✍️রচনাধর্মী প্রশ্নগুলির উত্তর দাও(প্রশ্নের মান-৫):
👉গদ্য:
📝 1. “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে তা স্বীকার করতে হবে।” — ‘বাবুটি’ কে? তাঁর শখ যে বজায় আছে, তা কীভাবে বোঝা গেল?
✅ উত্তর:
👉 বাবুটি কে: শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবী’ উপন্যাসে নিমাইবাবুর কথায় ‘বাবুটি’ হচ্ছেন ছদ্মবেশী গিরীশ মহাপাত্র। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও দুর্বল ছিলেন।
👉 শখের পরিচয়: মাথার বাহারি ছাঁট ও চুলে সুগন্ধি তেলের ব্যবহার তাঁর শখ প্রকাশ করে।
পরনে রামধনু রঙের জাপানি সিল্কের পাঞ্জাবি ও বিলিতি মখমলপাড়ের কালো শাড়ি ছিল।
পকেটে বাঘ আঁকা রুমাল রাখা ছিল তাঁর বাহারি শখের নিদর্শন।পায়ে হাঁটু পর্যন্ত লাল ফিতে বাঁধা সবুজ মোজা ও বার্নিশ করা পাম্প শু পরতেন।
হাতে হরিণের শিঙের হাতল দেওয়া বেতের ছড়ি থাকত। এই সমস্ত সাজসজ্জা তাঁর বিলাসী রুচির প্রমাণ।স্বাস্থ্য নষ্ট হলেও এই বাহারি শখ দেখায় তাঁর ষোলোআনাই শখ অটুট ছিল।
এইভাবেই শারীরিক দুর্বলতার মাঝেও তাঁর রুচি ও বিলাসিতা বজায় ছিল।
📝 2.“অথচ আপনি একেবারে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো সব তুচ্ছ করে সরে পড়লেন?” — কার কথা বলা হয়েছে? তিনি কীভাবে ‘খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো’ ব্যবহার করেছিলেন সংক্ষেপে আলোচনা করো।
✅ উত্তর:
👉 কার কথা বলা হয়েছে: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরুপী’ গল্পে এই উদ্ধৃতিতে হরিদার কথা বলা হয়েছে। তিনি জগদীশবাবুর বাড়িতে খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো উপস্থিত হন।
👉 খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো ব্যবহার: হরিদার গায়ে ধবধবে সাদা উত্তরীয় ও ছোট বহরের একটি সাদা থান ছিল। এই সাজসজ্জা তাঁকে প্রকৃত সন্ন্যাসীর মতো দেখাচ্ছিল। তিনি বিনয়পূর্ণভাবে জগদীশবাবুর বাড়িতে প্রবেশ করেন। জগদীশবাবু তাঁকে যথোচিত মর্যাদা দিয়ে অভ্যর্থনা জানান।
হরিদা বিরাগীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে ব্যাকুল হন।
সন্ন্যাসী কিছু উপদেশ দিয়ে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। জগদীশবাবু একটি থলি নিয়ে আসেন, যাতে একশো এক টাকার নোট ছিল। হরিদা সেই থলির দিকে না তাকিয়েই সিঁড়ি দিয়ে নেমে যান। এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায় তিনি অর্থ বা পার্থিব সম্পদের প্রতি অবিচল এবং সন্ন্যাসীর মতো বিনয়ী ছিলেন। তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসীর নীতি অনুযায়ী পার্থিব আকর্ষণ এড়িয়েছেন। হরিদার এই আচরণই প্রমাণ করে, তিনি খাঁটি সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন।
📝 3. “এমন সৌভাগ্যকে অপূর্বর মন যেন গ্রাহ্যই করিল না।” — এখানে কোন ঘটনার ইঙ্গিত করা হয়েছে? তাকে ‘সৌভাগ্য’ বলা হল কেন?
✅ উত্তর:
👉এই উক্তিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “পথের দাবী” উপন্যাসে এমন একটি ঘটনার কথা বোঝানো হয়েছে, যখন স্বাধীনতা সংগ্রামী সব্যসাচী মল্লিক পুলিশি তল্লাশি সত্ত্বেও অল্পের জন্য ধরা পড়া থেকে বাঁচতে সক্ষম হন। পুলিশ তাকে ধরতে একাধিক চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। বরং সন্দেহ গিয়ে পড়ে গিরীশ মহাপাত্র নামে একজন মানুষের ওপর, যার অদ্ভুত পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণ পুলিশের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছিল।
👉এই ঘটনাকে ‘সৌভাগ্য’ বলা হয়েছে কারণ সব্যসাচীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবী ধরা পড়ে গেলে স্বাধীনতা আন্দোলনের বড় ক্ষতি হতো। তিনি পালিয়ে যাওয়ায় আন্দোলন আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়, এবং দেশের সংগ্রামের পক্ষে এটি ছিল শুভ লক্ষণ।
তবুও অপূর্বর মনে এই সাফল্য পুরোপুরি আনন্দ এনে দিতে পারেনি। তার মনে ক্রমাগত প্রশ্ন জাগতে থাকে—এই সংগ্রাম কতদিন চলবে, বিপ্লবীরা নিরাপদ থাকবে কি না, এবং দেশের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে। তাই ঘটনাটি সৌভাগ্যের হলেও অপূর্বর মন সেই মুহূর্তে কোন স্বস্তি অনুভব করতে পারেনি, বরং দুশ্চিন্তাই তাকে বেশি গ্রাস করে।
📝 4. “বড়ো চমৎকার আজকে এই সন্ধ্যার চেহারা।” — ‘এই সন্ধ্যার’ পরিচয় দাও। সে দিনের সন্ধ্যার ঘটনাটি বর্ণনা করো।
✅ উত্তর:
👉‘আজকে এই সন্ধ্যা’ বলতে বোঝানো হয়েছে সেই দিনের সন্ধ্যা, যখন পাড়ার ছেলেরা জগদীশবাবুর বাড়িতে স্পোর্টসের চাঁদা তুলতে গিয়েছিল। সে দিনের সন্ধ্যা প্রকৃত অর্থেই ছিল মনোমুগ্ধকর ও স্নিগ্ধ। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল চাঁদের মিমির আলো, যা পরিবেশকে আরও শান্ত ও সৌন্দর্যময় করে তুলেছিল।
👉সেই সময় হালকা ফুরফুরে বাতাস বইছিল, আর বাতাসের সঙ্গে জগদীশবাবুর বাড়ির বাগানের গাছের পাতাগুলো ঝিরি-ঝিরি শব্দ করছিল, যা সন্ধ্যার পরিবেশকে সাজিয়ে তুলেছিল আরও মধুর অনুভূতিতে। বাড়ির বারান্দায় মস্ত একটি উজ্জ্বল আলো জ্বলছিল, আর সেই আলোর কাছে একটি চেয়ারে বসেছিলেন জগদীশবাবু।
ছেলেরা যখন সেখানে পৌঁছায় তখন চারদিকে ছিল শান্ত, কোমল ও মন ভোলানো এক সন্ধ্যার আবহ, যা ছেলেদের চোখে বিশেষভাবে ধরা পড়েছিল। তাই বক্তা এই সন্ধ্যার রূপকে “বড়ো চমৎকার” বলে উল্লেখ করেছেন।
👉প্রবন্ধ:
📝 1.“আশ্চর্য, সবই আজ অবলুপ্তির পথে।” — কোন জিনিস আজ অবলুপ্তির পথে? এই অবলুপ্তির কারণ কী? এ বিষয়ে লেখকের মতামত কী?
✅ উত্তর:
👉 কোন জিনিস আজ অবলুপ্তির পথে: নানা ধরনের ফাউনটেন পেন, কালি, দোয়াত, কলমদানি আজ অবলুপ্তির পথে।
এইসব ব্যবহার একসময় দৈনন্দিন লেখালেখিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
👉 অবলুপ্তির কারণ ও লেখকের মতামত: কম্পিউটারের ব্যাপক ব্যবহার এই অবলুপ্তির প্রধান কারণ। লেখক এতে বিপন্নবোধ করেন।
কলমের মাধ্যমে নিজের হাতে লেখা তাঁর কাছে অধিক প্রীতিকর। কিন্তু বিজ্ঞানের চরম উন্নতির কারণে লেখালেখির কাজকে দ্রুত ও সহজ করতে কম্পিউটার সর্বত্র ব্যবহার হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে লেখক কলমের অবলুপ্তি ভেবে নস্টালজিক হয়ে পড়েন। তিনি আরও চিন্তিত হন, কারণ হাতে লেখা হয়তো চিরতরে মুছে যাবে। লেখক প্রশ্ন করেন, ক্যালিগ্রাফিস্টদের অস্তিত্ব কী হবে। এই সকল ভাবনা তাঁকে বিপন্নবোধ করায়। তাঁর মতে, প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, হাতে লেখা ও ঐতিহ্যবাহী কলমের মূল্য ও নস্টালজিক ভাবনা অমুল্য। লেখক প্রকাশ করেন, কলম ও হাতে লেখার চর্চা হারিয়ে যাওয়া সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য এক ধরনের ক্ষতি ও দুঃখের বিষয়।
📝 2. ‘তাই কেটে কাগজের মতো সাইজ করে নিয়ে আমরা তাতে “হোম-টাস্ক” করতাম।’ — কীসে ‘হোম-টাস্ক’ করা হত? ‘হোম-টাস্ক’ করার সম্পূর্ণ বিবরণ দাও।
✅ উত্তর:
👉 কীসে হোম-টাস্ক করা হত: শ্রীপান্থ রচিত “হারিয়ে যাওয়া খালি কলম” প্রবন্ধে হোম-টাস্ক করা হত কলাপাতায়, যাকে কেটে কাগজের মতো আকারে তৈরি করা হতো।
শ্রীপান্থ তাঁর শৈশবে এইভাবে কলাপাতায় হোম-টাস্ক লিখতেন।
👉 হোম-টাস্ক করার সম্পূর্ণ বিবরণ: লেখার জন্য কলম বানানো হত রোগা বাঁশের কঞ্চি কেটে।
কঞ্চির মুখ ছুঁচালো করে চিরে দেওয়া হত, যাতে কালি গড়িয়ে না পড়ে। কালির জন্য ঘরোয়া উপায়ে তৈরি বিশেষ কালি ব্যবহার করা হত।
ছাত্ররা সেই কলম ও কালি দিয়ে কলাপাতায় লেখার কাজ করত। লেখা শেষ হলে কলাপাতার বান্ডিল বেঁধে স্কুলে নিয়ে যাওয়া হত। শিক্ষক কাজ পরীক্ষা করে আড়াআড়ি টেনে পাতাগুলি ছিঁড়ে দিতেন। ছেঁড়া কলাপাতা ছাত্ররা পুকুরে ফেলে দিত। কারণ, যদি গোরু খেয়ে নিত, তবে অক্ষর খাওয়া পাপ মনে করা হত। বিশ্বাস ছিল, এতে অমঙ্গল বয়ে আনতে পারে। এই বিশ্বাস ও প্রথাই লেখকের স্মৃতিচারণায় ধরা পড়েছে।
📝 3. বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার সমস্যাগুলি আলোচনা করো।
✅ উত্তর:
বাংলায় বিজ্ঞানচর্চার পথে সম্ভাব্য বাধা সম্পর্কে রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বিশদ আলোচনা করেছেন। প্রথমত, যাঁরা ইংরেজিতে বিজ্ঞান শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের কাছে বাংলায় বিজ্ঞানরচনা কঠিন মনে হয়। দ্বিতীয়ত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উপযুক্ত ও সর্বস্বীকৃত পারিভাষিক শব্দের অভাব বাংলা বিজ্ঞানরচনার বড়ো অন্তরায়। তৃতীয়ত, পাশ্চাত্যের তুলনায় আমাদের সমাজে বিজ্ঞানবোধের অভাব থাকায় সাধারণ পাঠকের জন্য বিজ্ঞানরচনা বোধগম্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। চতুর্থত, অনেক লেখকের ভাষা আড়ষ্টতা ও ইংরেজির আক্ষরিক অনুবাদের প্রভাব রচনা থেকে সাবলীলতা কেড়ে নেয়। পঞ্চমত, অনেকেই পারিভাষিক শব্দ বাদ দিয়ে সহজবোধ্যতার চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হয়নি। ষষ্ঠত, অতিরিক্ত অলংকার ব্যবহার বিজ্ঞানরচনার গুরুত্বকে ক্ষুণ্ণ করে। সপ্তমত, ভুল তথ্য পরিবেশন বাংলা বিজ্ঞানরচনার একটি বড়ো সমস্যা। তাই এই বাধাগুলি অতিক্রম না করলে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা ত্রুটিহীন ও সমৃদ্ধ হওয়া সম্ভব নয়।
📝 4. “সব মিলিয়ে লেখালেখি রীতিমতো ছোটোখাটো একটা অনুষ্ঠান।” – লেখালেখি ব্যাপারটিকে একটা ছোটোখাটো অনুষ্ঠান বলা হয়েছে কেন বুঝিয়ে লেখো।
✅ উত্তর:
আলোচ্য উদ্ধৃতিটি শ্রীপান্থের ‘হারিয়ে যাওয়া কালি–কলম’ প্রবন্ধ থেকে নেওয়া। তিনি নিজের শৈশব ও কৈশোরের লেখালেখির অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে লেখালেখিকে “ছোটোখাটো একটা অনুষ্ঠান” বলেছেন। লেখক গ্রামের ছেলে হওয়ায় প্রথমদিকে ফাউন্টেন পেন পাননি। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে নিজ হাতে কলম তৈরি করতে হত—মুখ সূঁচালো করে কাটা, মাঝে চির ধরা, দোয়াতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে লেখা ইত্যাদি ছিল কষ্টসাধ্য প্রস্তুতি। কালিও তাকে নিজেই বানাতে হত—রান্নার কড়াইয়ের কালি লাউপাতায় ঘষে তুলে জলে গুলে নেওয়া, তাতে আতপ চালের গুঁড়ো ও হরিতকী মিশিয়ে টেকসই কালি তৈরি করা ছিল একপ্রকার শ্রমসাধ্য কাজ।
পরে শহরে এসে সুলেখা কালি, কাজল কালি বা কালির বড়ি ব্যবহার করলেও খাতা শুকানোর জন্য ব্লটিং পেপার বা বালির প্রয়োজন হত। অর্থাৎ লেখালেখি করার জন্য কলম তৈরি, কালি প্রস্তুত, খাতা সামলানো—সব মিলিয়ে অনেক আয়োজন করতে হত। এই সব প্রস্তুতি ও যত্নের কারণে লেখক লেখালেখিকে সত্যিই এক “ছোটোখাটো অনুষ্ঠান” বলে উল্লেখ করেছেন।
👉পদ্য:
📝 1.“এল মানুষ ধরার দল”— কোথায় এল ? মানুষ ধরার দল এসে কী করেছিল?
✅ উত্তর:
👉 কোথায় এল: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আফ্রিকা” কবিতায় মানুষ ধরার দলটি এসেছিল আফ্রিকার অরণ্যে।
তারা সভ্যতার নামে বর্বরতার চিহ্ন নিয়ে প্রবেশ করেছিল।
👉 মানুষ ধরার দল এসে কী করেছিল: তারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এসেছিল। তাদের নখ নেকড়ের থেকেও তীক্ষ্ণ ছিল। তারা সভ্যতার বর্বর লোভ নিয়ে অরণ্যকে কলুষিত করেছিল।
অমানবিক আচরণ দিয়ে অরণ্যের ভাষাহীন ক্রন্দনকে অপমান করেছিল। তাদের পদচারণায় কাদার পঙ্কিল স্তূপ তৈরি হয়েছিল। অরণ্যের শান্ত প্রকৃতিকে তারা রক্তাক্ত করেছিল। তাদের আগমনে মানবিক মর্যাদা পদদলিত হয়েছিল।
অরণ্যের অধিবাসীদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাদের ইতিহাস কলঙ্কিত হয়েছিল এই বর্বরতায়। রবীন্দ্রনাথ এই ঘটনায় দাসত্ব ও শোষণের করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন।
📝 2.“তোরা সব জয়ধ্বনি কর।” — কবির এই কথা বলার কারণ সংক্ষেপে লেখো।
✅ উত্তর:
👉 প্রধান কারণ: কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি ভারতবাসীকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি জনগণকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন নতুন বিপ্লবের ডাক দিয়ে।
👉 বিস্তারিত কারণ: কবি চেয়েছিলেন ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামী চেতনা জাগ্রত হোক।
তিনি পরাধীন ভারতবর্ষে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগাতে উৎসাহিত করেন। এই জয়ধ্বনি ছিল নতুন দিনের সূচনার প্রতীক। পুরোনো শৃঙ্খল ধ্বংস করে নতুন শক্তিকে বরণ করার বার্তা এতে নিহিত ছিল। এটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রেরণা জোগাত। বিপ্লবী শক্তির মাধ্যমে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিত। কবি মানুষের মনে সাহস ও আত্মবিশ্বাস সঞ্চার করতে চেয়েছিলেন।
জয়ধ্বনির মধ্যে ছিল আশার আলো ও শক্তির আহ্বান। তিনি স্বাধীনতার পথে বিপ্লবকে একমাত্র হাতিয়ার হিসেবে দেখিয়েছিলেন। অতএব, কবি এই আহ্বানের মাধ্যমে জনগণকে স্বাধীনতার জন্য জয়ধ্বনিতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
📝 3. “আমরা ভিখারি বারোমাস।” কোন পরিস্থিতিতে ‘আমরা’ বারোমাস ভিখারি? এই অবস্থায় কী দরকার বলে কবি মনে করেন?
✅ উত্তর:
👉শঙ্খ ঘোষ তাঁর “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি” কবিতায় “আমরা ভিখারি বারোমাস” বলে সমাজের ভাঙা, অসংগঠিত ও স্বার্থপর অবস্থাকে ব্যঙ্গ করেছেন। মানুষের মধ্যে সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও ঐক্যের অভাব তৈরি হওয়ায় সমাজ সারাবছর ভিখারির মতো দুর্বল হয়ে পড়ে। হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ এবং আত্মকেন্দ্রিকতার কারণে মানুষ একে অপরের ওপর ভরসা করতে পারে না। ফলে সমাজ শক্তিহীন, অসহায় এবং সর্বদা পরনির্ভরশীল অবস্থায় থাকে—যা কবির চোখে চরম দারিদ্র্য ও মানসিক নিঃস্বতার পরিচয়।
👉এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কবি মনে করেন, মানুষের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। “বেঁধে বেঁধে থাকা” অর্থাৎ পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সহযোগিতার বন্ধন সমাজকে শক্তিশালী করতে পারে। ঐক্যের মধ্যেই আছে প্রতিরোধের ক্ষমতা, উন্নতির সম্ভাবনা এবং সকল দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার শক্তি। তাই কবির মতে, সমাজকে এই বারোমাসের ভিখারির অবস্থান থেকে উদ্ধার করতে হলে মানুষের একত্র হওয়া এবং পরস্পরের পাশে দাঁড়ানোই একমাত্র পথ।
📝 4. “পঞ্চকন্যা পাইলা চেতন।” — ‘পঞ্চকন্যা’ কারা? কার চেষ্টায় কীভাবে পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পেল?
✅ উত্তর:
👉আরাকান রাজসভার কবি সৈয়দ আলাওল রচিত ‘পদ্মাবতী’ কাব্যের ‘সিন্ধুতীরে’ প্রসঙ্গে পঞ্চকন্যার উল্লেখ এসেছে। এখানে পঞ্চকন্যা বলতে সিংহল রাজকন্যা পদ্মাবতী ও তার চার সখী চন্দ্রকলা, বিজয়া, রোহিনী এবং বিধুন্নলাকে বোঝানো হয়েছে। সমুদ্রযাত্রার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে তারা ভেলাসহ সিন্ধুতীরে অচেতন অবস্থায় ভেসে আসে। সমুদ্রে জ্ঞানহীন অবস্থায় পড়ে থাকা এই পাঁচ রাজকন্যাকে একত্রে ‘পঞ্চকন্যা’ বলা হয়েছে। তাদের বিপন্ন অবস্থা কাহিনিতে এক গভীর বিপর্যয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
👉এই চরম অবস্থায় সমুদ্রকন্যা পদ্মা তাদের উদ্ধারের কাজ হাতে নেন। তিনি প্রথমে নিরঞ্জনের কাছে প্রার্থনা করেন যাতে কন্যাদের প্রাণরক্ষা হয়। তারপর চিকিৎসার উপযুক্ত ব্যবস্থা শুরু করা হয়। নতুন বস্ত্র পরিয়ে উদ্যানের নিরিবিলি স্থানে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়। তন্ত্র-মন্ত্র, মহৌষধ এবং আগুনের উষ্ণতায় দণ্ড চারেক নিরলস সেবাশুশ্রূষার পর অবশেষে পঞ্চকন্যা চেতনা ফিরে পায়।
👉নাটক:
📝 1. “বাংলার ভাগ্যাকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা, তার শ্যামল প্রান্তরে আজ রক্তের আলপনা”— বক্তা কে? কোন দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে?
✅ উত্তর :
👉 বক্তা: এই উক্তিটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত রচিত ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক থেকে গৃহীত। এর বক্তা ছিলেন স্বাধীন বাংলার শেষ নবাব সিরাজদ্দৌলা, যিনি বাংলার রাজনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় এ কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন।
👉 যে দুর্যোগের কথা বলা হয়েছে: এখানে বোঝানো হয়েছে পলাশীর যুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলার ওপর নেমে আসা ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্রের ভয়াবহ ছায়া। নবাব উপলব্ধি করেছিলেন যে মীরজাফর, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ এমনকি ঘসেটি বেগম তাঁর বিরুদ্ধে ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে যোগসাজশ করছে। কলকাতা দখলের জন্য রবার্ট ক্লাইভ পুনরায় ফিরে আসেন এবং আলিনগরের সন্ধির মধ্য দিয়ে সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলেও ইংরেজরা গোপনে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যায়। এসব চক্রান্তে বাংলার স্বাধীনতার অস্তিত্ব সংকটে পড়ে এবং আসন্ন যুদ্ধের ফলে বাংলার শ্যামল প্রান্তরে রক্তপাতের ভয়াবহ দৃশ্য আসন্ন বলে মনে হয়। তাই সিরাজদ্দৌলা এই উক্তির মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানান এবং বিরুদ্ধাচরণকারীদের দেশাত্মবোধ জাগ্রত করার চেষ্টা করেন।
📝 2. “তোমাদের কাছে আমি লজ্জিত।” — কে কার কাছে লজ্জিত? তাঁর লজ্জিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
✅ উত্তর:
উদ্ধৃত উক্তিটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটক থেকে নেওয়া। এখানে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলাই ফরাসি প্রতিনিধি মঁসিয়ে লা এবং সমগ্র ফরাসি বণিকসমাজের কাছে নিজেকে লজ্জিত বলে প্রকাশ করেছেন। ফরাসিরা বহুকাল পূর্বে বাংলায় এসে শান্তিপূর্ণভাবে বাণিজ্য শুরু করেছিল এবং নবাবের সঙ্গেও তাদের কোনো বিরোধ ছিল না। কিন্তু ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় উপনিবেশ স্থাপনের উদ্দেশ্যে ফরাসিদের শত্রু মনে করে চন্দননগর আক্রমণ ও দখল করে নেয়।
ফরাসিরা নবাবের কাছে আর্জি জানিয়েছিল যে ইংরেজদের অন্যায় আচরণ রুখতে তিনি ব্যবস্থা নেবেন। নবাব ইংরেজদের সতর্ক করলেও পূর্ববর্তী যুদ্ধে সৈন্যক্ষয়, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং মন্ত্রীদের অনীহার কারণে তিনি ফরাসিদের সাহায্য করতে সক্ষম হননি। ইংরেজদের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারায় এবং চন্দননগর রক্ষা করতে না পারায় নবাব সিরাজদ্দৌলা নিজের অক্ষমতার জন্য ফরাসিদের কাছে লজ্জিত হন।
📝 3. “জানি না, আজ কার রক্ত সে চায়।” — বক্তা কে? বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী?
✅ উত্তর:
উদ্ধৃত উক্তিটি শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের ‘সিরাজদ্দৌলা’ নাটকের নবাব সিরাজদ্দৌলার মুখনিঃসৃত। এক চরম মানসিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে তিনি লুৎফার-এর কাছে এই বেদনামিশ্রিত মন্তব্য করেন। বক্তার এমন উক্তির কারণ গভীর হতাশা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কার সঙ্গে যুক্ত। নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে বাংলাকে রক্ষা করতে সামনে অপেক্ষা করছে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম। তাঁর চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও রাজনৈতিক দুশ্চিন্তা। তিনি দেখেছিলেন মানুষের নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা ও ক্ষমতার লোভের নির্মম চেহারা।
পলাশির সমতলে যে ভূমি একসময় পলাশ ফুলে রঙিন হয়ে উঠত, সেখানে শিগগিরই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের লাল প্রলেপ লাগবে—এই আশঙ্কা তাঁর মনে তীব্রভাবে দাগ কাটে। গত পনেরো মাসের রাজত্বে যুদ্ধ, বদনাম, শত্রুরা ও দোষারোপ তাঁর মনোবল ভেঙে দেয়। তাই ভবিষ্যতের রক্তপাত ও আসন্ন বিপদের ইঙ্গিত করতেই নবাব এই বেদনাদায়ক মন্তব্য করেছিলেন।
👉কোণি:
📝 1. “ইচ্ছে থাকলেও ওকে সাঁতার শেখাবার সামর্থ্য আমার নেই।” কে বলেছিল? তার পরিচয় সংক্ষেপে উল্লেখ করো।
✅ উত্তর :
👉 মতি নন্দীর “কোণি” গল্পে এই উক্তিটি বলেছিলেন কোনির দাদা কমল। তিনি কথাটি বলেছিলেন ক্ষিতীশ সিংহকে উদ্দেশ করে।
👉 কমল ছিলেন শ্যামপুকুর বস্তির বাসিন্দা ও কোনির পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল মানুষ। ছোটবেলায় তারও সাঁতারু হওয়ার প্রবল ইচ্ছা ছিল এবং তিনি অ্যাপোলো ক্লাবের দক্ষ সাঁতারুও ছিলেন। কিন্তু পিতার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে তাকে সাঁতার ছেড়ে মোটর গ্যারেজে কাজ শুরু করতে হয়। সংসারের অভাব-অনটন সত্ত্বেও তিনি বোন কোনির মধ্যে নিজের ভগ্নস্বপ্ন পূরণের আশা দেখেছিলেন। রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় তিনি প্রাণপণ চিৎকার করে কোনিকে উৎসাহ দিয়েছিলেন। কোনির প্রতিযোগিতার জন্য তিনি বারো টাকা ধার করে কস্টিউম কিনে দেন। সংসারের টানাপোড়েন সত্ত্বেও বোনের প্রতিভাকে বিকশিত করতে তিনি অক্লান্ত চেষ্টা চালান। পরিবারের সচ্ছলতার জন্য এক ভাইকে পনেরো টাকার বিনিময়ে চায়ের দোকানে কাজের ব্যবস্থাও করেছিলেন। সংসারের অন্নসংস্থান তার কাছে শোকের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছিল। তাই তার উক্তির মধ্যে দারিদ্র্যের যন্ত্রণা থাকলেও, লুকিয়ে ছিল বোনের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও নিজের অপূর্ণ স্বপ্নের পুনর্জাগরণ।
📝 2. “বিষ্টু ধরের বিরক্তির কারণ হাত পনেরো দূরের একটা লোক।” বিষ্টু ধরের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে তার বিরক্তির কারণ উল্লেখ করো।
✅ উত্তর :
👉মতি নন্দীর “কোণি” গল্পে বিষ্টুচরণ ধর ছিলেন বনেদি বংশের সন্তান ও আই.এ. পাশ করা শিক্ষিত যুবক। পাড়ার সকলে তাকে বেষ্টাদা বলে ডাকত, এবং বনেদিয়ানা ও সম্পদের কারণে সমাজে যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন।
👉 বিষ্টুচরণের সাতটি বাড়ি ছিল, বড়ো বাজারে তার ঝাড়ন মশলার বিশাল ব্যবসা চলত। ভোটে দাঁড়ানোর বাসনা থাকায় তিনি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির পদ অলংকৃত করতেন এবং আর্থিক সাহায্য দিতেন। বারুণীর দিন তিনি গঙ্গার ঘাটে গিয়ে উপুড় হয়ে মালিশ উপভোগ করছিলেন। তখনই ক্ষিতীশ সিংহ ওরফে ক্ষিদ্দা সাদা লুঙ্গি, গেরুয়া পাঞ্জাবি পরে ও কাঁধে রঙিন ঝোলা নিয়ে দূর থেকে তাকিয়ে মুচকি হাসছিলেন। বিষ্টুচরণ বুঝেছিলেন, ক্ষিদ্দার সেই হাসি তার বিশাল দেহাকৃতি নিয়েই। ছোট ছেলেরা যেমন তার মোটা শরীর দেখে হাসে, তেমনই এক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও তাকে দেখে হাসছে দেখে তিনি আরও আহত হন। তাঁর মনে হয়েছিল, এভাবে উপহাস করা অন্যায্য ও অপমানজনক। তাই তিনি গভীর দুঃখ পেয়ে বিরক্ত হয়েছিলেন। আসলে, তার ইচ্ছে ছিল ছিপছিপে চেহারার মানুষ হওয়ার, কিন্তু স্থূল দেহের কারণে তিনি প্রায়ই উপহাসের পাত্র হতেন। ক্ষিদ্দার মুচকি হাসি সেই পুরোনো বেদনাকে আবারও জাগিয়ে তোলে।
📝 3. চিড়িয়াখানায় কোনিকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে কী ঘটেছিল? এই ঘটনা থেকে ক্ষিতীশের কী মনে হয়েছিল?
✅ উত্তর :
👉মতি নন্দীর “কোণি” গল্পে চিড়িয়াখানায় নিয়ে গেলে কোনি প্রাণীদের দেখে ভীষণ আনন্দিত হয়েছিল এবং প্রবল কৌতূহল নিয়ে চারপাশে তাকাচ্ছিল। কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালে তার চোখেমুখে চাপা কষ্ট ও ভয়ের ছাপও ফুটে উঠেছিল।
👉 এই দৃশ্য দেখে ক্ষিতীশ প্রথমে খুশি হলেও ধীরে ধীরে তার মনে এক নতুন উপলব্ধি জন্ম নেয়। সে বুঝতে পারে, কোনি কেবল প্রাণীদের প্রতি কৌতূহলী নয়, তার মনের গভীরে বহু অপ্রকাশিত যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে। ক্ষিতীশের মনে হয়, কোনি একেবারে সাধারণ কোনো মেয়ে নয়। তার চোখে-মুখে বিষাদের ছায়া ও ভয়ের আভাস স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছিল। ক্ষিতীশ অনুভব করে, কোনি আনন্দের মুহূর্তেও অতীতের কষ্ট ভুলতে পারে না। তার চাপা আবেগ যেন প্রতিটি আচরণের মধ্যেই প্রকাশ পাচ্ছিল। ক্ষিতীশ উপলব্ধি করে, কোনির অন্তর্লোক সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক জটিল। প্রাণীদের সামনে দাঁড়িয়ে তার ভেতরের ক্ষতগুলো যেন আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এভাবেই ক্ষিতীশের কাছে কোনি গভীর রহস্যময় ও ব্যথাভারাক্রান্ত চরিত্র বলে প্রতীয়মান হয়।
📝 4. দারিদ্র্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির যে লড়াই তা সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর:
বিশিষ্ট সাহিত্যিক মতি নন্দীর লেখা ‘কোনি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনি এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। দাদা যক্ষায় মারা যাওয়ার পর পরিবার চরম দারিদ্র্যের অন্ধকারে পড়ে। ক্ষিদ্দা ওরফে ক্ষিতীশ সিংহ গঙ্গার ঘাটে কোনির প্রতিভা আবিষ্কার করে তাকে সাঁতার শেখাতে শুরু করেন। কিন্তু সমাজের অবহেলা, ক্লাব রাজনীতি ও ষড়যন্ত্রে জুপিটার ক্লাবে কোনিকে ভর্তি হতে দেওয়া হয়নি। পরে ক্ষিতীশের উদ্যোগে সে অ্যাপেলো ক্লাবে সাঁতার শেখে।
অ্যাপেলোর প্রতিযোগিতায় কোনি সেরা সাঁতারু অমিয়াকে হারিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের দল নির্বাচনে বারবার অবহেলা ও অপমানের শিকার হলেও শেষ পর্যন্ত সে দলে স্থান পায়। বহু বাধা, দারিদ্র্য, বঞ্চনা, অপমানকে জয় করে কোনি জাতীয় পর্যায়ে রমা যোশিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং বাংলার হয়ে ট্রফি জিতে আনে।
📝 5. “না। আমি নামব না।” — বক্তার এমন অভিমানের কারণ কী? শেষ পর্যন্ত কী ঘটল?
উত্তর:
উক্ত বাক্যটি মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনির। অভিমানের মূল কারণ ছিল তার প্রতি হওয়া বারবার অবিচার, অপমান ও যোগ্যতার প্রতি অবমূল্যায়ন। কোচ ক্ষিতীশের কঠোর প্রশিক্ষণে বড়ো প্রতিযোগিতার জন্য পুরো প্রস্তুত থাকলেও অন্যায়ভাবে তাকে পিছনের সারিতে নামতে বলা হয়, যা তার আত্মসম্মানে গভীর আঘাত করে। তাই ক্ষোভ ও অভিমান থেকেই কোনি বলে ওঠে— “না। আমি নামব না।”
শেষ পর্যন্ত ক্ষিতীশবাবুর কঠোর কিন্তু অনুপ্রেরণাদায়ক কথায় কোনি ভেঙে না পড়ে নিজের অভিমান ভুলে সাঁতারে নামে। দৃঢ় মনোবল, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের জোরে সে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়। অবশেষে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রমা যোশিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় এবং বাংলার হয়ে সেরার ট্রফি জিতে আনে।
📝 6. “এত কেচ্ছা সাধন করেন, বাঁচবেন কী করে?” — উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কেচ্ছা সাধনের বর্ণনা দাও।
উত্তর:
উক্তিটি মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে বলা হয়েছে এবং এখানে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি হলেন সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ ঘোষ। আর্থিক দিক থেকে অভাবগ্রস্ত, স্বভাবের দিক থেকে কঠোর হলেও ক্ষিতীশবাবু সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও প্রতিভাবান ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তার জীবনমূল্য একটাই— প্রতিভাকে খুঁজে তুলে আনা এবং তাকে সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে জয়ের পথে নিয়ে যাওয়া।
ক্ষিতীশবাবুর ‘কেচ্ছা সাধন’ বলতে বোঝানো হয়েছে—
• গঙ্গার ঘাটে ঘুরে ঘুরে প্রতিভাবান সাঁতারু খোঁজা।
• ক্লাব কর্তাদের বিরোধিতা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ ও অবহেলা সত্ত্বেও নিজের ছাত্রকে নিয়ে লড়াই করা।
• অর্থকষ্ট, চাকরির অনিশ্চয়তা, ক্লাবের রাজনীতি—সব চাপ সহ্য করেও প্রশিক্ষণ দেওয়া।
• কোনিকে যথাযথ সুযোগ পাইয়ে দিতে সমাজের নানা বাধা উপেক্ষা করে অবিচল থাকা।
তাঁর এই সাধনা অনেকের চোখে ‘কেচ্ছা’ মনে হলেও শেষ পর্যন্ত কোনির সাফল্যই প্রমাণ করে যে ক্ষিতীশবাবুর এ সংগ্রাম বৃথা যায়নি।
👉বঙ্গানুবাদ(প্রশ্নের মান-৪):
📝 1. Newspaper reading has become an essential part of our life. As we get up in the morning we wait eagerly for a daily paper. Twentieth Century was an age of newspaper. Through Newspapers we gather information about different countries of the world.
উত্তর: সংবাদপত্র পড়া আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। আমরা সকালে উঠলে আগ্রহভরে দৈনিক সংবাদপত্রের জন্য অপেক্ষা করি। বিংশ শতাব্দী সংবাদপত্রের যুগ ছিল। সংবাদপত্রের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তথ্য-সংবাদ সংগ্রহ করি।
📝 3. We live in India and work for India. But we should not forget that we belong to the larger family of the world. The people living in other countries are after all our cousins. It would be such an excellent thing if all the people in the world were happy and content.
উত্তর:
আমরা ভারতে বাস করি এবং ভারতের হয়ে কাজ করি। কিন্তু আমরা ভুলে যেতে পারি না যে আমরা বৃহত্তর বিশ্ব পরিবারের সদস্য। অন্যান্য দেশে বসবাসকারী মানুষরাও শেষ পর্যন্ত আমাদের আত্মীয়ের মতো। সারা বিশ্বের মানুষ যদি সুখী ও সন্তুষ্ট থাকতে পারত, তবে তা সত্যিই অত্যন্ত চমৎকার একটি বিষয় হতো।

