল যে সে নিজে গাঁজা খায় না, বরং পথে কুড়িয়ে পাওয়া কলকেটি অন্য কারও উপকারের জন্য সে রেখে দিয়েছে। তার এই স্পষ্ট মিথ্যাচার শুনেই জগদীশবাবু তাকে বিদ্রুপ করে ‘দয়ার সাগর’ বলেন।
💡 ১৫. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর!” — ‘তোরা’ কারা? কবি তাদের ‘জয়ধ্বনি’ করতে বলছেন কেন?
✔️ উত্তর: 👉নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘তোরা’ বলতে কবি পরাধীন ভারতবর্ষের বিপ্লবী যুবশক্তিকে বুঝিয়েছেন।
👉মহাকালের বিধ্বংসী রূপের মধ্য দিয়ে জীর্ণতা ও পরাধীনতার অবসান ঘটবে এবং নতুন সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হবে। পরাধীনতার অন্ধকার ঘুচিয়ে স্বাধীনতার নতুন আলোকবর্তিকা নিয়ে আসা নতুনের বিজয় কেতনকে বরণ করার জন্য কবি সমস্ত দেশবাসীকে সমস্বরে জয়ধ্বনি দিতে বলেছেন।
💡 ১৬. ‘বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে’ — বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও।
✔️ উত্তর: 👉 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “পথের দাবী” গল্পে বাবুটি হলেন পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সন্দেহে ধৃত গিরীশ মহাপাত্র।
👉তার সাজসজ্জা ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত ও শৌখিন। মাথায় লম্বা তেল-চিটচিটে চুল, পরনে জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি এবং তার ওপরে কালো মখমলের হাফকোট। পায়ে ছিল সবুজ রঙের ফুল মোজা এবং লাল ফিতে দিয়ে বাঁধা বার্নিশ করা জুতো। হাতে ছিল হরিণের শিংয়ের হাতল দেওয়া একটি শৌখিন বেতের ছড়ি।
💡 ১৭. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর!” — ‘সে’ কে? ভেঙে গড়ে তোলার বিষয়টি বুঝিয়ে দাও।
✔️ উত্তর: 👉নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘সে’ বলতে মহাকাল বা প্রলয়ঙ্কর শিবকে বোঝানো হয়েছে।
👉মহাকালের ধ্বংসাত্মক শক্তির আড়ালে আসলে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। জরাজীর্ণ, পুরাতন ও অসুন্দর সমাজকে বিনাশ না করলে নতুনের শুভ আগমন সম্ভব নয়। প্রলয় ধ্বংসের বেশে এলেও তা আসলে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে চিরসুন্দর ও নতুনের পথ প্রশস্ত করে। এভাবেই মহাকাল ভেঙে আবার নতুন করে গড়ার কাজে লিপ্ত থাকেন।
💡 ১৮. “পিঙ্গলতার জটায় হাসে” — ‘দিগম্বর’ কে? তাঁর জটায় কে হাসে এবং কেন?
✔️ উত্তর: 👉নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘দিগম্বর’ বলতে প্রলয়ঙ্কর শিবকে বোঝানো হয়েছে।
👉তাঁর পিঙ্গল রঙের জটায় শিশু-চাঁদ অর্থাৎ নবমীর চাঁদের ফালি হাসে। শিবের এই রুদ্র ও প্রলয়ঙ্কর মূর্তির জটায় স্নিগ্ধ চাঁদের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ধ্বংসের ভয়ংকর রূপের মধ্যেও নতুনের স্নিগ্ধতা ও সুন্দর প্রাণের উজ্জ্বল উপস্থিতিকে ইঙ্গিত করে। ধ্বংসের শেষে যে সুন্দরের প্রকাশ ঘটবে, শিশু-চাঁদটি সেই সৃষ্টিশীলতারই উজ্জ্বল প্রতীক।
💡 ১৯. ‘চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।’ — জগদীশবাবু কে? তিনি চমকে উঠলেন কেন?
✔️ উত্তর: 👉জগদীশবাবু হলেন ‘বহুরূপী’ গল্পের এক ধনী ও ধার্মিক ব্যক্তি।
👉বিরাগী ছদ্মবেশী হরিদা যখন পরম নিস্পৃহ ও শান্ত মেজাজে জগদীশবাবুর বাড়ির আঙিনায় এসে দাঁড়ান, তখন তাঁর অলৌকিক রূপের জ্যোতি ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব দেখে জগদীশবাবু চমকে গিয়েছিলেন। একজন সাধারণ ভিখারি বা আগন্তুকের পরিবর্তে এমন এক তেজস্বী ও নির্মোহ রূপবান বিরাগীকে চোখের সামনে দেখে জগদীশবাবুর বিস্ময়ের সীমা ছিল না।
💡 ২০. “পিঙ্গলতার জটায় হাসে” — ‘দিগম্বর’ কে? তাঁর জটায় কে হাসে এবং কেন?
✔️ উত্তর:👉 নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘দিগম্বর’ বলতে প্রলয়ঙ্কর শিবকে বোঝানো হয়েছে।
👉তাঁর পিঙ্গল রঙের জটায় শিশু-চাঁদ অর্থাৎ নবমীর চাঁদের ফালি হাসে। শিবের এই রুদ্র ও প্রলয়ঙ্কর মূর্তির জটায় স্নিগ্ধ চাঁদের অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ধ্বংসের ভয়ংকর রূপের মধ্যেও নতুনের স্নিগ্ধতা ও সুন্দর প্রাণের উজ্জ্বল উপস্থিতিকে ইঙ্গিত করে। ধ্বংসের শেষে যে সুন্দরের প্রকাশ ঘটবে, শিশু-চাঁদটি সেই সৃষ্টিশীলতারই উজ্জ্বল প্রতীক।
💡 ২১. ‘চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।’ — জগদীশবাবু কে? তিনি চমকে উঠলেন কেন?
✔️ উত্তর: 👉সুবোধ ঘোষের “বহুরূপী” গল্পে জগদীশবাবু হলেন এক ধনী ও ধার্মিক ব্যক্তি।
👉বিরাগী ছদ্মবেশী হরিদা যখন পরম নিস্পৃহ ও শান্ত মেজাজে জগদীশবাবুর বাড়ির আঙিনায় এসে দাঁড়ান, তখন তাঁর অলৌকিক রূপের জ্যোতি ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব দেখে জগদীশবাবু চমকে গিয়েছিলেন। একজন সাধারণ ভিখারি বা আগন্তুকের পরিবর্তে এমন এক তেজস্বী ও নির্মোহ রূপবান বিরাগীকে চোখের সামনে দেখে জগদীশবাবুর বিস্ময়ের সীমা ছিল না।
💡 ২২. “খুব উঁচু দরের সন্ন্যাসী।” — সন্ন্যাসীর পরিচয় দাও।
✔️ উত্তর:সুবোধ ঘোষের “বহুরূপী” গল্পে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী ছিলেন হিমালয়ের এক উঁচুদরের সাধক। তাঁর বয়স ছিল হাজার বছরেরও বেশি এবং তিনি বছরে মাত্র একটি হরিতকী খেয়ে জীবন ধারণ করতেন। তিনি কাউকে সহজে পদধূলি দিতেন না। জগদীশবাবু বিশেষ কৌশলে সোনার বোল লাগানো খড়ম পরিয়ে তাঁর পদধূলি সংগ্রহ করেছিলেন। সন্ন্যাসী ছিলেন পার্থিব সব লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে এক নির্মোহ মহাপুরুষ।
💡 ২৩. “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।” — বক্তা কে? তিনি কেন একথা বলেছেন?
✔️ উত্তর: 👉 মধুসূদন দত্তের “অভিষেক” কবিতায় উক্তিটির বক্তা হলেন লঙ্কার রাজা রাবণ।
👉 পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদে তিনি শোকাহত ছিলেন। কিন্তু তাঁর বিস্ময়ের কারণ ছিল এই যে, রামচন্দ্রকে মেঘনাদ ইতিপূর্বে হত্যা করার পরেও তিনি অলৌকিক মায়াবলে পুনরায় জীবিত হয়ে বীরবাহুকে হত্যা করেছেন। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম ভেঙে মৃত রামের এই পুনর্জীবন দেখেই রাবণের মনে হয়েছে যে ভাগ্য বা বিধাতা তাঁর প্রতি বিমুখ হয়েছেন।
💡 ২৪. “আপনি একটা মিনিট থাকুন বিরাগীজি।” — বক্তা কে? তিনি কাকে কেন অপেক্ষা করতে বললেন?
✔️ উত্তর: 👉সুবোধ ঘোষের “বহুরূপী” গল্পে উক্তিটির বক্তা হলেন জগদীশবাবু।
👉তিনি বিরাগী ছদ্মবেশী হরিদাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। জগদীশবাবু বিরাগীর শান্ত ও নির্মোহ রূপ দেখে অভিভূত হয়েছিলেন এবং তাঁকে তীর্থ ভ্রমণের খরচ হিসেবে একশো টাকা দিতে চেয়েছিলেন। বিরাগীর ঝোলার ভেতর সেই টাকা সন্তর্পণে ঢুকিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বাড়ির ভেতর টাকা আনতে যাওয়ার সময় বিরাগীজিকে এক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে অনুরোধ করেন।
💡 ২৫. ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?’ — ধ্বংসকে ভয় না পাওয়ার কারণ কী?
✔️ উত্তর: নজরুল ইসলামের মতে, ধ্বংস আসলে নতুন সৃষ্টিরই পূর্বাভাস। পুরাতন, জীর্ণ ও পরাধীন ভারতবর্ষের পচা-গলা সমাজব্যবস্থাকে ধ্বংস না করলে নতুন ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মহাকাল বা শিব ধ্বংসের বেশে এলেও তাঁর মূল লক্ষ্য হলো অশুভকে বিনাশ করে কল্যাণময় নতুন পৃথিবী গড়া। তাই ধ্বংসের এই প্রলয়োল্লাস দেখে আতঙ্কিত না হয়ে বরং তাকে স্বাগত জানানো উচিত বলে কবি মনে করেন।
💡 ২৬. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।” — ‘অদৃষ্ট’ বলতে কী বোঝ? হরিদার সম্পর্কে এমন উক্তি কেন করা হয়েছে?
✔️ উত্তর: 👉সুবোধ ঘোষের “বহুরূপী” গল্পে ‘অদৃষ্ট’ বলতে এখানে মানুষের ভাগ্য বা বিধাতাকে বোঝানো হয়েছে।
👉হরিদা চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও বহুরূপী সেজে জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকার তোড়া অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর মতো অভাবী মানুষের পক্ষে এত বড় আর্থিক সুযোগ ছেড়ে দেওয়াকে তাঁর বন্ধুরা নিছক বোকামি বা ভুল বলে মনে করেছিলেন। সেই কারণেই বক্তা আক্ষেপ করে বলেছেন যে ভাগ্য হরিদাকে এমন বড় সুযোগ বারবার দেবে না।
💡 ২৭. ‘এবার মহানিশার শেষে / আসবে ঊষা অরুণ হেসে’ — ‘মহানিশা’ কী? এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে কবি কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?
✔️ উত্তর:👉কবি কাজী নজরুল ইসলামের “প্রলয়োল্লাস” কবিতায় ‘মহানিশা’ বলতে কবি পরাধীনতার গভীর অন্ধকারময় সময়কে বুঝিয়েছেন।
👉যেমন দীর্ঘ রজনীর শেষে ভোরের রক্তিম সূর্য উদিত হয়, তেমনি দীর্ঘকাল ধরে চলা পরাধীনতার গ্লানি ও শোষণ শীঘ্রই শেষ হবে বলে কবি বিশ্বাস করেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে কবি নজরুল ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের ফলে ভারতের মুক্তি আসন্ন এবং স্বাধীনতার নতুন প্রভাত শীঘ্রই দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটাবে।
💡 ২৮. ‘অভিষেক’ কাব্যাংশ অবলম্বনে কার, কীভাবে অভিষেক হয়েছিল বুঝিয়ে দাও।
✔️ উত্তর: মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে বীর ইন্দ্রজিতের সেনাপতি পদে অভিষেক হয়েছিল। বীরবাহুর মৃত্যুতে লঙ্কা যখন অভিভাবকহীন, তখন ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধের দায়িত্ব দিতে রাবণ অগ্রসর হন। যথানিয়মে গঙ্গোদক বা পবিত্র জল দিয়ে ইন্দ্রজিতের মস্তক অভিষেক করা হয়। পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণ এবং ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে লঙ্কার অধিপতি রাবণ তাঁর প্রিয় পুত্রকে মহাসমারোহে রাক্ষস বাহিনীর সেনাপতি পদে বরণ বা অভিষেক করেন।
💡 ২৯. হরিদার সংসার কীভাবে চলে?
✔️ উত্তর: হরিদার সংসার চলে অত্যন্ত অনিশ্চয়তা ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে। তিনি কোনো নির্দিষ্ট পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে তিনি রাস্তায় বের হতেন এবং লোকজনকে আনন্দ দিয়ে যা সামান্য বক্সিশ পেতেন, তা দিয়েই কোনোমতে তাঁর দিন চলত। অনেক সময় তাঁর বাড়িতে উনুন জ্বলত না, ভাতের বদলে হাঁড়িতে কেবল জল ফুটত। তাঁর জীবন ছিল এক বিচিত্র অভাব আর শিল্পের সংমিশ্রণ।
💡 ৩০. “সেদিকে ভুলেও একবার তাকালেন না বিরাগী।” — বিরাগী কোন্ দিকে কেন তাকালেন না?
✔️ উত্তর: বিরাগী ছদ্মবেশী হরিদা জগদীশবাবুর দেওয়া একশো টাকার তোড়ার দিকে ভুলেও তাকাননি। জগদীশবাবু অনেক ভক্তিভরে সেই টাকা বিরাগীর তীর্থ ভ্রমণের জন্য দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হরিদা বিরাগী সেজে টাকার প্রতি বিন্দুমাত্র মোহ দেখাননি। একজন সত্যিকারের বিরাগীর বৈশিষ্ট্য হলো কাঞ্চন বা সম্পদের প্রতি সম্পূর্ণ অনাসক্তি বজায় রাখা। তাঁর সেই শিল্পের ‘ঢং’ বজায় রাখতেই তিনি টাকার দিকে ফিরেও তাকাননি।
💡 ৩১. “কহিলা রাক্ষসপতি;” — ‘রাক্ষসপতি’ কে? তিনি কাকে কী কথা বলেছিলেন?
✔️ উত্তর:👉 ‘রাক্ষসপতি’ হলেন লঙ্কার রাজা রাবণ।
👉তিনি বীর ইন্দ্রজিৎকে উদ্দেশ্য করে কথাগুলি বলেছিলেন। বীরবাহুর অকাল মৃত্যুতে শোকাতুর রাবণ ইন্দ্রজিৎকে জানিয়েছিলেন যে, শত্রু রামচন্দ্র অলৌকিক মায়াবলে পুনরায় বেঁচে উঠেছেন এবং লঙ্কার বীরদের হত্যা করছেন। এমতাবস্থায় লঙ্কার মান ও বংশের মর্যাদা রক্ষার জন্য তিনি ইন্দ্রজিৎকে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার এবং রাক্ষস বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৪/৫):
💡 ১. “হায়, বিধি বাম মম প্রতি।” — কে, কাকে উদ্দেশ্য করে উক্তিটি করেছেন? বক্তার এরূপ আক্ষেপের কারণ কী? (২+৩)
✔️ উত্তর: মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘অভিষেক’ কাব্যাংশে লঙ্কার অধিপতি রাবণ তাঁর পুত্র ইন্দ্রজিৎকে উদ্দেশ্য করে এই আক্ষেপোক্তিটি করেছেন।
✔️ আক্ষেপের কারণ: রাবণ এক চরম শোকাচ্ছন্ন এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় এই উক্তিটি করেন। তাঁর অন্যতম বীর পুত্র বীরবাহু রামচন্দ্রের হাতে যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। কিন্তু রাবণের এই শোকের চেয়েও বড় কারণ ছিল এক গভীর বিস্ময়। ইন্দ্রজিৎ ইতিপূর্বে রামচন্দ্রকে ঘোর নিশিযুদ্ধে পরাজিত ও খণ্ড খণ্ড করে কেটে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু সেই মৃত রামচন্দ্র অলৌকিক মায়াবলে পুনরায় জীবিত হয়ে ফিরে এসে বীরবাহুকে বধ করেছেন। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে মৃত মানুষের পুনর্জীবিত হওয়া অসম্ভব। রাবণ বুঝতে পারেন যে শত্রু রামচন্দ্র সাধারণ কোনো মানব নন, বরং তাঁর পিছনে কোনো এক অশুভ মায়া বা দৈব শক্তি কাজ করছে। নিজের অজেয় বীরত্ব সত্ত্বেও ভাগ্যের এমন প্রতিকূলতা এবং একের পর এক বীর স্বজনদের মৃত্যু দেখে রাবণের মনে হয়েছে যে স্বয়ং বিধাতা বা ভাগ্যদেবতা তাঁর প্রতি বিমুখ হয়েছেন। অসম্ভব সব ঘটনা তাঁর বিরুদ্ধে ঘটছে বলেই তিনি এই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
💡 ২. একজন সামান্য মানুষ হয়েও ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা কীভাবে অসামান্য হয়ে উঠেছেন? (৫)
✔️ উত্তর: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদা ছিলেন শহরের এক সংকীর্ণ গলির অতি সাধারণ দরিদ্র বাসিন্দা। কিন্তু তাঁর অসামান্যতা ফুটে উঠেছে তাঁর শিল্পীসত্তা এবং চারিত্রিক দৃঢ়তার মধ্য দিয়ে। হরিদা পেশায় ছিলেন একজন ‘বহুরূপী’। অভাব তাঁর নিত্যসঙ্গী হলেও তিনি ঘড়ির কাঁটা ধরা একঘেয়ে কোনো অফিসের কাজ বেছে নেননি, কারণ তিনি ছিলেন জন্মগতভাবে একজন স্বাধীনচেতা শিল্পী। তাঁর বহুরূপী সাজের পারদর্শিতা এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে তিনি পেশাদার হয়েও সাধারণ মানুষকে তো বটেই, এমনকি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও বিভ্রান্ত করতে পারতেন।
গল্পের শেষে আমরা দেখি, হরিদা বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে যান। তাঁর শান্ত ও নির্মোহ রূপ দেখে জগদীশবাবু মুগ্ধ হয়ে তাঁকে তীর্থ ভ্রমণের জন্য একশো টাকা দিতে চেয়েছিলেন। চরম দারিদ্র্য এবং ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করেও হরিদা সেই টাকার তোড়া অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, একজন বিরাগী হয়ে টাকা গ্রহণ করলে তাঁর সাজের ‘ঢং’ বা শিল্পের মর্যাদা নষ্ট হয়ে যাবে। একজন সামান্য বহুরূপী হয়েও অর্থের লোভ সংবরণ করে নিজের শিল্পের আদর্শকে সবার উপরে স্থান দেওয়ার এই যে নৈতিক সাহস ও আত্মমর্যাদা, এটিই হরিদাকে অতি সাধারণ স্তর থেকে এক অসামান্য মহিমান্বিত চরিত্রে উন্নীত করেছে।
💡 ৩. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।” — বাবুটি কে? তার সাজসজ্জার পরিচয় দাও। (১+৪)
✔️ উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে ‘বাবুটি’ হলেন পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক সন্দেহে আটক হওয়া অদ্ভুত চরিত্রের মানুষ গিরীশ মহাপাত্র।
✔️ সাজসজ্জার পরিচয়: গিরীশ মহাপাত্রের সাজসজ্জা ছিল অদ্ভুত, রুচিহীন অথচ অতি-শৌখিনতার এক বিচিত্র মিশ্রণ। তাঁর মাথায় লম্বা তেল-চিটচিটে চুলের মাঝখানে সিঁথি কাটা ছিল। পরনে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি এবং তার ওপর একটি কালো মখমলের হাফকোট। কাঁধে ছিল এক জরাজীর্ণ ও মলিন উত্তরীয়। সবচেয়ে হাস্যকর ছিল তাঁর পায়ের সাজ; হাঁটু পর্যন্ত তোলা সবুজ রঙের ফুল মোজার ওপর লাল ফিতে দিয়ে কষে বাঁধা ছিল এক জোড়া বার্নিশ করা জুতো। তাঁর হাতে ছিল হরিণের শিংয়ের হাতল দেওয়া একটি শৌখিন বেতের ছড়ি। অসুস্থ শরীর, কোটরাগত চোখ এবং ভগ্ন স্বাস্থ্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁর পোশাকের এই জবরজং বাহার দেখে অপূর্ব নিজের হাসি চেপে রাখতে পারেনি। পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য এমন এক বিচিত্র শৌখিনতার ছদ্মবেশ ধারণ করার পরিকল্পনাটি গিরীশ মহাপাত্রের চরিত্রের এক বিশেষ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়।
💡 ৪. “উত্তরিলা বীরদর্পে অসুরারি-রিপু;” — ‘অসুরারি-রিপু’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? তিনি যে উত্তর দান করেছেন তার মধ্য দিয়ে তাঁর কোন্ মানসিকতার পরিচয় ঘটেছে, বিশ্লেষণ করো। (১+৪)
✔️ উত্তর: ‘অসুরারি-রিপু’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো দেবতাদের শত্রু, যা এখানে বীর ইন্দ্রজিৎকে (মেঘনাদ) বোঝানো হয়েছে।
✔️ মানসিকতা বিশ্লেষণ: ধাত্রী প্রভাষার ছদ্মবেশে দেবী লক্ষ্মীর কাছে লঙ্কার ঘোর বিপদ এবং ভাই বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ শুনে ইন্দ্রজিৎ বীরদর্পে উত্তর দিয়েছিলেন। তাঁর এই উত্তরের মধ্য দিয়ে প্রখর দেশপ্রেম, বীরত্ব এবং গভীর আত্মমর্যাদাবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে নিজেকে ধিক্কার দিয়েছেন এই ভেবে যে, লঙ্কার বীর সন্তানরা যখন শত্রুর হাতে প্রাণ হারাচ্ছে, তখন তিনি প্রমোদ উদ্যানে নারীদের সঙ্গে আমোদ-প্রমোদে মগ্ন রয়েছেন। শত্রু রামচন্দ্র লঙ্কা অবরোধ করে রেখেছে শুনে তাঁর রক্ত টগবগ করে ওঠে। তিনি অবিলম্বে ইষ্টদেবের পূজা সেরে যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে রাঘবকে সমূলে নির্মূল করার সংকল্প নেন। তাঁর এই প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কোনো ভয় বা দ্বিধা ছিল না, বরং ছিল একজন প্রকৃত যোদ্ধার দায়িত্ববোধ। পরিবারের শোক এবং দেশের অপমানকে তিনি নিজের ব্যক্তিগত সুখের চেয়ে অনেক বড় করে দেখেছেন। তাঁর বীরদর্পী উত্তরটি লঙ্কার প্রতি তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও শত্রুকে দমনের মরণপণ অঙ্গীকারকে ফুটিয়ে তুলেছে।
💡 ৫. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।” — বাবুটি কে? তার স্বাস্থ্য ও সাজসজ্জার পরিচয় দাও। (১+৪)
✔️ উত্তর: এখানে ‘বাবুটি’ হলেন রাজবন্দি সন্দেহে ধৃত ব্যক্তি গিরীশ মহাপাত্র।
✔️ স্বাস্থ্য ও সাজসজ্জা: গিরীশ মহাপাত্রের স্বাস্থ্য ছিল অত্যন্ত রুগ্ণ এবং ভগ্নপ্রায়। তাঁর কাশির শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল তিনি সম্ভবত যক্ষ্মা বা অন্য কোনো মরণব্যাধিতে আক্রান্ত এবং তাঁর আয়ু আর বেশিদিন নেই। গাঁজা সেবনের ফলে তাঁর চোখ দুটি কোটরাগত ছিল কিন্তু সেখানে এক অদ্ভুত বর্ণহীন আগুনের মতো তেজ বর্তমান ছিল। তাঁর সাজসজ্জা ছিল চূড়ান্ত রকমের জবরজং। রামধনু রঙের পাঞ্জাবি, মখমলের হাফকোট এবং হাঁটু পর্যন্ত তোলা সবুজ মোজার সাথে লাল ফিতে দেওয়া জুতোর অদ্ভুত কম্বিনেশন তাঁকে হাস্যকর করে তুলেছিল। এছাড়া তাঁর পকেটে পাওয়া গিয়েছিল লোহার ফুটরুল, একটি কম্পাস, কয়েকটা বিড়ি, একটি দেশলাই এবং একটি গাঁজার কলকে। এই রুগ্ণ শরীর নিয়ে পোশাক-পরিচ্ছদে এমন অদ্ভুত শৌখিনতা বজায় রাখা তাঁর ছদ্মবেশী ব্যক্তিত্বের একটি অংশ ছিল, যাতে কেউ তাঁকে বিপ্লবী হিসেবে সন্দেহ না করে একজন ভবঘুরে বা শৌখিন মানুষ বলে মনে করে।
💡 ৬. “অভিষেক করিলা কুমারে।” — কুমার কে? পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে কুমারের চরিত্র আলোচনা করো। (১+৪)
✔️ উত্তর: ‘কুমার’ বলতে রাবণের পুত্র ইন্দ্রজিৎ বা মেঘনাদকে বোঝানো হয়েছে।
✔️ চরিত্র আলোচনা: ইন্দ্রজিতের চরিত্রে বীরত্ব, কোমলতা ও দেশপ্রেমের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়। প্রথমত, তিনি ছিলেন একজন অজেয় যোদ্ধা; লঙ্কার বিপদের খবর পাওয়া মাত্রই তিনি সমস্ত বিলাসিতা ত্যাগ করে রণসজ্জায় সজ্জিত হন। দ্বিতীয়ত, তাঁর চরিত্রে পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বিদ্যমান। স্ত্রীর বিরহ আশঙ্কায় তিনি যেমন ব্যথিত হন, তেমনই পিতার আশীর্বাদ নিয়ে লঙ্কার মান রক্ষার গুরুভার নিজ কাঁধে তুলে নেন। ইন্দ্রজিৎ ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী; ভাই বীরবাহুর মৃত্যুর জন্য তিনি নিজেকেই পরোক্ষভাবে দায়ী মনে করেছেন এবং বিধাতার প্রতিকূলতার মাঝেও হার না মানার মানসিকতা দেখিয়েছেন। তিনি রামচন্দ্রকে দৈব মায়া বলে জানলেও যুদ্ধের ময়দান থেকে পিছু হটেননি। ইষ্টদেবের আরাধনা করে এবং যথানিয়মে অভিষেক সম্পন্ন করে তিনি লঙ্কার রক্ষাকবচ হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে একজন আদর্শ ট্র্যাজিক হিরোর মর্যাদা পেয়েছেন।
🌹সিরাজদ্দৌলা🌹
💡 ১. ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটক অবলম্বনে সিরাজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
✔️ উত্তর:
সচিন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে নবাব সিরাজদ্দৌলা একজন ট্র্যাজিক নায়ক এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে ধরা দিয়েছেন। তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর অকৃত্রিম দেশপ্রেম। ইংরেজদের ষড়যন্ত্র এবং তাঁর নিজের আত্মীয়দের বিশ্বাসঘাতকতার মাঝেও তিনি বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তিনি ক্ষমাশীল এবং আবেগপ্রবণ ছিলেন; বিশেষ করে ঘসেটি বেগমের চরম প্রতিহিংসার মুখেও নবাবের সংযত আচরণ তাঁর মহানুভবতার পরিচয় দেয়। নবাব হওয়ার কারণে তিনি অনেক সময় কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না এবং নিজের কাছের মানুষদের বিশ্বাস করে বারবার প্রতারিত হয়েছেন। হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তিনি সবাইকে এক হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর পরাজয় ব্যক্তিগত ছিল না, তা ছিল এক ট্র্যাজিক বীরের দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধের পরাজয়। একই সঙ্গে তাঁর মধ্যে সাহস, দায়িত্ববোধ এবং প্রজাদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসাও লক্ষ করা যায়। এসব গুণের জন্য তিনি বাংলা ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও করুণ নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
💡 ২. “মনে হয়, ওর নিশ্বাসে বিষ, ওর দৃষ্টিতে আগুন, ওর অঙ্গ-সঞ্চালনে ভূমিকম্প!” — ‘ওর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে? বক্তার উদ্দিষ্টের প্রতি এমন মন্তব্যের কারণ আলোচনা করো।
✔️ উত্তর:
এখানে ‘ওর’ বলতে নবাব সিরাজদ্দৌলার মাসি ঘসেটি বেগমকে বোঝানো হয়েছে। ঘসেটি বেগম আদ্যোপান্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং স্বার্থান্বেষী এক চরিত্র। তিনি নবাবের পরম শত্রু ইংরেজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন। ঘসেটি বেগমের স্বামী এবং পুত্রের মৃত্যুর পর তিনি তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা হারিয়েছিলেন এবং এর জন্য তিনি সিরাজকেই দায়ী করতেন। তাঁর হৃদয়ে সিরাজের প্রতি কোনো স্নেহ ছিল না, বরং ছিল সীমাহীন ঘৃণা। তিনি সিরাজের পতন এবং ধ্বংস দেখার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তাঁর এই উগ্র বিদ্বেষ, প্রতিহিংসা এবং নবাবের ধ্বংস কামনার তীব্রতা বোঝাতেই সিরাজ এমন মন্তব্য করেছেন। ঘসেটির চোখের আগুন এবং অন্তরের বিষ সিরাজের রাজ্য ও জীবনের স্থায়িত্বকে বিপন্ন করে তুলছিল, যা ভূমিকম্পের মতো প্রলয়ঙ্করী ছিল। তাঁর ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপ বাংলার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও নষ্ট করেছিল। তাই সিরাজ তাঁর সম্পর্কে এত তীব্র ও রূপকধর্মী মন্তব্য করেছিলেন।
💡 ৩. “বাংলার মান, বাংলার মর্যাদা, বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়াসে আপনারা আপনাদের শক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, সর্বকর্মে আমাকে সাহায্য করুন।” — সিরাজ কাদের কাছে এই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন? কেন তিনি এই সাহায্যের প্রত্যাশী হয়েছেন?
✔️ উত্তর:
নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর রাজসভার হিন্দু ও মুসলিম সভাসদ এবং অভিজাত বীরদের কাছে এই সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের সঙ্গে আসন্ন যুদ্ধের গুরুত্ব উপলব্ধি করে নবাব এই আবেদন করেন।
কারণ: নবাব জানতেন যে ইংরেজরা অত্যন্ত চতুর এবং তারা বাংলার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। অন্যদিকে, তাঁর নিজের রাজসভার মিরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠের মতো মানুষেরা ইংরেজদের সঙ্গে গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। বাংলার অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতি ইংরেজদের শক্তিশালী করে তুলছিল। নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে একা তাঁর পক্ষে এই শক্তিশালী বিদেশি শক্তি এবং ঘরের শত্রুদের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। বাংলার সম্মান, মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সকল সম্প্রদায় ও শ্রেণির মানুষের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ ভুলে দেশরক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই আবেদন দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা এবং জাতীয় ঐক্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে নাটকে বিশেষ তাৎপর্য লাভ করেছে।
💡 ৪. “মুন্সিজি, এই পত্রের মর্ম সভাসদদের বুঝিয়ে দিন।” — কে, কাকে পত্র লিখেছিলেন? পত্রটিতে কী লেখা ছিল?
✔️ উত্তর:
সচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে উল্লিখিত পত্রটি ইংরেজ নৌ-সেনাপতি অ্যাডমিরাল ওয়াটসন বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলাকে লিখেছিলেন। নবাবের সভায় পত্রটি পৌঁছালে তিনি মুন্সিজিকে তার বক্তব্য সকল সভাসদের কাছে ব্যাখ্যা করে বলতে নির্দেশ দেন।
পত্রটিতে ইংরেজদের চরম ঔদ্ধত্য, দম্ভ এবং হুমকির ভাষা প্রকাশ পেয়েছিল। ওয়াটসন লিখেছিলেন যে ইংরেজরা তাদের দাবি ও শর্তসমূহ অবিলম্বে কার্যকর করতে চায়। নবাব যদি সেই শর্ত মানতে অস্বীকার করেন, তাহলে তারা বিপুল সৈন্যবাহিনী ও শক্তিশালী নৌবহর নিয়ে বাংলায় আক্রমণ চালাবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন হলে সারা দেশে অগ্নিসংযোগ করে রাজ্য ধ্বংস করতেও তারা পিছপা হবে না বলে হুমকি দেয়। এই পত্রের মাধ্যমে ইংরেজদের প্রকৃত সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাণিজ্যের আড়ালে তারা যে বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করছিল, এই পত্র ছিল তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। তাই পত্রটি নবাব ও সভাসদদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তোলে।
💡 ৫. “বাংলার এই দুর্দিনে আমাকে ত্যাগ করবেন না।” — কে, কাদের উদ্দেশে একথা বলেছেন? এই উক্তির মধ্যে দিয়ে বক্তার কোন্ মানসিকতার প্রকাশ পেয়েছে, লেখো।
✔️ উত্তর:
সচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাট্যাংশে বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা তাঁর রাজসভার প্রভাবশালী হিন্দু ও মুসলিম সভাসদদের, বিশেষত মিরজাফর, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখের উদ্দেশে এই আবেদন জানিয়েছিলেন। পলাশীর যুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছিল। ইংরেজদের ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র নবাবকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছিল।
এই উক্তির মাধ্যমে নবাবের গভীর দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ, অসহায়তা এবং উদ্বেগের পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে একার পক্ষে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। তাই তিনি ব্যক্তিগত অহংকার ত্যাগ করে সকলকে বাংলার স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থই বড় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এই উক্তির মধ্যে এক নিঃসঙ্গ শাসকের বেদনা ও বিশ্বাসঘাতকতার আশঙ্কাও প্রকাশ পেয়েছে, যা তাঁর চরিত্রকে আরও মর্মস্পর্শী করে তুলেছে।
🌹কোণি🌹
💡 ১. “তোর আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে।” — কোন্ প্রসঙ্গে, কার উক্তি? মন্তব্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (২+৩)
✔️ উত্তর:
মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে উক্তিটি সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ তাঁর ছাত্রী কোনিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন। কোনি ছিল অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। নানা সামাজিক অবহেলা, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রতিযোগিতার পথে অসংখ্য বাধার কারণে সে অনেক সময় হতাশ ও নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ত। এমনই এক পরিস্থিতিতে ক্ষিতীশ সিংহ তাকে উৎসাহ ও সাহস জোগানোর জন্য এই কথাটি বলেন।
উক্তিটির তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। ক্ষিতীশ সিংহ বোঝাতে চেয়েছেন যে, কোনির জীবনের সমস্ত অপমান, ব্যর্থতা ও দারিদ্র্যের গ্লানি দূর করার একমাত্র পথ হলো সাঁতারে সাফল্য অর্জন। জলের মধ্যেই তার সংগ্রাম, পরীক্ষা এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্র। যদি সে পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে পারে, তবে সেই জলই তাকে সম্মান, খ্যাতি এবং গর্ব এনে দেবে। অন্যদিকে ব্যর্থ হলে অপমানও সেখানেই থেকে যাবে। তাই ক্ষিতীশ কোনিকে লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়ে কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। উক্তিটির মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সংগ্রামী মনোভাব এবং সাফল্যের মাধ্যমে আত্মমর্যাদা অর্জনের অনুপ্রেরণা নিহিত রয়েছে।
💡 ২. “যন্ত্রণাকে বোঝ, ওটাকে কাজে লাগাতে শেখ, ওটাকে হারিয়ে দে।” — কোন্ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বক্তা কোনিকে যন্ত্রণা বুঝতে বাধ্য করেছিলেন? ‘ওটাকে কাজে লাগাতে শেখ, ওটাকে হারিয়ে দে’ বলার কারণ কী ছিল? (৩+২)
✔️ উত্তর:
মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে বক্তা ক্ষিতীশ সিংহ তাঁর ছাত্রী কোনিকে উদ্দেশ্য করে এই কথাগুলি বলেছিলেন। একজন সফল সাঁতারু হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি কোনিকে অত্যন্ত কঠোর অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। গঙ্গার প্রতিকূল স্রোতে দীর্ঘ সময় সাঁতার কাটা, শীতের কনকনে ভোরে কিংবা প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও নিয়মিত অনুশীলন করা এবং ক্লান্ত শরীর নিয়ে বারবার জলে নামা— এসব পরিস্থিতির মাধ্যমে তিনি কোনিকে শারীরিক যন্ত্রণা ও কষ্টের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছিলেন। অনেক সময় বিশ্রামের প্রয়োজন হলেও ক্ষিতীশ তাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করাতেন।
‘ওটাকে কাজে লাগাতে শেখ, ওটাকে হারিয়ে দে’ বলার কারণ ছিল কোনির মধ্যে অদম্য মানসিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা। ক্ষিতীশ বিশ্বাস করতেন, যন্ত্রণাকে ভয় না পেয়ে যদি তাকে শক্তিতে পরিণত করা যায়, তাহলে সাফল্য অর্জন সহজ হয়। তিনি চেয়েছিলেন কোনি যেন কষ্টকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখে, বরং জয়ের প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে। শরীরের ক্লান্তি ও যন্ত্রণাকে জয় করতে পারলে জীবনের বড় বড় বাধাও অতিক্রম করা সম্ভব। এই মানসিক দৃঢ়তাই শেষ পর্যন্ত কোনিকে একজন সফল সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
💡 ৩. “ক্ষিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?” — বক্তা কে? উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে তাদের সাহায্য করেছেন? (১+৪)
✔️ উত্তর:
মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে উক্তিটির বক্তা হলো কোনি। তার বড় ভাই কামু, যিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন, যক্ষ্মা রোগে (টিবি) আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। সেই অসহায় অবস্থায় ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা ও খাদ্যের অভাবের কথা ভেবে কোনি তার সাঁতারের কোচ ক্ষিতীশ সিংহ (ক্ষিদ্দা)-কে এই প্রশ্নটি করেছিল।
ক্ষিতীশ সিংহ তখন শুধু একজন প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেননি, বরং একজন অভিভাবকের মতো কোনি ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পর্যাপ্ত খাবার ও পুষ্টির অভাবে কোনির সাঁতারের অনুশীলন ব্যাহত হবে। তাই নিজের সীমিত আয়ের মধ্য থেকেও তিনি কোনির জন্য দুধ, ডিম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি তিনি কোনিকে মানসিক সাহস জুগিয়েছিলেন এবং দারিদ্র্যের কাছে হার না মানার শিক্ষা দিয়েছিলেন। ক্ষিতীশ বিশ্বাস করতেন যে কঠোর পরিশ্রম ও সাঁতারে সাফল্যের মাধ্যমেই কোনি একদিন নিজের ভাগ্য বদলাতে পারবে। তাঁর স্নেহ, ত্যাগ, উৎসাহ এবং দায়িত্ববোধ কোনিকে জীবনের কঠিন সংগ্রামে এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছিল এবং একজন সফল সাঁতারু হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।
💡 ৪. ‘কোনি’ গল্পে ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্র আলোচনা করো।
✔️ উত্তর:
মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ বা ক্ষিদ্দা অন্যতম প্রধান ও স্মরণীয় চরিত্র। তিনি একজন দক্ষ সাঁতার প্রশিক্ষক, কঠোর অনুশাসনপ্রিয় কোচ এবং একই সঙ্গে মানবিক ও আদর্শবান ব্যক্তি। তাঁর চরিত্রে একদিকে যেমন দৃঢ়তা ও সংগ্রামী মানসিকতা দেখা যায়, অন্যদিকে তেমনি স্নেহ, মমতা ও দায়িত্ববোধও লক্ষ করা যায়।
ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন প্রকৃত প্রতিভার উপাসক। সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র পরিবারের মেয়ে কোনির মধ্যে তিনি অসাধারণ সাঁতার প্রতিভা খুঁজে পেয়েছিলেন। নানা বাধা, অপমান ও দারিদ্র্য সত্ত্বেও তিনি কোনিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছেন। তাঁর বিখ্যাত মন্ত্র— “ফাইট, কোনি, ফাইট” কোনির জীবনের প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল।
তিনি অত্যন্ত কঠোর প্রশিক্ষক ছিলেন। কঠিন অনুশীলনের মাধ্যমে কোনিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলেছিলেন। তবে তাঁর কঠোরতার আড়ালে ছিল গভীর স্নেহ। কামুর মৃত্যুর পর কোনির পরিবার যখন চরম সংকটে পড়ে, তখন তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সাহায্য করেছিলেন এবং কোনির খাদ্য ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
ক্ষিতীশ সিংহ অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ছিলেন এবং খেলাধুলার জগতে পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতিকে ঘৃণা করতেন। তাঁর অধ্যবসায়, আত্মত্যাগ, মানবিকতা ও দূরদর্শিতার ফলেই কোনি শেষ পর্যন্ত সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। তাই ক্ষিতীশ সিংহ শুধু একজন কোচ নন, তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক, সংগ্রামী মানুষ এবং প্রকৃত পথপ্রদর্শক হিসেবে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছেন।
🌹প্রতিবেদন রচনা🌹
💡 ১. বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন (প্রতিবেদন)
✔️ উত্তর:
চাকদহ বসন্ত কুমারী বালিকা বিদ্যাপীঠে মহাসমারোহে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন
নিজস্ব প্রতিনিধি, চাকদহ: গত ৮ মার্চ চাকদহ বসন্ত কুমারী বালিকা বিদ্যাপীঠে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি নারীশক্তির বিকাশ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অংশগ্রহণে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্য পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও নারী শিক্ষার গুরুত্ব এবং আত্মনির্ভরশীলতার উপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আমন্ত্রিত অতিথিরা ছাত্রীদের আত্মবিশ্বাসী ও শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নারী জাগরণ বিষয়ক পোস্টার ও চিত্রপ্রদর্শনী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনুষ্ঠানের শেষে সচেতনতামূলক শপথ গ্রহণ এবং একটি সংক্ষিপ্ত পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছাত্রীদের মধ্যে নারী-অধিকার, সমতা ও আত্মমর্যাদা সম্পর্কে নতুন সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে।
💡 ২. নিজস্বী (সেলফি) তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনা (প্রতিবেদন)
✔️ উত্তর:
সেলফি তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাল এক তরুণ
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: গত বুধবার কোচবিহারের একটি রেলসেতুর উপর সেলফি তুলতে গিয়ে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামাজিক মাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট করার উদ্দেশ্যে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে রেলসেতুর ওপর ওঠেন। ট্রেন আসার সময় বিপজ্জনকভাবে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে গিয়ে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও একই ধরনের অসচেতনতার কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও অনেক তরুণ-তরুণী তা উপেক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে প্ররোচিত করে। তাই বিদ্যালয়, পরিবার এবং প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।
💡 ৩. বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন (প্রতিবেদন)
✔️ উত্তর:
ডি. এইচ. ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ প্রণব বিদ্যাপীঠে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ডি. এইচ. ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ প্রণব বিদ্যাপীঠে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিনের সূচনায় ছাত্র-শিক্ষকরা প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করেন এবং ভাষা শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁর বক্তব্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এরপর ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি, নাটিকা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এবং শুদ্ধ বাংলা ভাষা চর্চার অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক বক্তৃতা ও রচনা প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা, গর্ব এবং দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
💡 ৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি (প্রতিবেদন)
✔️ উত্তর:
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি: দিশেহারা সাধারণ মানুষ
নিজস্ব প্রতিনিধি, বালুরঘাট: বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে চরম সংকট সৃষ্টি করেছে। চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, শাকসবজি, ডিম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে প্রতিদিনই পণ্যের দামের পরিবর্তন ঘটছে, ফলে সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেট ভেঙে পড়ছে। বিশেষ করে দিনমজুর, শ্রমজীবী ও স্বল্প আয়ের মানুষেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুতদারি এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। সরকারের পক্ষ থেকে বাজারদর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার প্রভাব সব ক্ষেত্রে সমানভাবে পড়ছে না। সাধারণ মানুষের দাবি, বাজারে কঠোর নজরদারি, মজুতদারি রোধ এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
💡 ৫. অনলাইন গেমের নেশা: বিপন্ন শৈশব ও তারুণ্য (প্রতিবেদন)
✔️ উত্তর:
অনলাইন গেমের নেশা নতুন প্রজন্মকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন গেমের জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই জনপ্রিয়তা বর্তমানে অনেক কিশোর-কিশোরীর জন্য ভয়ংকর আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। ফ্রি-ফায়ার, পাবজি ও অন্যান্য অনলাইন গেমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের সমস্যা, অনিদ্রা, মানসিক চাপ এবং আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গেমে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা পরিবারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং সময়মতো নিয়ন্ত্রণের অভাবে এই সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। বিদ্যালয় ও পরিবারের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে পরিচালিত করা প্রয়োজন। সময়মতো এই নেশা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
💡 ৬. বিদ্যালয়ে অরণ্য সপ্তাহ পালন (প্রতিবেদন)
✔️ উত্তর:
বেলদা প্রভাতী বালিকা বিদ্যাপীঠে মহাসমারোহে অরণ্য সপ্তাহ পালন
নিজস্ব প্রতিনিধি, বেলদা: গত ১৫ জুলাই বেলদা প্রভাতী বালিকা বিদ্যাপীঠে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে অরণ্য সপ্তাহ পালিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলাই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা একটি চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এরপর শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন ফলদ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা রোপণ করে। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পরিবেশ বিষয়ক আলোচনা সভা, বসে আঁকো প্রতিযোগিতা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রিত পরিবেশবিদরা বনভূমি সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ এবং সবুজায়নের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। ছাত্রীরা প্ল্যাকার্ড হাতে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রায় অংশ নেয় এবং পরিবেশ রক্ষার শপথ গ্রহণ করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কে বাস্তব ধারণা গড়ে উঠেছে।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

