✍️প্রশ্নের মান-৬:
⭐১. উষ্ণীকরণ বলতে কী বোঝ? উষ্ণীকরণ কয় প্রকার ও কী কী? উষ্ণীকরণের শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজনীয়তাগুলি লেখো। (১ + ২ + ৩ = ৬)
⭐ উত্তর:
👉 ব্যায়ামের আগে শরীরকে ধীরে ধীরে সক্রিয় ও প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াকে উষ্ণীকরণ (Warming Up) বলে।
এতে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং পেশি, জয়েন্ট ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কার্যক্ষম হয়ে ওঠে।
👉 উষ্ণীকরণ প্রধানত দুই প্রকার—
1. সাধারণ উষ্ণীকরণ (General Warming Up):
-
হালকা দৌড়, জাম্পিং, হাত-পা নাড়ানো, স্ট্রেচিং ইত্যাদির মাধ্যমে পুরো শরীরকে ধীরে ধীরে উষ্ণ করা।
-
লক্ষ্য: শরীরের মৌলিক প্রস্তুতি তৈরি করা।
2. বিশেষ উষ্ণীকরণ (Specific Warming Up):
-
নির্দিষ্ট খেলা বা ব্যায়ামের ধরণ অনুযায়ী বিশেষ অনুশীলন করা।
-
যেমন:
-
ফুটবলে ড্রিবলিং, পাসিং
-
ক্রিকেটে বোলিং বা ব্যাটিং মুভমেন্ট
-
ব্যাডমিন্টনে সার্ভ-রিটার্ন অনুশীলন
-
👉## . উষ্ণীকরণের শারীরবৃত্তীয় প্রয়োজনীয়তা:
✔ (১) রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায়
হার্টের গতি বাড়ে এবং বিভিন্ন পেশিতে দ্রুত অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছায়।
✔ (২) পেশির নমনীয়তা ও কার্যক্ষমতা বাড়ে
উষ্ণ পেশি ও জয়েন্ট সহজে নড়াচড়া করে, ফলে আঘাতের ঝুঁকি কমে।
✔ (৩) স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়
নার্ভের বার্তা দ্রুত আদান-প্রদান হয়, যার ফলে প্রতিক্রিয়ার গতি ও শরীরের সমন্বয় উন্নত হয়।
✔ (৪) শ্বাস-প্রশ্বাসের হার নিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ে
ফুসফুস বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে, যা ব্যায়ামের সময় শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
✔ (৫) মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়
একাগ্রতা, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা বৃদ্ধি পায়।
⭐ ২. ধ্যান বলতে কী বোঝ? অষ্টাঙ্গযোগের অঙ্গগুলি কী কী? দৈনন্দিন জীবনে যোগাভ্যাসের প্রভাবগুলি লেখো। (১ + ২ + ৩ = ৬)
⭐ উত্তর:
👉 মনের সম্পূর্ণ একাগ্রতা, শান্তি ও স্থিরতা অর্জনের জন্য যে মানসিক অনুশীলন করা হয়, তাকে ধ্যান (Meditation) বলে।
এটি মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে প্রশান্ত করে।
👉 অষ্টাঙ্গযোগের ৮টি অঙ্গ হলো—
-
যম (Yama) – নৈতিক নিয়ম যেমন সত্য, অহিংসা, চুরি না করা
-
নিয়ম (Niyama) – ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা যেমন শুচিতা, সন্তোষ
-
আসন (Asana) – শরীরের নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ভঙ্গি
-
প্রাণায়াম (Pranayama) – শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ
-
প্রত্যাহার (Pratyahara) – ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ
-
ধারণা (Dharana) – মনকে একটি বিষয়ের উপর স্থির করা
-
ধ্যান (Dhyana) – গভীর মনোনিবেশ ও একাগ্রতা
-
সমাধি (Samadhi) – পরম চেতনার উপলব্ধি
👉 দৈনন্দিন জীবনে যোগাভ্যাসের প্রভাব:
✔ (১) মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায়
যোগ ও ধ্যান স্নায়ুতন্ত্র শান্ত করে, মনোযোগ বাড়ায় এবং মানসিক প্রশান্তি আনে।
✔ (২) শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে
পেশি শক্তিশালী হয়, জয়েন্ট নমনীয় হয় এবং শরীরের ভারসাম্যও উন্নত হয়।
✔ (৩) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
নিয়মিত যোগাভ্যাস ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ফলে অসুখ কম হয়।
✔ (৪) ঘুমের মান উন্নত করে
মন ও শরীর শিথিল হওয়ায় ঘুম গভীর ও স্বস্তিদায়ক হয়।
✔ (৫) ব্যক্তিত্ব উন্নত করে
একাগ্রতা, আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য ও ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি পায়।
⭐ ৩. খেলা কী? আধুনিক সমাজ জীবনে খেলা ও শারীরশিক্ষার প্রয়োজনীয়তাগুলি লেখো। (১ + ৫ = ৬)
⭐ উত্তর:
👉 মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের লক্ষ্যে নিয়ম, শৃঙ্খলা ও কৌশলের মাধ্যমে পরিচালিত যেকোনো আনন্দদায়ক অনুশীলন বা প্রতিযোগিতামূলক কার্যকলাপকেই খেলা বলে। খেলাধুলা শরীরকে সুস্থ, মনকে প্রফুল্ল এবং ব্যক্তিত্বকে পরিপূর্ণ করে তোলে।
⭐ আধুনিক সমাজ জীবনে খেলা ও শারীরশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা:
✔ (১) শারীরিক স্বাস্থ্য উন্নত করে
নিয়মিত ব্যায়াম, দৌড়ঝাঁপ ও খেলাধুলা পেশি, হাড়, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে। স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
✔ (২) মানসিক স্বাস্থ্য ও চাপ কমায়
খেলা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা দূর করে মনকে সতেজ রাখে। মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
✔ (৩) সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলে
দলগত খেলায় সহযোগিতা, পরস্পরের সাথে বোঝাপড়া, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা, নিয়মানুবর্তিতা ও বন্ধুত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক গুণ অর্জিত হয়।
✔ (৪) চরিত্র গঠন ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখায়
খেলায় নিয়ম মেনে চলা, সততা, অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, প্রতিযোগিতার ইতিবাচক মনোভাব এবং জয়-পরাজয় গ্রহণ করার সামর্থ্য ব্যক্তির নৈতিক চরিত্রকে দৃঢ় করে।
✔ (৫) কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে
শরীর সুস্থ থাকলে কাজের দক্ষতা ও শেখার ক্ষমতা বাড়ে। দৈনন্দিন জীবন ও কর্মক্ষেত্রে শক্তি, গতি, মনোযোগ ও উদ্যম বজায় থাকে, ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
✔ (৬) জাতীয় ঐক্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নত করে
খেলাধুলা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বিভিন্ন দেশের মধ্যে বন্ধুতা, সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ায়।
⭐ ৪. শারীরিক সক্ষমতা বলতে কী বোঝো? স্বাস্থ্য সম্পর্কিত শারীরিক সক্ষমতার উপাদানগুলির নাম তালিকাভুক্ত করো। যে-কোনো একটি দক্ষতা সম্পর্কিত শারীরিক সক্ষমতার উপাদান সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
(১ + ২ + ৩ = ৬)
⭐ উত্তর:
👉 শারীরিক সক্ষমতা (Physical Fitness) বলতে বোঝায়, দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্ষমতা ও শক্তি, যা দৈনন্দিন কাজ, খেলাধুলা ও শারীরিক ক্রিয়াকলাপ নির্বাহে সাহায্য করে।
এটি মূলত স্বাস্থ্য ও দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ভাগ করা যায়।
⭐ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত শারীরিক সক্ষমতার উপাদানগুলি:
-
সহনশীলতা (Endurance / Stamina) – দীর্ঘ সময় কাজ বা ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা
-
শক্তি (Strength) – পেশির ক্ষমতা অনুযায়ী বল প্রয়োগ করার ক্ষমতা
-
লচিলেম (Flexibility) – পেশি ও জয়েন্টের নমনীয়তা
-
শরীর গঠন ও স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ (Body Composition) – দেহে পেশি ও চর্বির অনুপাত
-
হৃদয়-ফুসফুসের কার্যক্ষমতা (Cardio-Respiratory Fitness) – হৃদয় ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা
⭐ দক্ষতা সম্পর্কিত শারীরিক সক্ষমতার উপাদান:
👉 উদাহরণস্বরূপ শক্তি (Strength):
শক্তি হলো পেশির ক্ষমতা অনুযায়ী বল প্রয়োগ করার সক্ষমতা। এটি এমন একটি শারীরিক উপাদান যা দৈনন্দিন কাজ, খেলাধুলা এবং বিভিন্ন শারীরিক কার্যকলাপের জন্য অপরিহার্য। শক্তিশালী পেশি শরীরকে ভার বহন, লাফানো, দৌড়ানো এবং প্রতিযোগিতামূলক খেলায় দ্রুত ও কার্যকরীভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়।
শক্তি তিন ধরনের হতে পারে—
-
সর্বোচ্চ শক্তি (Maximum Strength): একবারে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ করার ক্ষমতা, যেমন ভার উত্তোলন।
-
দীর্ঘকালীন শক্তি (Muscular Endurance): পেশি দীর্ঘ সময় কাজ করতে সক্ষম হওয়া, যেমন দৌড়ের সময় পায়ের পেশি শক্ত থাকা।
-
স্ফূর্তিবল বা স্পষ্টিক শক্তি (Explosive Strength / Power): দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে বল বা শক্তি প্রয়োগ করা, যেমন লাফানো বা বল ছোড়া।
শক্তি উন্নত হলে—
-
আঘাতের ঝুঁকি কমে
-
দৈনন্দিন কাজ যেমন বসা, দাঁড়ানো, লিফট বা মালবাহী কাজ সহজ হয়
-
খেলাধুলায় পারফরম্যান্স বৃদ্ধি পায়
-
দেহের স্থিতিশীলতা, ভারসাম্য এবং নিয়ন্ত্রণও উন্নত হয়
⭐ ৫. হাইপোকাইনেটিক রোগ বলতে কী বোঝ? চারটি হাইপোকাইনেটিক রোগের নাম লেখো। পুরুষ ও মহিলাদের ওজন কমানোর নীতিগুলি লেখো।
(১ + ২ + ৩ = ৬)
⭐ উত্তর:
👉হাইপোকাইনেটিক রোগ হলো সেই সব রোগ, যেগুলো শারীরিক ক্রিয়াকলাপের অভাব, অলস জীবনযাপন বা পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করার ফলে দেখা দেয়। এসব রোগে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।⭐ চারটি হাইপোকাইনেটিক রোগের নাম:
-
স্থূলতা (Obesity)
-
ডায়াবেটিস (Type–2 Diabetes)
-
উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)
-
হৃদরোগ (Heart Diseases)
⭐ পুরুষ ও মহিলাদের ওজন কমানোর নীতিমালা:
✔ (১) নিয়মিত ব্যায়াম ও সক্রিয় জীবনযাপন
দ্রুত হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং, সাঁতার, এরোবিক্স, যোগাভ্যাস—এগুলো শরীরের ক্যালরি পোড়ায়। সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০–৪৫ মিনিট ব্যায়াম করা জরুরি।
✔ (২) সুষম ও ক্যালরি নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস
তেল-চর্বি কম খাবার, বেশি শাকসবজি, ফল, হোল-গ্রেইন, পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ ও ছোট পরিমাপে খাবার খাওয়া ওজন কমাতে সাহায্য করে। চিনি, ফাস্টফুড ও প্রসেসড ফুড কমাতে হবে।
✔ (৩) নিয়মিত রুটিন ও পর্যাপ্ত ঘুম
সঠিক সময়ে ঘুম ও জাগা, স্ট্রেস কমানো, রাত জাগা এড়ানো—এসব শরীরের হরমোন ঠিক রাখে এবং অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।
✔ (৪) ধীরে ধীরে ওজন কমানোর লক্ষ্য
হঠাৎ দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করলে ক্ষতি হতে পারে। প্রতি সপ্তাহে ০.৫–১ কেজি ওজন কমানো স্বাস্থ্যসম্মত।
✔ (৫) আলাদা শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা
পুরুষদের পেশিশক্তি বেশি, মহিলাদের চর্বি জমার হার তুলনামূলক বেশি—তাই ব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাস ব্যক্তির শরীরের ধরন অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
⭐ ৬. আধুনিক অলিম্পিক গেমসের স্রষ্টা কে? আধুনিক অলিম্পিক গেমসের মটো কী? আধুনিক অলিম্পিক গেমসের উদ্দেশ্যগুলি লেখো।
(১ + ২ + ৩ = ৬)
⭐ উত্তর:
👉 (১)বেরন পিয়ের দ্য কুবারতিন (Baron Pierre de Coubertin) আধুনিক অলিম্পিক গেমসের স্রষ্টা।
👉 (২) আধুনিক অলিম্পিক গেমসের মটো:
আধুনিক অলিম্পিকের মটো হলো —
“Citius, Altius, Fortius”
অর্থাৎ —
“Faster, Higher, Stronger” (দ্রুততর, উচ্চতর, শক্তিশালী)।
👉 (৩) আধুনিক অলিম্পিক গেমসের উদ্দেশ্যগুলি:
✔ (১) আন্তর্জাতিক শান্তি ও সৌহার্দ্য স্থাপন
বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের একত্রিত করে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মান গড়ে তোলা।
✔ (২) খেলাধুলার মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ প্রচার
ন্যায়নীতি, শৃঙ্খলা, সততা, সহনশীলতা, অধ্যবসায় ও ক্রীড়ামনস্কতা বিকাশ করা।
✔ (৩) বিশ্বব্যাপী ক্রীড়া সংস্কৃতির উন্নয়ন
নানা দেশের তরুণ-তরুণীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করে শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থতার উন্নয়ন ঘটানো।
✔ (৪) প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশ
খেলোয়াড়দের প্রতিভা ও দক্ষতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রদর্শনের সুযোগ প্রদান।
✔ (৫) জাতীয় গর্ব বৃদ্ধি
দেশের হয়ে পদক জয় বা ভালো পারফরম্যান্স জাতীয় মর্যাদা ও গর্ব বাড়ায়।
⭐ ৭. দেহভঙ্গি বলতে কী বোঝ? মেরুদণ্ডের সমস্যাজনিত বিকৃতিগুলির নাম লেখো। ফ্ল্যাট ফুটের কারণ ও প্রতিকার বর্ণনা করো।
(১ + ২ + ৩ = ৬)
⭐ উত্তর:
👉 (১) দেহভঙ্গি:
দেহভঙ্গি (Posture) হলো দাঁড়ানো, বসা, চলা বা যেকোনো অবস্থায় শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঠিক ও স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখার দক্ষতা।
সুস্থ দেহভঙ্গি শরীরকে সুষম রাখে এবং পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে দেয় না।
👉 (২) মেরুদণ্ডের সমস্যাজনিত বিকৃতিগুলির নাম:
মেরুদণ্ডের প্রধান তিনটি বিকৃতি হলো—
-
লর্ডোসিস (Lordosis) – পিঠের নিচের অংশ অস্বাভাবিকভাবে ভেতরের দিকে বেঁকে যাওয়া
-
কাইফোসিস (Kyphosis) – পিঠের উপরিভাগ বাইরে দিকে বেঁকে কুঁজো হয়ে যাওয়া
-
স্কোলিওসিস (Scoliosis) – মেরুদণ্ড বাম বা ডান দিকে বাঁকানো
👉 (৩) ফ্ল্যাট ফুটের কারণ ও প্রতিকার:
⭐ কারণসমূহ:
✔ জন্মগত সমস্যা (Birth defect)
✔ পায়ের পেশি দুর্বলতা
✔ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
✔ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা
✔ ভুল ধরনের জুতো ব্যবহার
✔ আঘাত বা হাড়ের সমস্যা
⭐ প্রতিকার:
✔ পায়ের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম — টো-কার্ল, হিল-রেইজ, টাওয়েল পিক-আপ ইত্যাদি
✔ সঠিক আর্চ-যুক্ত জুতো বা অর্থোটিক ইনসোল ব্যবহার
✔ নিয়মিত হালকা দৌড়, হাঁটা ও স্ট্রেচিং
✔ শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো
✔ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এড়ানো বা মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া
✔ প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপির পরামর্শ নেওয়া
⭐ ৮. (ক) সংগঠিত খেলা বলতে কী বোঝ? (খ) খেলার তত্ত্বের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা করো।
(২ + ৪ = ৬)
👉 উত্তর:
⭐ (ক) সংগঠিত খেলা:
সংগঠিত খেলা হলো নির্দিষ্ট নিয়ম, বিধি, সময়সীমা, সরঞ্জাম, প্রশিক্ষক, মাঠ, রেফারি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত খেলা।
এই ধরনের খেলায় দল গঠন, প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা, নিয়মানুবর্তিতা ও কৌশলগত পরিকল্পনা গুরুত্ব পায়।
উদাহরণ: ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল ইত্যাদি।
⭐ (খ) খেলার তত্ত্বের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা:
খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়—এটি মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বৈজ্ঞানিকভাবে খেলার তত্ত্বকে নিম্নলিখিতভাবে ব্যাখ্যা করা যায়—
✔ (১) শারীরবৃত্তীয় তত্ত্ব (Physiological Theory)
খেলাধুলা শরীরের পেশি, হাড়, হৃদয়, ফুসফুস ও স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে। নিয়মিত খেলায় রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি, স্ট্যামিনা বৃদ্ধি, পেশিশক্তি ও নমনীয়তা উন্নত হয়।
✔ (২) মনোবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব (Psychological Theory)
খেলা চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা কমায়; মনোযোগ, আত্মবিশ্বাস, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। খেলায় প্রতিযোগিতা, অধ্যবসায় ও জয়-পরাজয় গ্রহণের মানসিকতা তৈরি হয়।
✔ (৩) সামাজিক তত্ত্ব (Social Theory)
খেলাধুলায় দলগত কর্ম, সহযোগিতা, নেতৃত্ব, সহমর্মিতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। সমাজে শৃঙ্খলা, বন্ধুত্ব, সাম্য ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠায় খেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
✔ (৪) বিকাশমূলক তত্ত্ব (Developmental Theory)
খেলাধুলা শিশু ও কিশোরদের শারীরিক বৃদ্ধি, হাড়–পেশির গঠন, ফিটনেস, সমন্বয় ক্ষমতা (coordination) উন্নত করে। এটি ব্যক্তিত্ব, চরিত্র ও আত্মনিয়ন্ত্রণ গঠনে সহায়ক।
⭐ ৯.যোগার জীবিকাগত ক্ষেত্রগুলি বর্ণনা করো।
(৬ নম্বর)
👉 উত্তর:
যোগার জীবিকাগত বা জীব-শারীরবৃত্তীয় ক্ষেত্র বলতে বোঝায় সেই সমস্ত দিক যা যোগচর্চার মাধ্যমে মানুষের শরীরের কোষ, টিস্যু, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, স্নায়ুতন্ত্র ও বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। যোগ শুধুমাত্র মানসিক শান্তি বা ধ্যান নয়—এটি শরীরের ভিতরের জৈবিক কাজকর্মকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করতে সাহায্য করে। জীবিকাগত ক্ষেত্রে যোগ মূলত শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তসঞ্চালন, স্নায়ুকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ, অন্তঃস্রাবী গ্রন্থির কার্যকারিতা এবং পেশী-হাড়ের গঠন ও কার্যক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
যোগার প্রধান জীবিকাগত ক্ষেত্রগুলি হচ্ছেঃ
১. শ্বাস-প্রশ্বাস (Respiratory System)
যোগের প্রाणায়াম শ্বাস-প্রশ্বাসের গভীরতা, গতি ও নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে। এতে ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ে, অক্সিজেন গ্রহণ বৃদ্ধি পায় এবং শ্বাসকষ্ট বা অ্যাস্থমার ঝুঁকি কমে যায়।
২. সংবহন বা রক্তসঞ্চালন ব্যবস্থা (Circulatory System)
যোগ হৃদপিণ্ডকে সুস্থ রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং শরীরের প্রতিটি কোষ যথেষ্ট অক্সিজেন পায়।
৩. স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System)
যোগ শরীর ও মনের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়। ধ্যান, প্রাণায়াম ও আসন স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, মানসিক চাপ কমায় এবং একাগ্রতা বাড়ায়।
৪. অন্তঃস্রাবী বা হরমোনগত ব্যবস্থা (Endocrine System)
যোগের বিভিন্ন আসন থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, পিটুইটারি ইত্যাদি হরমোনগ্রন্থিকে সক্রিয় করে। ফলে হরমোন ব্যালান্স থাকে এবং ডায়াবেটিস, থাইরয়েড সমস্যা ইত্যাদির ঝুঁকি কমে।
৫. পেশী-হাড় ব্যবস্থা (Muscular & Skeletal System)
যোগ পেশি শক্তিশালী ও নমনীয় করে। মেরুদণ্ড সোজা থাকে, দেহভঙ্গি ঠিক হয় এবং জয়েন্টের ব্যথা, আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমে।
৬. পরিপাকতন্ত্র (Digestive System)
যোগ হজম শক্তি বাড়ায়, গ্যাস-অ্যাসিডিটি কমায় এবং পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে। নিয়মিত যোগে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
⭐ ১০. (ক) বিপাকীয় সক্ষমতা বলতে কী বোঝ?
(খ) বিপাকীয় সক্ষমতার উদ্দেশ্যগুলি কী?
(গ) হৃদ-শ্বসনতান্ত্রিক সহনশীলতা বলতে কী বোঝ লেখো।
(১ + ২ + ৩ = ৬)
👉 উত্তর:
⭐ (ক) বিপাকীয় সক্ষমতা:
বিপাকীয় সক্ষমতা বলতে মানবদেহের সেই জৈবিক ক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে দেহ খাদ্যদ্রব্যকে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং সেই শক্তি ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় শারীরিক কার্যকলাপ সম্পাদন করতে পারে।
এটি দেহের শক্তি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের দক্ষতাকে নির্দেশ করে।
⭐ (খ) বিপাকীয় সক্ষমতার উদ্দেশ্যগুলি:
বিপাকীয় সক্ষমতার প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো—
✔ (১) শক্তি উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি:
খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত শক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে দেহের কাজ করার ক্ষমতা বাড়ানো।
✔ (২) সহনশীলতা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়ন:
দীর্ঘ সময় শারীরিক কাজের সময় ক্লান্তি বিলম্বিত করা এবং সামগ্রিক শারীরিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
✔ (৩) সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা:
দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ, বিপাকক্রিয়া সচল রাখা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
⭐ (গ) হৃদ-শ্বসনতান্ত্রিক সহনশীলতা:
হৃদ-শ্বসনতান্ত্রিক সহনশীলতা বলতে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও রক্তসংবহন তন্ত্রের সেই সম্মিলিত ক্ষমতাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে দেহ দীর্ঘ সময় ধরে পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে এবং একই সঙ্গে দেহ থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করতে সক্ষম হয়।
এই সহনশীলতা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক পরিশ্রমের সময় দেহকে সক্রিয় ও সুস্থ রাখে।
✔ হৃদস্পন্দনের দক্ষতা বৃদ্ধি করে
✔ শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা উন্নত করে
✔ রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করে
⭐ উদাহরণ: দৌড়ানো, সাঁতার, সাইক্লিং, দীর্ঘ সময় দ্রুত হাঁটা ইত্যাদি।
⭐ ১১. (ক) রক্তচাপ বলতে কী বোঝ এবং সংকোচী রক্তচাপ বলতে কী বোঝ?
(খ) রক্তচাপ মাপবার পদ্ধতিটি বর্ণনা করো।
(২ + ৩ = ৬)
👉 উত্তর:
⭐ (ক) রক্তচাপ ও সংকোচী রক্তচাপ:
✔ রক্তচাপ (Blood Pressure):
হৃদপিণ্ডের কার্যকলাপের ফলে ধমনীর প্রাচীরে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তচাপ বলে। এটি রক্ত সঞ্চালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় সূচক।
✔ সংকোচী রক্তচাপ (Systolic Blood Pressure):
হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয়ে (contract করে) ধমনীর মধ্যে রক্ত পাঠায়, তখন ধমনীর প্রাচীরে যে সর্বাধিক চাপ সৃষ্টি হয় তাকে সংকোচী রক্তচাপ বলে।
👉 সাধারণত স্বাভাবিক সংকোচী রক্তচাপ ≈ ১২০ mm Hg।
⭐ (খ) রক্তচাপ মাপবার পদ্ধতি:
রক্তচাপ সাধারণত স্ফিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) ও স্টেথোস্কোপ দ্বারা মাপা হয়। এর পদ্ধতি নিম্নরূপ—
✔ (১) রোগীকে আরাম করে বসানো বা শুইয়ে বাম হাত হৃদপিণ্ডের সমান উচ্চতায় রাখা হয়।
✔ (২) বাহুর উপরের অংশে কাফ (cuff) পেঁচিয়ে বায়ু পাম্প করে ধমনীতে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
✔ (৩) ধীরে ধীরে বায়ু ছাড়া হয় এবং স্টেথোস্কোপ দিয়ে শব্দ শোনা হয়—
প্রথম শব্দ শোনা গেলে সেটি সংকোচী রক্তচাপ
শব্দ সম্পূর্ণ বন্ধ হলে সেটি প্রসারী রক্তচাপ (Diastolic BP)
👉 এভাবেই রক্তচাপের মান নির্ণয় করা হয় (যেমন: ১২০/৮০ mm Hg) ✅
⭐ ১২. (ক) অলিম্পিক পতাকা কয় ধরনের হয়ে থাকে?
(খ) অলিম্পিক গেমসের পতাকার বিস্তারিত বর্ণনা করো।
(১ + ৫ = ৬)
👉 উত্তর:
⭐ (ক) অলিম্পিক পতাকার ধরন:
✔ অলিম্পিক পতাকা প্রধানত দুই (২) ধরনের—
1️⃣ আন্তর্জাতিক অলিম্পিক পতাকা (International Olympic Flag)
2️⃣ আয়োজক দেশ/শহরের অলিম্পিক পতাকা (Host City Olympic Flag)
⭐(খ)পতাকার বর্ণনা:
✔ (১) পটভূমি ও নকশা:
অলিম্পিক পতাকার পটভূমি সাদা রঙের। মাঝখানে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত পাঁচটি বৃত্তাকার বলয় অঙ্কিত থাকে, যা অলিম্পিক আন্দোলনের প্রধান প্রতীক।
✔ (২) পাঁচটি বলয়ের রং ও বিন্যাস:
উপরের সারিতে— 🔵 নীল, ⚫ কালো, 🔴 লাল
নিচের সারিতে— 🟡 হলুদ, 🟢 সবুজ
এই নির্দিষ্ট বিন্যাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
✔ (৩) দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ (Size of Olympic Flag):
অলিম্পিক পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ৩ : ২।
👉 সাধারণভাবে ব্যবহৃত মানক মাপ হলো—
দৈর্ঘ্য: ৩ মিটার
প্রস্থ: ২ মিটার
✔ (৪) প্রতীকী অর্থ:
পাঁচটি বলয় পৃথিবীর পাঁচটি মহাদেশের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের প্রতীক। সাদা পটভূমি বিশ্বশান্তি ও শুদ্ধতার প্রতীক।
✔ (৫) প্রবর্তন ও ব্যবহার:
অলিম্পিক পতাকা পিয়ের দে কুবার্তাঁ ১৯১৩ সালে প্রবর্তন করেন। প্রথমবার এটি ১৯২০ সালের এন্টওয়ার্প অলিম্পিক গেমসে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উত্তোলন করা হয়।
✨ উপসংহার:
নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য–প্রস্থ ও প্রতীকী নকশার মাধ্যমে অলিম্পিক পতাকা বিশ্বব্যাপী ঐক্য, শান্তি ও খেলাধুলার মহান আদর্শকে তুলে ধরে।
⭐ ১৩. (ক) দেহভঙ্গি বলতে কী বোঝো? মেরুদণ্ডের দুষ্ট দেহভঙ্গিগুলির নাম লেখো।
(খ) লডোসিসের কারণ, প্রতিকার ও পূর্বসতর্কতা সম্পর্কে লেখো।
(২ + ৪ = ৬)
👉 উত্তর:
⭐ (ক) দেহভঙ্গি ও মেরুদণ্ডের দুষ্ট দেহভঙ্গি:
✔ দেহভঙ্গি (Posture):
দাঁড়ানো, বসা, হাঁটা বা শোয়ার সময় দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মেরুদণ্ড যে স্বাভাবিক ও সুষম অবস্থান গ্রহণ করে, তাকে দেহভঙ্গি বলে। সঠিক দেহভঙ্গি শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে দেহকে রক্ষা করে।
✔ মেরুদণ্ডের দুষ্ট দেহভঙ্গিগুলি:
1️⃣ লডোসিস (Lordosis)
2️⃣ কাইফোসিস (Kyphosis)
3️⃣ স্কোলিওসিস (Scoliosis)
⭐ (খ) লডোসিসের কারণ, প্রতিকার ও পূর্বসতর্কতা:
✔ (১) লডোসিসের কারণ:
ভুল দেহভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়ানো বা বসা
স্থূলতা (পেটের অতিরিক্ত মেদ)
দুর্বল পেট ও পিঠের পেশি
গর্ভাবস্থা
অনিয়ন্ত্রিত ভারী বোঝা বহন
✔ (২) লডোসিসের প্রতিকার:
নিয়মিত সংশোধনমূলক ব্যায়াম (পেট ও পিঠের পেশি শক্তিশালী করা)
সঠিক দেহভঙ্গিতে বসা, দাঁড়ানো ও হাঁটার অভ্যাস
ওজন নিয়ন্ত্রণ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি
✔ (৩) লডোসিসের পূর্বসতর্কতা:
দীর্ঘক্ষণ এক ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে না থাকা
ভারী ব্যাগ বা বোঝা সঠিকভাবে বহন করা
শক্ত ও সমতল বিছানায় ঘুমানো
নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগব্যায়াম করা
✨ উপসংহার:
লডোসিস একটি সংশোধনযোগ্য দুষ্ট দেহভঙ্গি। সঠিক দেহভঙ্গি, নিয়মিত ব্যায়াম ও সচেতনতার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
⭐ ১৪. (ক) প্রাণায়াম বলতে কী বোঝ?
(খ) দৈনন্দিন জীবনে প্রাণায়ামের সুফলগুলি বর্ণনা করো।
(২ + ৪ = ৬)
👉 উত্তর:
⭐ (ক) প্রাণায়াম:
✔ প্রাণায়াম (Pranayama):
যোগশাস্ত্র অনুযায়ী শ্বাস–প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রিত ও নিয়মিত অনুশীলনকেই প্রাণায়াম বলা হয়। ‘প্রাণ’ অর্থ জীবনশক্তি এবং ‘আয়াম’ অর্থ নিয়ন্ত্রণ বা বিস্তার। প্রাণায়ামের মাধ্যমে দেহে অক্সিজেন গ্রহণ বৃদ্ধি পায় এবং শরীর–মন সুস্থ ও সক্রিয় থাকে।
⭐ (খ) দৈনন্দিন জীবনে প্রাণায়ামের সুফল:
✔ (১) শারীরিক উপকারিতা:
প্রাণায়াম ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায়, রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে, হৃদযন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রকে সুস্থ রাখে এবং হজমশক্তি উন্নত করে।
✔ (২) মানসিক উপকারিতা:
নিয়মিত প্রাণায়াম মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও হতাশা কমায়। এটি মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও আত্মসংযম বৃদ্ধি করে।
✔ (৩) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:
প্রাণায়াম দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি–কাশি, হাঁপানি ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
✔ (৪) জীবনযাত্রার উন্নতি:
প্রাণায়াম কর্মক্ষমতা বাড়ায়, ক্লান্তি দূর করে এবং দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা, ইতিবাচক মনোভাব ও সুস্থ জীবনযাপনে সহায়তা করে।
✨ উপসংহার:
প্রাণায়াম একটি সহজ ও কার্যকর যোগচর্চা, যা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দেহ ও মনকে সুস্থ, শান্ত ও কর্মক্ষম করে তোলে।
⭐ ১৫. শীতলীকরণ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে লেখো।
(৬ নম্বর)
👉 উত্তর:
⭐ শীতলীকরণ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি (Cooling Down Training Method):
✔ (১) সংজ্ঞা:
শীতলীকরণ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে তীব্র ব্যায়াম বা খেলাধুলার শেষে ধীরে ধীরে শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়। এতে হৃদস্পন্দন, শ্বাসপ্রশ্বাস ও শরীরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে।
✔ (২) শীতলীকরণের প্রয়োজনীয়তা:
তীব্র ব্যায়ামের পর হঠাৎ বিশ্রাম নিলে পেশিতে রক্ত জমে যেতে পারে এবং মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। শীতলীকরণ এই ঝুঁকি কমায়।
✔ (৩) শীতলীকরণ পদ্ধতির ধাপসমূহ:
ধীরে ধীরে হাঁটা বা হালকা জগিং
গভীর শ্বাস–প্রশ্বাস ও প্রাণায়াম
হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম
✔ (৪) শারীরবৃত্তীয় উপকারিতা:
শীতলীকরণ পেশিতে জমে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড দূর করতে সাহায্য করে, পেশির ব্যথা ও শক্ত হয়ে যাওয়া (muscle stiffness) কমায়।
✔ (৫) মানসিক উপকারিতা:
শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মনও শান্ত হয়, ক্লান্তি কমে এবং পরবর্তী কাজের জন্য মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়।
✔ (৬) ক্রীড়াক্ষেত্রে গুরুত্ব:
শীতলীকরণ প্রশিক্ষণ খেলোয়াড়দের আঘাতের ঝুঁকি কমায়, দ্রুত পুনরুদ্ধার (recovery) ঘটায় এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
✨ উপসংহার:
শীতলীকরণ প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ব্যায়ামের একটি অপরিহার্য অংশ। নিয়মিত ও সঠিকভাবে শীতলীকরণ করলে শরীর সুস্থ থাকে এবং খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স উন্নত হয়।
<<<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

