✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
💡 ১. সামাজিক ইতিহাস কী?
✔️ উত্তর: প্রথাগত রাজনৈতিক ইতিহাসের বাইরে সমাজের সাধারণ মানুষ, নিম্নবর্গীয় শ্রেণী, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা নিয়ে যে ইতিহাস চর্চা করা হয়, তাকে সামাজিক ইতিহাস বলে। এটি মূলত সমাজের সামগ্রিক পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরে।
💡 ২. ইতিহাসের উপাদানরূপে সংবাদপত্রের গুরুত্ব কী?
✔️ উত্তর: সমকালীন সমাজের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ এবং জনমতের প্রতিফলন জানতে সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ছাড়া সরকারি নীতি ও তার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিক্রিয়ার নিখুঁত দলিল হিসেবে এটি কাজ করে।
✔️ উত্তর: সমকালীন সমাজের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ এবং জনমতের প্রতিফলন জানতে সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ছাড়া সরকারি নীতি ও তার বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিক্রিয়ার নিখুঁত দলিল হিসেবে এটি কাজ করে।
💡 ৩. বাংলার নারীশিক্ষা বিস্তারে রাজা রাধাকান্ত দেবের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর: রাজা রাধাকান্ত দেব নিজে রক্ষণশীল হলেও বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং 'ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি' ও 'ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি'-কে সাহায্য করেছিলেন। তাঁরই উদ্যোগে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় নিজের বাড়িতে নারীদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
✔️ উত্তর: রাজা রাধাকান্ত দেব নিজে রক্ষণশীল হলেও বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং 'ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি' ও 'ফিমেল জুভেনাইল সোসাইটি'-কে সাহায্য করেছিলেন। তাঁরই উদ্যোগে এবং পৃষ্ঠপোষকতায় নিজের বাড়িতে নারীদের শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
💡 ৪. ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্মসমাজ বিভক্ত হল কেন?
✔️ উত্তর: কেশবচন্দ্র সেনের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং তাঁর ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যার সঙ্গে কুচবিহারের হিন্দু রাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্রের বিবাহ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিভেদ তৈরি হয়। কেশবচন্দ্রের এই শাস্ত্রবিরোধী কাজের প্রতিবাদে আনন্দমোহন বসু ও শিবনাথ শাস্ত্রীর নেতৃত্বে প্রগতিশীল গোষ্ঠী পৃথক হয়ে 'সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ' গঠন করেন।
✔️ উত্তর: কেশবচন্দ্র সেনের একনায়কতান্ত্রিক মনোভাব এবং তাঁর ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা কন্যার সঙ্গে কুচবিহারের হিন্দু রাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্রের বিবাহ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিভেদ তৈরি হয়। কেশবচন্দ্রের এই শাস্ত্রবিরোধী কাজের প্রতিবাদে আনন্দমোহন বসু ও শিবনাথ শাস্ত্রীর নেতৃত্বে প্রগতিশীল গোষ্ঠী পৃথক হয়ে 'সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ' গঠন করেন।
💡 ৫. ফরাজি আন্দোলন কি ধর্মীয় পুনর্জাগরণের আন্দোলন?
✔️ উত্তর: ফরাজি আন্দোলন প্রাথমিকভাবে ইসলাম ধর্মের শুদ্ধিকরণ ও ধর্মীয় পুনর্জাগরণের উদ্দেশ্যে শুরু হলেও পরবর্তীকালে এটি শোষক জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কৃষক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। তাই এটি কেবল ধর্মীয় আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
✔️ উত্তর: ফরাজি আন্দোলন প্রাথমিকভাবে ইসলাম ধর্মের শুদ্ধিকরণ ও ধর্মীয় পুনর্জাগরণের উদ্দেশ্যে শুরু হলেও পরবর্তীকালে এটি শোষক জমিদার ও নীলকরদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কৃষক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। তাই এটি কেবল ধর্মীয় আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।
💡 ৬. নীলকররা নীলচাষিদের ওপর কীভাবে অত্যাচার করত তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।
✔️ উত্তর: নীলকররা চাষিদের দাদন বা অগ্রিম টাকা নিতে বাধ্য করত এবং নীল চাষ না করলে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও গবাদি পশু বাজেয়াপ্ত করত। এমনকি কৃষকদের নিজস্ব উর্বর ধান জমিতে জোরপূর্বক নীল চাষ করিয়ে তাদের চরম অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য করা হতো।
✔️ উত্তর: নীলকররা চাষিদের দাদন বা অগ্রিম টাকা নিতে বাধ্য করত এবং নীল চাষ না করলে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও গবাদি পশু বাজেয়াপ্ত করত। এমনকি কৃষকদের নিজস্ব উর্বর ধান জমিতে জোরপূর্বক নীল চাষ করিয়ে তাদের চরম অনাহারে দিন কাটাতে বাধ্য করা হতো।
💡 ৭. উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে ‘সভাসমিতির যুগ’ বলা হয় কেন?
✔️ উত্তর: ঐতিহাসিক অনিল শীল উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে 'সভাসমিতির যুগ' বলেছেন কারণ এই সময়ে ভারতে সঙ্ঘবদ্ধ রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে এবং বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, ভারতসভা ও পুনা সার্বজনিক সভার মতো বহু রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। এই সমিতিগুলি ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ও অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে শুরু করে।
✔️ উত্তর: ঐতিহাসিক অনিল শীল উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধকে 'সভাসমিতির যুগ' বলেছেন কারণ এই সময়ে ভারতে সঙ্ঘবদ্ধ রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে এবং বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা, ভারতসভা ও পুনা সার্বজনিক সভার মতো বহু রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। এই সমিতিগুলি ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ও অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে শুরু করে।
💡 ৮. ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস কীভাবে জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে উদ্দীপ্ত করেছিল?
✔️ উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত 'সন্তান দল'-এর আত্মত্যাগের কাহিনী তুলে ধরে পরাধীন দেশবাসীর মনে জাতীয়তাবাদের সঞ্চার করেছিল। এই উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত 'বন্দে মাতরম্' সঙ্গীতটি পরবর্তীকালে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান জাতীয়তাবাদী স্লোগান ও মন্ত্রে পরিণত হয়।
✔️ উত্তর: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত 'সন্তান দল'-এর আত্মত্যাগের কাহিনী তুলে ধরে পরাধীন দেশবাসীর মনে জাতীয়তাবাদের সঞ্চার করেছিল। এই উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত 'বন্দে মাতরম্' সঙ্গীতটি পরবর্তীকালে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান জাতীয়তাবাদী স্লোগান ও মন্ত্রে পরিণত হয়।
💡 ৯. উনিশ শতকে বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স এর ভূমিকা কী ছিল?
✔️ উত্তর: ১৮৭৬ সালে ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয়দের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার ভিত মজবুত করেছিল। এখানে জগদীশচন্দ্র বসু, আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও সি. ভি. রমনের মতো বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা গবেষণার সুযোগ পেয়ে ভারতের বিজ্ঞান চর্চাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করেন।
✔️ উত্তর: ১৮৭৬ সালে ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয়দের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার ভিত মজবুত করেছিল। এখানে জগদীশচন্দ্র বসু, আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও সি. ভি. রমনের মতো বিশিষ্ট বিজ্ঞানীরা গবেষণার সুযোগ পেয়ে ভারতের বিজ্ঞান চর্চাকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করেন।
💡 ১০. ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
✔️ উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রাতিষ্ঠানিক পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে প্রকৃতির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মানবতাবোধের বিকাশ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোর উদ্দেশ্যে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বসংস্কৃতির সাথে ভারতীয় জ্ঞান ও ভাবধারার আদান-প্রদান সহজতর করা।
✔️ উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রাতিষ্ঠানিক পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে প্রকৃতির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মানবতাবোধের বিকাশ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোর উদ্দেশ্যে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বসংস্কৃতির সাথে ভারতীয় জ্ঞান ও ভাবধারার আদান-প্রদান সহজতর করা।
💡 ১১. নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস কী উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
✔️ উত্তর: ১৯২০ সালে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা, কাজের সময়সীমা নির্ধারণ ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে ভারতের শ্রমিক আন্দোলনকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সাথে ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ভারতের শ্রমিক শ্রেণীকে শামিল করাও এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল।
✔️ উত্তর: ১৯২০ সালে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা, কাজের সময়সীমা নির্ধারণ ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে ভারতের শ্রমিক আন্দোলনকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সাথে ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে ভারতের শ্রমিক শ্রেণীকে শামিল করাও এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল।
💡 ১২. ‘ওয়ার্কার্স অ্যান্ড পেজেন্টস পার্টি’ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
✔️ উত্তর: ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে বামপন্থী আদর্শের প্রসার ঘটাতে এবং দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে তীব্র করতে ১৯২৮ সালে এই দল প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ এবং দেশের শোষিত মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি জানিয়েছিল।
✔️ উত্তর: ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যে বামপন্থী আদর্শের প্রসার ঘটাতে এবং দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে তীব্র করতে ১৯২৮ সালে এই দল প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ এবং দেশের শোষিত মেহনতি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি জানিয়েছিল।
💡 ১৩. রশিদ আলি দিবস কেন পালিত হয়েছিল?
✔️ উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলিকে ব্রিটিশ আদালত ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিলে তার প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে কলকাতায় তীব্র গণ-আন্দোলন শুরু হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি সমগ্র বাংলায় 'রশিদ আলি দিবস' হিসেবে পালিত হয়।
✔️ উত্তর: আজাদ হিন্দ ফৌজের ক্যাপ্টেন রশিদ আলিকে ব্রিটিশ আদালত ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিলে তার প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে কলকাতায় তীব্র গণ-আন্দোলন শুরু হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৪৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি সমগ্র বাংলায় 'রশিদ আলি দিবস' হিসেবে পালিত হয়।
💡 ১৪. দলিত কাদের বলা হয়?
✔️ উত্তর: হিন্দু সমাজের জাতিভেদ প্রথার ফলে যেসব নিম্নবর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছিল এবং অস্পৃশ্য বলে অবহেলিত হতো, তাদের দলিত বলা হয়। মহাত্মা গান্ধী এদের 'হরিজন' এবং ড. বি. আর. আম্বেদকর এদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন।
✔️ উত্তর: হিন্দু সমাজের জাতিভেদ প্রথার ফলে যেসব নিম্নবর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছিল এবং অস্পৃশ্য বলে অবহেলিত হতো, তাদের দলিত বলা হয়। মহাত্মা গান্ধী এদের 'হরিজন' এবং ড. বি. আর. আম্বেদকর এদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিলেন।
💡 ১৫. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তি দলিল বলতে কী বোঝায়?
✔️ উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার প্রাক্কালে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য যে বিশেষ আইনি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হতো, তাকে 'ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন' বা ভারতভুক্তি দলিল বলা হয়। এর মাধ্যমে রাজ্যগুলি প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ভারত সরকারের হাতে সঁপে দেয়।
✔️ উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার প্রাক্কালে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য যে বিশেষ আইনি সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হতো, তাকে 'ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন' বা ভারতভুক্তি দলিল বলা হয়। এর মাধ্যমে রাজ্যগুলি প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ভারত সরকারের হাতে সঁপে দেয়।
💡 ১৬. ১৯৫০ সালে কেন নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল?
✔️ উত্তর: দেশভাগের পর ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের সমস্যা সমাধানের জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ করা এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
✔️ উত্তর: দেশভাগের পর ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুদের সমস্যা সমাধানের জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ করা এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
💡 ১৭. আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চা গুরুত্বপূর্ণ কেন?
✔️ উত্তর: আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের স্থানীয় সমাজ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিবর্তনের নিখুঁত বিবরণ জানা যায়, যা সামগ্রিক জাতীয় ইতিহাসকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সাহায্য করে। এর ফলে জাতীয় ইতিহাসে উপেক্ষিত বা অন্তরালে থাকা বহু স্থানীয় বীর ও ঘটনার গুরুত্ব সঠিকভাবে উন্মোচিত হয়।
💡 ১৮. ‘সরকারি নথিপত্র’ বলতে কী বোঝায়?
✔️ উত্তর: সরকারি প্রশাসন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে পুলিশ, গোয়েন্দা, সেনা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তৈরি প্রতিবেদন, চিঠিপত্র ও ডায়েরিকে সরকারি নথিপত্র বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, লন্ডনের 'ইন্ডিয়া অফিস রেকর্ডস' বা দিল্লির 'ন্যাশনাল আর্কাইভস'-এ সংরক্ষিত নথিপত্র ইতিহাসের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উপাদান।
✔️ উত্তর: সরকারি প্রশাসন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে পুলিশ, গোয়েন্দা, সেনা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তৈরি প্রতিবেদন, চিঠিপত্র ও ডায়েরিকে সরকারি নথিপত্র বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, লন্ডনের 'ইন্ডিয়া অফিস রেকর্ডস' বা দিল্লির 'ন্যাশনাল আর্কাইভস'-এ সংরক্ষিত নথিপত্র ইতিহাসের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উপাদান।
💡 ১৯. সংবাদপত্র এবং সাময়িকপত্রের মধ্যে পার্থক্য কী?
✔️ উত্তর: সংবাদপত্র সাধারণত দৈনিক প্রকাশিত হয় এবং এতে সমসাময়িক বা তাৎক্ষণিক খবরাখবরের ওপর জোর দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সাময়িকপত্র একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর (সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক) প্রকাশিত হয় এবং এতে খবরের চেয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর গভীর বিশ্লেষণধর্মী ও তথ্যমূলক প্রবন্ধ স্থান পায়।
✔️ উত্তর: সংবাদপত্র সাধারণত দৈনিক প্রকাশিত হয় এবং এতে সমসাময়িক বা তাৎক্ষণিক খবরাখবরের ওপর জোর দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সাময়িকপত্র একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর (সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক) প্রকাশিত হয় এবং এতে খবরের চেয়ে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর গভীর বিশ্লেষণধর্মী ও তথ্যমূলক প্রবন্ধ স্থান পায়।
💡 ২০. মধুসূদন গুপ্ত কে ছিলেন?
✔️ উত্তর: মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের একজন কৃতি ছাত্র এবং বাঙালি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক, যিনি ১৮৩৬ সালে এশিয়ার মধ্যে প্রথম মানব ব্যবচ্ছেদ (শব ব্যবচ্ছেদ) করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেন। তাঁর এই সাহসিকতা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান চর্চায় ভারতীয়দের কুসংস্কারমুক্ত করতে সাহায্য করেছিল।
✔️ উত্তর: মধুসূদন গুপ্ত ছিলেন কলকাতা মেডিকেল কলেজের একজন কৃতি ছাত্র এবং বাঙালি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক, যিনি ১৮৩৬ সালে এশিয়ার মধ্যে প্রথম মানব ব্যবচ্ছেদ (শব ব্যবচ্ছেদ) করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করেন। তাঁর এই সাহসিকতা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান চর্চায় ভারতীয়দের কুসংস্কারমুক্ত করতে সাহায্য করেছিল।
💡 ২১. সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ ব্যর্থ হল কেন?
✔️ উত্তর: এই বিদ্রোহের কোনো সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাব ছিল, যার ফলে তারা সুশিক্ষিত ব্রিটিশ বাহিনীর শক্তির সামনে টিকতে পারেনি। এ ছাড়া, ওয়ারেন হেস্টিংসের কঠোর দমননীতি এবং বিদ্রোহীদের নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ঘাঁটির অভাব এই বিদ্রোহের ব্যর্থতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
✔️ উত্তর: এই বিদ্রোহের কোনো সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের অভাব ছিল, যার ফলে তারা সুশিক্ষিত ব্রিটিশ বাহিনীর শক্তির সামনে টিকতে পারেনি। এ ছাড়া, ওয়ারেন হেস্টিংসের কঠোর দমননীতি এবং বিদ্রোহীদের নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ঘাঁটির অভাব এই বিদ্রোহের ব্যর্থতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
💡 ২২. নীল বিদ্রোহে খ্রিস্টান মিশনারিদের ভূমিকা কীরূপ ছিল?
✔️ উত্তর: নীল বিদ্রোহে খ্রিস্টান মিশনারিরা নীলচাষিদের ওপর নীলকর সাহেবদের অমানুষিক অত্যাচারের তীব্র বিরোধিতা করে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। রেভারেন্ড জেমস লং-এর মতো মিশনারিরা দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল দর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ প্রকাশ করে ব্রিটিশ সরকারের কুশাসন ও নীলকরদের বর্বরতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।
✔️ উত্তর: নীল বিদ্রোহে খ্রিস্টান মিশনারিরা নীলচাষিদের ওপর নীলকর সাহেবদের অমানুষিক অত্যাচারের তীব্র বিরোধিতা করে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। রেভারেন্ড জেমস লং-এর মতো মিশনারিরা দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল দর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ প্রকাশ করে ব্রিটিশ সরকারের কুশাসন ও নীলকরদের বর্বরতা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।
💡 ২৩. জমিদার সভা ও ভারতসভার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: জমিদার সভা (১৮৩৮) মূলত ধনী ও অভিজাত জমিদার শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার জন্য গঠিত হয়েছিল, যেখানে ভারতসভা (১৮৭৬) সাধারণ মধ্যবিত্ত সমাজসহ সমগ্র দেশবাসীর রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, জমিদার সভার আন্দোলন ছিল মূলত আবেদন-নিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ভারতসভা গণ-আন্দোলনের ওপর জোর দিয়েছিল।
💡 ২৪. উনিশ শতকে জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির কীরূপ ভূমিকা ছিল?
✔️ উত্তর: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা 'ভারতমাতা' চিত্রটি স্বদেশী আন্দোলনের যুগে ভারতীয়দের মনে গভীর দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলেছিল। চতুর্ভুজা ভারতমাতার চার হাতে থাকা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও দীক্ষার প্রতীকগুলি সমকালীন পরাধীন দেশবাসীর মনে স্বনির্ভরতা ও জাতীয় ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করতে সফল হয়েছিল।
✔️ উত্তর: অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা 'ভারতমাতা' চিত্রটি স্বদেশী আন্দোলনের যুগে ভারতীয়দের মনে গভীর দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলেছিল। চতুর্ভুজা ভারতমাতার চার হাতে থাকা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও দীক্ষার প্রতীকগুলি সমকালীন পরাধীন দেশবাসীর মনে স্বনির্ভরতা ও জাতীয় ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করতে সফল হয়েছিল।
💡 ২৫. চার্লস উইলকিনস্ কে ছিলেন?
✔️ উত্তর: চার্লস উইলকিনস্ ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন সিভিলিয়ান, যিনি প্রথম বাংলা মুদ্রণের জন্য ঢালাই করা ধাতব হরফ বা চলনশীল টাইপ তৈরি করেন। পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় তাঁর এই যুগান্তকারী কাজের জন্য তাঁকে 'বাংলা মুদ্রণ শিল্পের জনক' বলা হয়।
✔️ উত্তর: চার্লস উইলকিনস্ ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন সিভিলিয়ান, যিনি প্রথম বাংলা মুদ্রণের জন্য ঢালাই করা ধাতব হরফ বা চলনশীল টাইপ তৈরি করেন। পঞ্চানন কর্মকারের সহযোগিতায় তাঁর এই যুগান্তকারী কাজের জন্য তাঁকে 'বাংলা মুদ্রণ শিল্পের জনক' বলা হয়।
💡 ২৬. বাংলায় লাইনোটাইপ প্রবর্তনের গুরুত্ব কী?
✔️ উত্তর: ১৯৩৫ সালে সুরেশচন্দ্র মজুমদারের প্রচেষ্টায় বাংলায় লাইনোটাইপ প্রবর্তনের ফলে হাতে একটি একটি করে হরফ সাজিয়ে কম্পোজ করার ধীর গতির অবসান ঘটে এবং দ্রুত ও যান্ত্রিকভাবে টাইপ কম্পোজ করা সম্ভব হয়। এর ফলে বাংলা সংবাদপত্র, সাময়িকপত্র এবং বইপত্রের মুদ্রণ গতি ও মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
✔️ উত্তর: ১৯৩৫ সালে সুরেশচন্দ্র মজুমদারের প্রচেষ্টায় বাংলায় লাইনোটাইপ প্রবর্তনের ফলে হাতে একটি একটি করে হরফ সাজিয়ে কম্পোজ করার ধীর গতির অবসান ঘটে এবং দ্রুত ও যান্ত্রিকভাবে টাইপ কম্পোজ করা সম্ভব হয়। এর ফলে বাংলা সংবাদপত্র, সাময়িকপত্র এবং বইপত্রের মুদ্রণ গতি ও মান বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
💡 ২৭. কৃষক আন্দোলনে বাবা রামচন্দ্রের কীরূপ ভূমিকা ছিল?
✔️ উত্তর: বাবা রামচন্দ্র উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা অঞ্চলে শোষক জমিদার ও তালুকদারদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের সময় এক শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি কৃষকদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে 'অযোধ্যা কিষাণ সভা' (১৯২০) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন এবং বেআইনি কর ও কর্ষণ বন্ধের দাবি জানান।
✔️ উত্তর: বাবা রামচন্দ্র উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা অঞ্চলে শোষক জমিদার ও তালুকদারদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের সময় এক শক্তিশালী কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি কৃষকদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে 'অযোধ্যা কিষাণ সভা' (১৯২০) গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন এবং বেআইনি কর ও কর্ষণ বন্ধের দাবি জানান।
💡 ২৮. মাদারি পাসি কে ছিলেন?
✔️ উত্তর: মাদারি পাসি ছিলেন উত্তরপ্রদেশের হরদই, বারাবাঁকি প্রভৃতি জেলায় গড়ে ওঠা তীব্র কৃষক আন্দোলন বা 'একা আন্দোলন' (১৯২১-২২)-এর প্রধান নেতা। তিনি নিম্নবর্ণের অনুন্নত পাসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে অন্যায্য ও অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিরুদ্ধে জমিদার ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
✔️ উত্তর: মাদারি পাসি ছিলেন উত্তরপ্রদেশের হরদই, বারাবাঁকি প্রভৃতি জেলায় গড়ে ওঠা তীব্র কৃষক আন্দোলন বা 'একা আন্দোলন' (১৯২১-২২)-এর প্রধান নেতা। তিনি নিম্নবর্ণের অনুন্নত পাসি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে অন্যায্য ও অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের বিরুদ্ধে জমিদার ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
💡 ২৯. মাতঙ্গিনী হাজরা স্মরণীয় কেন?
✔️ উত্তর: মেদিনীপুরের ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তমলুক থানা অভিযানের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েও তিনি হাতের তেরঙা জাতীয় পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি এবং 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি দিতে দিতে শহীদ হন, যা তাঁকে ইতিহাসে 'গান্ধীবুড়ি' নামে অমর করে রেখেছে।
✔️ উত্তর: মেদিনীপুরের ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাতঙ্গিনী হাজরা ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় তমলুক থানা অভিযানের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েও তিনি হাতের তেরঙা জাতীয় পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি এবং 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি দিতে দিতে শহীদ হন, যা তাঁকে ইতিহাসে 'গান্ধীবুড়ি' নামে অমর করে রেখেছে।
💡 ৩০. দলিত কাদের বলা হয়?
✔️ উত্তর: প্রাচীন হিন্দু সমাজের চতু্র্বর্ণ প্রথার বাইরে থাকা যেসব নিম্নবর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে সামাজিক অস্পৃশ্যতা, অবহেলা এবং চরম অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত শোষণের শিকার হয়েছেন, তাঁদের দলিত বলা হয়। ভারতীয় সংবিধানে এঁদের 'তফসিলী জাতি' (Scheduled Castes) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
✔️ উত্তর: প্রাচীন হিন্দু সমাজের চতু্র্বর্ণ প্রথার বাইরে থাকা যেসব নিম্নবর্ণের মানুষ যুগ যুগ ধরে সামাজিক অস্পৃশ্যতা, অবহেলা এবং চরম অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত শোষণের শিকার হয়েছেন, তাঁদের দলিত বলা হয়। ভারতীয় সংবিধানে এঁদের 'তফসিলী জাতি' (Scheduled Castes) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
💡 ৩১. দার কমিশন (১৯৪৮) কেন গঠিত হয়েছিল?
✔️ উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার পর ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি খতিয়ে দেখার জন্য ১৯৪৮ সালে বিচারপতি এস. কে. দারের নেতৃত্বে 'দার কমিশন' গঠিত হয়েছিল। এই কমিশন ভাষাগত ভিত্তির চেয়ে ভৌগোলিক সখণ্ডতা, আর্থিক সচ্ছলতা এবং প্রশাসনিক সুবিধার ওপর ভিত্তি করে রাজ্য গঠনের সুপারিশ করেছিল।
✔️ উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার পর ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি খতিয়ে দেখার জন্য ১৯৪৮ সালে বিচারপতি এস. কে. দারের নেতৃত্বে 'দার কমিশন' গঠিত হয়েছিল। এই কমিশন ভাষাগত ভিত্তির চেয়ে ভৌগোলিক সখণ্ডতা, আর্থিক সচ্ছলতা এবং প্রশাসনিক সুবিধার ওপর ভিত্তি করে রাজ্য গঠনের সুপারিশ করেছিল।
💡 ৩২. পোত্তি শ্রীরামালু কে ছিলেন?
✔️ উত্তর: পোত্তি শ্রীরামালু ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের একজন বিশিষ্ট গান্ধীবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী, যিনি তেলুগুভাষীদের জন্য পৃথক 'অন্ধ্র রাজ্য' গঠনের দাবিতে ১৯৫২ সালে আমরণ অনশন শুরু করেন। টানা ৫৬ দিন অনশন করার পর তাঁর মৃত্যু হলে সমগ্র দক্ষিণ ভারতে তীব্র গণ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা নেহেরু সরকারকে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠনে বাধ্য করে।
✔️ উত্তর: পোত্তি শ্রীরামালু ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের একজন বিশিষ্ট গান্ধীবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামী, যিনি তেলুগুভাষীদের জন্য পৃথক 'অন্ধ্র রাজ্য' গঠনের দাবিতে ১৯৫২ সালে আমরণ অনশন শুরু করেন। টানা ৫৬ দিন অনশন করার পর তাঁর মৃত্যু হলে সমগ্র দক্ষিণ ভারতে তীব্র গণ-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা নেহেরু সরকারকে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠনে বাধ্য করে।
💡 ৩৩. ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
✔️ উত্তর: ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে পড়ে ব্রিটিশ সরকার ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ রদ' করতে বাধ্য হয়, যা ছিল ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এক বিশাল জয়। এ ছাড়া, এই বছরই মোহনবাগান ক্লাব আইএফএ শিল্ড (IFA Shield) জয় করে ব্রিটিশদের পরাস্ত করে ভারতীয়দের মনে জাতীয়তাবাদী আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
💡 ৩৪. ‘সরকারি নথিপত্র’ বলতে কী বোঝায়?
✔️ উত্তর: সরকারি প্রশাসন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে পুলিশ, গোয়েন্দা, সেনা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তৈরি প্রতিবেদন, চিঠিপত্র ও ডায়েরিকে সরকারি নথিপত্র বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, লন্ডনের 'ইন্ডিয়া অফিস রেকর্ডস' বা দিল্লির 'ন্যাশনাল আর্কাইভস'-এ সংরক্ষিত নথিপত্র ইতিহাসের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উপাদান।
✔️ উত্তর: সরকারি প্রশাসন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্যে পুলিশ, গোয়েন্দা, সেনা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তৈরি প্রতিবেদন, চিঠিপত্র ও ডায়েরিকে সরকারি নথিপত্র বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ, লন্ডনের 'ইন্ডিয়া অফিস রেকর্ডস' বা দিল্লির 'ন্যাশনাল আর্কাইভস'-এ সংরক্ষিত নথিপত্র ইতিহাসের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য উপাদান।
💡 ৩৫. কাদম্বিনী (বসু) গঙ্গোপাধ্যায় স্মরণীয়া কেন?
✔️ উত্তর: কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন চন্দ্রমুখী বসুর সাথে যৌথভাবে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা স্নাতক (Graduate) এবং প্রথম ভারতীয় মহিলা আধুনিক চিকিৎসক। তিনি তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের সমস্ত বাধা ভেঙে নারীদের উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা পেশায় আসার পথ প্রশস্ত করেছিলেন এবং জাতীয় কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে প্রথম মহিলা বক্তা হিসেবে ভাষণ দিয়েছিলেন।
✔️ উত্তর: কাদম্বিনী গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন চন্দ্রমুখী বসুর সাথে যৌথভাবে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মহিলা স্নাতক (Graduate) এবং প্রথম ভারতীয় মহিলা আধুনিক চিকিৎসক। তিনি তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের সমস্ত বাধা ভেঙে নারীদের উচ্চশিক্ষা ও চিকিৎসা পেশায় আসার পথ প্রশস্ত করেছিলেন এবং জাতীয় কংগ্রেসের মঞ্চ থেকে প্রথম মহিলা বক্তা হিসেবে ভাষণ দিয়েছিলেন।
💡 ৩৬. কোম্পানির শিক্ষাক্ষেত্রে ‘চুঁইয়ে পড়া নীতি’ বলতে কী বোঝায়?
✔️ উত্তর: লর্ড মেকলের সুপারিশ অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভারতে সরকারের সীমিত তহবিল দিয়ে প্রথমে সমাজের উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত শ্রেণীকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করার যে নীতি নেওয়া হয়, তাকে ‘চুঁইয়ে পড়া নীতি’ বা ‘Filtration Theory’ বলা হয়। ভাবা হয়েছিল যে, উচ্চবিত্তদের মাধ্যমে সেই শিক্ষা ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে সাধারণ দেশবাসীর মধ্যে চুঁইয়ে পড়বে, যদিও বাস্তবে তা ঘটেনি।
✔️ উত্তর: লর্ড মেকলের সুপারিশ অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভারতে সরকারের সীমিত তহবিল দিয়ে প্রথমে সমাজের উচ্চবিত্ত ও উচ্চশিক্ষিত শ্রেণীকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত করার যে নীতি নেওয়া হয়, তাকে ‘চুঁইয়ে পড়া নীতি’ বা ‘Filtration Theory’ বলা হয়। ভাবা হয়েছিল যে, উচ্চবিত্তদের মাধ্যমে সেই শিক্ষা ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে সাধারণ দেশবাসীর মধ্যে চুঁইয়ে পড়বে, যদিও বাস্তবে তা ঘটেনি।
💡 ৩৭. দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সী কেন গড়ে তোলা হয়েছিল?
✔️ উত্তর: ১৮৩১-৩২ সালের ভয়াবহ কোল বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ সরকার এই অঞ্চলের উপজাতিদের প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৮৩৪ সালে 'দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সী' (South West Frontier Agency) গঠন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কোল অধ্যুষিত অঞ্চলকে সাধারণ ব্রিটিশ আইনের বাইরে এনে একটি বিশেষ অসামরিক অঞ্চল হিসেবে শাসন করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো গণ-বিদ্রোহ না ঘটে।
✔️ উত্তর: ১৮৩১-৩২ সালের ভয়াবহ কোল বিদ্রোহ দমনের পর ব্রিটিশ সরকার এই অঞ্চলের উপজাতিদের প্রশাসনিকভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৮৩৪ সালে 'দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এজেন্সী' (South West Frontier Agency) গঠন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কোল অধ্যুষিত অঞ্চলকে সাধারণ ব্রিটিশ আইনের বাইরে এনে একটি বিশেষ অসামরিক অঞ্চল হিসেবে শাসন করা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো গণ-বিদ্রোহ না ঘটে।
💡 ৩৮. ফরাজি আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ কী?
✔️ উত্তর: এই আন্দোলনের মূল নেতা দুদু মিঞার মৃত্যুর পর যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বের চরম অভাব ঘটে এবং আন্দোলনটি তার আদি ধর্মনিরপেক্ষ রূপ হারিয়ে চরম সংকীর্ণ ও সাম্প্রদায়িক রূপ ধারণ করে। এ ছাড়া, ব্রিটিশ সরকারের আধুনিক ও সংগঠিত সামরিক শক্তির কঠোর দমননীতি এবং স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম জমিদারদের যৌথ প্রতিরোধ এই আন্দোলনের ব্যর্থতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
✔️ উত্তর: এই আন্দোলনের মূল নেতা দুদু মিঞার মৃত্যুর পর যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্বের চরম অভাব ঘটে এবং আন্দোলনটি তার আদি ধর্মনিরপেক্ষ রূপ হারিয়ে চরম সংকীর্ণ ও সাম্প্রদায়িক রূপ ধারণ করে। এ ছাড়া, ব্রিটিশ সরকারের আধুনিক ও সংগঠিত সামরিক শক্তির কঠোর দমননীতি এবং স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম জমিদারদের যৌথ প্রতিরোধ এই আন্দোলনের ব্যর্থতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
💡 ৩৯. মহারানির ঘোষনাপত্রের (১৮৫৮) প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল?
✔️ উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ভারতীয় প্রজাদের ক্ষোভ প্রশমিত করা এবং ব্রিটিশ রাজমুকুটের প্রতি তাদের আনুগত্য ও বিশ্বাস অর্জন করাই ছিল এই ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে ভারতকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে স্বত্ববিলোপ নীতি ত্যাগ করা হবে, দেশীয় রাজ্যগুলির অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।
✔️ উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পর ভারতীয় প্রজাদের ক্ষোভ প্রশমিত করা এবং ব্রিটিশ রাজমুকুটের প্রতি তাদের আনুগত্য ও বিশ্বাস অর্জন করাই ছিল এই ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে ভারতকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে স্বত্ববিলোপ নীতি ত্যাগ করা হবে, দেশীয় রাজ্যগুলির অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।
💡 ৪০. জমিদারসভা ও ভারতসভার মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: জমিদার সভা (১৮৩৮) মূলত ধনী ও অভিজাত জমিদার শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার জন্য গঠিত হয়েছিল, যেখানে ভারতসভা (১৮৭৬) সাধারণ মধ্যবিত্ত社会সহ সমগ্র দেশবাসীর রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, জমিদার সভার আন্দোলন ছিল মূলত আবেদন-নিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ভারতসভা গণ-আন্দোলনের ওপর জোর দিয়েছিল।
✔️ উত্তর: জমিদার সভা (১৮৩৮) মূলত ধনী ও অভিজাত জমিদার শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার জন্য গঠিত হয়েছিল, যেখানে ভারতসভা (১৮৭৬) সাধারণ মধ্যবিত্ত社会সহ সমগ্র দেশবাসীর রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, জমিদার সভার আন্দোলন ছিল মূলত আবেদন-নিবেদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু ভারতসভা গণ-আন্দোলনের ওপর জোর দিয়েছিল।
💡 ৪১. ড. মহেন্দ্রলাল সরকার স্মরণীয় কেন?
✔️ উত্তর: ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং ভারতের বিজ্ঞান গবেষণার পথিকৃৎ, যিনি ১৮৭৬ সালে কলকাতায় 'ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলেই ভারতীয়দের নিজস্ব বিজ্ঞান চর্চা ও মৌলিক গবেষণার এক নতুন যুগের সূচনা হয়, যা দেশকে বিজ্ঞান ভাবনায় স্বনির্ভর করে তোলে।
✔️ উত্তর: ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং ভারতের বিজ্ঞান গবেষণার পথিকৃৎ, যিনি ১৮৭৬ সালে কলকাতায় 'ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলেই ভারতীয়দের নিজস্ব বিজ্ঞান চর্চা ও মৌলিক গবেষণার এক নতুন যুগের সূচনা হয়, যা দেশকে বিজ্ঞান ভাবনায় স্বনির্ভর করে তোলে।
💡 ৪২. বাংলার সাংস্কৃতিক জীবনে ছাপাখানার বিকাশের প্রভাব কতটা?
✔️ উত্তর: ছাপাখানার বিকাশের ফলে বাংলায় বই, সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্রের উৎপাদন দ্রুত ও সুলভ হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ও আধুনিক চেতনার প্রসার ঘটায়। এর ফলে একদিকে যেমন বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশ ও লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ ঘটে, অন্যদিকে সমাজসংস্কার ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারা জনমানসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
✔️ উত্তর: ছাপাখানার বিকাশের ফলে বাংলায় বই, সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্রের উৎপাদন দ্রুত ও সুলভ হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ও আধুনিক চেতনার প্রসার ঘটায়। এর ফলে একদিকে যেমন বাংলা গদ্য সাহিত্যের বিকাশ ও লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ ঘটে, অন্যদিকে সমাজসংস্কার ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারা জনমানসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
💡 ৪৩. আল্লুরি সীতারাম রাজু কে ছিলেন?
✔️ উত্তর: আল্লুরি সীতারাম রাজু ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের রম্পা অঞ্চলের আদিবাসীদের নিয়ে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র উপজাতি বিদ্রোহের (রম্পা বিদ্রোহ, ১৯২২-২৪) প্রধান মহানায়ক। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হলেও তিনি বিশ্বাস করতেন যে কেবল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমেই ভারতকে ব্রিটিশ মুক্ত করা সম্ভব এবং শেষ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হন।
✔️ উত্তর: আল্লুরি সীতারাম রাজু ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের রম্পা অঞ্চলের আদিবাসীদের নিয়ে গড়ে ওঠা এক শক্তিশালী ব্রিটিশ বিরোধী সশস্ত্র উপজাতি বিদ্রোহের (রম্পা বিদ্রোহ, ১৯২২-২৪) প্রধান মহানায়ক। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হলেও তিনি বিশ্বাস করতেন যে কেবল সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমেই ভারতকে ব্রিটিশ মুক্ত করা সম্ভব এবং শেষ পর্যন্ত তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হন।
💡 ৪৪. ‘মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ টি কী?
✔️ উত্তর: ভারতে সাম্যবাদী ও বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে মুজফফর আহমদ, শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গেসহ ৩৩ জন প্রথম সারির কমিউনিস্ট ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করে যে দীর্ঘ প্রহসনমূলক মামলা শুরু করে, তা 'মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত। এই মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বামপন্থী শ্রমিকদের ভূমিকা স্তব্ধ করে দেওয়া।
✔️ উত্তর: ভারতে সাম্যবাদী ও বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব দমন করার জন্য ব্রিটিশ সরকার ১৯২৯ সালে মুজফফর আহমদ, শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গেসহ ৩৩ জন প্রথম সারির কমিউনিস্ট ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করে যে দীর্ঘ প্রহসনমূলক মামলা শুরু করে, তা 'মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা' নামে পরিচিত। এই মামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে বামপন্থী শ্রমিকদের ভূমিকা স্তব্ধ করে দেওয়া।
💡 ৪৫. দীপালি সংঘ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
✔️ উত্তর: ১৯২৩ সালে ঢাকায় বিপ্লবী লীলা নাগ (রায়)-এর নেতৃত্বে দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিস্তার এবং তাদের স্বনির্ভর ও লাঠিখেলা ও তলোয়ার চালনার মাধ্যমে আত্মরক্ষায় পারদর্শী করে তোলার উদ্দেশ্যে। এর প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য ছিল নারী সমাজকে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে শামিল করা।
✔️ উত্তর: ১৯২৩ সালে ঢাকায় বিপ্লবী লীলা নাগ (রায়)-এর নেতৃত্বে দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিস্তার এবং তাদের স্বনির্ভর ও লাঠিখেলা ও তলোয়ার চালনার মাধ্যমে আত্মরক্ষায় পারদর্শী করে তোলার উদ্দেশ্যে। এর প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য ছিল নারী সমাজকে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে শামিল করা।
💡 ৪৬. গুরুচাঁদ ঠাকুর স্মরণীয় কেন?
✔️ উত্তর: গুরুচাঁদ ঠাকুর ছিলেন বাংলার অনগ্রসর, দলিত ও নমঃশূদ্র আন্দোলনের একজন প্রধান সমাজসংস্কারক এবং পথপ্রদর্শক, যিনি পিতা হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রবর্তিত 'মতূয়া ধর্ম'-কে এক শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেন। তিনি নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের অবহেলিত মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে অসংখ্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করেন।
✔️ উত্তর: গুরুচাঁদ ঠাকুর ছিলেন বাংলার অনগ্রসর, দলিত ও নমঃশূদ্র আন্দোলনের একজন প্রধান সমাজসংস্কারক এবং পথপ্রদর্শক, যিনি পিতা হরিচাঁদ ঠাকুরের প্রবর্তিত 'মতূয়া ধর্ম'-কে এক শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেন। তিনি নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের অবহেলিত মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে অসংখ্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করেন।
💡 ৪৭. ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ বলতে কী বোঝায়?
✔️ উত্তর: ১৯৩০ সালের ৮ই ডিসেম্বর কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংস্ অভিযানে বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত কর্তৃক কারাবিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল সিম্পসনকে হত্যার ঘটনা এবং পরবর্তী সমগ্র বারান্দার সংগ্রামকে ‘অলিন্দ যুদ্ধ’ বলা হয়।
💡 ৪৮. কী উদ্দেশ্যে ‘নারী কর্মমন্দির’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
✔️ উত্তর: ১৯২১ সালে উর্মিলা দেবী অসহযোগ আন্দোলন ও ধর্মঘটে নারীদের অংশগ্রহণ করানোর উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীজাতিকে সংগঠিত করা এবং দেশীয় চরকা ও খদ্দর জনপ্রিয় করে তোলা।
✔️ উত্তর: ১৯২১ সালে উর্মিলা দেবী অসহযোগ আন্দোলন ও ধর্মঘটে নারীদের অংশগ্রহণ করানোর উদ্দেশ্যে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীজাতিকে সংগঠিত করা এবং দেশীয় চরকা ও খদ্দর জনপ্রিয় করে তোলা।
💡 ৪৯. শেখ আবদুল্লা কে ছিলেন?
✔️ উত্তর: শেখ আবদুল্লা ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসংস্কারক এবং 'ন্যাশনাল কনফারেন্স' দলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জন্য ‘শের-ই-কাশ্মীর’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
✔️ উত্তর: শেখ আবদুল্লা ছিলেন জম্মু-কাশ্মীরের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসংস্কারক এবং 'ন্যাশনাল কনফারেন্স' দলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জন্য ‘শের-ই-কাশ্মীর’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
💡 ৫০. ‘দার কমিশন’ (১৯৪৮) কেন গঠিত হয়েছিল?
✔️ উত্তর: স্বাধীনতার পর ভাষাগত ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি ও যৌক্তিকতা অনুসন্ধানের জন্য ১৯৪৮ সালের ১৭ই জুন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এস. কে. দারের নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
✔️ উত্তর: স্বাধীনতার পর ভাষাগত ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি ও যৌক্তিকতা অনুসন্ধানের জন্য ১৯৪৮ সালের ১৭ই জুন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এস. কে. দারের নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
💡 ৫১. বাংলা ছাপাখানার বিকাশে সুরেশচন্দ্র মজুমদারের অবদান কী ছিল?
✔️ উত্তর: বাংলা ছাপাখানার বিকাশে সুরেশচন্দ্র মজুমদার যুক্তব্যঞ্জন উপাদান আলাদা করে টাইপ বা হরফ তৈরি করেন। এ ছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘লাইনোটাইপ’ প্রবর্তন করেন, যা বাংলা মুদ্রণ শিল্পকে আধুনিকীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।
✔️ উত্তর: বাংলা ছাপাখানার বিকাশে সুরেশচন্দ্র মজুমদার যুক্তব্যঞ্জন উপাদান আলাদা করে টাইপ বা হরফ তৈরি করেন। এ ছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘লাইনোটাইপ’ প্রবর্তন করেন, যা বাংলা মুদ্রণ শিল্পকে আধুনিকীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।
💡 ৫২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী উদ্দেশ্যে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
✔️ উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বভারতী গড়ে তোলেন যার মূল উদ্দেশ্য ছিল—(i) বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে একে বিশ্বজাতির মিলনভূমিতে পরিণত করা, এবং (ii) প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে মানবতাবোধের বিকাশ ঘটানো।
✔️ উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বভারতী গড়ে তোলেন যার মূল উদ্দেশ্য ছিল—(i) বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে একে বিশ্বজাতির মিলনভূমিতে পরিণত করা, এবং (ii) প্রকৃতি, মানুষ ও শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে মানবতাবোধের বিকাশ ঘটানো।
💡 ৫৩. বাংলায় কৃষক আন্দোলনে বীরেন্দ্রনাথ শাসমল কীরূপ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন?
✔️ উত্তর: অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরের তমলুক ও কাঁথি মহকুমায় বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের নেতৃত্বে কৃষকরা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁরই নির্দেশনায় স্থানীয় চাষিরা ইউনিয়ন বোর্ড বয়কট করেন এবং চৌকিদার কর দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
✔️ উত্তর: অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের সময় মেদিনীপুরের তমলুক ও কাঁথি মহকুমায় বীরেন্দ্রনাথ শাসমলের নেতৃত্বে কৃষকরা শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁরই নির্দেশনায় স্থানীয় চাষিরা ইউনিয়ন বোর্ড বয়কট করেন এবং চৌকিদার কর দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
💡 ৫৪. ‘মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ টি কী?
✔️ উত্তর: ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে মার্চ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩৩ জন কমিউনিস্ট ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করে যে মামলা রজু করা হয়, তা মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা নামে খ্যাত। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এস. এ. ডাঙ্গে, পি. সি. যোশী ও মুজফফর আহমদ।
✔️ উত্তর: ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০শে মার্চ ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩৩ জন কমিউনিস্ট ও শ্রমিক নেতাকে গ্রেফতার করে যে মামলা রজু করা হয়, তা মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা নামে খ্যাত। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এস. এ. ডাঙ্গে, পি. সি. যোশী ও মুজফফর আহমদ।
💡 ৫৫. বারাসাত বিদ্রোহ ব্যর্থ হল কেন?
✔️ উত্তর: তিতুমিরের পরিচালিত বারাসাত বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো—(i) সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী কর্মসূচির অভাব, (ii) ব্যাপক জনসমর্থনের অভাব, এবং (iii) আধুনিক ব্রিটিশ বাহিনীর তুলনায় বিদ্রোহীদের অপর্যাপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ও সীমিত বাঁশের কেল্লার যুদ্ধাস্ত্র।
✔️ উত্তর: তিতুমিরের পরিচালিত বারাসাত বিদ্রোহ ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণগুলি হলো—(i) সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী কর্মসূচির অভাব, (ii) ব্যাপক জনসমর্থনের অভাব, এবং (iii) আধুনিক ব্রিটিশ বাহিনীর তুলনায় বিদ্রোহীদের অপর্যাপ্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ও সীমিত বাঁশের কেল্লার যুদ্ধাস্ত্র।
💡 ৫৬. সাঁওতাল বিদ্রোহের (১৮৫৫-১৮৫৬) গুরুত্ব কী?
✔️ উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহ আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও এর গুরুত্ব ছিল সুদূরপ্রসারী; যেমন—(i) ব্রিটিশ সরকার একপ্রকার বাধ্য হয়ে সাঁওতাল অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে ‘সাঁওতাল পরগনা’ নামে পৃথক ভূখণ্ড গঠন করে, এবং (ii) সাঁওতালদের পৃথক উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে সেখানে বিশেষ আইন কার্যকর করে।
✔️ উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহ আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও এর গুরুত্ব ছিল সুদূরপ্রসারী; যেমন—(i) ব্রিটিশ সরকার একপ্রকার বাধ্য হয়ে সাঁওতাল অধ্যুষিত অঞ্চল নিয়ে ‘সাঁওতাল পরগনা’ নামে পৃথক ভূখণ্ড গঠন করে, এবং (ii) সাঁওতালদের পৃথক উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে সেখানে বিশেষ আইন কার্যকর করে।
💡 ৫৭. ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
✔️ উত্তর: ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে দ্বারকানাথ ঠাকুরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল—(i) বাংলা, বিহার ও ওড়িশার জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করা, (ii) জমিদারদের স্বার্থবিরোধী সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা, এবং (iii) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি পুলিশ ও বিচার বিভাগের সংস্কার সাধন।
✔️ উত্তর: ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে দ্বারকানাথ ঠাকুরের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল—(i) বাংলা, বিহার ও ওড়িশার জমিদারদের স্বার্থ রক্ষা করা, (ii) জমিদারদের স্বার্থবিরোধী সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা, এবং (iii) চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি পুলিশ ও বিচার বিভাগের সংস্কার সাধন।
💡 ৫৮. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মরণীয় কেন?
✔️ উত্তর: ভারত সভার প্রাণপুরুষ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৮৩ সালে কলকাতায় প্রথম সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধিতে যোগদান করেন। এ ছাড়া তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন ও ইলবার্ট বিলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শক্তিশালী জনমত ও প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন।
✔️ উত্তর: ভারত সভার প্রাণপুরুষ সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৮৩ সালে কলকাতায় প্রথম সর্বভারতীয় জাতীয় সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং ১৮৮৫ সালে জাতীয় কংগ্রেসের শক্তিবৃদ্ধিতে যোগদান করেন। এ ছাড়া তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন ও ইলবার্ট বিলের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শক্তিশালী জনমত ও প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন।
💡 ৫৯. মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব কতটা?
✔️ উত্তর: মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ জলবায়ু, মাটি এবং জলাশয়ের প্রাপ্যতা নির্দিষ্ট অঞ্চলের কৃষিপণ্য নির্ধারণ করে। ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই মূলত বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য ও খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি গড়ে ওঠে।
✔️ উত্তর: মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব সুদূরপ্রসারী, কারণ জলবায়ু, মাটি এবং জলাশয়ের প্রাপ্যতা নির্দিষ্ট অঞ্চলের কৃষিপণ্য নির্ধারণ করে। ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই মূলত বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রধান খাদ্য ও খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি গড়ে ওঠে।
💡 ৬০. আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনার উপাদানরূপে বিপিনচন্দ্র পালের আত্মজীবনী গ্রন্থ ‘সত্তর বৎসর’-এর গুরুত্ব কী?
✔️ উত্তর: বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর’ থেকে ১৮৫৮ থেকে ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সমকালীন শ্রীহট্ট জেলার পল্লীজীবন ও পুরোনো কলকাতার সমাজচিত্র জানা যায়। একই সাথে তৎকালীন ব্রাহ্মসমাজ এবং ভারতের প্রাথমিক ব্রিটিশ বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এতে পাওয়া যায়।
✔️ উত্তর: বিপিনচন্দ্র পালের ‘সত্তর বৎসর’ থেকে ১৮৫৮ থেকে ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সমকালীন শ্রীহট্ট জেলার পল্লীজীবন ও পুরোনো কলকাতার সমাজচিত্র জানা যায়। একই সাথে তৎকালীন ব্রাহ্মসমাজ এবং ভারতের প্রাথমিক ব্রিটিশ বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এতে পাওয়া যায়।
💡 ৬১. হরিনাথ মজুমদার স্মরণীয় কেন?
✔️ উত্তর: ‘কাঙাল হরিনাথ’ নামে পরিচিত হরিনাথ মজুমদার ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সমাজসংস্কারক, যিনি ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্রিটিশ সরকার ও স্থানীয় জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং গ্রামীণ শিক্ষার প্রসারে আজীবন কাজ করেন।
✔️ উত্তর: ‘কাঙাল হরিনাথ’ নামে পরিচিত হরিনাথ মজুমদার ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সমাজসংস্কারক, যিনি ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্রিটিশ সরকার ও স্থানীয় জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং গ্রামীণ শিক্ষার প্রসারে আজীবন কাজ করেন।
💡 ৬২. লর্ড হার্ডিঞ্জের শিক্ষানীতির (১৮৪৪) গুরুত্ব কী?
✔️ উত্তর: লর্ড হার্ডিঞ্জের ১৮৪৪ সালের শিক্ষানীতির প্রধান গুরুত্ব ছিল—(i) সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ইংরেজি শিক্ষিত ভারতীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যা আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটায়, এবং (ii) এর ফলে ভারতীয়দের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য দক্ষ কর্মী পাওয়া সহজ হয়।
✔️ উত্তর: লর্ড হার্ডিঞ্জের ১৮৪৪ সালের শিক্ষানীতির প্রধান গুরুত্ব ছিল—(i) সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ইংরেজি শিক্ষিত ভারতীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যা আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটায়, এবং (ii) এর ফলে ভারতীয়দের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য দক্ষ কর্মী পাওয়া সহজ হয়।
💡 ৬২. পরিবেশের ইতিহাসের গুরুত্ব কী?
✔️ উত্তর: পরিবেশের ইতিহাস মানুষের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক এবং পরিবেশের ওপর মানুষের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে। এটি বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া পরিবেশগত বিপর্যয়, বনভূমি ধ্বংস ও জীববৈচিত্র্যের সংকটের ঐতিহাসিক কারণগুলি আমাদের সামনে তুলে ধরে। একই সাথে, পরিবেশের ইতিহাস মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করায়।
💡 ৬৩. স্মৃতিকথা অথবা আত্মজীবনীকে কীভাবে আধুনিক ভারতের ইতিহাসচর্চার উপাদানরূপে ব্যবহার করা হয়?
✔️ উত্তর: স্মৃতিকথা ও আত্মজীবনী থেকে সমকালীন সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার এক অন্তরঙ্গ ও প্রত্যক্ষ বিবরণ পাওয়া যায়। এগুলির মাধ্যমে প্রথাগত সরকারি নথিপত্রের বাইরে গিয়ে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার ব্যক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক দিকটি বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। তবে ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা অতিরঞ্জনের সম্ভাবনা থাকায় এই উপাদানগুলিকে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে যাচাই করে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা হয়।
✔️ উত্তর: স্মৃতিকথা ও আত্মজীবনী থেকে সমকালীন সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার এক অন্তরঙ্গ ও প্রত্যক্ষ বিবরণ পাওয়া যায়। এগুলির মাধ্যমে প্রথাগত সরকারি নথিপত্রের বাইরে গিয়ে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার ব্যক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক দিকটি বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। তবে ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা অতিরঞ্জনের সম্ভাবনা থাকায় এই উপাদানগুলিকে অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে যাচাই করে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা হয়।
💡 ৬৪. মেকলে মিনিট কী?
✔️ উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারি গভর্নর জেনারেলের আইন পরিষদের শিক্ষা বিষয়ক সদস্য লর্ড মেকলে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের সপক্ষে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেন, তা মেকলে মিনিট নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবে তিনি প্রাচ্য শিক্ষার তীব্র সমালোচনা করে ভারতে ইংরেজি শিক্ষার জন্য সরকারি তহবিল ব্যয়ের জোরালো সুপারিশ করেছিলেন। এর মূল প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের সহায়তার জন্য একটি অনুগত, ইংরেজি জানা ভারতীয় কেরানি শ্রেণী তৈরি করা।
✔️ উত্তর: ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২রা ফেব্রুয়ারি গভর্নর জেনারেলের আইন পরিষদের শিক্ষা বিষয়ক সদস্য লর্ড মেকলে ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তনের সপক্ষে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেন, তা মেকলে মিনিট নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবে তিনি প্রাচ্য শিক্ষার তীব্র সমালোচনা করে ভারতে ইংরেজি শিক্ষার জন্য সরকারি তহবিল ব্যয়ের জোরালো সুপারিশ করেছিলেন। এর মূল প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের সহায়তার জন্য একটি অনুগত, ইংরেজি জানা ভারতীয় কেরানি শ্রেণী তৈরি করা।
💡 ৬৫. সমাজসংস্কারে নব্যবঙ্গদের ভূমিকা কী ছিল?
✔️ উত্তর: হিন্দু কলেজের অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর অনুগামী নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কৃতির সনাতন গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁরা হিন্দু সমাজের জাতপাত, অস্পৃশ্যতা, মূর্তি পূজা ও নারী নিগ্রহের মতো কুপ্রথাগুলির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুক্তিবাদী সমালোচনা ও তীব্র প্রতিরোধ শুরু করেন। একই সাথে তাঁরা নারীশিক্ষার প্রসার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সপক্ষে শক্তিশালী জনমত গঠনে অত্যন্ত প্রগতিশীল ভূমিকা নিয়েছিলেন।
✔️ উত্তর: হিন্দু কলেজের অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর অনুগামী নব্যবঙ্গ বা ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কৃতির সনাতন গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁরা হিন্দু সমাজের জাতপাত, অস্পৃশ্যতা, মূর্তি পূজা ও নারী নিগ্রহের মতো কুপ্রথাগুলির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুক্তিবাদী সমালোচনা ও তীব্র প্রতিরোধ শুরু করেন। একই সাথে তাঁরা নারীশিক্ষার প্রসার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সপক্ষে শক্তিশালী জনমত গঠনে অত্যন্ত প্রগতিশীল ভূমিকা নিয়েছিলেন।
💡 ৬৬. দুদু মিঞা স্মরণীয় কেন?
✔️ উত্তর: ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহর যোগ্য পুত্র দুদু মিঞা (মহম্মদ মহসিন) বাংলায় এই আন্দোলনকে এক শক্তিশালী শোষক বিরোধী কৃষক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি জমিদার ও নীলকরদের অন্যায্য কর আদায়ের বিরুদ্ধে কৃষকদের সঙ্ঘবদ্ধ করেন এবং 'লাঠিয়াল বাহিনী' গঠন করে শোষকদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি 'জমি আল্লাহর দান' এই সমতাবাদী ঘোষণা দিয়ে কৃষকদের খাজনা বন্ধের ডাক দেন এবং পূর্ববঙ্গে এক সমান্তরাল ও স্বাধীন কৃষক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
✔️ উত্তর: ফরাজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহর যোগ্য পুত্র দুদু মিঞা (মহম্মদ মহসিন) বাংলায় এই আন্দোলনকে এক শক্তিশালী শোষক বিরোধী কৃষক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জন্য ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি জমিদার ও নীলকরদের অন্যায্য কর আদায়ের বিরুদ্ধে কৃষকদের সঙ্ঘবদ্ধ করেন এবং 'লাঠিয়াল বাহিনী' গঠন করে শোষকদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি 'জমি আল্লাহর দান' এই সমতাবাদী ঘোষণা দিয়ে কৃষকদের খাজনা বন্ধের ডাক দেন এবং পূর্ববঙ্গে এক সমান্তরাল ও স্বাধীন কৃষক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
💡 ৬৭. নীল বিদ্রোহে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা কীরূপ ছিল?
✔️ উত্তর: নীল বিদ্রোহে (১৮৫৯-৬০) প্রখ্যাত সাংবাদিক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর সম্পাদিত 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' পত্রিকার মাধ্যমে নীলচাষিদের সপক্ষে অত্যন্ত নির্ভীক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি নিয়মিতভাবে গ্রামীণ বাংলার নীলচাষিদের ওপর ইউরোপীয় নীলকর সাহেবদের অমানুষিক ও বর্বর অত্যাচারের বাস্তব চিত্র শহরে সুশীল সমাজের সামনে তুলে ধরেন। তিনি অত্যাচারিত কৃষকদের কলকাতায় নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি আদালতের লড়াইয়ের জন্য তাদের বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তা দিতেন।
✔️ উত্তর: নীল বিদ্রোহে (১৮৫৯-৬০) প্রখ্যাত সাংবাদিক হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তাঁর সম্পাদিত 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' পত্রিকার মাধ্যমে নীলচাষিদের সপক্ষে অত্যন্ত নির্ভীক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি নিয়মিতভাবে গ্রামীণ বাংলার নীলচাষিদের ওপর ইউরোপীয় নীলকর সাহেবদের অমানুষিক ও বর্বর অত্যাচারের বাস্তব চিত্র শহরে সুশীল সমাজের সামনে তুলে ধরেন। তিনি অত্যাচারিত কৃষকদের কলকাতায় নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি আদালতের লড়াইয়ের জন্য তাদের বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও আর্থিক সহায়তা দিতেন।
💡 ৬৮. মহারানির ঘোষণাপত্রের (১৮৫৮) মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
✔️ উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ভারতীয় প্রজাদের ক্ষোভ প্রশমিত করা এবং ব্রিটিশ রাজমুকুটের প্রতি তাদের আনুগত্য ও বিশ্বাস অর্জন করাই ছিল এই ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলির স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার এবং স্বত্ববিলোপ নীতি পুরোপুরি ত্যাগের আশ্বাস দিয়ে ভারতীয় রাজাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। সর্বোপরি, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে এনে এক স্থিতিশীল ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছিল এর লক্ষ্য।
✔️ উত্তর: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পরবর্তী পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ভারতীয় প্রজাদের ক্ষোভ প্রশমিত করা এবং ব্রিটিশ রাজমুকুটের প্রতি তাদের আনুগত্য ও বিশ্বাস অর্জন করাই ছিল এই ঘোষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলির স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার এবং স্বত্ববিলোপ নীতি পুরোপুরি ত্যাগের আশ্বাস দিয়ে ভারতীয় রাজাদের সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। সর্বোপরি, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজমুকুটের অধীনে এনে এক স্থিতিশীল ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছিল এর লক্ষ্য।
💡 ৬৯. ব্যঙ্গচিত্র কেন আঁকা হয়?
✔️ উত্তর: ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন আঁকা হয় মূলত রসাত্মক ও শৈল্পিক উপায়ে সমকালীন সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার, অন্যায় এবং রাজনৈতিক কুশাসনের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানোর জন্য। এটি সাধারণ মানুষের মনে খুব সহজে ও প্রচ্ছন্নভাবে গভীর সামাজিক চেতনা এবং রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা জাগ্রত করতে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। উনিশ শতকের বাংলায় গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ব্যঙ্গচিত্রগুলি নব্যবাবু সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ এবং ব্রিটিশ শাসনের শোষণের চরিত্রকে জনসমক্ষে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উন্মোচিত করেছিল।
✔️ উত্তর: ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন আঁকা হয় মূলত রসাত্মক ও শৈল্পিক উপায়ে সমকালীন সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার, অন্যায় এবং রাজনৈতিক কুশাসনের তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানোর জন্য। এটি সাধারণ মানুষের মনে খুব সহজে ও প্রচ্ছন্নভাবে গভীর সামাজিক চেতনা এবং রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা জাগ্রত করতে এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। উনিশ শতকের বাংলায় গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ব্যঙ্গচিত্রগুলি নব্যবাবু সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ এবং ব্রিটিশ শাসনের শোষণের চরিত্রকে জনসমক্ষে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উন্মোচিত করেছিল।
💡 ৭০. বাংলার ছাপাখানার বিকাশে পঞ্চানন কর্মকারের ভূমিকা কী ছিল?
✔️ উত্তর: হুগলির কুশলী স্বর্ণশিল্পী পঞ্চানন কর্মকার চার্লস উইলকিন্সের অধীনে বাংলা মুদ্রণের জন্য প্রথম চলনশীল ও নিখুঁত ধাতব হরফ বা চলনশীল টাইপ তৈরি করে মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা নেন। তাঁর তৈরি হরফ বা অক্ষরের নিখুঁত বাঁধন ও সুদৃশ্য গঠনের ফলেই বাংলায় সুলভে ও উন্নত মানের বই মুদ্রণ করা সহজতর হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে যোগ দিয়ে বাংলা ছাড়াও দেবনাগরী ও মারাঠি হরফ তৈরি করে মুদ্রণ শিল্পকে এক মজবুত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদান করেন।
✔️ উত্তর: হুগলির কুশলী স্বর্ণশিল্পী পঞ্চানন কর্মকার চার্লস উইলকিন্সের অধীনে বাংলা মুদ্রণের জন্য প্রথম চলনশীল ও নিখুঁত ধাতব হরফ বা চলনশীল টাইপ তৈরি করে মুদ্রণ শিল্পের ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা নেন। তাঁর তৈরি হরফ বা অক্ষরের নিখুঁত বাঁধন ও সুদৃশ্য গঠনের ফলেই বাংলায় সুলভে ও উন্নত মানের বই মুদ্রণ করা সহজতর হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে যোগ দিয়ে বাংলা ছাড়াও দেবনাগরী ও মারাঠি হরফ তৈরি করে মুদ্রণ শিল্পকে এক মজবুত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদান করেন।
💡 ৭১. বাংলার মুদ্রণের ইতিহাসে বটতলা প্রকাশনার গুরুত্ব কী?
✔️ উত্তর: উনিশ শতকে কলকাতার চিৎপুর ও শোভাবাজার সংলগ্ন 'বটতলা' অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সস্তা ও সাধারণ মানুষের উপযোগী বইপত্রের এক বিশাল ও স্বতন্ত্র মুদ্রণ বাজার গড়ে উঠেছিল, যা বটতলা প্রকাশনা নামে পরিচিত। এই প্রকাশনাগুলি অত্যন্ত কম দামে ও সুলভে সাধারণ পাঠক, বিশেষ করে নারীদের জন্য জনপ্রিয় সাহিত্য, পাঁচালি, পঞ্জিকা ও ধর্মীয় কস্তক ছেপে বাংলায় গণ-সাক্ষরতার প্রসার ঘটিয়েছিল। কাঠের ব্লকের সুদৃশ্য অলঙ্করণ সংবলিত এই বইগুলি বাংলার লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সাধারণ মানুষের মধ্যবিত্ত রুচি গঠনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।
✔️ উত্তর: উনিশ শতকে কলকাতার চিৎপুর ও শোভাবাজার সংলগ্ন 'বটতলা' অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সস্তা ও সাধারণ মানুষের উপযোগী বইপত্রের এক বিশাল ও স্বতন্ত্র মুদ্রণ বাজার গড়ে উঠেছিল, যা বটতলা প্রকাশনা নামে পরিচিত। এই প্রকাশনাগুলি অত্যন্ত কম দামে ও সুলভে সাধারণ পাঠক, বিশেষ করে নারীদের জন্য জনপ্রিয় সাহিত্য, পাঁচালি, পঞ্জিকা ও ধর্মীয় কস্তক ছেপে বাংলায় গণ-সাক্ষরতার প্রসার ঘটিয়েছিল। কাঠের ব্লকের সুদৃশ্য অলঙ্করণ সংবলিত এই বইগুলি বাংলার লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সাধারণ মানুষের মধ্যবিত্ত রুচি গঠনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল।
💡 ৭২. ‘একা’ আন্দোলন শুরু হয় কেন?
✔️ উত্তর: ১৯২১ সালের শেষভাগে উত্তরপ্রদেশের হরদই, বারাবাঁকি ও সীতাপুর প্রভৃতি জেলায় জমিদারেরা কৃষকদের ওপর বেআইনিভাবে কর ও অতিরিক্ত খাজনা বৃদ্ধি করায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়। ভয়াবহ খরা ও মন্দার সময়েও শোষক তালুকদার ও জমিদারেরা কৃষকদের ওপর খাজনা আদায়ের জন্য অমানুষিক শারীরিক অত্যাচার ও জোরপূর্বক জমিচ্যুত করা শুরু করেছিল। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কৃষকদের নিজেদের মধ্যে 'একতা' বজায় রেখে সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই চালানোর শপথ থেকেই মাদারি পাসির নেতৃত্বে এই একা বা একতা আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
✔️ উত্তর: ১৯২১ সালের শেষভাগে উত্তরপ্রদেশের হরদই, বারাবাঁকি ও সীতাপুর প্রভৃতি জেলায় জমিদারেরা কৃষকদের ওপর বেআইনিভাবে কর ও অতিরিক্ত খাজনা বৃদ্ধি করায় এই আন্দোলনের সূচনা হয়। ভয়াবহ খরা ও মন্দার সময়েও শোষক তালুকদার ও জমিদারেরা কৃষকদের ওপর খাজনা আদায়ের জন্য অমানুষিক শারীরিক অত্যাচার ও জোরপূর্বক জমিচ্যুত করা শুরু করেছিল। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কৃষকদের নিজেদের মধ্যে 'একতা' বজায় রেখে সঙ্ঘবদ্ধ লড়াই চালানোর শপথ থেকেই মাদারি পাসির নেতৃত্বে এই একা বা একতা আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
💡 ৭৩. বারদৌলি সত্যাগ্রহ আন্দোলন কেন শুরু হয়?
✔️ উত্তর: ১৯২৮ সালে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুকে ব্রিটিশ সরকার চাষিদের ওপর হঠাৎ করে অন্যায়ভাবে ৩০ শতাংশ খাজনা বৃদ্ধি করলে এই ঐতিহাসিক সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হয়। সমকালীন সময়ে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ফসলহানি ঘটলেও ব্রিটিশ প্রশাসন কৃষকদের কর মকুবের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে কঠোরভাবে রাজস্ব আদায় করতে চেয়েছিল। এই চরম অর্থনৈতিক শোষণের প্রতিবাদে এবং অন্যায্য কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে কৃষকেরা খাজনা বন্ধের আন্দোলন শুরু করেন।
✔️ উত্তর: ১৯২৮ সালে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুকে ব্রিটিশ সরকার চাষিদের ওপর হঠাৎ করে অন্যায়ভাবে ৩০ শতাংশ খাজনা বৃদ্ধি করলে এই ঐতিহাসিক সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু হয়। সমকালীন সময়ে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ফসলহানি ঘটলেও ব্রিটিশ প্রশাসন কৃষকদের কর মকুবের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে কঠোরভাবে রাজস্ব আদায় করতে চেয়েছিল। এই চরম অর্থনৈতিক শোষণের প্রতিবাদে এবং অন্যায্য কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে কৃষকেরা খাজনা বন্ধের আন্দোলন শুরু করেন।
💡 ৭৪. অ্যান্টি সার্কুলার সোসাইটি কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
✔️ উত্তর: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন দমনের জন্য ব্রিটিশ সরকার প্রবর্তিত দমনমূলক 'কার্লাইল সার্কুলার'-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শচীন্দ্রপ্রসাদ বসুর নেতৃত্বে এই সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সার্কুলারের মাধ্যমে সরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের মিছিলে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং অংশ নিলে বহিষ্কার ও বৃত্তি বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিতাড়িত ও নির্যাতিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদের শিক্ষাবর্ষ সচল রাখতে বিকল্প জাতীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং স্বদেশী আন্দোলনকে ছাত্রদের মধ্যে সচল রাখাই ছিল এই সোসাইটির প্রধান উদ্দেশ্য।
✔️ উত্তর: ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন দমনের জন্য ব্রিটিশ সরকার প্রবর্তিত দমনমূলক 'কার্লাইল সার্কুলার'-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শচীন্দ্রপ্রসাদ বসুর নেতৃত্বে এই সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সার্কুলারের মাধ্যমে সরকারি স্কুল-কলেজের ছাত্রদের মিছিলে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং অংশ নিলে বহিষ্কার ও বৃত্তি বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিতাড়িত ও নির্যাতিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদের শিক্ষাবর্ষ সচল রাখতে বিকল্প জাতীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং স্বদেশী আন্দোলনকে ছাত্রদের মধ্যে সচল রাখাই ছিল এই সোসাইটির প্রধান উদ্দেশ্য।
💡 ৭৫. দীপালি সংঘ কেন প্রতিষ্ঠিত হয়?
✔️ উত্তর: ১৯২৩ সালে ঢাকায় প্রখ্যাত নারী নেত্রী লীলা নাগ (রায়)-এর নেতৃত্বে দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিস্তার এবং তাদের স্বনির্ভর ও সচেতন করে তোলার উদ্দেশ্যে। এই সংঘের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল লাঠিখেলা, তলোয়ার চালনা এবং আত্মরক্ষার নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের মানসিকভাবে নির্ভীক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা। এর প্রচ্ছন্ন ও প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রক্ষণশীলতার বেড়াজাল ভেঙে নারী সমাজকে ভারতের জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম ও সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।
✔️ উত্তর: ১৯২৩ সালে ঢাকায় প্রখ্যাত নারী নেত্রী লীলা নাগ (রায়)-এর নেতৃত্বে দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মূলত নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা বিস্তার এবং তাদের স্বনির্ভর ও সচেতন করে তোলার উদ্দেশ্যে। এই সংঘের অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল লাঠিখেলা, তলোয়ার চালনা এবং আত্মরক্ষার নানাবিধ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের মানসিকভাবে নির্ভীক ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা। এর প্রচ্ছন্ন ও প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রক্ষণশীলতার বেড়াজাল ভেঙে নারী সমাজকে ভারতের জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম ও সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।
💡 ৭৬. কী পরিস্থিতিতে কাশ্মীরের রাজা হরি সিং ভারত ভুক্তির দলিলে স্বাক্ষর করেন?
✔️ উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় কাশ্মীরের হিন্দু রাজা হরি সিং কোনো রাষ্ট্রে যোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নিলে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে কাশ্মীরের ভূখণ্ড দখলের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোপনে মদদ দিয়ে কয়েক হাজার সশস্ত্র উপজাতি পাঠানদের দিয়ে কাশ্মীরে অতর্কিতে এক ভয়াবহ আক্রমণ ও লুণ্ঠন চালায়। এই অতর্কিত আগ্রাসনের মুখে নিজের রাজ্য ও শ্রীনগরকে রক্ষা করতে নিরুপায় হয়ে রাজা হরি সিং ভারতের কাছে জরুরি সামরিক সাহায্য চান এবং শর্তানুযায়ী ২৬শে অক্টোবর ঐতিহাসিক 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করেন।
✔️ উত্তর: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় কাশ্মীরের হিন্দু রাজা হরি সিং কোনো রাষ্ট্রে যোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নিলে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই সুযোগে কাশ্মীরের ভূখণ্ড দখলের উদ্দেশ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী গোপনে মদদ দিয়ে কয়েক হাজার সশস্ত্র উপজাতি পাঠানদের দিয়ে কাশ্মীরে অতর্কিতে এক ভয়াবহ আক্রমণ ও লুণ্ঠন চালায়। এই অতর্কিত আগ্রাসনের মুখে নিজের রাজ্য ও শ্রীনগরকে রক্ষা করতে নিরুপায় হয়ে রাজা হরি সিং ভারতের কাছে জরুরি সামরিক সাহায্য চান এবং শর্তানুযায়ী ২৬শে অক্টোবর ঐতিহাসিক 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করেন।
💡 ৭৭. রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন (১৯SetUp৩) কেন গঠিত হয়েছিল?
✔️ উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার পর ভাষা ও সংস্কৃতির মিলের ওপর ভিত্তি করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্রমবর্ধমান দাবি ও যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখার জন্য এই কমিশন গঠিত হয়েছিল। ১৯৫২ সালে পৃথক তেলুগু রাজ্যের দাবিতে গান্ধীবাদী নেতা পোত্তি শ্রীরামালুর অনশনে মৃত্যুর পর দক্ষিণ ভারতে যে তীব্র গণ-আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলার সংকট তৈরি হয়, তা সরকারকে বাধ্য করেছিল। জওহরলাল নেহেরুর সরকার বিচারপতি ফজল আলির নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করেন যাতে প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগোলিক সখণ্ডতা ও ভাষার ভিত্তিতে ভারতের মানচিত্রকে এক সুসংগঠিত রূপ দেওয়া যায়।
✔️ উত্তর: ভারতের স্বাধীনতার পর ভাষা ও সংস্কৃতির মিলের ওপর ভিত্তি করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্রমবর্ধমান দাবি ও যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখার জন্য এই কমিশন গঠিত হয়েছিল। ১৯৫২ সালে পৃথক তেলুগু রাজ্যের দাবিতে গান্ধীবাদী নেতা পোত্তি শ্রীরামালুর অনশনে মৃত্যুর পর দক্ষিণ ভারতে যে তীব্র গণ-আন্দোলন ও আইনশৃঙ্খলার সংকট তৈরি হয়, তা সরকারকে বাধ্য করেছিল। জওহরলাল নেহেরুর সরকার বিচারপতি ফজল আলির নেতৃত্বে এই কমিশন গঠন করেন যাতে প্রশাসনিক সুবিধা, ভৌগোলিক সখণ্ডতা ও ভাষার ভিত্তিতে ভারতের মানচিত্রকে এক সুসংগঠিত রূপ দেওয়া যায়।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৪):
💡 ১. নারী ইতিহাসের ওপর একটি টীকা লেখো।
✔️ উত্তর:
বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে নতুন সামাজিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে নারী ইতিহাস চর্চা শুরু হয়। প্রথাগত পুরুষতান্ত্রিক ইতিহাসে নারীদের অবদান দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত ও উপেক্ষিত অবস্থায় পড়েছিল। এই নতুন ঐতিহাসিক ধারায় সমাজ গঠনে নারীদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের সামাজিক অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি কেবল অন্দরমহলের কথা বলে না, বরং নারীদের অধিকার অর্জনের দীর্ঘ সামাজিক ও রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে আনে। ভারতে জেরাডিন ফোর্বসের মতো গবেষকদের কাজ এই বিশেষ ইতিহাস চর্চাকে আধুনিক কালে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছে। নারীদের আইনি অধিকার, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং শিক্ষার ক্রমবিবর্তন ও বিকাশ জানা এই ইতিহাসের অন্যতম মূল লক্ষ্য। এটি সমাজকে একটি লিঙ্গবৈষম্যহীন প্রগতিশীল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে এবং সামগ্রিক সমাজতাত্ত্বিক পরিবর্তনকে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে। প্রথাগত ইতিহাসের সীমাবদ্ধতা দূর করে এক পূর্ণাঙ্গ মানব সভ্যতার ইতিহাস গড়ে তোলার জন্য এই চর্চা আজ অপরিহার্য।
✔️ উত্তর:
বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে নতুন সামাজিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে নারী ইতিহাস চর্চা শুরু হয়। প্রথাগত পুরুষতান্ত্রিক ইতিহাসে নারীদের অবদান দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত ও উপেক্ষিত অবস্থায় পড়েছিল। এই নতুন ঐতিহাসিক ধারায় সমাজ গঠনে নারীদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও তাদের সামাজিক অবস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এটি কেবল অন্দরমহলের কথা বলে না, বরং নারীদের অধিকার অর্জনের দীর্ঘ সামাজিক ও রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে আনে। ভারতে জেরাডিন ফোর্বসের মতো গবেষকদের কাজ এই বিশেষ ইতিহাস চর্চাকে আধুনিক কালে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছে। নারীদের আইনি অধিকার, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং শিক্ষার ক্রমবিবর্তন ও বিকাশ জানা এই ইতিহাসের অন্যতম মূল লক্ষ্য। এটি সমাজকে একটি লিঙ্গবৈষম্যহীন প্রগতিশীল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে এবং সামগ্রিক সমাজতাত্ত্বিক পরিবর্তনকে গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে। প্রথাগত ইতিহাসের সীমাবদ্ধতা দূর করে এক পূর্ণাঙ্গ মানব সভ্যতার ইতিহাস গড়ে তোলার জন্য এই চর্চা আজ অপরিহার্য।
💡 ২. স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের আদর্শ ব্যাখ্যা করো।
✔️ উত্তর:
স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের মূল আদর্শ ছিল সমকালীন ভারতীয় সমাজে 'নব্য বেদান্ত' নামে সুপরিচিত। তিনি সনাতন হিন্দু ধর্মের ভেদাভেদ ও গোঁড়ামি দূর করে তাকে এক প্রগতিশীল ও গতিশীল রূপ দেন। তিনি উপনিষদের জ্ঞানকে কেবল পুঁথিগত না রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কল্যাণে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তাঁর প্রধান বাণী ছিল— আর্ত, দরিদ্র ও শোষিত মানুষের সেবাই হলো ঈশ্বরের আরাধনা করার প্রকৃত পথ। বিবেকানন্দ ধর্মকে কোনো সংকীর্ণ আচার-অনুষ্ঠান, অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারের গণ্ডির মধ্যে কখনোই খুঁজতেন না। তিনি তৎকালীন সমাজে প্রচলিত জাতপাত, ছোঁয়াছুঁয়ি এবং ধর্মীয় ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৮৯৩ সালের শিকাগো ধর্মসম্মেলনে তিনি হিন্দু ধর্মের এই সর্বজনীন মানবতাবাদী আদর্শ বিশ্বদরবারে সগর্বে প্রচার করেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের যুবসমাজ যেন নিষ্ক্রিয় না থেকে সমাজসেবার মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করে।
✔️ উত্তর:
স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের মূল আদর্শ ছিল সমকালীন ভারতীয় সমাজে 'নব্য বেদান্ত' নামে সুপরিচিত। তিনি সনাতন হিন্দু ধর্মের ভেদাভেদ ও গোঁড়ামি দূর করে তাকে এক প্রগতিশীল ও গতিশীল রূপ দেন। তিনি উপনিষদের জ্ঞানকে কেবল পুঁথিগত না রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কল্যাণে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। তাঁর প্রধান বাণী ছিল— আর্ত, দরিদ্র ও শোষিত মানুষের সেবাই হলো ঈশ্বরের আরাধনা করার প্রকৃত পথ। বিবেকানন্দ ধর্মকে কোনো সংকীর্ণ আচার-অনুষ্ঠান, অন্ধবিশ্বাস বা কুসংস্কারের গণ্ডির মধ্যে কখনোই খুঁজতেন না। তিনি তৎকালীন সমাজে প্রচলিত জাতপাত, ছোঁয়াছুঁয়ি এবং ধর্মীয় ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১৮৯৩ সালের শিকাগো ধর্মসম্মেলনে তিনি হিন্দু ধর্মের এই সর্বজনীন মানবতাবাদী আদর্শ বিশ্বদরবারে সগর্বে প্রচার করেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের যুবসমাজ যেন নিষ্ক্রিয় না থেকে সমাজসেবার মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করে।
💡 ৩. ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতালরা বিদ্রোহ করেছিল কেন?
✔️ উত্তর:
১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে সাঁওতালরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ ঘোষণা করে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে সাঁওতালদের নিজস্ব জঙ্গল ঘেরা দামিন-ই-কোহ্ অঞ্চলে বহিরাগত জমিদার ও মহাজনদের প্রবেশ ঘটেছিল। এই বহিরাগত শোষকেরা সরল সাঁওতালদের ওপর চড়া হারে খাজনা চাপিয়ে তাদের সর্বস্বান্ত ও জমিচ্যুত করত। ঋণের দায়ে বহু সাঁওতাল পরিবার শেষ পর্যন্ত মহাজনদের কাছে বংশানুক্রমিকভাবে ক্রীতদাসে পরিণত হতে বাধ্য হয়েছিল। রেলপথ পাতার কাজে নিযুক্ত সাঁওতাল মজুরদের ওপর ব্রিটিশ ঠিকাদারেরা অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত। মহাজনেরা কেনা ও বেচার সময় আলাদা বাটখারা ব্যবহার করে সাঁওতালদের চরম অর্থনৈতিকভাবে প্রতারণা করত। স্থানীয় ব্রিটিশ পুলিশ ও আদালত সাঁওতালদের পাশে না দাঁড়িয়ে তাদের আইনগত বিচার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির অধিকার রক্ষার্থে সাঁওতালরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ বেছে নেয়।
✔️ উত্তর:
১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিধু ও কানহুর নেতৃত্বে সাঁওতালরা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সাঁওতাল বিদ্রোহ ঘোষণা করে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে সাঁওতালদের নিজস্ব জঙ্গল ঘেরা দামিন-ই-কোহ্ অঞ্চলে বহিরাগত জমিদার ও মহাজনদের প্রবেশ ঘটেছিল। এই বহিরাগত শোষকেরা সরল সাঁওতালদের ওপর চড়া হারে খাজনা চাপিয়ে তাদের সর্বস্বান্ত ও জমিচ্যুত করত। ঋণের দায়ে বহু সাঁওতাল পরিবার শেষ পর্যন্ত মহাজনদের কাছে বংশানুক্রমিকভাবে ক্রীতদাসে পরিণত হতে বাধ্য হয়েছিল। রেলপথ পাতার কাজে নিযুক্ত সাঁওতাল মজুরদের ওপর ব্রিটিশ ঠিকাদারেরা অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত। মহাজনেরা কেনা ও বেচার সময় আলাদা বাটখারা ব্যবহার করে সাঁওতালদের চরম অর্থনৈতিকভাবে প্রতারণা করত। স্থানীয় ব্রিটিশ পুলিশ ও আদালত সাঁওতালদের পাশে না দাঁড়িয়ে তাদের আইনগত বিচার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির অধিকার রক্ষার্থে সাঁওতালরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ বেছে নেয়।
💡 ৪. ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মহাবিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙালি সমাজের কীরূপ মনোভাব ছিল?
✔️ উত্তর:
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রতি সমকালীন নব্যশিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের মনোভাব মোটের ওপর নেতিবাচক ছিল। এই শিক্ষিত সমাজ মহাবিদ্রোহকে আধুনিক প্রগতির বিরোধী এবং একটি সামন্ততান্ত্রিক পশ্চাৎপদ আন্দোলন বলে মনে করেছিল। তাঁরা ভাবতেন এই বিদ্রোহ সফল হলে ভারতে আবার পুরোনো রাজতন্ত্র ও মধ্যযুগীয় শাসনব্যবস্থা ফিরে আসবে। তাঁরা বিশ্বাস করতেন ব্রিটিশ শাসনের মাধ্যমেই কেবল ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ও আধুনিক সমাজ সংস্কার সুরক্ষিত থাকবে। বহু বুদ্ধিজীবী ও সমকালীন সংবাদপত্র সিপাহিদের এই হিংসাত্মক কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেন। ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটির মতো অভিজাত সংগঠনগুলি ব্রিটিশ সরকারকে এই বিদ্রোহ দমনে খোলাখুলি সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা জানায়। বাঙালিরা মনে করতেন সিপাহিরা জিতলে দেশ আবার মধ্যযুগীয় অন্ধকূপের নানা কুসংস্কারে পিছিয়ে যাবে। তবে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মতো কিছু ব্যক্তি তাঁর পত্রিকায় সরকারি নিষ্ঠুর সামরিক দমনের জোরালো প্রতিবাদও করেছিলেন।
✔️ উত্তর:
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের প্রতি সমকালীন নব্যশিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজের মনোভাব মোটের ওপর নেতিবাচক ছিল। এই শিক্ষিত সমাজ মহাবিদ্রোহকে আধুনিক প্রগতির বিরোধী এবং একটি সামন্ততান্ত্রিক পশ্চাৎপদ আন্দোলন বলে মনে করেছিল। তাঁরা ভাবতেন এই বিদ্রোহ সফল হলে ভারতে আবার পুরোনো রাজতন্ত্র ও মধ্যযুগীয় শাসনব্যবস্থা ফিরে আসবে। তাঁরা বিশ্বাস করতেন ব্রিটিশ শাসনের মাধ্যমেই কেবল ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ও আধুনিক সমাজ সংস্কার সুরক্ষিত থাকবে। বহু বুদ্ধিজীবী ও সমকালীন সংবাদপত্র সিপাহিদের এই হিংসাত্মক কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেন। ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটির মতো অভিজাত সংগঠনগুলি ব্রিটিশ সরকারকে এই বিদ্রোহ দমনে খোলাখুলি সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা জানায়। বাঙালিরা মনে করতেন সিপাহিরা জিতলে দেশ আবার মধ্যযুগীয় অন্ধকূপের নানা কুসংস্কারে পিছিয়ে যাবে। তবে হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মতো কিছু ব্যক্তি তাঁর পত্রিকায় সরকারি নিষ্ঠুর সামরিক দমনের জোরালো প্রতিবাদও করেছিলেন।
💡 ৫. ছাপা বইয়ের সঙ্গে শিক্ষাবিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
উনিশ শতকে বাংলায় ছাপা বইয়ের সহজলভ্যতা আধুনিক শিক্ষার বিস্তারে এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার পূর্বে হাতে লেখা পুঁথি ছিল অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কেনা অসম্ভব ছিল। বাংলায় চলনশীল ধাতব হরফে বই ছাপা শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তকের উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। বইয়ের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসায় সমাজে শিক্ষার ব্যাপক ও দ্রুত প্রসার ঘটেছিল। ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি সস্তায় স্কুল-কলেজের জন্য হাজার হাজার আধুনিক পাঠ্যবই ছেপে সরবরাহ করে। বিদ্যাসাগরের 'বর্ণপরিচয়' ও তর্কালঙ্কারের 'শিশুশিক্ষা' বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের ভিত তৈরি করতে সাহায্য করে। ছাপা বইয়ের দৌলতে শহর ছাড়িয়ে গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নতুন নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। সুদৃশ্য ও সচিত্র ছাপা বইগুলি কোমলমতি শিশুদের মনে পড়াশোনার প্রতি এক স্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি করেছিল।
✔️ উত্তর:
উনিশ শতকে বাংলায় ছাপা বইয়ের সহজলভ্যতা আধুনিক শিক্ষার বিস্তারে এক যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার পূর্বে হাতে লেখা পুঁথি ছিল অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে কেনা অসম্ভব ছিল। বাংলায় চলনশীল ধাতব হরফে বই ছাপা শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তকের উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। বইয়ের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসায় সমাজে শিক্ষার ব্যাপক ও দ্রুত প্রসার ঘটেছিল। ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি সস্তায় স্কুল-কলেজের জন্য হাজার হাজার আধুনিক পাঠ্যবই ছেপে সরবরাহ করে। বিদ্যাসাগরের 'বর্ণপরিচয়' ও তর্কালঙ্কারের 'শিশুশিক্ষা' বাংলায় প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারের ভিত তৈরি করতে সাহায্য করে। ছাপা বইয়ের দৌলতে শহর ছাড়িয়ে গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নতুন নতুন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। সুদৃশ্য ও সচিত্র ছাপা বইগুলি কোমলমতি শিশুদের মনে পড়াশোনার প্রতি এক স্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি করেছিল।
💡 ৬. কারিগরি শিক্ষার বিকাশে বাংলায় ‘বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের’ কী ভূমিকা ছিল?
✔️ উত্তর:
১৯০৬ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সময় বাংলায় বিখ্যাত বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট বা বিটিআই প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশদের প্রবর্তিত কেরানি তৈরির ঔপনিবেশিক শিক্ষার বিকল্প গড়ে তোলাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। ভারতীয় ছাত্রদের নিজস্ব শিল্প ও প্রযুক্তিগত বিদ্যায় পারদর্শী করতে এটি বাংলায় অগ্রণী ভূমিকা নেয়। এখানে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফলিত রসায়নের মতো আধুনিক ও বৃত্তিমূলক বিষয় পড়ানো হতো। তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের মতো দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্বরা এর প্রয়োজনীয় আর্থিক ও আদর্শগত পৃষ্ঠপোষকতা করেন। স্বদেশী যুগে দেশীয় সাবান, দেশলাই ও চর্ম শিল্প গড়ার উপযুক্ত প্রযুক্তিবিদ মূলত এখান থেকেই তৈরি হয়। এটি ছাত্রদের স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে। পরবর্তীকালে এই গৌরবময় প্রযুক্তি শিক্ষাকেন্দ্রটিই ধাপে ধাপে উন্নত হয়ে আজকের 'যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়'-এ পরিণত হয়েছে।
✔️ উত্তর:
১৯০৬ সালে স্বদেশী আন্দোলনের সময় বাংলায় বিখ্যাত বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট বা বিটিআই প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশদের প্রবর্তিত কেরানি তৈরির ঔপনিবেশিক শিক্ষার বিকল্প গড়ে তোলাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। ভারতীয় ছাত্রদের নিজস্ব শিল্প ও প্রযুক্তিগত বিদ্যায় পারদর্শী করতে এটি বাংলায় অগ্রণী ভূমিকা নেয়। এখানে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফলিত রসায়নের মতো আধুনিক ও বৃত্তিমূলক বিষয় পড়ানো হতো। তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের মতো দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্বরা এর প্রয়োজনীয় আর্থিক ও আদর্শগত পৃষ্ঠপোষকতা করেন। স্বদেশী যুগে দেশীয় সাবান, দেশলাই ও চর্ম শিল্প গড়ার উপযুক্ত প্রযুক্তিবিদ মূলত এখান থেকেই তৈরি হয়। এটি ছাত্রদের স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদকে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে। পরবর্তীকালে এই গৌরবময় প্রযুক্তি শিক্ষাকেন্দ্রটিই ধাপে ধাপে উন্নত হয়ে আজকের 'যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়'-এ পরিণত হয়েছে।
💡 ৭. দলিত আন্দোলন বিষয়ে গান্ধি আম্বেদকর বিতর্ক নিয়ে একটি টীকা লেখো।
✔️ উত্তর:
১৯৩০-এর দশকে দলিতদের রাজনৈতিক অধিকারের রূপরেখা নিয়ে মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি আর আম্বেদকরের মধ্যে বিতর্ক হয়। আম্বেদকর দলিতদের সামাজিক মুক্তির জন্য আইনসভায় 'পৃথক বা আলাদা নির্বাচন' ব্যবস্থার জোরালো দাবি জানান। অন্যদিকে গান্ধীজি মনে করতেন পৃথক নির্বাচন চালু করলে দলিতরা চিরতরে মূল হিন্দু সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। গান্ধীজি দলিতদের 'হরিজন' আখ্যা দিয়ে হিন্দু সমাজের অন্দরেই অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের আন্দোলনের ওপর বেশি জোর দেন। ব্রিটিশরা ১৯ concert২ সালে 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি' দিয়ে দলিতদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মানলে এই রাজনৈতিক সংকট বাড়ে। এর প্রতিবাদে এবং ভারতের জাতীয় সংহতি অক্ষুণ্ণ রাখতে গান্ধীজি ইয়ারভদা জেলে আমরণ অনশন শুরু করেন। রাজনৈতিক সংকট দূর করতে অবশেষে এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে ঐতিহাসিক 'পুনা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে পৃথক নির্বাচনের দাবি বর্জন করে সাধারণ আসনেই দলিতদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়।
✔️ উত্তর:
১৯৩০-এর দশকে দলিতদের রাজনৈতিক অধিকারের রূপরেখা নিয়ে মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি আর আম্বেদকরের মধ্যে বিতর্ক হয়। আম্বেদকর দলিতদের সামাজিক মুক্তির জন্য আইনসভায় 'পৃথক বা আলাদা নির্বাচন' ব্যবস্থার জোরালো দাবি জানান। অন্যদিকে গান্ধীজি মনে করতেন পৃথক নির্বাচন চালু করলে দলিতরা চিরতরে মূল হিন্দু সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। গান্ধীজি দলিতদের 'হরিজন' আখ্যা দিয়ে হিন্দু সমাজের অন্দরেই অস্পৃশ্যতা দূরীকরণের আন্দোলনের ওপর বেশি জোর দেন। ব্রিটিশরা ১৯ concert২ সালে 'সাম্প্রদায়িক বাঁটোয়ারা নীতি' দিয়ে দলিতদের পৃথক নির্বাচনের দাবি মানলে এই রাজনৈতিক সংকট বাড়ে। এর প্রতিবাদে এবং ভারতের জাতীয় সংহতি অক্ষুণ্ণ রাখতে গান্ধীজি ইয়ারভদা জেলে আমরণ অনশন শুরু করেন। রাজনৈতিক সংকট দূর করতে অবশেষে এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে ঐতিহাসিক 'পুনা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে পৃথক নির্বাচনের দাবি বর্জন করে সাধারণ আসনেই দলিতদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়ানো হয়।
💡 ৮. স্বাধীনতার পরে ভাষার ভিত্তিতে ভারত কীভাবে পুনর্গঠিত হয়েছিল?
✔️ উত্তর:
✔️ উত্তর:
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর ভাষার ভিত্তিতে নতুন রাজ্য গঠনের দাবি ভারতের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। জাতীয় সংহতির কথা মাথায় রেখে জওহরলাল নেহেরুর সরকার প্রথমে এই দাবি সাময়িকভাবে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে 'দার কমিশন' ও পরে কংগ্রেসের 'JVP কমিটি' গঠিত হয়। ১৯৫২ সালে পৃথক তেলুগু রাজ্যের দাবিতে গান্ধীবাদী নেতা পোত্তি শ্রীরামালুর অনশনে মৃত্যু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এই ঘটনার পর তীব্র গণ-আন্দোলন শুরু হলে সরকার ১৯৫৩ সালে প্রথম ভাষাভিত্তিক রাজ্য হিসেবে 'অন্ধ্রপ্রদেশ' গঠন করে। সামগ্রিক দেশের সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য ফজল আলির নেতৃত্বে 'রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন' নিযুক্ত করা হয়। এই কমিশন রাজ্য গঠনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সুবিধার পাশাপাশি ভাষাকেই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কমিশনের সুপারিশ মেনে ১৯৫৬ সালের বিশেষ আইনে ভারতকে ১৪টি রাজ্য ও ৬টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
💡 ৯. ‘নীলদর্পণ’ নাটক থেকে উনিশ শতকের বাংলার সমাজের কীরূপ প্রতিফলন পাওয়া যায়?
✔️ উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটক থেকে উনিশ শতকের বাংলার গ্রামীণ সমাজের ওপর নীলকর সাহেবদের অমানুষিক ও বর্বর অত্যাচারের এক বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়। এই নাটকে মূলত দাদন প্রথার ফাঁদে ফেলে কৃষকদের ওপর চাবুক মারা, শারীরিক নির্যাতন ও চরম অর্থনৈতিক শোষণের কাহিনী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে নীলকরদের অত্যাচারের পাশাপাশি সমকালীন ইংরেজ সরকারের বিচার ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক আচরণও পরিষ্কার প্রতিফলিত হয়েছে। নীলকরদের ভয়ে গ্রামের সম্পন্ন চাষি গোলক বসুর সপরিবারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সমকালীন বাংলার কৃষিজীবী সমাজের অসহায়তার এক জীবন্ত রূপ। অন্যদিকে, তোরাপের মতো সাধারণ কৃষকের সাহসী প্রতিরোধ চরিত্রটি শোষিত বাঙালি সমাজের ঘুরে দাঁড়ানোর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রগতিশীল মানসিকতা প্রকাশ করে। গ্রামীণ সমাজের এই সংকটের পাশাপাশি নাটকে কলকাতার নব্যশিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চাষিদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। নাটকটি সমকালীন সমাজকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে রেভারেন্ড জেমস লং এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে বিশ্ববাসীর সামনে ব্রিটিশ কুশাসনকে উন্মোচিত করেন। পরিশেষে বলা যায়, উনিশ শতকের বাংলার নীল চাষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তীব্র সামাজিক ক্ষোভ ও গণ-আন্দোলনের এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল হলো এই নাটক।
✔️ উত্তর:
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটক থেকে উনিশ শতকের বাংলার গ্রামীণ সমাজের ওপর নীলকর সাহেবদের অমানুষিক ও বর্বর অত্যাচারের এক বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়। এই নাটকে মূলত দাদন প্রথার ফাঁদে ফেলে কৃষকদের ওপর চাবুক মারা, শারীরিক নির্যাতন ও চরম অর্থনৈতিক শোষণের কাহিনী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এখানে নীলকরদের অত্যাচারের পাশাপাশি সমকালীন ইংরেজ সরকারের বিচার ব্যবস্থার সম্পূর্ণ পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যমূলক আচরণও পরিষ্কার প্রতিফলিত হয়েছে। নীলকরদের ভয়ে গ্রামের সম্পন্ন চাষি গোলক বসুর সপরিবারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া সমকালীন বাংলার কৃষিজীবী সমাজের অসহায়তার এক জীবন্ত রূপ। অন্যদিকে, তোরাপের মতো সাধারণ কৃষকের সাহসী প্রতিরোধ চরিত্রটি শোষিত বাঙালি সমাজের ঘুরে দাঁড়ানোর ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রগতিশীল মানসিকতা প্রকাশ করে। গ্রামীণ সমাজের এই সংকটের পাশাপাশি নাটকে কলকাতার নব্যশিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চাষিদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি স্পষ্ট ধরা পড়েছে। নাটকটি সমকালীন সমাজকে এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে রেভারেন্ড জেমস লং এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে বিশ্ববাসীর সামনে ব্রিটিশ কুশাসনকে উন্মোচিত করেন। পরিশেষে বলা যায়, উনিশ শতকের বাংলার নীল চাষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তীব্র সামাজিক ক্ষোভ ও গণ-আন্দোলনের এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল হলো এই নাটক।
💡 ১০. উনিশ শতকে নারীশিক্ষা বিস্তারে ড্রিংকওয়াটার বেথুন কী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন?
✔️ উত্তর:
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে ড্রিংকওয়াটার বেথুন সাহেব একজন অন্যতম প্রধান দূরদর্শী রূপকার ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারতীয় সমাজের সামগ্রিক প্রগতির জন্য নারীদের কুসংস্কারমুক্ত করা এবং তাদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় 'ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল' (যা বর্তমানের বিখ্যাত বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠা করে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করেন। তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের তীব্র বিরোধিতা ও সামাজিক লাঞ্ছনা উপেক্ষা করে তিনি মেয়েদের বিদ্যালয়ে আনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। এই মহৎ কাজে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো প্রগতিশীল ভারতীয়দের সক্রিয় সহযোগিতা নেন এবং বিদ্যাসাগরকে এই বিদ্যালয়ের প্রথম সম্পাদক নিযুক্ত করেন। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য তিনি নিজস্ব খরচে বিশেষ ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা করেন যাতে অভিভাবকেরা মেয়েদের পাঠাতে নিরাপদ বোধ করেন। তিনি মেয়েদের জন্য এমন একটি আধুনিক পাঠ্যক্রম তৈরি করেছিলেন যা রক্ষণশীল সমাজকে আঘাত না করে তাদের জ্ঞান ও চেতনার বিকাশ ঘটায়। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর সমস্ত ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পত্তি এবং সঞ্চিত অর্থ এই নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য দান করে যান।
✔️ উত্তর:
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় নারীশিক্ষার প্রসারে ড্রিংকওয়াটার বেথুন সাহেব একজন অন্যতম প্রধান দূরদর্শী রূপকার ও পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ভারতীয় সমাজের সামগ্রিক প্রগতির জন্য নারীদের কুসংস্কারমুক্ত করা এবং তাদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় 'ক্যালকাটা ফিমেল স্কুল' (যা বর্তমানের বিখ্যাত বেথুন স্কুল) প্রতিষ্ঠা করে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করেন। তৎকালীন রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের তীব্র বিরোধিতা ও সামাজিক লাঞ্ছনা উপেক্ষা করে তিনি মেয়েদের বিদ্যালয়ে আনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। এই মহৎ কাজে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো প্রগতিশীল ভারতীয়দের সক্রিয় সহযোগিতা নেন এবং বিদ্যাসাগরকে এই বিদ্যালয়ের প্রথম সম্পাদক নিযুক্ত করেন। বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য তিনি নিজস্ব খরচে বিশেষ ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা করেন যাতে অভিভাবকেরা মেয়েদের পাঠাতে নিরাপদ বোধ করেন। তিনি মেয়েদের জন্য এমন একটি আধুনিক পাঠ্যক্রম তৈরি করেছিলেন যা রক্ষণশীল সমাজকে আঘাত না করে তাদের জ্ঞান ও চেতনার বিকাশ ঘটায়। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর সমস্ত ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পত্তি এবং সঞ্চিত অর্থ এই নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য দান করে যান।
💡 ১১. হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ছিল?
✔️ উত্তর:
১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে নবগোপাল মিত্র, রাজনারায়ণ বসু এবং জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুরের যৌথ উদ্যোগে কলকাতায় হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগানো। উনিশ শতকে ব্রিটিশদের প্রবর্তিত পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ থেকে তরুণ প্রজন্মকে মুক্ত করে নিজেদের দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ফিরিয়ে আনা এর লক্ষ্য ছিল। এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্বাবলম্বী হওয়া এবং দেশীয় শিল্প, হস্তশিল্প ও দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনী করে ভারতের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী করা। মেলায় ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য ও দেশাত্মবোধক গান চর্চাকে উৎসাহিত করা হতো যাতে যুবসমাজের মধ্যে একতার ভাবধারা ও গভীর দেশপ্রেম গড়ে ওঠে। যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে লাঠিখেলা, কুস্তি, তলোয়ার চালনা এবং বিভিন্ন শারীরিক কসরত প্রদর্শনীর বিশেষ ব্যবস্থা করা হতো। ব্রিটিশদের ওপর নির্ভর না করে ভারতীয়রা যাতে নিজেদের শক্তিতে সজ্ঞবদ্ধ হতে পারে, সেই আত্মনির্ভরতার বার্তা দেওয়াই ছিল এই মেলার মূল মন্ত্র। সমকালীন ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি গড়ে ওঠার আগে এই মেলাই প্রথম দেশবাসীকে একটি সাধারণ মঞ্চে এনে জাতীয় ঐক্যের চেতনা প্রদান করেছিল। সামগ্রিকভাবে, ভারতীয়দের মনে সুপ্ত থাকা জাতীয় গৌরব পুনরুদ্ধার করা এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল হিন্দুমেলার আসল উদ্দেশ্য।
✔️ উত্তর:
১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দে নবগোপাল মিত্র, রাজনারায়ণ বসু এবং জ্ঞানেন্দ্রনাথ ঠাকুরের যৌথ উদ্যোগে কলকাতায় হিন্দুমেলা প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগানো। উনিশ শতকে ব্রিটিশদের প্রবর্তিত পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ থেকে তরুণ প্রজন্মকে মুক্ত করে নিজেদের দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা ফিরিয়ে আনা এর লক্ষ্য ছিল। এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল স্বাবলম্বী হওয়া এবং দেশীয় শিল্প, হস্তশিল্প ও দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনী করে ভারতের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদকে শক্তিশালী করা। মেলায় ভারতীয় ভাষা, সাহিত্য ও দেশাত্মবোধক গান চর্চাকে উৎসাহিত করা হতো যাতে যুবসমাজের মধ্যে একতার ভাবধারা ও গভীর দেশপ্রেম গড়ে ওঠে। যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মেলা প্রাঙ্গণে লাঠিখেলা, কুস্তি, তলোয়ার চালনা এবং বিভিন্ন শারীরিক কসরত প্রদর্শনীর বিশেষ ব্যবস্থা করা হতো। ব্রিটিশদের ওপর নির্ভর না করে ভারতীয়রা যাতে নিজেদের শক্তিতে সজ্ঞবদ্ধ হতে পারে, সেই আত্মনির্ভরতার বার্তা দেওয়াই ছিল এই মেলার মূল মন্ত্র। সমকালীন ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি গড়ে ওঠার আগে এই মেলাই প্রথম দেশবাসীকে একটি সাধারণ মঞ্চে এনে জাতীয় ঐক্যের চেতনা প্রদান করেছিল। সামগ্রিকভাবে, ভারতীয়দের মনে সুপ্ত থাকা জাতীয় গৌরব পুনরুদ্ধার করা এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে এক সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল হিন্দুমেলার আসল উদ্দেশ্য।
💡 ১২. ‘বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা’কে প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয় কেন?
✔️ উত্তর:
১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায়ের অনুগামীদের উদ্যোগে গঠিত 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'-কে ভারতের ইতিহাসের প্রথম প্রথাগত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সভার আগে বাংলায় যেসব সংগঠন গড়ে উঠেছিল, সেগুলি মূলত ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণ অথবা সামাজিক সংস্কারের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এই সভা প্রথমবার সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে দেশের শাসনব্যবস্থা, সরকারি নীতি এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা শুরু করে। এই সভার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কাজ ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রবর্তিত নিষ্কর জমির ওপর কর আরোপের অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো। তারা এই অন্যায় কর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সজ্ঞবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানায়, যা ছিল ভারতীয়দের প্রথম নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলন। দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা এবং সরকারের শাসননীতির সমালোচনা করার মাধ্যমে এই সভা ভারতীয়দের মনে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়িয়েছিল। ঐতিহাসিক যোগেশচন্দ্র বাগল সমকালীন দলিল দস্তাবেজ বিশ্লেষণ করে এই সংগঠনটিকে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ করা সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রথাগত ধর্মীয় ও সামাজিক আলোচনার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক অধিকারের দাবি তোলার কারণেই একে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
✔️ উত্তর:
১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমোহন রায়ের অনুগামীদের উদ্যোগে গঠিত 'বঙ্গভাষা প্রকাশিকা সভা'-কে ভারতের ইতিহাসের প্রথম প্রথাগত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সভার আগে বাংলায় যেসব সংগঠন গড়ে উঠেছিল, সেগুলি মূলত ধর্মীয় কুসংস্কার দূরীকরণ অথবা সামাজিক সংস্কারের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এই সভা প্রথমবার সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে দেশের শাসনব্যবস্থা, সরকারি নীতি এবং প্রশাসনিক বিষয়গুলি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা শুরু করে। এই সভার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক কাজ ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রবর্তিত নিষ্কর জমির ওপর কর আরোপের অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো। তারা এই অন্যায় কর ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সজ্ঞবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানায়, যা ছিল ভারতীয়দের প্রথম নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলন। দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা এবং সরকারের শাসননীতির সমালোচনা করার মাধ্যমে এই সভা ভারতীয়দের মনে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়িয়েছিল। ঐতিহাসিক যোগেশচন্দ্র বাগল সমকালীন দলিল দস্তাবেজ বিশ্লেষণ করে এই সংগঠনটিকে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক চেতনা প্রকাশ করা সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রথাগত ধর্মীয় ও সামাজিক আলোচনার বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক অধিকারের দাবি তোলার কারণেই একে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
💡 ১৩. ছাপা বই-এর সঙ্গে শিক্ষাবিস্তারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
উনিশ শতকে বাংলায় ছাপাখানার বাণিজ্যিক বিকাশ এবং ছাপা বইয়ের সহজলভ্যতা আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছিল। ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার পূর্বে হাতে লেখা পুঁথি ছিল অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য এবং চড়া দামের কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পক্ষে কেনা অসম্ভব ছিল। বাংলায় চলনশীল হরফে বই গণ-হারে ছাপা শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তকের উৎপাদন ও জোগান এক ধাক্কায় বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। বইয়ের বাজারমূল্য সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে চলে আসায় সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছানো অনেক সহজ হয়েছিল। ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত 'ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি' সস্তায় স্কুল-কলেজের জন্য হাজার হাজার আধুনিক পাঠ্যবই ছেপে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'বর্ণপরিচয়' এবং মদনমোহন তর্কালঙ্কারের 'শিশুশিক্ষা'-র মতো ছাপা বইগুলি বাংলায় প্রাথমিক ও গণ-শিক্ষা বিস্তারের ভিত মজবুত করেছিল। ছাপা বইয়ের এই বিপুল সরবরাহের দৌলতে কলকাতা শহরের বাইরে গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নতুন নতুন বিদ্যালয় ও পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। সুদৃশ্য টাইপ ও চিত্তাকর্ষক ছবির মাধ্যমে মুদ্রিত বইগুলি কোমলমতি শিশুদের মনে পড়াশোনার প্রতি এক স্বাভাবিক আকর্ষণ ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি করেছিল।
✔️ উত্তর:
উনিশ শতকে বাংলায় ছাপাখানার বাণিজ্যিক বিকাশ এবং ছাপা বইয়ের সহজলভ্যতা আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী বিপ্লব এনেছিল। ছাপাখানা প্রতিষ্ঠার পূর্বে হাতে লেখা পুঁথি ছিল অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য এবং চড়া দামের কারণে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পক্ষে কেনা অসম্ভব ছিল। বাংলায় চলনশীল হরফে বই গণ-হারে ছাপা শুরু হওয়ায় প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তকের উৎপাদন ও জোগান এক ধাক্কায় বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। বইয়ের বাজারমূল্য সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে চলে আসায় সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছানো অনেক সহজ হয়েছিল। ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত 'ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি' সস্তায় স্কুল-কলেজের জন্য হাজার হাজার আধুনিক পাঠ্যবই ছেপে শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 'বর্ণপরিচয়' এবং মদনমোহন তর্কালঙ্কারের 'শিশুশিক্ষা'-র মতো ছাপা বইগুলি বাংলায় প্রাথমিক ও গণ-শিক্ষা বিস্তারের ভিত মজবুত করেছিল। ছাপা বইয়ের এই বিপুল সরবরাহের দৌলতে কলকাতা শহরের বাইরে গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নতুন নতুন বিদ্যালয় ও পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। সুদৃশ্য টাইপ ও চিত্তাকর্ষক ছবির মাধ্যমে মুদ্রিত বইগুলি কোমলমতি শিশুদের মনে পড়াশোনার প্রতি এক স্বাভাবিক আকর্ষণ ও আনন্দের পরিবেশ তৈরি করেছিল।
💡 ১৪. বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার বিকাশে ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের কীরূপ অবদান ছিল?
✔️ উত্তর:
ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন আধুনিক ভারতের বিজ্ঞান মনস্কতা গড়ে তোলার এবং মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রধান দূরদর্শী রূপকার ও পথিকৃৎ। তিনি পেশায় একজন খ্যাতনামা অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক হলেও পরবর্তীকালে ভারতে হোমিওপ্যাথির প্রসার এবং বিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মন দিয়েছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে ভারতের প্রকৃত উন্নতির জন্য ব্রিটিশদের মুখাপেক্ষী না হয়ে ভারতীয়দের নিজেদের বিজ্ঞান চর্চায় স্বনির্ভর হতে হবে। এই মহান উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সম্পূর্ণ ভারতীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলেই ভারতে প্রথম কোনো গবেষণাগার গড়ে ওঠে যেখানে ভারতীয়রা আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ পায়। এখানে নিয়মিত বিজ্ঞান বিষয়ক বক্তৃতার আয়োজন করে তিনি সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তিবাদ ছড়িয়ে দিতে কাজ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানেই পরবর্তীকালে স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সি. ভি. রমন তাঁদের বিশ্ববিখ্যাত গবেষণা করেছিলেন। বিজ্ঞানকে ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জন্য ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের অবদান ভারতের ইতিহাসে অনন্য।
✔️ উত্তর:
ড. মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন আধুনিক ভারতের বিজ্ঞান মনস্কতা গড়ে তোলার এবং মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম প্রধান দূরদর্শী রূপকার ও পথিকৃৎ। তিনি পেশায় একজন খ্যাতনামা অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক হলেও পরবর্তীকালে ভারতে হোমিওপ্যাথির প্রসার এবং বিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে মন দিয়েছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে ভারতের প্রকৃত উন্নতির জন্য ব্রিটিশদের মুখাপেক্ষী না হয়ে ভারতীয়দের নিজেদের বিজ্ঞান চর্চায় স্বনির্ভর হতে হবে। এই মহান উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সম্পূর্ণ ভারতীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলেই ভারতে প্রথম কোনো গবেষণাগার গড়ে ওঠে যেখানে ভারতীয়রা আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান চর্চার সুযোগ পায়। এখানে নিয়মিত বিজ্ঞান বিষয়ক বক্তৃতার আয়োজন করে তিনি সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তিবাদ ছড়িয়ে দিতে কাজ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানেই পরবর্তীকালে স্যার জগদীশচন্দ্র বসু, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী সি. ভি. রমন তাঁদের বিশ্ববিখ্যাত গবেষণা করেছিলেন। বিজ্ঞানকে ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে একটি জাতীয় আন্দোলনে রূপ দেওয়ার জন্য ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের অবদান ভারতের ইতিহাসে অনন্য।
💡 ১৫. ভারত সরকার কীভাবে দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে সংযুক্ত করার প্রশ্নটি সমাধান করেছিল?
✔️ উত্তর:
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে দেশীয় রাজ্যগুলির অন্তর্ভুক্তি এক বিশাল ও জটিল সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অসাধারণ কূটনৈতিক দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কঠিন সমস্যার সমাধান করা হয়। তিনি দেশীয় রাজ্যগুলির শাসকদের সামনে ভারতের জাতীয় সংহতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং তাদের রাজকীয় মর্যাদা ও বার্ষিক ভাতার (Privy Purse) आश्वासन দেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেশিরভাগ রাজ্যই স্বেচ্ছায় 'ভারতভুক্তি দলিল' বা 'Instrument of Accession'-এ স্বাক্ষর করে ভারতীয় ইউনিয়নে শামিল হতে রাজি হয়। তবে জুনাগড়, হায়দরাবাদ এবং কাশ্মীরের মতো কয়েকটি সমস্যাপ্রবণ রাজ্য শুরুতে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে তীব্র আপত্তি ও প্রতিরোধ জানিয়েছিল। জুনাগড়ের ক্ষেত্রে ভারত সরকার সেখানে গণভোটের আয়োজন করে জনগণের ইচ্ছানুসারে রাজ্যটিকে ভারতের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে সফল হয়। নিজামের শাসনাধীন হায়دراবাদকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে প্যাটেল সাহেব ১৯৪৮ সালে 'অপারেশন পোলো' নামক এক আকস্মিক ও সফল সামরিক অভিযান চালিয়েছিলেন। এইভাবে নীতি, কূটনীতি ও প্রয়োজনানুযায়ী সামরিক শক্তির সুষম প্রয়োগ ঘটিয়ে ভারত সরকার দেশের মানচিত্রকে খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছিল।
✔️ উত্তর:
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারতের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে দেশীয় রাজ্যগুলির অন্তর্ভুক্তি এক বিশাল ও জটিল সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের অসাধারণ কূটনৈতিক দূরদর্শিতা, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা ও দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে এই কঠিন সমস্যার সমাধান করা হয়। তিনি দেশীয় রাজ্যগুলির শাসকদের সামনে ভারতের জাতীয় সংহতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং তাদের রাজকীয় মর্যাদা ও বার্ষিক ভাতার (Privy Purse) आश्वासन দেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বেশিরভাগ রাজ্যই স্বেচ্ছায় 'ভারতভুক্তি দলিল' বা 'Instrument of Accession'-এ স্বাক্ষর করে ভারতীয় ইউনিয়নে শামিল হতে রাজি হয়। তবে জুনাগড়, হায়দরাবাদ এবং কাশ্মীরের মতো কয়েকটি সমস্যাপ্রবণ রাজ্য শুরুতে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে তীব্র আপত্তি ও প্রতিরোধ জানিয়েছিল। জুনাগড়ের ক্ষেত্রে ভারত সরকার সেখানে গণভোটের আয়োজন করে জনগণের ইচ্ছানুসারে রাজ্যটিকে ভারতের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে সফল হয়। নিজামের শাসনাধীন হায়دراবাদকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে প্যাটেল সাহেব ১৯৪৮ সালে 'অপারেশন পোলো' নামক এক আকস্মিক ও সফল সামরিক অভিযান চালিয়েছিলেন। এইভাবে নীতি, কূটনীতি ও প্রয়োজনানুযায়ী সামরিক শক্তির সুষম প্রয়োগ ঘটিয়ে ভারত সরকার দেশের মানচিত্রকে খণ্ডবিখণ্ড হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছিল।
💡 ১৬. কীভাবে কাশ্মীর সমস্যার সৃষ্টি হয়?
✔️ উত্তর:
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় ব্রিটিশ নীতি অনুযায়ী দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো একটি রাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার অথবা স্বাধীন থাকার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এই সুযোগে কাশ্মীরের তৎকালীন হিন্দু রাজা হরি সিং হিন্দু-মুসলিম সংঘাত এড়াতে কোনো পক্ষে যোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যাকে নিজেদের পক্ষে টানতে পাকিস্তান অধৈর্য হয়ে পড়ে এবং উপত্যকাটি দখলের জন্য গোপনে চক্রান্ত শুরু করে। ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট ও সশস্ত্র উপজাতি পাঠানরা অতর্কিতে কাশ্মীরে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট ও আক্রমণ চালাতে থাকে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজের রাজ্য বাঁচাতে রাজা হরি সিং নিরুপায় হয়ে ভারত সরকারের কাছে জরুরি সামরিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানান। ভারত সরকার শর্ত সাপেক্ষে সাহায্য করতে রাজি হলে রাজা হরি সিং ২৬শে অক্টোবর ঐতিহাসিক 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করে কাশ্মীরের আইনি অধিকার ভারতের হাতে দেন। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত বিমানে শ্রীনগরে পৌঁছে আক্রমণকারী উপজাতি ও পাকিস্তানি সেনাদের হটিয়ে কাশ্মীরকে রক্ষা করতে যুদ্ধ শুরু করে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মধ্যস্থতায় ১৯৪৯ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলে কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ পাকিস্তানের (POK) এবং বাকি অংশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়, যা আজও দুই দেশের মধ্যে এক স্থায়ী সীমান্ত বিরোধের রূপ নিয়ে রয়েছে।
✔️ উত্তর:
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় ব্রিটিশ নীতি অনুযায়ী দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারত বা পাকিস্তান যেকোনো একটি রাষ্ট্রে যোগ দেওয়ার অথবা স্বাধীন থাকার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এই সুযোগে কাশ্মীরের তৎকালীন হিন্দু রাজা হরি সিং হিন্দু-মুসলিম সংঘাত এড়াতে কোনো পক্ষে যোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনসংখ্যাকে নিজেদের পক্ষে টানতে পাকিস্তান অধৈর্য হয়ে পড়ে এবং উপত্যকাটি দখলের জন্য গোপনে চক্রান্ত শুরু করে। ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে পাকিস্তানের মদদপুষ্ট ও সশস্ত্র উপজাতি পাঠানরা অতর্কিতে কাশ্মীরে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট ও আক্রমণ চালাতে থাকে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নিজের রাজ্য বাঁচাতে রাজা হরি সিং নিরুপায় হয়ে ভারত সরকারের কাছে জরুরি সামরিক সাহায্যের জন্য আবেদন জানান। ভারত সরকার শর্ত সাপেক্ষে সাহায্য করতে রাজি হলে রাজা হরি সিং ২৬শে অক্টোবর ঐতিহাসিক 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করে কাশ্মীরের আইনি অধিকার ভারতের হাতে দেন। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত বিমানে শ্রীনগরে পৌঁছে আক্রমণকারী উপজাতি ও পাকিস্তানি সেনাদের হটিয়ে কাশ্মীরকে রক্ষা করতে যুদ্ধ শুরু করে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মধ্যস্থতায় ১৯৪৯ সালে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলে কাশ্মীরের এক-তৃতীয়াংশ পাকিস্তানের (POK) এবং বাকি অংশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়, যা আজও দুই দেশের মধ্যে এক স্থায়ী সীমান্ত বিরোধের রূপ নিয়ে রয়েছে।
💡 ১৭. দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির বিষয়ে সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির জটিল সমস্যাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সমাধান করেছিলেন। তিনি ভারতের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অখণ্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্যে সমস্ত দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রাজ্যগুলির শাসকদের রাজকীয় মর্যাদা ও বার্ষিক ভাতার (Privy Purse) টোপ দিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তাঁর এই দূরদর্শী ও জাতীয়তাবাদী নীতির কারণে বেশিরভাগ দেশীয় রাজ্য স্বেচ্ছায় 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করে। তবে জুনাগড়, হায়দরাবাদ এবং কাশ্মীরের মতো সমস্যাপ্রবণ রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে তিনি চরম দৃঢ়তা ও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছিলেন। জুনাগড়কে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি সেখানে গণভোটের আয়োজন করেন এবং জনগণের ইচ্ছানুযায়ী তা বাস্তবায়ন করেন। নিজাম শাসিত হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির জন্য তিনি ১৯৪৮ সালে 'অপারেশন পোলো' নামক এক সফল ও তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান চালান। এইভাবে নীতি, কূটনীতি ও প্রয়োজনানুযায়ী সামরিক বল প্রয়োগের সুষম মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ভারতের 'লৌহমানব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
✔️ উত্তর:
১৯৪৭ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির জটিল সমস্যাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সমাধান করেছিলেন। তিনি ভারতের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অখণ্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্যে সমস্ত দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় রাজ্যগুলির শাসকদের রাজকীয় মর্যাদা ও বার্ষিক ভাতার (Privy Purse) টোপ দিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। তাঁর এই দূরদর্শী ও জাতীয়তাবাদী নীতির কারণে বেশিরভাগ দেশীয় রাজ্য স্বেচ্ছায় 'ভারতভুক্তি দলিল'-এ স্বাক্ষর করে। তবে জুনাগড়, হায়দরাবাদ এবং কাশ্মীরের মতো সমস্যাপ্রবণ রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে তিনি চরম দৃঢ়তা ও কঠোর নীতি গ্রহণ করেছিলেন। জুনাগড়কে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি সেখানে গণভোটের আয়োজন করেন এবং জনগণের ইচ্ছানুযায়ী তা বাস্তবায়ন করেন। নিজাম শাসিত হায়দরাবাদের ভারতভুক্তির জন্য তিনি ১৯৪৮ সালে 'অপারেশন পোলো' নামক এক সফল ও তাৎক্ষণিক সামরিক অভিযান চালান। এইভাবে নীতি, কূটনীতি ও প্রয়োজনানুযায়ী সামরিক বল প্রয়োগের সুষম মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ভারতের 'লৌহমানব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
💡 ১৮. ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কারণ কি?
✔️ উত্তর:
স্বাধীনতার পর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভাষাগত মিলের ওপর ভিত্তি করে নতুন রাজ্য গঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে রাজ্যগুলির সীমানা মূলত সামরিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে তৈরি হওয়ায় সেখানে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের চরম অভাব ছিল। সাধারণ মানুষের নিজস্ব মাতৃভাষায় সরকারি কাজকর্ম পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া ছিল ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারত এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো অনেক মজবুত হতো। এ ছাড়া আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতির অবাধ বিকাশ এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য ভাষাভিত্তিক সীমানা নির্ধারণ জরুরি ছিল। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের পথকে সহজ ও লোকমুখী করে তোলাও এই প্রয়োজনীয়তার পেছনে কাজ করেছিল। দক্ষিণ ভারতে তেলুগুভাষীদের জন্য পৃথক রাজ্য গঠনের দাবিতে তৈরি হওয়া গণ-আন্দোলন সরকারকে এই প্রয়োজনীয়তা মেনে নিতে বাধ্য করে। পরিশেষে বলা যায়, ভারতের বহুত্ববাদকে সম্মান জানিয়ে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা এবং জাতীয় সংহতি রক্ষা করার জন্যই ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠন অনিবার্য ছিল।
✔️ উত্তর:
স্বাধীনতার পর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভাষাগত মিলের ওপর ভিত্তি করে নতুন রাজ্য গঠনের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। ব্রিটিশ আমলে রাজ্যগুলির সীমানা মূলত সামরিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে তৈরি হওয়ায় সেখানে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের চরম অভাব ছিল। সাধারণ মানুষের নিজস্ব মাতৃভাষায় সরকারি কাজকর্ম পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া ছিল ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারত এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো অনেক মজবুত হতো। এ ছাড়া আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতির অবাধ বিকাশ এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য ভাষাভিত্তিক সীমানা নির্ধারণ জরুরি ছিল। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তারের পথকে সহজ ও লোকমুখী করে তোলাও এই প্রয়োজনীয়তার পেছনে কাজ করেছিল। দক্ষিণ ভারতে তেলুগুভাষীদের জন্য পৃথক রাজ্য গঠনের দাবিতে তৈরি হওয়া গণ-আন্দোলন সরকারকে এই প্রয়োজনীয়তা মেনে নিতে বাধ্য করে। পরিশেষে বলা যায়, ভারতের বহুত্ববাদকে সম্মান জানিয়ে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করা এবং জাতীয় সংহতি রক্ষা করার জন্যই ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠন অনিবার্য ছিল।
💡 ১৯. বাংলার ছাপাখানার বিকাশে শ্রীরামপুর মিশনারীদের অবদান বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
১৮০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত শ্রীরামপুর মিশন প্রেস বাংলার মুদ্রণ শিল্প ও ছাপাখানার বিকাশে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড—এই 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী'-র যৌথ উদ্যোগে বাংলায় আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থার এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এই ছাপাখানা থেকে প্রথমবার অত্যন্ত সস্তায় ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক বাংলা বই ও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রিত হতে শুরু করে। এখানে শ্রীরামপুর মিশনের পণ্ডিত পঞ্চানন কর্মকারের তৈরি নিখুঁত ও সুদৃশ্য বাংলা হরফ মুদ্রণ শিল্পের মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। মিশনারিদের প্রচেষ্টায় বাইবেলের বাংলা অনুবাদ ছাড়াও রামায়ণ, মহাভারত এবং বিভিন্ন ভারতীয় ধ্রুপদী সাহিত্য সাধারণের জন্য মুদ্রিত হয়। এই ছাপাখানা থেকেই প্রথম বাংলা সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ' এবং সাময়িকপত্র 'দিকদর্শন' প্রকাশিত হয়ে গণ-চেতনার প্রসার ঘটায়। স্কুল বুক সোসাইটির জন্য হাজার হাজার পাঠ্যবই ছেপে তারা বাংলার প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা বিস্তারের পথকে সম্পূর্ণ সুগম করেছিল। সামগ্রিকভাবে, শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের হাত ধরেই বাংলার ছাপাখানা একটি কুটির শিল্প থেকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
✔️ উত্তর:
১৮০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত শ্রীরামপুর মিশন প্রেস বাংলার মুদ্রণ শিল্প ও ছাপাখানার বিকাশে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড—এই 'শ্রীরামপুর ত্রয়ী'-র যৌথ উদ্যোগে বাংলায় আধুনিক মুদ্রণ ব্যবস্থার এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এই ছাপাখানা থেকে প্রথমবার অত্যন্ত সস্তায় ও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিপুল সংখ্যক বাংলা বই ও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রিত হতে শুরু করে। এখানে শ্রীরামপুর মিশনের পণ্ডিত পঞ্চানন কর্মকারের তৈরি নিখুঁত ও সুদৃশ্য বাংলা হরফ মুদ্রণ শিল্পের মান বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। মিশনারিদের প্রচেষ্টায় বাইবেলের বাংলা অনুবাদ ছাড়াও রামায়ণ, মহাভারত এবং বিভিন্ন ভারতীয় ধ্রুপদী সাহিত্য সাধারণের জন্য মুদ্রিত হয়। এই ছাপাখানা থেকেই প্রথম বাংলা সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ' এবং সাময়িকপত্র 'দিকদর্শন' প্রকাশিত হয়ে গণ-চেতনার প্রসার ঘটায়। স্কুল বুক সোসাইটির জন্য হাজার হাজার পাঠ্যবই ছেপে তারা বাংলার প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষা বিস্তারের পথকে সম্পূর্ণ সুগম করেছিল। সামগ্রিকভাবে, শ্রীরামপুর মিশন প্রেসের হাত ধরেই বাংলার ছাপাখানা একটি কুটির শিল্প থেকে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
💡 ২০. বাংলার বিজ্ঞান শিক্ষার বিকাশে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স ‘ –এর অবদান বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের উদ্যোগে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত আই.এ.সি.এস. (IACS) ছিল ভারতীয়দের দ্বারা পরিচালিত প্রথম জাতীয় বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল ঔপনিবেশিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞান চর্চার ভিত মজবুত করা। এখানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে ও স্বাধীন পরিবেশে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। এই সংস্থায় নিয়মিত বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছড়ানো হতো। জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা এখানে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারেই বিজ্ঞানী সি. ভি. রমন তাঁর বিখ্যাত 'রমন এফেক্ট' আবিষ্কার করে ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। এটি ভারতীয় বিজ্ঞানীদের বিশ্বদরবারে আত্মপ্রতিষ্ঠা করতে এবং ভারতের নিজস্ব বিজ্ঞান ভাবনার এক গৌরবময় জাতীয় আন্দোলন গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। সংক্ষেপে বলা যায়, পরাধীন ভারতে বিজ্ঞান শিক্ষাকে স্বনির্ভর ও আধুনিক করে তোলার ক্ষেত্রে এই অ্যাসোসিয়েশনের অবদান ছিল অতুলনীয়।
✔️ উত্তর:
১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ড. মহেন্দ্রলাল সরকারের উদ্যোগে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত আই.এ.সি.এস. (IACS) ছিল ভারতীয়দের দ্বারা পরিচালিত প্রথম জাতীয় বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল ঔপনিবেশিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞান চর্চার ভিত মজবুত করা। এখানে সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে ও স্বাধীন পরিবেশে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। এই সংস্থায় নিয়মিত বিজ্ঞান বিষয়ক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ছড়ানো হতো। জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহান ব্যক্তিত্বরা এখানে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার কাজে যুক্ত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারেই বিজ্ঞানী সি. ভি. রমন তাঁর বিখ্যাত 'রমন এফেক্ট' আবিষ্কার করে ১৯৩০ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। এটি ভারতীয় বিজ্ঞানীদের বিশ্বদরবারে আত্মপ্রতিষ্ঠা করতে এবং ভারতের নিজস্ব বিজ্ঞান ভাবনার এক গৌরবময় জাতীয় আন্দোলন গড়ে তুলতে সাহায্য করেছিল। সংক্ষেপে বলা যায়, পরাধীন ভারতে বিজ্ঞান শিক্ষাকে স্বনির্ভর ও আধুনিক করে তোলার ক্ষেত্রে এই অ্যাসোসিয়েশনের অবদান ছিল অতুলনীয়।
💡 ২১. মুন্ডা বিদ্রোহের (১৮৯৯ -১৯০০) গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
বিপ্লবী বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে রাঁচি ও ছোটনাগপুর অঞ্চলে গড়ে ওঠা মুন্ডা বিদ্রোহ বা 'উলগুলান' ছিল ভারতের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী উপজাতি আন্দোলন। এই বিদ্রোহ আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও ব্রিটিশ শাসন ও ঔপনিবেশিক শোষণের ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব প্রমাণ করেছিল। বিদ্রোহের তীব্রতা দেখে ব্রিটিশ সরকার উপজাতিদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ১৯০৮ সালে ঐতিহাসিক 'ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন' পাস করতে বাধ্য হয়। এই বিশেষ আইনের মাধ্যমে মুন্ডা সমাজের ঐতিহ্যবাহী যৌথ ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থা বা 'খুঁতকাঠি প্রথা'-কে পুনরায় আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার এই অঞ্চলের আদিবাসীদের জমিতে বহিরাগত মহাজন ও জমিদারদের প্রবেশ এবং জোরপূর্বক বেগার শ্রম খাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। এই আন্দোলন মুন্ডা উপজাতিদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সচেতনতা ও নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইয়ের মানসিকতা তৈরি করেছিল। বিরসা মুন্ডা সাধারণ মানুষের কাছে একজন 'ভগবান' বা বীরপুরুষ হিসেবে অমর হয়ে থাকেন এবং পরবর্তীকালের বহু কৃষক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা যোগান। পরিশেষে বলা যায়, শোষণের বিরুদ্ধে প্রান্তিক মানুষের আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের জল-জঙ্গল-জমির অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এই বিদ্রোহ ছিল এক মাইলফলক।
✔️ উত্তর:
বিপ্লবী বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে রাঁচি ও ছোটনাগপুর অঞ্চলে গড়ে ওঠা মুন্ডা বিদ্রোহ বা 'উলগুলান' ছিল ভারতের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী উপজাতি আন্দোলন। এই বিদ্রোহ আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও ব্রিটিশ শাসন ও ঔপনিবেশিক শোষণের ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব প্রমাণ করেছিল। বিদ্রোহের তীব্রতা দেখে ব্রিটিশ সরকার উপজাতিদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ১৯০৮ সালে ঐতিহাসিক 'ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন' পাস করতে বাধ্য হয়। এই বিশেষ আইনের মাধ্যমে মুন্ডা সমাজের ঐতিহ্যবাহী যৌথ ভূমিস্বত্ব ব্যবস্থা বা 'খুঁতকাঠি প্রথা'-কে পুনরায় আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার এই অঞ্চলের আদিবাসীদের জমিতে বহিরাগত মহাজন ও জমিদারদের প্রবেশ এবং জোরপূর্বক বেগার শ্রম খাটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। এই আন্দোলন মুন্ডা উপজাতিদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সচেতনতা ও নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইয়ের মানসিকতা তৈরি করেছিল। বিরসা মুন্ডা সাধারণ মানুষের কাছে একজন 'ভগবান' বা বীরপুরুষ হিসেবে অমর হয়ে থাকেন এবং পরবর্তীকালের বহু কৃষক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা যোগান। পরিশেষে বলা যায়, শোষণের বিরুদ্ধে প্রান্তিক মানুষের আত্মপ্রতিষ্ঠা এবং নিজেদের জল-জঙ্গল-জমির অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এই বিদ্রোহ ছিল এক মাইলফলক।
💡 ২২. নীল বিদ্রোহের প্রতি শিক্ষিত বাঙ্গালী সমাজের ভূমিকা কীরূপ ছিল?
✔️ উত্তর:
১৮৫৯-৬০ সালের নীল বিদ্রোহে বাংলার নব্যশিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। প্রথমার্ধে ব্রিটিশ শাসনের সমর্থক হলেও নীলকরদের অমানুষিক ও বর্বর অত্যাচার দেখে এই সমাজ প্রথমবার চাষিদের সপক্ষে সরাসরি সরব হয়। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মতো নির্ভীক সাংবাদিক তাঁর 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' পত্রিকায় নিয়মিত নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী লিখে ব্রিটিশ প্রশাসনের কুশাসন ফাঁস করেন। দীনবন্ধু মিত্র তাঁর কালজয়ী 'নীলদর্পণ' নাটকের মাধ্যমে গ্রামীণ বাংলার নীলচাষিদের নির্মম ও অসহায় বাস্তব চিত্রটি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। রেভারেন্ড জেমস লং এই নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ ও প্রকাশ করে নীলকরদের বর্বরতা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করতে নিজের কারাবরণও বরণ করেছিলেন। শিক্ষিত বাঙালি আইনজীবীরা বিনা পারিশ্রমিকে আদালতে অত্যাচারিত ও দরিদ্র নীলচাষিদের পক্ষে আইনি লড়াই লড়েছিলেন। এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণী শহরে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলে ব্রিটিশ সরকারকে 'নীল কমিশন' (১৮৬০) গঠন করতে একপ্রকার বাধ্য করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষিত সমাজের এই সক্রিয় সমর্থনই নীল বিদ্রোহকে একটি সাধারণ কৃষক আন্দোলন থেকে এক শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে উন্নীত করেছিল।
✔️ উত্তর:
১৮৫৯-৬০ সালের নীল বিদ্রোহে বাংলার নব্যশিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজ কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। প্রথমার্ধে ব্রিটিশ শাসনের সমর্থক হলেও নীলকরদের অমানুষিক ও বর্বর অত্যাচার দেখে এই সমাজ প্রথমবার চাষিদের সপক্ষে সরাসরি সরব হয়। হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের মতো নির্ভীক সাংবাদিক তাঁর 'হিন্দু প্যাট্রিয়ট' পত্রিকায় নিয়মিত নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী লিখে ব্রিটিশ প্রশাসনের কুশাসন ফাঁস করেন। দীনবন্ধু মিত্র তাঁর কালজয়ী 'নীলদর্পণ' নাটকের মাধ্যমে গ্রামীণ বাংলার নীলচাষিদের নির্মম ও অসহায় বাস্তব চিত্রটি জনসমক্ষে তুলে ধরেন। রেভারেন্ড জেমস লং এই নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ ও প্রকাশ করে নীলকরদের বর্বরতা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত করতে নিজের কারাবরণও বরণ করেছিলেন। শিক্ষিত বাঙালি আইনজীবীরা বিনা পারিশ্রমিকে আদালতে অত্যাচারিত ও দরিদ্র নীলচাষিদের পক্ষে আইনি লড়াই লড়েছিলেন। এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণী শহরে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলে ব্রিটিশ সরকারকে 'নীল কমিশন' (১৮৬০) গঠন করতে একপ্রকার বাধ্য করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, শিক্ষিত সমাজের এই সক্রিয় সমর্থনই নীল বিদ্রোহকে একটি সাধারণ কৃষক আন্দোলন থেকে এক শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে উন্নীত করেছিল।
💡 ২৩. সভ্যতার বিকাশের ইতিহাসে ‘ যানবাহন –যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস’ – এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ইতিহাসে যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। আদিম যুগে চাকার আবিষ্কার থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের দ্রুতগামী যানবাহন মানুষের গতিশীলতা ও কর্মক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। এই ব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে দূরবর্তী অঞ্চলের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য সহজে যাতায়াত করায় বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। যানবাহন ব্যবস্থার উন্নতি বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব কমিয়ে মানুষের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং ভাবের আদান-প্রদান সহজ করেছে। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি (যেমন রেলপথ, টেলিগ্রাফ বা ইন্টারনেট) যুদ্ধ, মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ত্রাণ পৌঁছাতে সাহায্য করে। এটি বিভিন্ন অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন জনপদকে মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করে একীভূত জাতীয় রাষ্ট্র ও বিশ্বায়নের পথ প্রস্তুত করেছে। শিল্প বিপ্লবের গতিকে ত্বরান্বিত করতে এবং আধুনিক নগরায়ণ গড়ে তোলার পেছনে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ভূমিকাই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। সংক্ষেপে বলা যায়, মানব সভ্যতার আধুনিকীকরণ, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং বিশ্বজনীন সংস্কৃতির প্রসারে যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
✔️ উত্তর:
সভ্যতার ক্রমবিবর্তনের ইতিহাসে যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিকাশ মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। আদিম যুগে চাকার আবিষ্কার থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের দ্রুতগামী যানবাহন মানুষের গতিশীলতা ও কর্মক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। এই ব্যবস্থার অগ্রগতির ফলে দূরবর্তী অঞ্চলের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য সহজে যাতায়াত করায় বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যের ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। যানবাহন ব্যবস্থার উন্নতি বিভিন্ন দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব কমিয়ে মানুষের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এবং ভাবের আদান-প্রদান সহজ করেছে। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি (যেমন রেলপথ, টেলিগ্রাফ বা ইন্টারনেট) যুদ্ধ, মহামারী ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও ত্রাণ পৌঁছাতে সাহায্য করে। এটি বিভিন্ন অঞ্চলের বিচ্ছিন্ন জনপদকে মূল স্রোতের সঙ্গে যুক্ত করে একীভূত জাতীয় রাষ্ট্র ও বিশ্বায়নের পথ প্রস্তুত করেছে। শিল্প বিপ্লবের গতিকে ত্বরান্বিত করতে এবং আধুনিক নগরায়ণ গড়ে তোলার পেছনে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ভূমিকাই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। সংক্ষেপে বলা যায়, মানব সভ্যতার আধুনিকীকরণ, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং বিশ্বজনীন সংস্কৃতির প্রসারে যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাস চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
💡 ২৪. সংবাদ পত্ররূপে সোমপ্রকাশ – এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
✔️ উত্তর:
১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় প্রকাশিত 'সোমপ্রকাশ' ছিল বাংলার সাংবাদিকতার ইতিহাসে প্রথম উচ্চমানের রাজনৈতিক সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই পত্রিকাটি তার নির্ভীক, বস্তুনিষ্ঠ এবং বিশ্লেষণধর্মী লেখনীর জন্য সমকালীন সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। এই পত্রিকা গ্রামীণ বাংলার নীলচাষি ও চা-বাগানের কুলিদের ওপর শোষক জমিদার ও ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত জোরালো প্রতিবাদ জানাত। এটি সমকালীন প্রথাগত সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ, বিধবাবিবাহের সমর্থন এবং নারীশিক্ষার প্রসারে প্রগতিশীল জনমত গঠনে কাজ করেছিল। ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক ও অন্যায় নীতিগুলির তীব্র সমালোচনা করার কারণে এটি জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে বিশেষ ভূমিকা নেয়। এই পত্রিকার রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে ল্যান্ডলর্ডদের চাপে লর্ড লিটন এর মুখ বন্ধ করতে 'দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন' (১৮৭৮) জারি করেন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে সোমপ্রকাশ সাময়িকভাবে তার প্রকাশনা বন্ধ রেখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে এক আপসহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কার, রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার এক অনন্য পথিকৃৎ হলো সোমপ্রকাশ।
✔️ উত্তর:
১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় প্রকাশিত 'সোমপ্রকাশ' ছিল বাংলার সাংবাদিকতার ইতিহাসে প্রথম উচ্চমানের রাজনৈতিক সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় তৈরি এই পত্রিকাটি তার নির্ভীক, বস্তুনিষ্ঠ এবং বিশ্লেষণধর্মী লেখনীর জন্য সমকালীন সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। এই পত্রিকা গ্রামীণ বাংলার নীলচাষি ও চা-বাগানের কুলিদের ওপর শোষক জমিদার ও ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত জোরালো প্রতিবাদ জানাত। এটি সমকালীন প্রথাগত সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ, বিধবাবিবাহের সমর্থন এবং নারীশিক্ষার প্রসারে প্রগতিশীল জনমত গঠনে কাজ করেছিল। ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক ও অন্যায় নীতিগুলির তীব্র সমালোচনা করার কারণে এটি জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে বিশেষ ভূমিকা নেয়। এই পত্রিকার রাজনৈতিক প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে ল্যান্ডলর্ডদের চাপে লর্ড লিটন এর মুখ বন্ধ করতে 'দেশীয় ভাষা সংবাদপত্র আইন' (১৮৭৮) জারি করেন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে সোমপ্রকাশ সাময়িকভাবে তার প্রকাশনা বন্ধ রেখে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষে এক আপসহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। পরিশেষে বলা যায়, উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কার, রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা এবং নির্ভীক সাংবাদিকতার এক অনন্য পথিকৃৎ হলো সোমপ্রকাশ।
✍️ দীর্ঘ ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৮):
💡 ১. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতা ওয়েদ্দেদারের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো। বিংশ শতকের ভারতে নারী আন্দোলনে দীপালি সংঘের কিরূপ ভূমিকা ছিল? (৩+৫)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: বিংশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে এক শক্তিশালী মাত্রা প্রদান করেছিল।
সশস্র বিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতা ওয়েদ্দেদার
- বিপ্লবী দলে যোগদান ও দায়িত্ব: এই ধারায় সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে প্রীতিলতা ওয়েদ্দেদার ছিলেন এক অবিস্মরণীয় এবং উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছাত্রাবস্থা থেকেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী দলে যোগদান করেছিলেন। সূর্য সেনের 'ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি'-র সদস্য হিসেবে তিনি আত্মগোপনকারী বিপ্লবীদের খাদ্য ও গোপন তথ্য সরবরাহ করতেন।
- পাহাড়তলী ক্লাব আক্রমণ ও আত্মত্যাগ: ১৯৩২ সালের ২৪শে সেপ্টেম্বর প্রীতিলতার নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণ করেন। প্রীতিলতা পুরুষ বেশ ধারণ করে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই সফল সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। caravan বা অভিযান শেষে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়া এড়াতে তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে বীরের মতো আত্মবলিদান দেন।
নারী আন্দোলনে দীপালি সংঘের ভূমিকা
- শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা: অন্যদিকে, বিংশ শতকের ভারতে নারী আন্দোলনকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে লীলা নাগ ১৯২৩ সালে ঢাকায় 'দীপালি সংঘ' প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংঘের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের মধ্যে আধুনিক শিক্ষার আলো ও রাজনৈতিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া। দীপালি সংঘ নারীদের শিক্ষার জন্য 'দীপালি স্কুল' সহ একাধিক প্রগতিশীল শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তুলেছিল। এর মাধ্যমে অবহেলিত নারীদের কুটির শিল্পের সাহায্যে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার সফল প্রচেষ্টা চলে।
- আত্মরক্ষা ও বিপ্লবী চেতনা: নারীদের শারীরিক বিকাশের জন্য লাঠিখেলা, তলোয়ার চালনা এবং আত্মরক্ষার নানাবিধ প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। এই সংঘ প্রচ্ছন্নভাবে নারী সমাজকে স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের উপযুক্ত করে গড়ে তোলে। সামগ্রিকভাবে, নারীদের প্রকাশ্য political বা রাজনৈতিক আন্দোলনে শামিল করার ক্ষেত্রে দীপালি সংঘের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত যুগান্তকারী।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, প্রীতিলতার আত্মত্যাগ এবং দীপালি সংঘের সাংগঠনিক প্রয়াস যৌথভাবে নারী মুক্তির ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছিল। এই দুই ধারার মেলবন্ধন পরাধীন ভারতের বুকে নারী শক্তির এক বলিস্থ আত্মপ্রকাশ নিশ্চিত করে।
💡 ২. বাংলা ছাপাখানার বিকাশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বহুবিধ কর্মপ্রচেষ্টার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। (৮)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: উনিশ শতকের বাংলায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে মুদ্রণ শিল্পের উন্নয়ন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্ণ সংস্কার ও মুদ্রণের আধুনিকীকরণ
- বিদ্যাসাগর সাঁট প্রবর্তন: এই ধারায় বাংলা মুদ্রণ শিল্প ও ছাপাখানার আধুনিকীকরণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান ছিল বহুমুখী এবং সর্বজনীন। তিনি প্রথম উপলব্ধি করেন যে শিক্ষাবিস্তারের জন্য উন্নত ছাপাখানা এবং মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্দেশ্যে তিনি বাংলা চলনশীল ধাতব হরফের জটিলতা দূর করে এক বিজ্ঞানসম্মত বর্ণবিন্যাস সংস্কার করেছিলেন।
ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা ও বিপণন
- সংস্কৃত প্রেস ও ডিপোজিটরি: তাঁর এই যুগান্তকারী সংস্কারের ফলে বাংলা টাইপ ও মুদ্রণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে ওঠে। ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সতীর্থ মদনমোহন তর্কালঙ্কারের সহযোগিতায় কলকাতায় বিখ্যাত 'সংস্কৃত প্রেস' প্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে মুদ্রিত বইপত্র বিক্রির জন্য তিনি 'সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি' নামক একটি বইয়ের দোকান গড়ে তোলেন। তাঁর নিজের লেখা 'বর্ণপরিচয়', 'বোধোদয়' ও 'কথামালা'-র মতো বইগুলি এই ছাপাখানা থেকেই বিপুল পরিমাণে মুদ্রিত হতো। বিদ্যাসাগরই প্রথম বাংলায় মুদ্রণ ব্যবসাকে একটি সুসংগঠিত, লাভজনক এবং আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন।
মুদ্রণ শৈলীর মানোন্নয়ন ও প্রচার
- যতিচিহ্নের ব্যবহার ও সমাজ সংস্কার: তাঁর এই বাণিজ্যিক উদ্যোগের ফলে সমকালীন বাংলায় বহু মানুষের নতুন কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ তৈরি হয়। বিদ্যাসাগরের মুদ্রিত বইগুলিই প্রথম সঠিকভাবে কমা, সেমিকোলন ও দাড়ি প্রভৃতি যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ ঘটেছিল। এই যতিচিহ্নের ব্যবহারের ফলে বাংলা মুদ্রিত গদ্য সাহিত্যের মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হয়। সমাজ সংস্কারের পক্ষে জনমত গড়তে তিনি তাঁর বিধবাবিবাহ সংক্রান্ত পুস্তিকাগুলি এই নিজস্ব প্রেস থেকেই প্রকাশ করতেন। তাঁরই উদ্যোগে এই ছাপাখানা থেকে প্রগতিশীল সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'সোমপ্রকাশ' নিয়মিত প্রকাশিত হতে শুরু করে।
- উপসংহার: বিদ্যাসাগরের ছাপাখানাটি সাধারণ মানুষের কাছে সস্তায় ও সুলভে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। পরিশেষে বলা যায়, তাঁর অক্লান্ত কর্মপ্রচেষ্টার ফলেই বাংলায় ছাপাখানা আধুনিক গণ-শিক্ষার প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল।
💡 ৩. সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের (১৭৬৩-১৮০০) সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। এই বিদ্রোহের ঐতিহাসিক তাৎপর্য কী ছিল? (৫+৩)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঔপনিবেশিক শোষণ ও অন্যায় নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিদ্রোহের রূপ নেয়।
সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের বিবরণ
- কারণ ও নেতৃত্ব: এই পটভূমিতে ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা ও মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে ব্রিটিশদের শোষণের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের সূচনা হয়। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পর ব্রিটিশ সরকারের চড়া হারে রাজস্ব আদায় এবং তীর্থযাত্রার ওপর কর আরোপ এই বিদ্রোহের প্রধান কারণ ছিল। ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, মজনু শাহ এবং মুসা শাহের মতো যোগ্য নেতারা এই দীর্ঘায়িত আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। জমিচ্যুত ক্ষুব্ধ কৃষকেরা এবং ছাঁটাই হওয়া দেশীয় সেনারাও দলে দলে এই বিদ্রোহে যোগ দিয়েছিল।
- বিদ্রোহের প্রকৃতি ও দমন: এই বিদ্রোহের মূল রণকৌশল ছিল গেরিলা যুদ্ধ, যার মাধ্যমে তারা আকস্মিক আক্রমণ চালিয়ে ব্রিটিশদের ব্যতিব্যস্ত করে তুলত। বিদ্রোহীরা মূলত কোম্পানির কুঠি ও শোষক জমিদারদের বাড়ি লুণ্ঠন করে সেই ধনসম্পদ দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিত। দীর্ঘ চার দশক ধরে চলা এই শক্তিশালী গণ-আন্দোলন দমন করতে ব্রিটিশ সরকারকে প্রচুর বেগ পেতে হয়েছিল। অবশেষে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস চরম নিষ্ঠুরতা ও সামরিক বল প্রয়োগের মাধ্যমে এই বিদ্রোহ স্তব্ধ করেন।
বিদ্রোহের ঐতিহাসিক তাৎপর্য
- প্রথম গণ-আন্দোলন ও সম্প্রীতি: আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থ হলেও ভারতের ইতিহাসের পাতায় এই সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এটি ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ভূখণ্ডে সংগঠিত প্রথম দীর্ঘতম ও সর্ববৃহৎ কৃষক-উপজাতি প্রতিরোধ আন্দোলন। এই যৌথ সংগ্রাম সমকালীন পরাধীন ভারতের বুকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় ঐক্যের এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
- জাতীয়তাবাদের অনুপ্রেরণা: এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের বীরত্বগাথার পটভূমির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত 'आनন্দমঠ' উপন্যাস রচনা করেন। এই উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত 'বন্দে মাতরম্' সঙ্গীতটি পরবর্তীকালে সমগ্র ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান জাতীয়তাবাদী মন্ত্রে পরিণত হয়।
- উপসংহার: সংক্ষেপে বলা যায়, এই বিদ্রোহ পরাধীন ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী চেতনার সূচনা ঘটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ফলত, কোম্পানির অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে ভারতীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ হিসেবে এই আন্দোলন ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।
💡 ৪. বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। বিদ্যাসাগর কতটা সাফল্য অর্জন করেছিলেন? (৫+৩)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: উনিশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসে বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে পরিচালিত বিধবাবিবাহ আন্দোলন এক চিরস্মরণীয় অধ্যায়।
- শাস্ত্রীয় প্রমাণ ও জনমত গঠন: বিদ্যাসাগর মহাশয় পরাশর সংহিতা থেকে শ্লোক উদ্ধার করে প্রমাণ করেন যে হিন্দুশাস্ত্রে বিধবাবিবাহের স্পষ্ট স্বীকৃতি রয়েছে। এই সংস্কারের স্বপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে তিনি আঠারোশো পঞ্চান্ন সালে তাঁর বিখ্যাত 'বিধবাবিবাহ বিষয়ক পুস্তিকা' প্রকাশ করেন। রক্ষণশীল সমাজের তীব্র বিরোধিতা ও লাঞ্ছনা উপেক্ষা করে তিনি প্রায় এক হাজার জন বিশিষ্ট মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত এক স্মারকলিপি সরকারের কাছে জমা দেন। তাঁর এই জোরালো আবেদনের ভিত্তিতেই লর্ড ক্যানিং আঠারোশো ছাপ্পান্ন সালের ছাব্বিশে জুলাই 'বিধবাবিবাহ আইন' পাস করেন। আইন পাসের পর আঠারোশো ছাপ্পান্ন সালের সাতই ডিসেম্বর শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্নের সঙ্গে কালিমতি দেবীর প্রথম শাস্ত্রসম্মত বিধবাবিবাহ তিনি নিজ খরচে সম্পন্ন করান।
- বিদ্যাসাগরের সাফল্য ও মূল্যায়ন: বিদ্যাসাগর মহাশয় বিধবাবিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের দেওয়া শতাব্দীর প্রাচীন কুসংস্কারের দেওয়ালে প্রথম সফল আঘাত হেনেছিলেন। তিনি নিজের একমাত্র পুত্র নারায়ণচন্দ্রের সঙ্গে এক বিধবা কন্যার বিবাহ দিয়ে সমাজে এক অনন্য আদর্শ স্থাপন করেন। তবে তৎকালীন সমাজের গভীরে থাকা তীব্র গোঁড়ামির কারণে এই আন্দোলন সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হতে পারেনি। সমাজ সংস্কারকদের একাংশের অসহযোগিতা এবং উচ্চবর্ণের হিন্দুদের উদাসীনতা এই আন্দোলনের গতিকে অনেকটাই মন্থর করে দিয়েছিল। তা সত্ত্বেও নারীদের মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের সামাজিক মুক্তি ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তাঁর এই সাফল্য ছিল ঐতিহাসিক।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, সম্পূর্ণ সফল না হলেও বিদ্যাসাগরের এই আপসহীন লড়াই বাংলার নারী সমাজের অধিকার অর্জনের পথকে চিরতরে সুগম করে দিয়েছিল। এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ফলেই ভারতীয় সমাজব্যবস্থায় নারীকল্যাণ ও লিঙ্গসাম্যের এক নতুন প্রগতিশীল যুগের সূচনা ঘটেছিল।
💡 ৫. বাংলায় কারিগরি শিক্ষার বিকাশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। (৮)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বাংলায় ঔপনিবেশিক কেরানি তৈরির শিক্ষার বিকল্প হিসেবে স্বনির্ভর কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়।
- প্রাথমিক প্রচেষ্টা ও প্রতিষ্ঠান: বাংলায় কারিগরি শিক্ষার প্রসারে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল আঠারোশো ছাপ্পান্ন সালে 'ক্যালকাটা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ' প্রতিষ্ঠা। পরবর্তীকালে আঠারোশো তিরানব্বই সালে যাদবপুরে প্রমথনাথ বসুর উদ্যোগে ভূবিজ্ঞান ও খনিজ বিদ্যা শিক্ষার প্রাথমিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল। উনিশশো পাঁচ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় বিদেশি শিক্ষা বর্জনের জাতীয়তাবাদী ঢেউ কারিগরি শিক্ষার বিকাশকে এক নতুন গতি প্রদান করে। এই সময় জাতীয় শিক্ষা পরিষদের অধীনে উনিশশো ছয় সালে বিখ্যাত 'বেঙ্গল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট' বা বিটিআই প্রতিষ্ঠিত হয়। তারকনাথ পালিত ও রাসবিহারী ঘোষের মতো দেশপ্রেমিকদের আর্থিক ও আদর্শগত পৃষ্ঠপোষকতায় এই স্বাবলম্বী প্রযুক্তি কেন্দ্রটি পরিচালিত হতো।
- শিল্পায়ন ও জাতীয়তাবাদের মেলবন্ধন: এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় ছাত্রদের মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফলিত রসায়নের মতো বৃত্তিমূলক বিদ্যায় পারদর্শী করা। এখান থেকে পাস করা ছাত্ররাই স্বদেশী যুগে বাংলার বুকে দেশীয় সাবান, দেশলাই ও চর্ম শিল্পের কারিগরি পরিকাঠামো গড়ে তুলেছিল। এটি ছাত্রদের স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ ও বিজ্ঞান চেতনাকে সমাজে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। উনিশশো দশ সালে এই প্রযুক্তি কেন্দ্রটি আরও বিস্তৃত হয়ে বাংলায় কারিগরি শিক্ষার প্রধানতম অভিভাবক সংগঠনে পরিণত হয়েছিল।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, স্বদেশী যুগের এই মহান কারিগরি শিক্ষা আন্দোলনের ফসলই হলো আজকের বিশ্বখ্যাত 'যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়'। এই কারিগরি শিক্ষার বিকাশই পরনির্ভরশীল ভারতবর্ষকে আধুনিক শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।
💡 ৬. বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারীসমাজ কীভাবে অংশগ্রহণ করেছিল? তাদের আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা কী? (৫+৩)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: উনিশশো পাঁচ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন ছিল বাংলার political বা রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথম আন্দোলন যেখানে নারীরা দলে dole অন্দরমহল ভেঙে প্রকাশ্য রাজনীতিতে যোগ দেন।
- নারীসমাজের অংশগ্রহণের বিবরণ: রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর আহ্বানে উনিশশো পাঁচ সালের ষোলোই অক্টোবর বাংলার হাজার হাজার নারী রান্নাঘরের উনুন না জ্বালিয়ে 'অরন্ধন দিবস' পালন করেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'রাখীবন্ধন' উৎসবকে সফল করতে নারীরা পুরুষদের হাতে ভ্রাতৃত্বের প্রতীক সুতো বেঁধে একতার শপথ নেন। সরলাদেবী চৌধুরানী ও লীলাবতী মিত্রের মতো নারী নেত্রীদের অনুপ্রেরণায় মহিলারা বিদেশি পণ্য ও বিলাতি কাঁচের চুড়ি বর্জন করেছিলেন। তাঁরা নিজেদের গয়না ও সঞ্চিত অর্থ দেশের কাজের জন্য গঠিত 'জাতীয় তহবিল'-এ মুক্তহস্তে দান করে স্বদেশী অর্থনীতিকে সচল রাখেন। ঘরোয়া স্তরে চরকায় সুতো কাটা এবং খদ্দরের কাপড় ব্যবহার জনপ্রিয় করতে নারী সমাজ সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল।
- আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা: বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে নারীদের এই বিপুল স্বতঃস্ফূর্ততা সত্ত্বেও এর মধ্যে কিছু গভীর সীমাবদ্ধতা লক্ষ করা গিয়েছিল। এই আন্দোলনটি মূলত কলকাতা এবং পূর্ববঙ্গের শহুরে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছিল। গ্রামীণ বাংলার বিশাল কৃষক পরিবারের সাধারণ শ্রমজীবী নারীদের এই আন্দোলনের মূল রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া সমকালীন মুসলিম সমাজের নারীরা পর্দা প্রথা ও অন্যান্য সামাজিক কারণে এই স্বদেশী আন্দোলনে ব্যাপকভাবে অংশ নেননি।
- উপসংহার: কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনই প্রথম ভারতীয় নারী সমাজকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে পরবর্তী বৃহত্তর স্বাধীনতা সংগ্রামের উপযুক্ত করে তুলেছিল। এর ফলেই ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে নারীদের এক নতুন ও গৌরবময় রাজনৈতিক অধিকারের পথ উন্মোচিত হয়েছিল।
💡 ৭. বাংলার নবজাগরণ বলতে কী বোঝায়? এই নবজাগরণের সীমাবদ্ধতাগুলি কী? (৪+৪)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনের সংস্পর্শে এসে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাংলায় যে যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই বাংলার নবজাগরণ বা রেনেসাঁস বলা হয়।
- বাংলার নবজাগরণের স্বরূপ: রাজা রামমোহন রায়ের হাত ধরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল মধ্যযুগীয় অন্ধবিশ্বাস বর্জন করে যুক্তিবাদ ও মানবতাবোধকে গ্রহণ করা। এই জাগরণের প্রভাবেই সমকালীন বাংলায় সতীদাহ প্রথা রদ ও বিধবাবিবাহের প্রবর্তনের মতো বৈপ্লবিক সমাজ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব জোয়ার এসে বাঙালির মানসিকতাকে আধুনিক ও প্রগতিশীল করে তুলেছিল।
- নবজাগরণের প্রধান সীমাবদ্ধতা: তবে এই নবজাগরণ ইউরোপের ইতালীয় রেনেসাঁসের মতো সর্বব্যাপী না হয়ে কিছু গভীর সীমাবদ্ধতার গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল। এটি মূলত কলকাতা কেন্দ্রিক উচ্চবর্ণের নব্যশিক্ষিত এবং হিন্দু ভদ্রলোক সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে গিয়েছিল। গ্রামবাংলার বিশাল কৃষক সমাজ এবং মেহনতি খেটে খাওয়া মানুষকে এই আধুনিক চেতনার আলোকবৃত্তে শামিল করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া সমকালীন মুসলিম সমাজের সিংহভাগ মানুষ ধর্মীয় ও সামাজিক কারণে এই পাশ্চাত্য প্রভাবিত আন্দোলন থেকে দূরে ছিলেন। ঐতিহাসিক অনিল শীল একে কেবল একটি 'উচ্চবর্ণের শহরের এলিটদের আন্দোলন' বলে সমালোচনা করেছেন।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলার নবজাগরণই ভারতীয়দের মনে আধুনিক জাতীয়তাবোধ ও রাজনৈতিক সচেতনতার মজবুত ভিতটি নির্মাণ করে দিয়েছিল।
💡 ৮. বাংলায় ছাপাখানার ব্যবসায়িক উদ্যোগ সমূহের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। (৮)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: উনিশ শতকে বাংলায় ছাপাখানার বিকাশ কেবল শিক্ষাবিস্তারের মাধ্যম ছিল না, বরং তা একটি অত্যন্ত লাভজনক ও সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
- প্রাথমিক ব্যবসায়িক উদ্যোগসমূহ: ১৭৭৮ সালে চার্লস উইলকিন্স প্রথম হুগলিতে এবং ১৮০০ সালে শ্রীরামপুর মিশনারিরা মিশন প্রেস প্রতিষ্ঠা করে বাংলায় মুদ্রণ ব্যবসার ভিত্তি স্থাপন করেন। তবে সম্পূর্ণ বাঙালি উদ্যোগে প্রথম ব্যবসায়িক ছাপাখানা ছিল ১৮০৭ সালে বাবুরামের প্রতিষ্ঠিত 'সংস্কৃত প্রেস'। ১৮১৬ সালে প্রথম বাঙালি প্রকাশক হিসেবে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য পুস্তক প্রকাশনা ও বই বিক্রির ব্যবসাকে একটি সুসংগঠিত রূপ প্রদান করেন। এর পর কলকাতার শোভাবাজার, চিৎপুর ও বিশেষ করে 'বটতলা' অঞ্চলকে কেন্দ্র করে অসংখ্য সস্তা ও জনপ্রিয় বই তৈরির ছাপাখানা গড়ে ওঠে।
- বিদ্যাসাগরের উদ্যোগ ও আধুনিকীকরণ: ১৮৪৭ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও মদনমোহন তর্কালঙ্কারের যৌথ উদ্যোগে 'সংস্কৃত প্রেস' এবং বই বিপণনের জন্য 'সংস্কৃত প্রেস ডিপোজিটরি' ব্যবসা শুরু করে। বিদ্যাসাগরই প্রথম বাংলায় মুদ্রণ ও বই প্রকাশনাকে একটি অত্যন্ত লাভজনক ও বৃহৎ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৩৫ সালে সুরেশচন্দ্র মজুমদারের হাত ধরে বাংলায় আধুনিক 'লাইনোটাইপ' প্রযুক্তির আগমন ঘটলে মুদ্রণ ব্যবসার গতি ও মুনাফা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই ব্যবসায়িক ছাপাখানাগুলির ফলেই সমকালীন বাংলায় লেখক, অনুবাদক, টাইপ-ফাউন্ডার এবং বাঁধাইকর্মীদের এক বিশাল কর্মসংস্থানের বাজার তৈরি হয়েছিল।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, ছাপাখানার এই সফল বাণিজ্যিক উদ্যোগই গ্রামবাংলায় সস্তায় বই পৌঁছে দিয়েছিল এবং বাংলার অর্থনীতিতে এক নতুন ও স্বাধীন ব্যবসায়ী শ্রেণীর জন্ম দিয়েছিল।
💡 ৯. বারদৌলি আন্দোলনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। তুমি কী মনে কর যে, এই আন্দোলন ভূমিহীন কৃষকশ্রেণি এবং কৃষিশ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সফল হয়েছিল? (৫+৩)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: ১৯২৮ সালে গুজরাটের সুরাট জেলার বারদৌলি তালুকে ব্রিটিশ সরকারের অন্যায় কর বৃদ্ধির বিরুদ্ধে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বে এক ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
- বারদৌলি আন্দোলনের বিবরণ: সমকালীন ভয়াবহ বন্যার পর ব্রিটিশ সরকার কৃষকদের ওপর আচমকা ৩০ শতাংশ খাজনা বৃদ্ধি করলে প্যাটেলের নেতৃত্বে কৃষকেরা তা দিতে অস্বীকার করে। প্যাটেল সমগ্র অঞ্চলকে কয়েকটি শিবিরে ভাগ করে অহিংস উপায়ে কর বন্ধের আন্দোলন অত্যন্ত চমৎকারভাবে পরিচালনা করেছিলেন। আন্দোলনের তীব্রতা ও নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে সরকার বাধ্য হয়ে ম্যাক্সওয়েল-ব্রুমফিল্ড তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটির সুপারিশে সরকার খাজনা বৃদ্ধির হার কমিয়ে মাত্র ৬.০৩ শতাংশ করতে এবং বাজেয়াপ্ত জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এই সফল সত্যাগ্রহ পরিচালনার জন্যই বারদৌলির নারীরা বল্লভভাই প্যাটেলকে শ্রদ্ধার সঙ্গে 'সর্দার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ভূমিহীন ও কৃষিশ্রমিকদের স্বার্থরক্ষা: তবে এই আন্দোলন ভূমিহীন কৃষক ও 'কালীপুরাজ' নামক আদিবাসী কৃষিশ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সফল হতে পারেনি। আন্দোলনটির মূল চালিকাশক্তি ও নিয়ন্ত্রক ছিল বারদৌলির ধনী ও উচ্চবর্ণের 'উজ্জ্বলপুরাজ' বা পতিদার নামক পাতিদার শ্রেণীর জমিদারেরা। আন্দোলনের ফলে মূলত এই ভূস্বামী শ্রেণীর কৃষকদেরই করের বোঝা লাঘব হয়েছিল এবং তাদের বাজেয়াপ্ত জমি উদ্ধার পেয়েছিল। পিছিয়ে পড়া ভূমিহীন খেতমজুরদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক শোষণের অবসান ঘটানোর মতো কোনো দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচি এই আন্দোলনে ছিল না।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, সামগ্রিক মেহনতি শ্রেণীর মুক্তি না ঘটলেও সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের সঙ্ঘবদ্ধ লড়াইয়ের ইতিহাসে বারদৌলি আন্দোলন এক চিরস্মরণীয় জয়।
💡 ১০. শিক্ষাবিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী? উচ্চশিক্ষার বিকাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা আলোচনা করো। (৪+৪)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: উনিশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতের ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত রূপরেখা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য ভাবধারার দ্বন্দ্ব এক ঐতিহাসিক বিতর্ক তৈরি করেছিল। এই প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত অবসানের পর পাশ্চাত্য শিক্ষার হাত ধরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে দেশ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের আঙিনায় প্রবেশ করে।
- প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক: ১৮১৩ সালের সনদ আইনে ভারতীয়দের শিক্ষাবিস্তারের জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ঘোষণা হলে এই তহবিলের মূল ব্যয় নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এইচ. টি. প্রিন্সেপ ও কোলব্রুকের মতো প্রাচ্যবাদীরা মনে করতেন এই অর্থ ভারতের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি শিক্ষার পেছনে ব্যয় করা উচিত। অন্যদিকে আলেকজান্ডার ডাফ ও মেকলের মতো পাশ্চাত্যবাদীরা দাবি করেন যে আধুনিক প্রগতির জন্য এই টাকা ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে ব্যয় করা প্রয়োজন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রণ: ১৮NT৭ সালে চার্লস উডের নির্দেশনামার ওপর ভিত্তি করে উচ্চশিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যে ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় সমগ্র বাংলায় উচ্চশিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা পরিচালনা এবং কলেজগুলির অনুমোদনের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এটি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রদের উচ্চশিক্ষার আঙিনায় এনে সমকালীন জাতীয়তাবাদী চেতনা ও আধুনিক বুদ্ধিজীবী শ্রেণী গড়ে তুলতে সবচেয়ে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিল।
- উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিকাশ: উনিশ শতকের শেষভাগে আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের উপাচার্য থাকাকালীন এখানে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের আধুনিক স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রম সফলভাবে চালু করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় জগদীশচন্দ্র বসু, প্রফুল্লচন্দ্র রায় এবং নোবেলজয়ী সি. ভি. রমনের মতো বিজ্ঞানীদের বিশ্বমানের মৌলিক গবেষণার সুযোগ ও পরিকাঠামো তৈরি করে দিয়েছিল। এর ফলে ঔপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে এটি ভারতীয়দের মেধা ও উচ্চশিক্ষার এক গৌরবময় জাতীয় গবেষণাকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছিল।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের এই দীর্ঘ বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের আধুনিক উচ্চশিক্ষার প্রসারে এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। এই বিদ্যাপীঠের প্রগতিশীল ভাবধারাই পরবর্তীকালে স্বাধীন ভারতবর্ষের বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক চেতনার মজবুত ভিতটি চিরতরে নির্মাণ করে দেয়।
💡 ১১. সংক্ষেপে মহাবিদ্রোহের (১৮৫৭) চরিত্র বিশ্লেষণ করো। (৮)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ ছিল ভারতের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম এক সর্ববৃহৎ ও বৈপ্লবিক ঘটনা, যার চরিত্র বা প্রকৃতি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে গভীর মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করার কারণে সমকালীন ঐতিহাসিক ও গবেষকেরা এই বিদ্রোহের প্রকৃত স্বরূপকে নানারকম বৈচিত্র্যময় নামে অভিহিত করেছেন।
- সিপাহি অসন্তোষ ও সামরিক চরিত্র: সমকালীন ব্রিটিশ ঐতিহাসিক জন কেই ও লরেন্স এই বিদ্রোহকে কেবলই সিপাহিদের একটি সাধারণ সাময়িক অসন্তোষ বা 'সিপাহি বিদ্রোহ' হিসেবে চিহ্নিত করতে চেয়েছেন। তাঁরা মনে করতেন গ্রীজ মাখানো টোটা এবং ভাতার সমস্যাকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলাভঙ্গ ছাড়া এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তবে এই দাবি পুরোপুরি সত্য নয় কারণ সিপাহিদের হাত ধরে শুরু হলেও দ্রুত এটি সমাজের অন্যান্য স্তরেও ছড়িয়ে পড়েছিল।
- জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম ও গণ-চরিত্র: বীর সাভারকরের মতো ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ ও দেশপ্রেমিকেরা এই ঘটনাকে ভারতের 'প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ' বা এক পরিকল্পিত জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম বলে অভিহিত করেছেন। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার ও সুরেন্দ্রনাথ সেন গভীর গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে এটি পুরোপুরি জাতীয় যুদ্ধ না হলেও এর মধ্যে এক শক্তিশালী গণ-আন্দোলনের চরিত্র বিদ্যমান ছিল। বিদ্রোহের সময় অযোধ্যা ও বিহারের সাধারণ মানুষ, শোষিত কৃষক এবং স্থানীয় জমিদারেরা দলে দলে সিপাহিদের সঙ্গে শামিল হয়ে একে এক গণ-বিপ্লবের রূপ দিয়েছিলেন।
- সামন্ততান্ত্রিক নেতৃত্ব ও সীমাবদ্ধতা: ড. অনিল শীল মনে করেন যে এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মূলত ক্ষমতাচ্যুত সামন্ত রাজারা, যাঁরা নিজেদের পুরোনো রাজকীয় অধিকার ও সম্পত্তি ফিরে পেতে লড়াই করেছিলেন। বিদ্রোহের মূল কেন্দ্রে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাহাদুর শাহকে ভারতের সম্রাট ঘোষণা করে এক অনন্য ধর্মীয় ঐক্যের নজির স্থাপন করেছিল। তবে ভারতের একটি বিশাল অংশ এবং কলকাতার নব্যশিক্ষিত সমাজ নিজেদের শ্রেণীস্বার্থ ও আধুনিকতার মোহে পড়ে এই বিদ্রোহের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, মহাবিদ্রোহের চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত মিশ্র ও বহুমাত্রিক, যা কেবল একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি সামন্ততান্ত্রিক স্বার্থে এবং সিপাহিদের হাত ধরে শুরু হলেও এর গর্ভেই আধুনিক ভারতীয় জাতীয়তাবাদের প্রথম শক্তিশালী বীজটি সুপ্ত ছিল।
💡 ১২. সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো। (৮)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা: বিংশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সশস্ত্র বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। ঘরোয়া গণ্ডি ও অন্দরমহলের বেড়াজাল ভেঙে নারীদের এই লড়াকু ও সহিংস রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিতকে পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছিল।
- সাংগঠনিক ও প্রাথমিক প্রস্তুতি: বিপ্লবী লীলা নাগ ১৯২৩ সালে ঢাকায় 'দীপালি সংঘ' প্রতিষ্ঠা করে নারীদের লাঠিখেলা ও আত্মরক্ষার শিক্ষা দিয়ে সশস্ত্র আন্দোলনের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেন। নারীরা কেবল সম্মুখ সমরেই অংশ নেননি, বরং তাঁরা দূরবর্তী ঘাঁটিতে বিপ্লবীদের আশ্রয় দেওয়া এবং অস্ত্র লুকিয়ে রাখার মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ পরিচালনা করতেন। এই সঙ্ঘবদ্ধ প্রয়াসই বাংলার নারী সমাজকে প্রথাগত কুসংস্কার মুক্ত করে দেশের মূল রাজনৈতিক ও বিপ্লবী স্রোতে শামিল হতে সাহায্য করেছিল।
- সম্মুখ সমর ও আত্মত্যাগ: এই ধারার সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রীতিলতা ওয়েদ্দেদার ১৯৩২ সালে মাস্টারদা সূর্য সেনের নির্দেশে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণে সফল বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার অপমান এড়াতে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মাহুতি দিয়ে ভারতীয় নারী সমাজের সামনে এক অনন্য আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁরই সহযোদ্ধা কল্পনা দত্ত ডিনামাইট দিয়ে চট্টগ্রামের সরকারি অস্ত্রাগার ও জেলখানা ওড়ানোর চক্রান্তে লিপ্ত থেকে জীবনের দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছিলেন।
- ব্যক্তিগত সাহসিকতা ও বীরত্ব: কলকাতার বেথুন কলেজের দুই লড়াকু ছাত্রী শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরী ১৯৩১ সালে কুমিল্লার অত্যাচারী ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্সকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। অপর এক অসম সাহসী নারী বীণা দাস ১৯৩২ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসবে বাংলার অত্যাচারী ছোটলাট স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ্য করে সরাসরি পিস্তল থেকে গুলি ছুড়েছিলেন। এই সমস্ত দুর্ধর্ষ বৈপ্লবিক ঘটনা প্রমাণ করেছিল যে দেশের মুক্তির জন্য ভারতীয় নারী সমাজ যেকোনো চরম আত্মত্যাগ ও কঠিনতম চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত।
- উপসংহার: পরিশেষে বলা যায়, সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনে ভারতীয় নারীদের এই গৌরবময় অবদান তাঁদের কেবল ইতিহাসের পাতায় অমর করেনি, বরং নারীদের রাজনৈতিক অধিকার ও ক্ষমতার পথকে চিরতরে সুগম করে দিয়েছল। তাঁদের এই আপসহীন লড়াই পরবর্তীকালের বৃহত্তর গণ-আন্দোলনগুলিতে সর্বস্তরের নারী সমাজকে শামিল করার প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।
💡 ১৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তা ও শান্তিনিকেতন ভাবনার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও। (৫+৩)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা (২ বাক্য): বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাদর্শন ছিল ঔপনিবেশিক কেরানি তৈরির চার দেওয়ালে বন্দি যান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত এক প্রগতিশীল ধারা। তিনি প্রকৃতির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে মানবতাবোধের বিকাশ এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির এক মেলবন্ধন ঘটানোর উদ্দেশ্যে শান্তিনিকেতন ভাবনা বাস্তবায়িত করেন।
- প্রকৃতি ও শিক্ষার সমন্বয় (৩ বাক্য): রবীন্দ্রনাথ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে খাঁচায় বন্দি পাখির মতো শিশুদের চার দেওয়ালের মাঝে আটকে রেখে প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। এই কারণে শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীদের কৃত্রিম শ্রেণিকক্ষের বাইরে প্রকৃতির অন্দরে গাছের তলায় বসে আনন্দময় পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হতো। তিনি মনে করতেন প্রকৃতির ঋতু পরিবর্তন ও উদার উন্মুক্ত আকাশ শিক্ষার্থীদের মনের সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তির স্বাভাবিক বিকাশ ঘটায়।
- মানবতাবোধ ও সমাজ সচেতনতা (৩ বাক্য): শান্তিনিকেতনের শিক্ষা কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ছিল বিশ্বজনীন মানবতাবোধের এক বাস্তব পাঠশালা। এই ভাবনার সঙ্গে আশেপাশের গ্রামীণ জনপদ ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের এক অত্যন্ত নিবিড় ও আত্মিক যোগাযোগ গড়ে তোলা হয়েছিল। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যই ছিল শিক্ষার্থীদের মনে সমবেদনা জাগানো যাতে তারা সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।
- বিশ্বভারতীর উদ্দেশ্য ও বিশ্বজনীন মিলন (৩ বাক্য): রবীন্দ্রনাথ ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে শান্তিনিকেতনেই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে একে সমগ্র বিশ্বজাতির এক অনন্য মিলনভূমিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। তিনি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সংস্কৃতির সুস্থ আদান-প্রদানের উদ্দেশ্যে এখানে চীন, জাপান এবং ইউরোপের বহু বিশিষ্ট পণ্ডিতদের আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসেন। এর মূল লক্ষ্য ছিল সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্বসংস্কৃতির সাথে ভারতীয় জ্ঞান ও দর্শনের এক মেলবন্ধন ঘটানো।
- উপসংহার (২ বাক্য): পরিশেষে বলা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাচিন্তা ও শান্তিনিকেতন ভাবনা পরাধীন ভারতের বুকে এক অনন্য বিকল্প শিক্ষাদর্শের সফল প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তাঁর এই প্রগতিশীল দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই শান্তিনিকেতন আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক মহান মানবতাবাদী ও সর্বজনীন সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে সমাদৃত।
💡 ১৪. বাংলায় নমঃশূদ্র আন্দোলনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও। (৮)
✔️ উত্তর:
- ভূমিকা (২ বাক্য): উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বাংলায় অবহেলিত, নিম্নবর্ণের ও প্রান্তিক নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের মানুষের সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই ভারতের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। যুগ যুগ ধরে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের দ্বারা শোষিত ও সামাজিক অস্পৃশ্যতার শিকার চণ্ডালরা পরবর্তীতে নিজেদের সঙ্ঘবদ্ধ করে নমঃশূদ্র আন্দোলনে রূপ দেয়।
- আন্দোলনের আদি পর্ব ও মতূয়া ধর্ম (৩ বাক্য): এই আন্দোলনের প্রাথমিক ভিত্তিভূমি প্রস্তুত করেছিলেন শ্রীহরিচাঁদ ঠাকুর, যিনি নিম্নবর্ণের মানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে 'মতূয়া ধর্ম' নামক এক নতুন উদার মতাদর্শ প্রচার করেন। তিনি ওড়াকান্দিতে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের একতাবদ্ধ করে সামাজিক কুসংস্কার বর্জন এবং নিজেদের অধিকার সচেতন হওয়ার এক নতুন বার্তা দেন। এই ধর্মীয় আন্দোলনটি অবহেলিত চণ্ডাল সম্প্রদায়কে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং তাদের এক সুনির্দিষ্ট সামাজিক পরিচিতি প্রদান করে।
- গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্ব ও শিক্ষাবিস্তার (৩ বাক্য): হরিচাঁদ ঠাকুরের সুযোগ্য পুত্র গুরুচাঁদ ঠাকুর এই আন্দোলনকে একটি শক্তিশালী সামাজিক ও শিক্ষামূলক আন্দোলনে পরিণত করতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে শিক্ষার আলো ছাড়া নমঃশূদ্র সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাঁরই একক প্রচেষ্টায় অনগ্রসর ও দলিত শ্রেণীর মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়াতে গ্রামবাংলায় অসংখ্য প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে ওঠে।
- রাজনৈতিক অধিকার ও দলিত আন্দোলন (৩ বাক্য): বিংশ শতকের প্রথমার্ধে এই আন্দোলনটি সামাজিক গণ্ডি পেরিয়ে আইনসভায় নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার ও আসন সংরক্ষণের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। প্রমথরঞ্জন ঠাকুরের মতো পরবর্তী প্রজন্মের নেতারা নমঃশূদ্রদের রাজনৈতিকভাবে সঙ্ঘবদ্ধ করে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে অনগ্রসর শ্রেণীর স্বীকৃতি আদায় করেন। এই আন্দোলন বাংলার দলিত সমাজকে জাতীয় কংগ্রেসের উচ্চবর্ণের আধিপত্যের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বাধীন রাজনৈতিক অস্তিত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করেছিল।
- উপসংহার (২ বাক্য): পরিশেষে বলা যায়, বাংলার নমঃশূদ্র আন্দোলন কেবল একটি জাতিভিত্তিক প্রতিরোধ ছিল না, বরং এটি ছিল পিছিয়ে পড়া মানুষের আত্মপ্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ফলেই বাংলার সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে নিম্নবর্ণের মানুষের অধিকার ও লিঙ্গসাম্য প্রতিষ্ঠার এক নতুন প্রগতিশীল যুগের সূচনা হয়েছিল।

