✍️সংক্ষিপ্ত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-২):
💡 ১. ‘দাবানল’ কাকে বলে?
✔️ উত্তর: বনে প্রাকৃতিক কোনো কারণে (যেমন বজ্রপাত বা গাছের ঘর্ষণ) যে আগুন লাগে, তাকে দাবানল বলে। আদিম মানুষ এই আগুনকে প্রচণ্ড ভয় পেত।
💡 ২. মহেন-জো-দারোতে পাওয়া সিলমোহরে যোগী মূর্তিটির বর্ণনা দাও।
✔️ উত্তর: মহেন-জো-দারোতে পাওয়া একটি সিলমোহরে একটি যোগী মূর্তি দেখা যায়। মূর্তিটির তিনটি মুখ এবং মাথার ওপর দুটি শিং রয়েছে। ঐতিহাসিকরা এটিকে পশুপতি শিবের আদিরূপ বলে মনে করেন।
💡 ৩. আগুন জ্বালতে শেখার পর মানুষের কী কী সুবিধা হয়েছিল?
✔️ উত্তর: আগুন জ্বালতে শেখার পর আদিম মানুষ কাঁচা মাংসের বদলে পুড়িয়ে নরম মাংস খেতে শুরু করে। এছাড়া তারা তীব্র শীতের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং বন্য জন্তুদের ভয় দেখানোর জন্য আগুনের ব্যবহার শুরু করে।
💡 ৪. হরপ্পা সভ্যতায় কীভাবে শস্য মজুত রাখা হত?
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতায় খাদ্যশস্য মজুত রাখার জন্য বিশাল শস্যাগার তৈরি করা হয়েছিল। বিশেষ করে হরপ্পার দুর্গ এলাকায় (সিটাডেল) এমন বড় শস্যাগারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
💡 ৫. কত খ্রিষ্টাব্দে, কে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন?
✔️ উত্তর: ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক জঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন।
💡 ৬. মানুষ কেন আজও পৃথিবীতে টিকে আছে?
✔️ উত্তর: অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় মানুষের উন্নত বুদ্ধি এবং প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা বেশি। বিশেষ করে হাতিয়ার ও আগুনের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পেরেই মানুষ আজও টিকে আছে।
💡 ৭. হরপ্পা সভ্যতায় খাদ্যশস্য মজুত রাখার জন্য কী কী ব্যবস্থা ছিল?
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতায় শস্য মজুত রাখার জন্য নগরের উঁচু অংশে অর্থাৎ দুর্গ এলাকায় বিশাল শস্যাগার তৈরি করা হয়েছিল। বন্যার জল যাতে শস্যের ক্ষতি করতে না পারে, তার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
💡 ৮. হোমো স্যাপিয়েন্স প্রজাতির দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর: হোমো স্যাপিয়েন্স বা বুদ্ধিমান মানুষের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো— ১. এদের মস্তিষ্ক অন্য প্রজাতির তুলনায় অনেক বড় ও উন্নত ছিল। ২. এরা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নত পাথরের হাতিয়ার তৈরি করতে পারত।
💡 ৯. ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নগরায়ন কোথায় গড়ে উঠেছিল? সিটাডেল কী?
✔️ উত্তর: ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নগরায়ন গড়ে উঠেছিল হরপ্পা সভ্যতায়। হরপ্পার শহরগুলোতে সাধারণত পশ্চিম দিকে একটি উঁচু ইটের ঢিবি বা দুর্গ এলাকা থাকত, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনগুলো অবস্থিত ছিল; এই উঁচু অংশটিকেই সিটাডেল বলা হয়।
💡 ১০. ভারতীয় উপমহাদেশে সবথেকে পুরোনো পাথরের অস্ত্র কোথায় কোথায় পাওয়া গেছে?
✔️ উত্তর: ভারতীয় উপমহাদেশে সবথেকে পুরোনো পাথরের অস্ত্র পাওয়া গেছে কাশ্মীরের সোয়ান উপত্যকায়, পাকিস্তানের পটোয়ার মালভূমিতে এবং কর্ণাটকের হুন্সগি উপত্যকায়।
💡 ১১. কেন হরপ্পা সভ্যতায় মাতৃপূজার চল ছিল বলে তোমার মনে হয়?
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রচুর পরিমাণে পোড়ামাটির নারীমূর্তি পাওয়া গেছে। এই মূর্তিগুলোর আধিক্য এবং তাদের বিশেষ গঠন দেখে ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে ওই সভ্যতায় নারীশক্তি বা 'মাতৃদেবী'র আরাধনা বা মাতৃপূজার ব্যাপক চল ছিল।
💡 ১২. ‘হোমিনিড’ কী?
✔️ উত্তর: মানুষের পরিবার বা আদিম পূর্বপুরুষদের গোষ্ঠীকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় 'হোমিনিড' বলা হয়।
💡 ১৩. মানুষের মধ্যে জমির জন্য লড়াই শুরু হয়েছিল কেন?
✔️ উত্তর: মানুষ কৃষিকাজ শেখার পর ফসলি জমির গুরুত্ব বেড়ে যায়। ভালো ও উর্বর জমির দখল নেওয়া এবং উৎপাদিত ফসল রক্ষা করার তাগিদে এক গোষ্ঠীর সঙ্গে অন্য গোষ্ঠীর মধ্যে জমির লড়াই শুরু হয়েছিল।
💡 ১৪. কৃষিকাজ কীভাবে আদিম মানুষের জীবনকে পালটে দিয়েছিল?
✔️ উত্তর: কৃষিকাজ শেখার ফলে মানুষ খাদ্য উৎপাদকে পরিণত হয়। তাদের যাযাবর জীবন শেষ হয় এবং তারা চাষের জমির পাশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে, যা সভ্যতার পথে এক বড় পদক্ষেপ ছিল।
💡 ১৫. লোথাল কথার অর্থ কী? এটি কেন বিখ্যাত ছিল?
✔️ উত্তর: গুজরাটি ভাষায় 'লোথাল' শব্দের অর্থ হলো 'মৃতের স্থান'। লোথাল মূলত হরপ্পা সভ্যতার একটি বিখ্যাত বন্দর-নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম একটি সামুদ্রিক বন্দর বা ডকইয়ার্ড আবিষ্কৃত হয়েছে।
💡 ১৬. দাবানল কী?
✔️ উত্তর: বনের শুকনো গাছে গাছে ঘর্ষণ লেগে বা বজ্রপাতের ফলে প্রাকৃতিকভাবে যে আগুন জ্বলে ওঠে, তাকে দাবানল বলে। আদিম মানুষ এই আগুনকে খুব ভয় পেত।
💡 ১৭. হরপ্পা সভ্যতার মৃতদেহ সৎকার ব্যবস্থা সম্পর্কে কী জানো লেখো।
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতায় সাধারণত মৃতদেহ কবর বা সমাধি দেওয়া হতো। অনেক সময় মৃতদেহের সঙ্গে প্রয়োজনীয় গয়না, মাটির পাত্র বা আসবাবপত্র দেওয়া হতো, যা থেকে বোঝা যায় তারা পরলোকে বিশ্বাস করত।
💡 ১৮. আদিম মানুষ যাযাবর ছিল কেন?
✔️ উত্তর: আদিম মানুষ তখনো কৃষিকাজ জানত না। তাই খাবারের সন্ধানে এবং শিকারের খোঁজে তাদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হতো। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে খাবারের জোগান শেষ হয়ে গেলে তারা নতুন স্থানে চলে যেত, তাই তারা যাযাবর ছিল।
💡 ১৯. সিটাডেলগুলির বৈশিষ্ট্য কী ছিল?
✔️ উত্তর: সিটাডেল বা দুর্গ এলাকার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল: এটি নগরের পশ্চিম দিকে একটি উঁচু ইটের ঢিবির ওপর নির্মিত হতো। এখানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন, শস্যাগার ও শাসক শ্রেণির বসবাস ছিল বলে মনে করা হয়।
💡 ২০. হোমো স্যাপিয়েন্স গোষ্ঠীর মানুষের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
✔️ উত্তর: ১. এদের মস্তিষ্ক অন্য প্রজাতির আদিম মানুষের চেয়ে অনেক বড় ও উন্নত ছিল। ২. এরা অনেক সূক্ষ্ম ও উন্নত পাথরের হাতিয়ার তৈরি ও ব্যবহার করতে পারত।
💡 ২১. হরপ্পা সভ্যতার বাড়িঘর কেমন ছিল?
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার বাড়িঘরগুলো সাধারণত পোড়া ইট দিয়ে তৈরি হতো। বাড়িগুলো একতলা বা দোতলা হতো এবং রাস্তার দিকে কোনো জানলা থাকত না। প্রতিটি বাড়িতে আলাদা স্নানাগার ও কুয়োর ব্যবস্থা ছিল।
✍️সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৩):
💡 ১. পুরোনো পাথরের যুগ ও নতুন পাথরের যুগের তিনটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: পুরোনো ও নতুন পাথরের যুগের প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো—
১. হাতিয়ার: পুরোনো পাথরের যুগের হাতিয়ার ছিল বড়, ভারী এবং ভোঁতা। অন্যদিকে, নতুন পাথরের যুগে হাতিয়ার অনেক ছোটো, হালকা ও ধারালো হয়ে ওঠে।
২. খাদ্য: পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ ছিল খাদ্য সংগ্রহকারী ও শিকারি। নতুন পাথরের যুগে মানুষ পশুপালন ও কৃষিকাজ শিখে খাদ্য উৎপাদকে পরিণত হয়।
৩. জীবনযাপন: পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ ছিল যাযাবর। কিন্তু নতুন পাথরের যুগে কৃষিকাজ শেখার ফলে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
💡 ২. হরপ্পা সভ্যতায় কীভাবে খাদ্যশস্য মজুত রাখা হত?
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অভাবের সময়ের জন্য খাদ্যশস্য মজুত রাখার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। নগরের উঁচু অংশ বা সিটাডেল এলাকায় বিশাল শস্যাগার তৈরি করা হয়েছিল। বন্যার জল থেকে রক্ষা করার জন্য এগুলি সাধারণত উঁচু ঢিবির ওপর নির্মাণ করা হতো।
💡 ৩. পুরোনো পাথরের যুগে উপমহাদেশের কোথায় কোথায় গুহা বসতির নজির পাওয়া গেছে?
✔️ উত্তর: ভারতীয় উপমহাদেশে পুরোনো পাথরের যুগের গুহা বসতির উল্লেখযোগ্য নজির পাওয়া গেছে মধ্যপ্রদেশের ভীমবেটকায়। এছাড়া কর্ণাটকের হুন্সগি উপত্যকা এবং উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের সোয়ান উপত্যকাতেও আদিম মানুষের বসবাসের প্রমাণ মিলেছে।
💡 ৪. হরপ্পা সভ্যতার মানুষ স্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে কেমন সচেতন ছিলেন?
✔️ উত্তর: হরপ্পার মানুষ স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। প্রতিটি বাড়িতে আলাদা স্নানাগার ও কুয়ো থাকত। নোংরা জল বের করে দেওয়ার জন্য ঢাকা দেওয়া উন্নত নর্দমা বা ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছিল। রাস্তার ধারের আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিনের মতো গর্তের ব্যবহারও লক্ষ্য করা যায়।
💡 ৫. আদিম মানুষ যাযাবর ছিল কেন?
✔️ উত্তর: আদিম মানুষ প্রথম দিকে কৃষিকাজ জানত না। তাই তারা ফলমূল সংগ্রহ এবং পশু শিকারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কোনো এক জায়গায় খাবারের জোগান শেষ হয়ে গেলে অথবা শিকারের খোঁজে তাদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াতে হতো। এই কারণেই তারা যাযাবর জীবন কাটাতে বাধ্য হতো।
💡 ৬. হরপ্পা সভ্যতার লিপির বর্ণনা দাও।
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার লিপি ছিল মূলত চিত্রলিপি (Pictographic)। এই সভ্যতার মানুষেরা লিখতে জানত, কিন্তু সেই লিপির পাঠোদ্ধার আজও করা সম্ভব হয়নি। এই লিপিতে চিহ্ন বা চিহ্নের সমষ্টি ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করা হতো, যা সাধারণত বিভিন্ন সিলমোহরের গায়ে খোদাই করা থাকত। লিপি ব্যবহারের এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই হরপ্পা সভ্যতাকে প্রায়-ইতিহাস যুগের সভ্যতা বলা হয়।
💡 ৭. আদিম মানুষের সমাজ থেকে কীভাবে জটিল ও উন্নত সমাজব্যবস্থা গড়ে উঠল?
✔️ উত্তর: আদিম মানুষ প্রথম দিকে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে খাবার খুঁজত ও শিকার করত। কৃষিকাজ ও পশুপালন শেখার পর তাদের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত হয় এবং তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে কাজের বিভাজন ঘটে (কেউ চাষ করে, কেউ হাতিয়ার বানায়) এবং সমাজ পরিচালনার জন্য নিয়ম-কানুন তৈরি হয়। এভাবেই ক্রমে আদিম সমাজ থেকে এক জটিল ও উন্নত সমাজব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে।
💡 ৮. যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে স্থলপথের থেকে জলপথ বেশি সুবিধাজনক ছিল কেন?
✔️ উত্তর: প্রাচীনকালে স্থলপথ ছিল অত্যন্ত দুর্গম— ঘন বন ও বন্য পশুর ভয় ছিল এবং যাতায়াতে অনেক সময় লাগত। অন্যদিকে, জলপথে নৌকা বা ভেলায় করে অনেক ভারী পণ্য সহজে ও কম পরিশ্রমে বহন করা যেত। নদীর স্রোতকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত যাতায়াত করা সম্ভব ছিল বলেই তৎকালীন যোগাযোগে জলপথ অনেক বেশি সুবিধাজনক ছিল।
💡 ৯. পুরোনো পাথরের যুগ ও নতুন পাথরের যুগের মধ্যে তিনটি পার্থক্য লেখো।
✔️ উত্তর: প্রধান তিনটি পার্থক্য হলো—
১. হাতিয়ার: পুরোনো পাথরের যুগে হাতিয়ার ছিল বড় ও ভোঁতা; নতুন পাথরের যুগে তা হয় ছোট, হালকা ও অনেক বেশি ধারালো।
২. খাদ্য: পুরোনো পাথরের যুগে মানুষ শিকারি ও সংগ্রাহক ছিল; নতুন পাথরের যুগে মানুষ কৃষিকাজ শিখে খাদ্য উৎপাদকে পরিণত হয়।
৩. জীবনধারা: পুরোনো পাথরের যুগের মানুষ যাযাবর ছিল; কিন্তু নতুন পাথরের যুগে মানুষ চাষের জমির পাশে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে।
💡 ১০. মেহেরগড় সভ্যতা কে, কবে আবিষ্কার করেন? মেহেরগড় দ্বিতীয় পর্যায় কিরকম ছিল?
✔️ উত্তর: ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিক জঁ ফ্রাঁসোয়া জারিজ ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মেহেরগড় সভ্যতা আবিষ্কার করেন। মেহেরগড় সভ্যতার দ্বিতীয় পর্যায়ে (আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০–৪০০০ অব্দ) কৃষিকাজে উন্নতি ঘটে এবং গম ও যবের পাশাপাশি কার্পাস বা তুলো চাষের নমুনা পাওয়া যায়। এই সময়ে হাতে তৈরি মাটির পাত্রের ব্যবহার শুরু হয় এবং খাদ্য মজুত রাখার জন্য বড় শস্যাগার তৈরি করা হয়েছিল।
💡 ১১. আদিম মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করত কেন?
✔️ উত্তর: আদিম মানুষ প্রধানত দুটি কারণে দলবদ্ধভাবে বাস করত— প্রথমত, বন্য জন্তুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য দলের শক্তি প্রয়োজন ছিল। দ্বিতীয়ত, বড় কোনো পশু শিকার করার জন্য একার চেয়ে দলগত প্রচেষ্টা অনেক বেশি কার্যকর ও সুবিধাজনক ছিল। এছাড়া খাবারের সুষম বণ্টন ও টিকে থাকার তাগিদেই তারা দল বেঁধে থাকত।
💡 ১২. হরপ্পা সভ্যতার ‘হরপ্পা সভ্যতা’ নামকরণের কারণ কী?
✔️ উত্তর: সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল পাঞ্জাবের হরপ্পা নামক স্থানে (১৯২১ সালে)। প্রত্নতাত্ত্বিক রীতি অনুযায়ী, কোনো সভ্যতার অবশেষ যেখানে প্রথম পাওয়া যায়, সেই স্থানের নামেই সভ্যতাটির নামকরণ করা হয়। যেহেতু হরপ্পাতে প্রথম এই উন্নত নগর-সভ্যতার সন্ধান মেলে, তাই একে হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়।
💡 ১৩. আগুন জ্বালতে শেখার পর আদিম মানুষের জীবনযাত্রা কীভাবে বদলে গিয়েছিল?
✔️ উত্তর: আগুন ব্যবহারের ফলে আদিম মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। প্রথমত, তারা কাঁচা মাংসের বদলে আগুনে পুড়িয়ে নরম মাংস খেতে শুরু করে, যা তাদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। দ্বিতীয়ত, আগুনের শিখা ব্যবহার করে তারা তীব্র শীতের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শেখে। তৃতীয়ত, গুহার মুখে আগুন জ্বালিয়ে তারা বন্য পশুদের হাত থেকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
💡 ১৪. হরপ্পার পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থার বর্ণনা দাও।
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার পয়ঃপ্রণালী বা জল নিকাশি ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত আধুনিক ও উন্নত। প্রতিটি বাড়ির নোংরা জল বের করে দেওয়ার জন্য ছোট নর্দমা ছিল, যা রাস্তার বড় নর্দমার সাথে যুক্ত ছিল। এই নর্দমাগুলি সাধারণত ঢাকা দেওয়া থাকত এবং মাঝে মাঝে পরিষ্কার করার জন্য ম্যানহোলের মতো ব্যবস্থা ছিল। এই ব্যবস্থা থেকে বোঝা যায় হরপ্পার মানুষ স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে খুবই সচেতন ছিলেন।
💡 ১৫. ‘সংস্কৃতি’ বলতে কী বোঝায়? আদিম মানুষের সংস্কৃতি কীরকম ছিল?
✔️ উত্তর: সাধারণ অর্থে মানুষের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-আশাক এবং আচার-আচরণ বা সৃজনশীল কাজের বহিঃপ্রকাশকেই সংস্কৃতি বলা হয়। আদিম মানুষের সংস্কৃতি ছিল মূলত তাদের জীবনযুদ্ধের পরিচয়। পাথর দিয়ে বিভিন্ন রকমের হাতিয়ার তৈরি করা, দলবদ্ধভাবে পশু শিকার করা এবং গুহার দেওয়ালে ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে তাদের সংস্কৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।
💡 ১৬. মেহেরগড় সভ্যতার সমাধি ব্যবস্থা কেমন ছিল?
✔️ উত্তর: মেহেরগড় সভ্যতায় মৃতদেহ সৎকার হিসেবে সমাধি দেওয়ার প্রথা প্রচলিত ছিল। মৃতদেহকে মাটির নিচে সমাধি দেওয়া হতো এবং প্রায়ই মৃতদেহের সঙ্গে তার ব্যবহৃত গয়না, পাথরের হাতিয়ার এমনকি গৃহপালিত পশুকেও দিয়ে দেওয়া হতো। এর থেকে বোঝা যায় যে মেহেরগড় সভ্যতার মানুষেরা পরলোকে বা পুনর্জন্মে বিশ্বাস করত।
✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
💡1. ভারতীয় উপমহাদেশে পুরোনো পাথরের যুগের মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কী জানা যায়?
✔️ উত্তর: ভারতীয় উপমহাদেশে পুরোনো পাথরের যুগের মানুষের জীবন ছিল অত্যন্ত কঠিন ও সংগ্রামময়। তারা মূলত ফলমূল সংগ্রহ এবং পশু শিকার করে জীবনধারণ করত এবং খাদ্যের সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাযাবরদের মতো ঘুরে বেড়াত। আত্মরক্ষার জন্য তারা দলবদ্ধভাবে বসবাস করত এবং বন্য পশুর আক্রমণ থেকে বাঁচতে খোলা আকাশের নিচে বা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিত। এই যুগে তাদের ব্যবহৃত হাতিয়ারগুলো ছিল আকারে বড়, ভারী ও ভোঁতা। প্রথম দিকে আগুনের ব্যবহার না জানলেও এই যুগের শেষের দিকে তারা আগুনের ব্যবহার শেখে, যা তাদের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনে।
💡2. হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি শিল্প কিরকম ছিল?
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার কারিগরি শিল্প ছিল অত্যন্ত উন্নত ও বৈচিত্র্যময়। কারিগররা তামা ও ব্রোঞ্জ দিয়ে নানা ধরনের সরঞ্জাম ও গয়না তৈরি করত। মাটির পাত্র তৈরিতে তারা দক্ষ ছিল এবং চাকার সাহায্যে তৈরি মাটির পাত্রে নানা রঙের নকশা করা হতো। প্রচুর পরিমাণে পোড়ামাটির নারীমূর্তি এবং বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব পাওয়া গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রয়োজনে তারা পাথর ও ধাতু দিয়ে চমৎকার সিলমোহর তৈরি করত।
💡3. লুসির কঙ্কাল সম্পর্কে কী জানা যায়? আলতামিরা কেন বিখ্যাত?
✔️ উত্তর: লুসি: লুসি হলো ইথিওপিয়ায় খুঁজে পাওয়া এক আদিম মানুষের (অস্ট্রালোপিথেকাস) কঙ্কাল, যা মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কঙ্কালটি পরীক্ষা করে আদিম মানুষের শারীরিক গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। আলতামিরা: স্পেনের আলতামিরা গুহা তার আদিম গুহাচিত্রের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। গুহার ছাদে আদিম মানুষের আঁকা এক বিশাল ষাঁড়ের ছবি পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন।
💡4. হরপ্পা সভ্যতার মানুষের ধর্মীয় ভাবনা কেমন ছিল? হরপ্পা সভ্যতার অবনতির কারণ কী ছিল?
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতায় মূর্তিপূজা এবং প্রকৃতির আরাধনার চল ছিল। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রচুর নারীমূর্তি পাওয়া গেছে, যা থেকে 'মাতৃপূজার' অস্তিত্ব জানা যায়। এছাড়া একটি সিলমোহরে তিন মুখওয়ালা যোগী মূর্তি পাওয়া গেছে, যা তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিচয় দেয়। হরপ্পা সভ্যতার পতনের নির্দিষ্ট কোনো একটি কারণ ছিল না। তবে, সিন্ধু নদের বন্যা, জলবায়ুর পরিবর্তন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং অতিমাত্রায় জঙ্গল কাটার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়াই প্রধান কারণ ছিল।
💡5. ভীমবেটকা কীজন্য বিখ্যাত? এখানে কী পাওয়া গেছে?
✔️ উত্তর: ভীমবেটকা আদিম মানুষের প্রাচীনতম গুহা বসতি এবং অসাধারণ গুহাচিত্রের জন্য বিখ্যাত। এখানে আদিম মানুষের বসবাসের প্রমাণস্বরূপ প্রচুর পাথরের হাতিয়ার এবং গুহার দেওয়ালে তাদের আঁকা বিভিন্ন পশুপাখি ও শিকারের চিত্র পাওয়া গেছে।
💡6. হরপ্পা সভ্যতা ধ্বংসের প্রধান প্রধান কারণগুলি লেখো।
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার পতনের কারণগুলো হলো: প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন সিন্ধু নদের বারবার বন্যা ও ভূমিকম্প; জলবায়ুর পরিবর্তন, বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়া; নদীর গতিপথ পরিবর্তন, যা জলকষ্টের কারণ; এবং পরিবেশগত বিপর্যয়, যেমন পোড়া ইট তৈরির জন্য প্রচুর গাছ কাটা।
💡7. পুরোনো পাথরের যুগে মানুষ পাথরকে কীভাবে ব্যবহার করত?
✔️ উত্তর: পুরোনো পাথরের যুগে পাথরই ছিল মানুষের টিকে থাকার একমাত্র অস্ত্র। তারা বড় ও ভারী পাথরকে ভেঙে ভোঁতা ও অমসৃণ হাতিয়ার তৈরি করত। এই পাথর দিয়ে তারা বন্য পশু শিকার করত এবং পশুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করত। পশুর চামড়া ছাড়াতে এবং মাংস কাটতেও ধারালো পাথরের টুকরো ব্যবহার করা হতো। এছাড়া গাছের ফল পাড়তে বা শিকড় খুঁড়তেও পাথরের ব্যবহার ছিল অপরিহার্য।
💡8. হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা কীরকম ছিল?
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা ছিল আধুনিক ও সুশৃঙ্খল। শহরগুলো দুটি অংশে বিভক্ত ছিল—উঁচুতে অবস্থিত দুর্গ বা সিটাডেল এবং নিচুতে সাধারণ মানুষের বসতি। রাস্তার ধার দিয়ে পোড়া ইটের তৈরি একতলা বা দোতলা বাড়ি ছিল এবং প্রতিটি বাড়িতে স্নানাগার ও কুয়োর ব্যবস্থা ছিল। পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত উন্নত; রাস্তার ধারের নর্দমাগুলো ঢাকা দেওয়া থাকত এবং জল নিকাশের চমৎকার পদ্ধতি ছিল।
💡9. পুরোনো পাথরের যুগ ও মাঝের পাথরের যুগের পার্থক্য লেখো। বাগোর কেন বিখ্যাত?
✔️ উত্তর: পুরোনো পাথরের যুগে হাতিয়ার ছিল বড় ও ভারী, কিন্তু মাঝের পাথরের যুগে হাতিয়ার অনেক ছোট, সূক্ষ্ম ও ধারালো (Microlith) হয়ে ওঠে। পুরোনো পাথরের মানুষ ছিল সম্পূর্ণ শিকারি, কিন্তু মাঝের পাথরের যুগে মানুষ শিকারের পাশাপাশি পশুপালন শিখতে শুরু করে। রাজস্থানের বাগোর মধ্যপ্রস্তর যুগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত। এখানে আদিম মানুষের পশুপালনের প্রাচীনতম প্রমাণ এবং প্রচুর ছোট পাথরের হাতিয়ার পাওয়া গেছে।
💡10. 'প্রথম নগরায়ন' বলতে কী বোঝো? সেই সময়ের নগর পরিকল্পনা-এর সঙ্গে আজকের নগর পরিকল্পনা-এর মিল ও অমিলগুলি কী কী?
✔️ উত্তর: ভারতীয় উপমহাদেশে হরপ্পা সভ্যতাকে কেন্দ্র করে যে প্রথম বড় বড় উন্নত শহর গড়ে উঠেছিল, তাকেই 'প্রথম নগরায়ন' বলা হয়। আজকের নগর পরিকল্পনার সাথে হরপ্পার মিল হলো আধুনিক জল নিকাশি ব্যবস্থা (ঢাকা নর্দমা) এবং পরিকল্পিত সোজা রাস্তা। তবে অমিল হলো, হরপ্পায় বাড়িগুলো প্রধানত পোড়া ইটের তৈরি হলেও আজকের মতো রড-সিমেন্টের বহুতল ভবনের অস্তিত্ব তখন ছিল না। আজকের নগরে বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক পরিবহনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না।
💡11. আদিম মানুষ কেন জোট বেঁধেছিল? এর ফলে তার কী লাভ হয়েছিল? সংস্কৃতি ও সভ্যতা কি আলাদা?
✔️ উত্তর: বন্য পশুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং খাদ্যের অভাব দূর করার জন্য আদিম মানুষ জোট বেঁধেছিল। জোট বাঁধার ফলে তারা দলবদ্ধভাবে বড় কোনো পশু শিকার করতে পারত এবং প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা তাদের জন্য অনেক সহজ হয়েছিল। হ্যাঁ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা আলাদা; সংস্কৃতি হলো মানুষের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক ও আচার-আচরণের সার্বিক ধরণ, অন্যদিকে সভ্যতা হলো সেই জীবনযাত্রার এক অপেক্ষাকৃত জটিল, উন্নত ও সুসংগঠিত রূপ।
💡12. হরপ্পা সভ্যতার মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন ও পরিবেশ সচেতন ছিল।—মন্তব্যটি যুক্তি দিয়ে আলোচনা করো।
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার নগর পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তারা স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে অত্যন্ত আধুনিক ছিল। প্রতিটি বাড়িতে আলাদা স্নানাগার ও কুয়োর ব্যবস্থা ছিল এবং বাড়ির নোংরা জল বের করার জন্য ঢাকা দেওয়া উন্নত নর্দমা ছিল। রাস্তার ধারের বড় নর্দমাগুলো মাঝে মাঝে পরিষ্কার করার জন্য ম্যানহোলের মতো ব্যবস্থা ছিল। এছাড়া রাস্তার ধারে আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিনের মতো গর্তের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। এই সুশৃঙ্খল নিকাশি ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্নতার নিয়মগুলোই প্রমাণ করে হরপ্পার মানুষ বর্তমান সময়ের মতোই স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতন ছিল।
💡13. আদিম মানুষ কীভাবে আগুনের ব্যবহার শেখে?
✔️ উত্তর: আদিম মানুষ প্রথমে আগুনকে ভয় পেত, কিন্তু তারা বনের শুকনো গাছে ঘর্ষণে লাগা দাবানল দেখে আগুনের শক্তির পরিচয় পায়। পরে পাথর ঘষে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে দেখে তারা সম্ভবত কৃত্রিমভাবে আগুন জ্বালাতে শিখেছিল। আগুনের ব্যবহার শেখার পর তারা কাঁচা মাংস পুড়িয়ে খাওয়া শুরু করে এবং গুহার মুখে আগুন জ্বালিয়ে বন্য পশুদের হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে শিখে। এছাড়া তীব্র শীতের হাত থেকে বাঁচতেও তারা আগুনের তাপ ব্যবহার করত।
💡14. হরপ্পা সভ্যতার লিপির বর্ণনা দাও।
✔️ উত্তর: হরপ্পা সভ্যতার লিপি ছিল মূলত চিত্রলিপি বা সাংকেতিক লিপি, যা বিভিন্ন পাথরের সিলমোহরের গায়ে খোদাই করা থাকত। এই লিপিতে নানা ধরণের চিহ্ন বা ছবির সমষ্টি ব্যবহার করে মনের ভাব প্রকাশ করা হতো। হরপ্পার মানুষ লিখতে জানলেও এই লিপির পাঠোদ্ধার আজও সম্ভব হয়নি। লিপির ব্যবহার এবং রহস্যময়তার কারণে ঐতিহাসিকরা হরপ্পা সভ্যতাকে প্রায়-ইতিহাস যুগের সভ্যতা হিসেবে অভিহিত করেন।
👉Our WhatsApp Channel:লেখাপড়া Online.
<<<<<<<<<<<<<🌹সমাপ্ত🌹>>>>>>>>>>>

